📄 ২.৭ মিথ্যা হাদীছ প্রণয়নের ভয়াবহতা সম্পর্কে অজ্ঞতা
ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বিধান। এখানে দুনিয়া বিরাগী হয়ে আধ্যাত্মিকতা অনুশীলন ও বৈরাগ্য সাধনের কোন সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্য হচ্ছে-
لا رهبانية في الإسلام
'ইসলামে বৈরাগ্যবাদ নেই'।২২
এরপরেও অনেক দুনিয়াত্যাগী সুফী সাধক অজ্ঞতা বশতই এ জীবন যাপন শুরু করেন, যা ছিল তাঁদের দৃষ্টিতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের একমাত্র উপায়। তাঁরা বনে জঙ্গলে, লোক চক্ষুর অন্তরালে ইবাদাত বন্দেগী, যিকর আযকারের অনুশীলন শুরু করেন। ইসলামে তার কোন অনুমোদন না থাকলেও তা দীনী কাজ হিসাবে মানুষের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পেতে থাকে। তাঁরা তাঁদের এ কর্মকান্ডকে ইসলামী কর্মকান্ড বলে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সাধারণ জনগণকে এদিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনেক এমন মন গড়া হাদীছ বানিয়ে তা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলে চালিয়ে দিতেন। তাঁদের চিন্তা ছিল এই যে, দীনের স্বার্থে এ ধরনের মিথ্যা হাদীছ রচনা করা অপরাধের কিছু নয়। এরা মূলতঃ বিভ্রান্ত সূফী মতবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের অসতর্কতা ও অজ্ঞতাও মিথ্যা হাদীছ রচনার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। এইরূপ জাল হাদীছের জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে-
أفضل الزهد في الدنيا ذكر الموت 'দুনিয়ার সর্বোত্তম যুহৃদ হচ্ছে, মৃত্যুকে স্মরণ করা।'২৩ আরো উদাহরণ হচ্ছে-
الدنيا حرام على أهل الآخرة والآخرة حرام على أهل الدنيا والدنيا والآخرة حرام على أهل الله 'আখিরাতমুখী লোকদের জন্য দুনিয়াদার হওয়া হারাম, দুনিয়াদার লোকদের জন্য আখিরাত হারাম, আল্লাহ ওয়ালাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারাম।'২৪
এমনি অসংখ্য জাল হাদীছের প্রচলন লক্ষ্য করে 'ইলমুল হাদীছের বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ বিশুদ্ধ হাদীছ সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করেন। উদ্ভব হয় রিজাল শাস্ত্রের। শুরু হয় সনদের যাচাই বাছাই। প্রয়োগ হতে থাকে আল জারহ ওয়াত-তা'দীল বা হাদীছ বর্ণনাকারীদের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা পদ্ধতি। করা হয় এক সনদে বর্ণিত হাদীছ অন্য সনদে বর্ণিত হাদীছের সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনা। প্রণয়ন করা হয় হাদীছ গ্রহণযোগ্য হওয়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নীতিমালা। যার অনিবার্য পরিণতিতে জাল ও দুর্বল হাদীছ থেকে বিশুদ্ধ হাদীছ পৃথক করা খুবই সহজ হয়ে পড়ে। সন্দেহাতীত ভাবে হাদীছ গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সুতরাং বর্তমানে জাল হাদীছ ও ছাহীহ হাদীছ স্পষ্টাকারে পার্থক্য হয়ে গেছে।২৫
টিকাঃ
২২. আস-সুয়ূতী ও অন্যান্যরা, শারহি সুনানু ইবন মাজাহ, করাচী, তাবি, ১খ. ২৮৯পৃঃ
২৩. আল-আলবানী, আল-সিলসিলাতুদ্দয়ীফাহ, রিয়াদ, তাবি, ৫খ. ৩১০ পৃঃ
২৪. প্রাগুক্ত, ১খ. ১০৫পৃঃ
২৫. আফীফ আত-তববারা, রূহুদ্দীনিল ইসলামী, তাবি, ৪৬৩-৪৬৫পৃঃ