📄 হাদীস সংরক্ষণ পরিপূর্ণ ও সুসম্পাদিত
একজন প্রভাবশালী সাধারণ বা রাজনৈতিক নেতা, যার অনেক ভক্ত, অনুরক্ত, অনুচর ও অনুসারী আছে। যারা তার সকল নির্দেশনা ও কর্মসূচি সর্বসাধ্য দিয়ে পালন ও বাস্তবায়ন করে। নেতার কোনো বিষয় ভালো লাগলে তারা কেউ কেউ ব্যক্তিজীবনেও তা প্রতিপালন করে। তার মৃত্যুর অনেক পরে, যখন প্রবীণ ভক্তরাও অনেকেই মারা গেছে, তখন হয়তো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বা জিজ্ঞাসিত হয়ে কোনো কিছু বলতে ভক্তকে পেছনের জীবন হাতড়ে ফিরতে হবে। তখন এটাই স্বাভাবিক যে, এই ভক্তের স্মৃতি থেকে অনেক কিছু মুছে গেছে। আবার অনেক কিছু সে ভুলভালও বর্ণনা করতে পারে—এটাই বাস্তবতা। সুতরাং এমতাবস্থায় নেতার সকল বিষয় আর কিছুতেই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।
যারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন সাধারণ নেতার মতো এবং সাহাবিদেরকে তাদের অনুসারীর মতো মনে করেন, তারা দাবি করেন যে, নবীজির সকল হাদীস কিছুতেই সংরক্ষিত হওয়া সম্ভব নয়। হাদীস নামে যা সংরক্ষিত হয়েছে তা অসম্পূর্ণ ও অসম্পাদিত। এ দাবির পক্ষে তারা প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন প্রবীণ সাহাবিদের নামে খুব কমসংখ্যক হাদীস বর্ণিত হওয়া এবং তাদের দৃষ্টিতে হিকমতপূর্ণ অনেক কিছু হাদীসের কিতাবে অনুপস্থিত থাকা।
আল্লাহর শরীআত প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের জামাআত কেমন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন তা আমরা জানি। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানব জাতির জন্য শরীআত প্রতিপালনে মহান আল্লাহ নির্ধারিত একমাত্র নমুনা। এজন্য সাহাবিগণ (রা.) নবীজির কথাকর্ম ও জীবনাচারকে নিজেদের জীবনাচারে পরিণত করেছিলেন। এ কথাটি একক বা একদল সাহাবির ক্ষেত্রে কেবল প্রযোজ্য ছিল না; বরং পুরো সাহাবি-সমাজের জন্য প্রযোজ্য। যে নববি বিষয়টি ছিল নবুওয়াতের প্রথম দিকের, শেষ যুগে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবির জন্যও সেটি পালনীয় ছিল। এমন নয় যে, যে সাহাবি নবীজির কোনো একটি কর্ম দেখলেন বা কথা শুনলেন শুধু তার জন্যই তা পালন ও সংরক্ষণ করা জরুরি।
যে ব্যক্তি কোনো বিষয় জানল তার দায়িত্ব যে জানে না তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর যে জানে না তার দায়িত্ব যে জানে তার কাছ থেকে জেনে নেওয়া। সাহাবিগণ এ দায়িত্ব পালনকেই জীবনের প্রধানতম কর্তব্য বলে গ্রহণ করেছিলেন। নবীন প্রবীণের কাছ থেকে জেনেছেন, এমনকি প্রবীণ নবীনের কাছ থেকেও। প্রবীণ যা জানবেন নবীন তা জানবেন না বা পালন করবেন না, ইসলামে এর অনুমতি তো নেই। তাই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁরা নবীজির পুরো জীবনাচারকে সমাজে মূর্তিমান করে উপস্থিত রেখেছেন। তাঁদের সমাজের দিকে তাকালে যে দৃশ্য দেখা যেত এবং কান পাতলে যে আওয়াজ শোনা যেত তা-ই তো হাদীস বা সুন্নাহ। এ বিষয়ক আলোচনা আমরা পূর্বে দেখে এসেছি।
নবীন-প্রবীণ সাহাবিদের নিয়ে যে সাহাবি-সমাজ, এই সমাজে চর্চিত ইসলাম পূর্ণাঙ্গ সুন্নাহ বা নববি জীবনাচার। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যতদিন হায়াতে ছিলেন প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করেছেন—সংশোধন করেছেন, সংযোজন ও বিয়োজন করেছেন। সাহাবিগণ কারো মধ্যস্থতায় নবীজির কোনো কথাকর্ম জানতে পারলে, আর তাতে তাঁদের খটকা লাগলে, স্বয়ং নবীজির কাছে সরাসরি এসে যাচাই করে নিতেন। অর্থাৎ সাহাবিদের সমাজে বিদ্যমান সুন্নাহ ছিল পরিপূর্ণ এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সম্পাদিত।
কোনো একজন সাহাবির হয়তো নবীজির কোনো হাদীস শুনতে, বুঝতে ও বর্ণনা করতে ভুল হতে পারে। কিন্তু পুরো জামাআতের তো ভুল হতে পারে না। যদি আমরা বলি যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের পুরো জামাআতেরই ভুল হতে পারে, তবে তার অর্থ তো এই যে, ইসলামকেই বুদ্ধির অগম্য ও পালনের অযোগ্য দাবি করা হচ্ছে। কেননা সাহাবিরা যে ক্ষেত্রে ভুলের শিকার হয়েছেন পরবর্তীদের জন্য সেক্ষেত্রে নির্ভুল হওয়া সম্ভব নয়।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পর সাহাবিরা যখন পরস্পরের মধ্যে হাদীসের চর্চা করতেন তখন কারো কোনো ধরনের ভুল হলে অন্যেরা সংশোধন করে দিতেন। যেমন মাকহুল (রাহ.) বলেন, আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
السُّؤْمُ فِي ثَلَاثَةٍ فِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ.
'তিনটি বস্তুতে কুলক্ষণ রয়েছে: ঘর, নারী ও ঘোড়া।' এ কথা আয়িশা (রা.)-কে বলা হলে তিনি বলেন, আবু হুরাইরা সঠিকভাবে জানেন না। কেননা তিনি নবীজির কথার মাঝখানে এসেছিলেন। তাই পুরোটা শুনতে পাননি। শেষের অংশ শুনেছিলেন, প্রথম অংশ শোনেননি। নবীজি মূলত বলেছিলেন :
قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ يَقُوْلُوْنَ إِنَّ الشُّؤْمَ فِي ثَلَاثَةِ : فِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ.
আল্লাহ ইয়াহুদিদেরকে ধ্বংস করুন। কেননা তারা বলে, 'তিনটি বস্তুতে কুলক্ষণ রয়েছে: ঘর, নারী ও ঘোড়া'। ২১৬
তাছাড়া কোনো সাহাবি বর্ণিত হাদীস কারো মধ্যস্থতায় অন্য সাহাবির নিকট পৌঁছলে এবং এতে তাঁর কোনো রকম খটকা লাগলে এই সাহাবি মূল বর্ণনাকারী সাহাবির কাছে গিয়ে যাচাই করতেন। যেমন জনৈক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত বেচাকেনায় সুদ সংক্রান্ত একটি হাদীস আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা.)-এর নিকট পৌঁছে। তখন তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর নিকট গিয়ে যাচাই করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন:
يَا أَبَا سَعِيدٍ مَا هَذَا الَّذِي تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟
হে আবু সাঈদ, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই যে হাদীস বর্ণনা করছেন, এর বিষয়টি কী? তখন তিনি বলেন, আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি। ২১৭
এ বিষয়ক আরো কিছু আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এভাবে বারবার সম্পাদনার মাধ্যমে নবীজির সকল হাদীস বা সুন্নাহ নির্ভুল ও নিখুঁতরূপে সমাজে বিরাজমান ছিল। এই পূর্ণাঙ্গ ও সুসম্পাদিত সুন্নাহই পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ তাবিয়িগণ সাহাবিদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন- সাহাবিদের সমাজ দেখে এবং তাঁদের মৌখিক বর্ণনা থেকে। তারপর তাঁদের কাছ থেকে পরবর্তী প্রজন্ম। এভাবে প্রজন্ম পরম্পরায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম নবীজির সুন্নাহ শিখে আসছে। পূর্ববর্তী প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের যথাযোগ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট পূর্ণ সতর্কতার সাথে পৌঁছে দিচ্ছেন।
মনে রাখতে হবে, হাদীস বা সুন্নাহ অর্থাৎ ইসলাম কেবল মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়নি। বরং আমালে মুতাওয়ারাস বা কর্ম পরম্পরাই ইসলাম সংরক্ষণের সব থেকে বিশ্বস্ত মাধ্যম। মহান আল্লাহ প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে এমন বিশাল জামাআত সৃষ্টি করেছেন যারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে প্র্যাক্টিক্যালি ইসলাম পালনের নববি নমুনা শিখেছেন। কোনো যুগেই কেবল লিখিত বা মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমে ইসলাম শেখার প্রচলন ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَا يَزَالُ اللهُ يَغْرِسُ فِي هَذَا الدِّيْنِ غَرْسًا يَسْتَعْمِلُهُمْ فِي طَاعَتِهِ.
মহান আল্লাহ সর্বদা এই দীনের মধ্যে এমন বৃক্ষ রোপণ করতে থাকেন, অর্থাৎ ব্যক্তিবর্গ সৃষ্টি করেন যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখেন। ২১৮
সুতরাং কেবল লিখিত বা মৌখিক বর্ণনার দ্বারা সুন্নাহ সংরক্ষিত হওয়া না-হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা ইসলাম সংরক্ষণের ইতিহাস ও ইসলাম প্রতিপালনের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক।
আশা করি, উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, প্রবীণ সাহাবিদের নামে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে তাঁদের জানা অনেক হাদীস হারিয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা তাঁদের জানা হাদীস নবীনদেরও জানা ছিল। এবং তাঁরা কখনো প্রবীণদের নাম উক্ত করে, কখনো উহ্য রেখে সেসব হাদীস বর্ণনা করেছে। হাদীসশাস্ত্রের ছাত্রমাত্রই এ সকল তথ্য অবগত।
আর হিকমত বিষয়ক তাদের দাবিটিও অবান্তর। কারো কাছে মনে হলো, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিকমতের ভেতরে এটাও থাকার দরকার, কিন্তু হাদীসের কিতাবে যেহেতু এ বিষয়ক কোনো বর্ণনা নেই সুতরাং হাদীস ভান্ডার, যাকে নবীর হিকমত বা প্রজ্ঞা বলা হয়, অসম্পূর্ণ। এ রকম দাবি মূলত নিজের বিবেচনাকে ইসলামের মানদণ্ড বানানোর নামান্তর। পাশ্চাত্য দর্শনের কাছে মগজ বেচে দেওয়া কেউ কেউ মনে করেন, কেবল জাগতিক লাভ-ক্ষতি ও উন্নতি-অবনতির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিচাতুর্যই হিকমত। আর আন্তরিক প্রশান্তি, রবের সন্তুষ্টি এবং পরকালীন মুক্তি, উন্নতি ও সফলতা লাভের দুআ-যিকির ও আমল-ইবাদত কোনো হিকমত নয়।
টিকাঃ
২১৬. মুসনাদ তায়ালিসি, হাদীস: ১৬৪১; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ২৬০৩৪。
২১৭. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ১১৭৭২; সহীহ বুখারি, হাদীস: ২৩৭৬; ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল, ১/৫৪৬。
২১৮. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ১৭৭৮৭; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ০৮; সহীহ ইবন হিব্বان, হাদীস: ৩২৬।
📄 হাদীস সংরক্ষণে বিশ্বাস ঈমানের দাবি
আল কুরআনে বারংবার নির্দেশ এসেছে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করো। আল্লাহ তাঁর রাসূলের নিকট কিতাব ও হিকমত পাঠিয়েছেন, তাঁকে কিতাবের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন এবং তাঁর উপর অতিরিক্ত ওহিও নাযিল করেছেন। এবং রাসূলেকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর কাছে যা কিছু নাযিল হয়েছে তা মানব জাতির কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদেরকে তার ব্যাখ্যা শিক্ষা দিতে।
অর্থাৎ ইসলামি শরীআত হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, তাঁদের উভয়ের আনুগত্য করা এবং রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করা। এ শরীআত কিয়ামত পর্যন্ত সকলের জন্য মান্য করা আবশ্যক। সর্বকালেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যেমন ঈমান আনতে হবে, তাঁদের আনুগত্য করতে হবে তেমনি রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করতে, তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের পরীক্ষা দিতে হবে কুরআনের অতিরিক্ত ওহির বিধান মান্য করার মাধ্যমে এবং শরীআতের সকল বিধান প্রতিপালন করতে হবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নমুনা বানিয়ে। তবেই তার আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসের দাবি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন:
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا.
“তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম নমুনা আল্লাহর রাসূলের মধ্যে— যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ দিবসে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করে।”২১৯
এই আয়াতে শরীআত প্রতিপালনে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নমুনা বানানো হয়েছে, এটাকে কোনো দেশকালের সীমায় সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বরং আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সুতরাং সকল দেশকালের বিশ্বাসী মুমিনকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নমুনায় শরীআত প্রতিপালন করতে হবে।
আমরা যদি মেনেও নিই যে, আল কুরআনে ইসলামি শরীআতের সকল বিধিবিধান পরিপূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছে তবুও আমাদের মানতেই হবে যে, বিধান থাকলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে তা পালন করতেন সেই নমুনা আল কুরআনে নেই। তা আছে কেবল হাদীসে, সুন্নাহয় বা হিকমাতে, অথবা অন্য যে নামেই আমরা তাকে আখ্যায়িত করি না কেন।
এখন কীভাবে যুগযুগান্তের মানুষ রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ করবেন, কীভাবে তাঁর নমুনায় শরীআত পালন করবেন, যদি না তাঁর কথা-কর্ম-অনুমোদন সংরক্ষিত থাকে? আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য যা পালন করা আবশ্যক করেছেন তা সংরক্ষণ করবেন না? যদি সংরক্ষিত না থাকে তবে তো তিনি এমন বিষয়ের আদেশ দিচ্ছেন যা পালন করা সম্ভবই নয়। মহান আল্লাহ কি তাঁর বান্দার উপর এমন দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারেন? তিনি তো পরিষ্কার বলেছেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا.
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।”২২০
সুতরাং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের দাবি হচ্ছে, পরিপূর্ণরূপে এই বিশ্বাসও রাখা যে, তিনি হাদীস ও সুন্নাহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। যা তিনি মানতে বাধ্য করেছেন তা তিনি সংরক্ষণ করবেন না—আল্লাহর প্রতি এই অবধারণা করে কেউ নিজেকে মুমিন দাবি করতে পারে না।
টিকাঃ
২১৯. সূরা [৩৩] আহযাব, আয়াত: ২১。
২২০. সূরা [২] বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬। আরো দেখুন: সূরা বাকারাহ, ২৩৩; সূরা আনআম, ১৫২; সূরা আ'রাফ, ৪২; সূরা মু'মিনূন, ৬২。