📄 ২.৩ ‘আকীদাহ বিশ্বাস ও ফিকহী মাসআলায় মতানৈক্য
গ্রীক ও রোমান দর্শনের বিষবাষ্প দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অথবা ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্রে পড়ে কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি আল-কুরআন সুন্নাহর সঠিক 'আকীদাহ বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়। তারা তাদের এ ভ্রান্ত মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজেরাই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে হাদীছ বানিয়ে তা নিজেদের ভ্রান্তমতকে প্রতিষ্ঠা করার প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করত। এর সাথে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দূরতম কোন সম্পর্কও ছিল না। শুধু যিনদিকরাই ১৪ হাজার হাদীছ রচনা করে। এর চেয়ে আরো ভয়াবহ হচ্ছে, আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ আল জুবিয়ারী, মুহাম্মাদ বিন আকালাহ আল কিরমানী ও মুহাম্মাদ ইবন তামীমূল ফারয়ারী, এ তিনজন মিলে ১০ হাজার জাল হাদীছ রচনা করে।১০ অনেকেই ফিকহ মাসআলা অনুসরণের ক্ষেত্রেও সঠিক পথ থেকে বিচ্যূত হয়। ফিকহ শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু আলিমের এরূপ জাল হাদীছ রচনার ন্যাক্কারজনক ভূমিকাও লক্ষ্যণীয়। উদাহরণ স্বরূপ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে-
عن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يكون في أمتى رجل يقال له محمد بن إدريس أضر على أمتى من إبليس .
'আনাস রাদি আল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবন ইদরীস নামের এক ব্যক্তি ইবলিসের চেয়েও আমার উম্মাতের জন্য বেশি ক্ষতি কারক হবে।”১১ এটি যে শাফি'ঈ মাযহাবের বিরোধীদের দ্বারা রচিত, তা সহজেই অনুমেয়। আরো বর্ণিত হয়েছে যে-
عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من رفع يديه في الركوع فلا صلاة له."
'আনাস রাদি আল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে তার দু'হাত রুকু'র সময় উচু করবে, তার ছালাত আদায় হবে না।'১২ হাত উঁচু করার বিপক্ষীয়দের পক্ষ থেকে বানানো এটি একটি জাল হাদীছ। যারা রামাদান মাসে বিশ রাক'আত ছালাতুত তারাবীহ আদায় করাকেই অত্যাবশ্যকীয় করে নিয়েছে তাদের রচিত একটি জাল হাদীছ হচ্ছে-
হাদীছ ইব্ন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন: আন্ নাবিয়্যু সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কান ইউসল্লী ফী শাহরি রমাদান 'ইশরীনা রিক্'আতান.
'রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাদান মাসে বিশ রাক'আত ছালাত আদায় করতেন।'১৩ এটি মূলত একটি ছাহীহ হাদীছের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। সুতরাং হাদীছটি যে জাল তাতে কোন সন্দেহ নেই। ছাহীহ হাদীছটি হচ্ছে-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي رَمَضَانَ قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم - يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً.
'আবূ সালামা ইবনু 'আবদির রহমান রাদিআল্লাহু 'আনহু 'আয়িশা রাদিআল্লাহু 'আনহাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, রমাদানে 'রাসূলূল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদান ও এ ব্যতীত অন্য মাসেও এগারো রাকা'আতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না। '১৪ হাদীছ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে-
القرآن كلام الله تعالى غير مخلوق، فمن قال مخلوق فهو كافر بالله.
'আল্লাহর বাণী আল-কুরআন সৃষ্ট নয়, যে বলে এটি সৃষ্ট সে আল্লাহর সাথে কুফরী করে।'১৫ আসলে এটি হাদীছ নয়, এটি মূলত আহলুস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আতের কিছু আলিমদের বক্তব্য। আল-কুরআন সৃষ্ট, না সৃষ্ট নয়, এ নিয়ে যখন আকীদাহগত মতভেদ তুঙ্গে, তখন আহলুস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আতের কিছু অতি উৎসাহী লোক তাদের পক্ষের দলীলকে অকাট্য প্রমাণের জন্য যে এটিকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলে চালিয়ে দিয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। 'আকীদাহ সংক্রান্ত মতানৈক্য যে হাদীছ জাল করাকে উৎসাহিত করেছে এটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
টিকাঃ
১০. প্রাগুক্ত, ১খ. ৯পৃঃ
১১. প্রাগুক্ত, ১খ. ৪৩ পৃঃ
১২. প্রাগুক্ত
১৩. আত-তাবারানী, আল-মু'জামূল আওসাত, কায়রো, ১৪১৪হিঃ ৫খ., ৩২৪ পৃঃ আল- আলবানী হাদীছটিকে জাল বলেছেন। ইরওয়াউল গালীল ফি তাখরীজি আহাদীছু মানারিস সাবীল, ১৪০৫ হিঃ, বায়রূত, ২খ. ১৯১ পৃঃ
১৪. ছাহীহ আল-বুখারী, ১খ. ৩৮৫ পৃঃ, হাহীহ মুসলিম, আছ-ছাহীহ, তাবি., ২খ., ১৬৬ পৃঃ
১৫. আছ-ছাগানী, আল-মাওদূ'আত, তাবি, ১খ. ৪ পৃঃ
📄 ২.৪ উৎসাহ প্রদানে অতিরঞ্জন
কোন কাজের ফদিলত বা মর্যাদা বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও হাদীছ জাল করার অপকর্ম বেশ লক্ষ্যণীয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের নমনীয়তা, অসতর্কতা ও অদূরদর্শিতা, ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে বাড়াবাড়ি করতে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। কোন মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রমাণ, কোন আয়াতের বিশেষ গুরুত্ব দান ও কোন সূরার বিশেষ ফদিলত বর্ণনা করতে গিয়ে তারা যে, নিজেরাই অসংখ্য হাদীছ রচনা করে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে চালিয়ে দিয়েছে, তার জাজ্জ্বল্য প্রমাণ হচ্ছে, ফাদাইলের গ্রন্থসমূহ। তাফসীরে বায়দাভী ও তাফসীরে খাযিনের মত গুরুত্বপূর্ণ তাফসীর গ্রন্থে আবু আছমাহ নূহ ইবন আবী মারইয়াম হতে ভিন্ন ভিন্ন সূরা তিলাওয়াতের যে ফদিলত বিষয়ক হাদীছ বর্ণনা করা হয়েছে, তা এখানে উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়। এর অধিকাংশ সনদই আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বলে বলা হলেও, এর সাথে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয় প্রমাণের জন্য একটি ঘটনাই যথেষ্ট। বর্ণিত হয়েছে যে-
قيل لأبي عصمة نوح بن أبي مريم المروزى من أين لك عن عكرمة عن بن عباس في فضائل القرآن سورة سورة وليس عند أصحاب عكرمة هذا ! فقال: إنى رأيت الناس أعرضوا عن القرآن واشتغلوا بفقه أبى حنيفة ومغازي ابن إسحاق فوضعت هذا الحديث
'আবূ 'ইছমাহ নূহুবনু আবী মারয়ামিল মারূযী কে বলা হয়েছিল: আল-কুরআনের প্রতিটি সূরার ফাদীলাত সম্পর্কে আপনি 'ইকরামাহ সূত্রে ইবন 'আব্বাস রাদি আল্লাহু 'আনহুমা সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন, তা কোথেকে বর্ণনা করেছেন? 'ইকরামার সাথীদের নিকট তো এগুলো নেই। তিনি বললেন- 'আমি দেখলাম মানুষ আল-কুরআনবিমুখ হয়ে আবূ হানীফার ফিকহ ও ইবন আবী ইসহাকের মাগাযী নিয়ে মাশগুল হয়ে পড়েছে, তখন আমি এই হাদীছগুলো বানিয়ে ফেললাম।'১৬ আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن ابن مهدي قال قلت الميسرة بن عبد ربه من أين جئت بهذه الأحاديث من قرأ كذا فله كذا؟ قال وضعتها أرغب الناس فيها.
'ইবন মাহদী বলেন, আমি মায়সারাহ ইবন 'আবদি রাব্বিহকে বললাম, যে এটি পাঠ করবে তার জন্য এটি; আপনি কোথা হতে এ হাদীছগুলো বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, আমি লোকদেরকে এদিকে উৎসাহী করার জন্য এগুলো বানিয়েছি, সুতরাং ভাল কাজে উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রেও অসংখ্য জাল হাদীছ রচনা হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।১৭
টিকাঃ
১৬. প্রাগুক্ত, ১খ. ৪১ পৃঃ
১৭. ইবনুল-জাওযী, ১খ. ৪০ পৃঃ
📄 ২.৫ রাজা বাদশাদের আনুকূল্য অর্জন
অনেকেই তদানিন্তন রাজা বাদশাদের আনুকূল্য লাভের আশায় তাদের খুশি করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে জন্য তারা এমন কিছু হাদীছ নিজে রচনা করেছিল যা রাজাদের নৈকট্য লাভে সহায়ক হয়। যেমন আব্বাসী খালীফাহ হারুনুর রাশীদ কবুতর উড়াতে খুবই ভালবাসতেন। তাঁকে খুশি করার জন্য আবুল বুখতারী একটি জাল হাদীছ রচনা করে। তার বর্ণনা হচ্ছে-
حدثني هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة: " أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يطير الحمام.
'হিশাম ইবন 'উরওয়াহ সূত্রে বর্ণিত, তার পিতা 'আয়িশাহ রাদিআল্লাহু 'আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ হাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবুতর উড়াতেন।'১৮
টিকাঃ
১৮. প্রাগুক্ত, ১খ. ১২ পৃঃ
📄 ২.৬ ওয়াজ নাছীহাতে বিস্ময়কর কিছু সংযোজন
কিছু ব্যক্তিবর্গ ছিলেন ওয়াজ- নাসীহাত নিয়ে ব্যস্ত। তাঁরা শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ, তাদেরকে বিস্মিত করা, তাদেরকে কাঁদানো, হাসানো প্রভৃতি লক্ষ্যকে সামনে রাখেন। তাঁরা আজগুবী বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী তৈরি করে, তা গ্রহণযোগ্য করার জন্য রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে চালিয়ে দিতেন। কোন কিছুকে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রশংসা করতে গিয়ে তা প্রমাণ করার লক্ষ্যে তাঁরা হাদীছ জাল করতেন। এর উদাহরণ হচ্ছে-
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الديك الأبيض الأفرق حبيبي وحبيب حبيبي جبريل يحرس بيته وستة عشر بيتا من جيرته أربعة من اليمين وأربعة من الشمال وأربعة من قدام وأربعة من خلف.
'আনাস ইবন মালিক রাদিআল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঝুঁটি ওয়ালা সাদা মোরগ আমার বন্ধু, আমার বন্ধুর বন্ধু, জিবরাঈল 'আলায়হিস সালাম তার ও তার পার্শ্বের ১৬ টি বাড়ি পাহারা দেন; তার ডানের চারটি, বামের চারটি, সামনের চারটি ও পেছনের চারটি।'১৯
حدثنا إبراهيم بن عبد الواحد الطبري قال سمعت جعفر بن محمد الطيالسي يقول صلى أحمد بن حنبل ويحيى بن معين في مسجد الرصافة فقام بين أيديهم قاص فقال حدثنا أحمد بن حنبل ويحيى بن معين قالا حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن قتادة عن أنس قال قال رسول الله من قال لا إله إلا الله خلق الله من كل كلمة منها طيرا منقاره من ذهب وريشه من مرجان... فجعل أحمد بن حنبل ينظر إلى يحيى بن معين ويحيى ينظر إلى أحمد فقال له أنت حدثته بهذا فيقول والله ما سمعت بهذا إلا الساعة فلما فرغ من قصصه ... قال له يحيى بن من حدثك بهذا الحديث؟ فقال أحمد بن حنبل ويحيى بن معين فقال أنا يحيى بن معين وهذا أحمد بن حنبل ما سمعنا بهذا قط في حديث رسول الله فإن كان ولا بد من الكذب فعلى غيرنا فقال له أنت يحيى بن معين قال نعم قال لم أزل أسمع أن يحيى بن معين أحمق ما تحققته إلا الساعة فقال له يحيى كيف علمت أني أحمق قال كأن ليس في الدنيا يحيى بن معين وأحمد بن حنبل غيركما قد كتبت عن سبعة عشر أحمد بن حنبل ويحيى بن معين فوضع أحمد كمه على وجهه وقال دعه يقوم فقام كالمستهزئ بهما.
'ইবরাহীম ইবনু 'আবদুল ওয়াহিদিত তাবারী বলেন- আমি জা'ফার ইবন মুহাম্মাদুত তায়ালিসীকে বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন আররাছাফাহ মাসজিদে ছালাত আদায় করেন। এ সময় একজন গল্পকার বললেন, আমাদেরকে আহমাদ ইবন হাম্বল এবং য়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন, আমাদেরকে 'আবদুর রায্যাক ইবন মু'আম্মার কাতাদাহ সূত্রে আনাস রাদি আল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি لا إله إلا الله বলবে এর প্রত্যেকটি শব্দদ্বারা আল্লাহ একটি পাখি তৈরি করবেন, যার ঠোট হবে স্বর্ণের আর পালক হবে মারজানের।... এটি শুনে আহমাদ ইবন হাম্বল ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈনের দিকে আর ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন আহমাদ ইবন হাম্বলের দিকে তাকাত্মাকি শুরু করলেন। আহমাদ ইবন হাম্বল ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈনকে বললেন, আপনি কী এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি এই মাত্র এটি শুনলাম। ঐ ব্যক্তি যখন তার গল্প বলা শেষ করলেন, তখন ইয়াহয়িযুবনু মা'ঈন বললেন, কে আপনাকে এ হাদীছ শুনিয়েছেন? তিনি বললেন, আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন। তিনি বললেন, আমি ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন আর এ হলেন আহমাদ ইবন হাম্বল। আমরা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছে কক্ষনো এ কথা শুনেনি। তাহলে এটা অবশ্যই মিথ্যা হবে। তবে আমরা ব্যতীত অন্য কেউ হতে পারে। তিনি বললেন, আপকি কী ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন? তিনি বললেন, হাঁ, তিনি বললেন, আমি শুনতাম ইয়াহয়িযুবনু মা'ঈন একজন আহমাক, এইমাত্র তা প্রমাণিত হলো। ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন তাকে বললেন, তুমি কিভাবে জানলে যে আমি একজন আহমাক? তিনি বললেন, দুনিয়ায় কি আর কোন আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন নেই? আমি তো সতের জন আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহয়িয়ুবনু মা'ঈন থেকে (হাদীছ) লিখেছি। তখন আহমাদ ইবন হাম্বল তার হাতের পুট ঐ ব্যক্তির চেহারার উপর রাখলেন এবং বললেন, তাকে ছেড়ে দিন, সে দাঁড়াক, সে তাদের দু'জনের সাথে বিদ্রুপের ভঙ্গিতে দাঁড়াল।'২০ একজন মিথ্যুক হাদীছ নিয়ে কত বড় জালিয়াতি করতে পারে তারই জাজ্জ্বল্য উদাহরণ হচ্ছে এই ঘটনা।
উল্লেখ্য যে, ওয়াহাব ইবন মুনাযারাহ বিভিন্ন আমলের ফাদীলাতের হাদীছ নিজেই বানাতেন।২১
টিকাঃ
১৯. প্রাগুক্ত, ৩খ. ৫পৃঃ
২০. আস-সুয়ূতী, আল-লাআলিল মাহনু'আহ ফিল আহাদিছুল মাহনু'আহ, বায়রূত, তাবি, ২খ. ৯১ পৃঃ
২১. প্রাগুক্ত, ১খ. ৮ পৃঃ