📄 হাদীস সংরক্ষণে বিশ্বাস ঈমানের দাবি
আল কুরআনে বারংবার নির্দেশ এসেছে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করো। আল্লাহ তাঁর রাসূলের নিকট কিতাব ও হিকমত পাঠিয়েছেন, তাঁকে কিতাবের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন এবং তাঁর উপর অতিরিক্ত ওহিও নাযিল করেছেন। এবং রাসূলেকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর কাছে যা কিছু নাযিল হয়েছে তা মানব জাতির কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদেরকে তার ব্যাখ্যা শিক্ষা দিতে।
অর্থাৎ ইসলামি শরীআত হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, তাঁদের উভয়ের আনুগত্য করা এবং রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করা। এ শরীআত কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্য মান্য করা আবশ্যক। সর্বকালেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যেমন ঈমান আনতে হবে, তাঁদের আনুগত্য করতে হবে তেমনি রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করতে, তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের পরীক্ষা দিতে হবে কুরআনের অতিরিক্ত ওহির বিধান মান্য করার মাধ্যমে এবং শরীআতের সকল বিধান প্রতিপালন করতে হবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নমুনা বানিয়ে। তবেই তার আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসের দাবি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন:
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا.
“তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম নমুনা আল্লাহর রাসূলের মধ্যে— যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিবসে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করে।”২১৯
এই আয়াতে শরীআত প্রতিপালনে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নমুনা বানানো হয়েছে, এটাকে কোনো দেশকালের সীমায় সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বরং আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সুতরাং সকল দেশকালের বিশ্বাসী মুমিনকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নমুনায় শরীআত প্রতিপালন করতে হবে।
আমরা যদি মেনেও নিই যে, আল কুরআনে ইসলামি শরীআতের সকল বিধিবিধান পরিপূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছে তবুও আমাদের মানতেই হবে যে, বিধান থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে তা পালন করতেন সেই নমুনা আল কুরআনে নেই। তা আছে কেবল হাদীসে, সুন্নাহয় বা হিকমাতে, অথবা অন্য যে নামেই আমরা তাকে আখ্যায়িত করি না কেন।
এখন কীভাবে যুগযুগান্তের মানুষ রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করবেন, কীভাবে তাঁর নমুনায় শরীআত পালন করবেন, যদি না তাঁর কথা-কর্ম-অনুমোদন সংরক্ষিত থাকে? আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য যা পালন করা আবশ্যক করেছেন তা সংরক্ষণ করবেন না? যদি সংরক্ষিত না থাকে তবে তো তিনি এমন বিষয়ের আদেশ দিচ্ছেন যা পালন করা সম্ভবই নয়। মহান আল্লাহ কি তাঁর বান্দার উপর এমন দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারেন? তিনি তো পরিষ্কার বলেছেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا.
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।”২২০
সুতরাং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের দাবি হচ্ছে, পরিপূর্ণরূপে এই বিশ্বাসও রাখা যে, তিনি হাদীস ও সুন্নাহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। যা তিনি মানতে বাধ্য করেছেন তা তিনি সংরক্ষণ করবেন না—আল্লাহর প্রতি এই অবধারণা করে কেউ নিজেকে মুমিন দাবি করতে পারে না।
টিকাঃ
২১৯. সূরা [৩৩] আহযাব, আয়াত: ২১。
২২০. সূরা [২] বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬। আরো দেখুন: সূরা বাকারাহ, ২৩৩; সূরা আনআম, ১৫২; সূরা আ'রাফ, ৪২; সূরা মু'মিনূন, ৬২。