📘 হাদীস মানতেই হবে > 📄 হাদীস অস্বীকারের ফিতনা : নবীজির ভবিষ্যৎবাণী

📄 হাদীস অস্বীকারের ফিতনা : নবীজির ভবিষ্যৎবাণী


হাদীস 'ওহি এবং ইসলামি শরীআতের অন্যতম উৎস' এ কথা যেমন আল কুরআনের আলোকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তেমনি সমগ্র উম্মাতে মুসলিমার নিকট স্বীকৃত-যদিও হাদীস বিশুদ্ধ হওয়া না-হওয়া এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও মর্ম নির্ধারণে উম্মাতের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে। যেমন : অল্প কিছু মানুষ বাদ দিলে পৃথিবীর সকল কাল ও ভূখণ্ডের মানুষ ধার্মিক। তারা স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী। যদিও সঠিক ধর্ম কোনটি, ধর্মের আকীদা-বিশ্বাস ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের মাঝে তুমুল মতভিন্নতা রয়েছে। যেহেতু ধর্ম নিয়ে এত মতভেদ সুতরাং ধর্ম বাতিল-নাস্তিকদের এ সমীকরণ সর্বৈব ভুল ও অবাস্তব।
বরং সত্য হচ্ছে, মহান আল্লাহ মানব জাতির পথপ্রদর্শনের জন্য যুগেযুগে তাঁর মনোনীত নবী-রাসূলের মাধ্যমে সত্য-সঠিক দীন বা জীবন-ব্যবস্থা পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানব জাতি জ্ঞানগত দুর্বলতা ও স্বার্থচিন্তার কারণে সঠিক দীনের উপর থাকতে পারেনি। কখনো-বা নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করে নিয়েছে। স্বার্থের অনুকূলে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, কিন্তু প্রবল উপস্থিতির কারণে অস্বীকার করতে পারেনি। তবে ব্যাপক বিকৃতি সত্ত্বেও মহান আল্লাহ সঠিক দীন টিকিয়ে রেখেছেন এবং অনুসন্ধানীর জন্য খুঁজে পাওয়ার রাস্তাও পরিষ্কার রেখেছেন। এমনকি নিষ্ঠার সাথে যে সত্য-সঠিক পথ পেতে প্রচেষ্টা চালাবে তাকে পথ দেখানোর দায়িত্ব পর্যন্ত তিনি নিজে নিয়েছেন। ১০
হাদীসও তা-ই। উম্মাত তার শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা নিয়ে, মর্ম নির্ধারণ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে নানান মতভেদ করেছে। কিন্তু শরীআতের দলীল হওয়ার বিষয়টি এমন সুপ্রতিষ্ঠিত, সর্বজনস্বীকৃত ও গৃহীত যে, কিছু বিভ্রান্ত লোক ছাড়া এ বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিষয়টি উজ্জ্বল প্রামাণ্য ও সর্বজনস্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ যে অস্বীকার করবে, এ ভবিষ্যদ্বাণী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায়ই করে গেছেন। বেশ কয়েকজন সাহাবি থেকে এ মর্মে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমরা কিছু হাদীসের অনুবাদ উল্লেখ করছি :
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: أَلَا إِنِّي أُوْتِيْتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلَا يُوْشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُوْلُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيْهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيْهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوْهُ.
মিকদাম ইবন মা'দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শুনে রাখো, আমাকে দেওয়া হয়েছে আল্লাহর কিতাব এবং তার সাথে আরো অতিরিক্ত তার অনুরূপ ওহি। শুনে রেখো, এমন সময়ও আসবে যখন কোনো 'পরিতৃপ্ত লোক' আপন আসনে হেলান দিয়ে বলবে, তোমরা শুধু এই কুরআনই গ্রহণ করো। এখানে যা হালাল আছে শুধু তাকে হালাল এবং এখানে যা হারাম আছে শুধু তাকে হারাম বলে মানবে। ১১
عَنْ أَبِي رَافِعٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : لَأَعْرِفَنَّ مَا bَلَغَ عَنِّي الْحَدِيثُ مِنْ حَدِيثِيْ أَمَرْتُ فِيهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُوْلُ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيْكَتِهِ: هَذَا الْقُرْآنُ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ اتَّبَعْنَاهُ وَمَا لَمْ نَجِدْ فِيْهِ فَلَا حَاجَةَ لَنَا بِهِ.
আবু রাফি' (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এমন লোক সম্পর্কে তোমাদেরকে জানিয়ে রাখছি, আমার হাদীস যখন পৌঁছবে—যে হাদীসে আমি আদেশ অথবা নিষেধ করেছি—পালঙ্কে হেলান দিয়ে সে ব্যক্তি বলবে, এই তো কুরআন রয়েছে। তাতে যা পাব আমরা তার অনুসরণ করব আর যা তাতে পাব না আমাদের সেসবের কোনো প্রয়োজন নেই। ১২
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عَسَى أَنْ تُكَذِّbَنِي رَجُلٌ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَbْلُغُهُ الْحَدِيثُ عَنِّي فَيَقُوْلُ : مَا قَالَ ذَا رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْ هُذَا وَهَاتِ مَا فِي الْقُرْآنِ.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অতিসত্বর এমন লোকের আবির্ভাব হবে, আমার হাদীস যখন তার কাছে পৌঁছবে, তখন আপন আসনে হেলান দিয়ে আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে বলবে, আল্লাহর রাসূল এ কী বলেন! রাখো এসব! কুরআনে যা আছে তা-ই নিয়ে এসো। ১৩
عَنْ خَالِدِ bْنِ الْوَلِيدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَسَى الرَّجُلُ مِنْكُمْ أَنْ يَقُولَ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيكَتِهِ : مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ حَلَالٍ أَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ وَإِنِّي أُحَرِّمُ عَلَيْكُمْ أَمْوَالَ الْمُعَاهَدِينَ bِغَيْرِ حَقَّهَا.
খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শীঘ্রই তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি আপন সিংহাসনে হেলান দিয়ে এ কথা বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা হালাল পাব তাকেই হালাল বলে মানব এবং যা হারাম বলে পাব তাকেই হারাম বলে মানব। অথচ আমি চুক্তিতে আবদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা তোমাদের জন্য হারাম করে দিচ্ছি।১৪
এ হাদীসগুলো থেকে তিনটি বিষয় আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি: ১. হাদীস মহান আল্লাহ প্রেরিত ওহি। ওহির মাধ্যমে জেনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে ভবিষ্যতের এই ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন। কারণ, আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো ছাড়া তিনি তো ভবিষ্যৎ জানতেন না। ২. হাদীস শরীআতে ইসলামিয়্যার অন্যতম দলীল। এবং ৩. শরয়ি ইলম বিশুদ্ধভাবে অর্জনের স্বীকৃত ঐতিহ্যগত ধারা রয়েছে।
পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ পূর্ববর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ধারক-বাহক থেকে গ্রহণ ও ধারণ করবেন-যাতে ইলম সকল ধরনের বিকৃতি থেকে পরিচ্ছন্ন থাকে। বুঝ হয় অবিকল-যেমনটি শিক্ষা দিয়েছিলেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর ইখতিলাফ অন্তহীন না হয়ে বৈধতার সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু হাদীস অস্বীকারকারীরা হবে এই ধারা-পরম্পরা থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিলাসী জীবনের অধিকারী। আশ্চর্যজনক বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যতিক্রম বাদে সকল যুগের হাদীস অস্বীকারকারী এমনই ছিল। হাদীস ওহি হওয়ার এটাও একটা প্রমাণ।
হাদীসের এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে। যদিও সর্বকালের সমগ্র উম্মাতে মুসলিমাহ হাদীসকে ওহি এবং শরীআতের দলীল হিসাবে মান্য করেছে, তবুও সর্বযুগেই মুসলিম হিসাবে দাবিকারী বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষ হাদীস অস্বীকার করেছে। তাদের কেউ পুরোপুরি, কেউ আংশিক হাদীস অস্বীকার করে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
আমাদের এই পুস্তকটি এইসব হাদীস অস্বীকারকারীর উদ্দেশে নিবেদিত। তারা সকলেই যেহেতু কুরআন মান্য করার দাবি করে থাকে, হাদীস মানে না, তাই আমরা হাদীসের ওহি হওয়া এবং শরীআতের দলীল হওয়ার বিষয়ে হাদীসকে দলীল হিসাবে পেশ করিনি। প্রধানত কুরআন দ্বারাই এ দুটি বিষয় প্রমাণ করা হয়েছে। তবে প্রচুর সংখ্যক হাদীস এ বইয়ে উল্লেখিত হয়েছে। মূলত আলোচ্য বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়িদের বুঝ জানা এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসাবে তা হাজির করা হয়েছে।
এখন আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করব। মহান আল্লাহই একমাত্র তাওফীকদাতা।

টিকাঃ
১০. সূরা [২৯] আনকাবূত, আয়াত: ৬ ৯।
১১. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস ১৭১৭৪; সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬০৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস: ২৬৬৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ১২; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস: ১২। সামআনি (তাফসীরুস সামআনি: ২/১০১), ইবন তাইমিয়া (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৯/৮৫, ২১/৮), ইবনুল কাইয়িম (আকসামুল কুরআন, পৃ. ২৪৯), ইবন মুফলিহ (আল আদাবুশ শারইয়্যাহ : ২/৩০৬) শাওকানি (ফাতহুল কদীর: ২/১৩৫, ৩/২২৪)-সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে প্রমাণিত বলেছেন।
১২. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ২৩৮৬১; সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬০৫; সুনান তিরমিযি, হাদীস: ২৬৬৩; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ১৩; মুসনাদুর রুওয়াইনি, হাদীস: ৭২৬; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস: ১৩; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস: ৩৬৮-৩৭০। হাদীসটিকে তিরমিযি, ইবন হিব্বান, হাকিম, যাহাবি, আইনি, রাফিয়ি, ইবনুল আসীর প্রমুখ মুহাদ্দিস প্রমাণিত বলেছেন。
১৩. মুসনাদ আবু ইয়া'লা, হাদীস: ১৮১৩; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/১৫৫。
১৪. তাবারানি, আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস: ৩৮২৯; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/১৫৫。

📘 হাদীস মানতেই হবে > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


আল কুরআন সকল কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা। এই কুরআন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছে যে, কুরআনের বাইরেও মহান আল্লাহ ওহি নাযিল করেছেন— কুরআনের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের অতিরিক্ত বিধিবিধান সংবলিত ওহি। যা কুরআনের সমপরিমাণ বা তারও অধিক। কুরআনের অতিরিক্ত এই ওহি আমাদের নিকট হাদীস বা সুন্নাহ নামে সংকলিত। এই উভয় প্রকার ওহি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য মান্য করা মহান আল্লাহ আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন এটা বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। কেউ যদি ওহির কোনো অংশ কোনো ধরনের যুক্তির অবতারণা করে অস্বীকার করে তবে মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমান যথার্থ নয়। এবং সে ওহি অস্বীকারকারী বলে গণ্য।
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত। তবে নিজেকে মুসলিম বলে দাবিকারী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হাদীস অস্বীকার করে থাকে। কেউ একবাক্যে সকল হাদীস অস্বীকার করে, কেউ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে কিছু হাদীস অস্বীকার করে আর কেউ এর সাথে সাথে কুরআনের অতিরিক্ত বিষয় সংবলিত হাদীসগুলো অস্বীকার করে।
হাদীস অস্বীকারের এ ফিতনা অনেক প্রাচীন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর উত্থানের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আমাদের আসলাফ-আকাবির তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডনে বিস্তারিত লিখেছেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো এ ফিতনাও দেশ-দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাহফিল মঞ্চে জনপ্রিয় বক্তার কণ্ঠে, চায়ের দোকানে সাধারণের আলাপে, এমনকি খেতখামারে কৃষক-মজুরের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে এসব সংশয়ের কথা।
এ ফিতনা মূলত ইসলামের শিকড়মূলে কুঠারাঘাত। হাদীস অস্বীকারের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের সৌধসমগ্রকে ধসিয়ে দেওয়া যায় আপনারা তা এ পুস্তকের এতক্ষণের আলোচনায় নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কলম ধরেছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ক পূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা কেবল সাধারণ পাঠকের জন্য প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছি। তারা যেন এতটুকু বুঝতে পারেন যে, হাদীস অস্বীকারকারী সম্প্রদায় কর্তৃক হাদীসের উপর আরোপিত সংশয়গুলো ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অযৌক্তিক। কিন্তু তারা যদি এ বিষয়টি বিস্তারিত ও পরিপূর্ণরূপে জানতে চান তবে এ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় কিতাবাদি শাস্ত্রজ্ঞ আলিমের নিকট অধ্যয়ন করে নেবেন।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর, যিনি এ অধমকে প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার তাওফীক দিয়েছেন। তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি, তিনি যেন ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে একে কবুল করে নেন এবং লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাজাতের ওসিলা করেন। সালাত ও সালাম আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিজন, সহচর এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল অনুসারীর উপর। শুরুতে ও শেষে সকল সময়ে সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে।

আল কুরআন সকল কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা। এই কুরআন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছে যে, কুরআনের বাইরেও মহান আল্লাহ ওহি নাযিল করেছেন— কুরআনের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের অতিরিক্ত বিধিবিধান সংবলিত ওহি। যা কুরআনের সমপরিমাণ বা তারও অধিক। কুরআনের অতিরিক্ত এই ওহি আমাদের নিকট হাদীস বা সুন্নাহ নামে সংকলিত। এই উভয় প্রকার ওহি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য মান্য করা মহান আল্লাহ আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন এটা বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। কেউ যদি ওহির কোনো অংশ কোনো ধরনের যুক্তির অবতারণা করে অস্বীকার করে তবে মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমান যথার্থ নয়। এবং সে ওহি অস্বীকারকারী বলে গণ্য।
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত। তবে নিজেকে মুসলিম বলে দাবিকারী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হাদীস অস্বীকার করে থাকে। কেউ একবাক্যে সকল হাদীস অস্বীকার করে, কেউ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে কিছু হাদীস অস্বীকার করে আর কেউ এর সাথে সাথে কুরআনের অতিরিক্ত বিষয় সংবলিত হাদীসগুলো অস্বীকার করে।
হাদীস অস্বীকারের এ ফিতনা অনেক প্রাচীন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর উত্থানের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আমাদের আসলাফ-আকাবির তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডনে বিস্তারিত লিখেছেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো এ ফিতনাও দেশ-দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাহফিল মঞ্চে জনপ্রিয় বক্তার কণ্ঠে, চায়ের দোকানে সাধারণের আলাপে, এমনকি খেতখামারে কৃষক-মজুরের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে এসব সংশয়ের কথা।
এ ফিতনা মূলত ইসলামের শিকড়মূলে কুঠারাঘাত। হাদীস অস্বীকারের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের সৌধসমগ্রকে ধসিয়ে দেওয়া যায় আপনারা তা এ পুস্তকের এতক্ষণের আলোচনায় নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কলম ধরেছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ক পূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা কেবল সাধারণ পাঠকের জন্য প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছি। তারা যেন এতটুকু বুঝতে পারেন যে, হাদীস অস্বীকারকারী সম্প্রদায় কর্তৃক হাদীসের উপর আরোপিত সংশয়গুলো ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অযৌক্তিক। কিন্তু তারা যদি এ বিষয়টি বিস্তারিত ও পরিপূর্ণরূপে জানতে চান তবে এ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় কিতাবাদি শাস্ত্রজ্ঞ আলিমের নিকট অধ্যয়ন করে নেবেন।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর, যিনি এ অধমকে প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার তাওফীক দিয়েছেন। তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি, তিনি যেন ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে একে কবুল করে নেন এবং লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাজাতের ওসিলা করেন। সালাত ও সালাম আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিজন, সহচর এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল অনুসারীর উপর। শুরুতে ও শেষে সকল সময়ে সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00