📄 হাদীসকে ওহি অভিধায় অভিহিত করা
মহান আল্লাহ আল কুরআন নাযিল করেছেন মানব জাতির উদ্দেশে জিবরীল আমীনের মাধ্যমে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট। এ পুস্তকের আলোচনায় আমরা দেখব, আল কুরআনের বহুসংখ্যক আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যে, হাদীস নাযিলকৃত ওহি। সাহাবি-তাবিয়িগণও এমনটাই বিশ্বাস করতেন। এমনকি ‘ওহি’ অভিধাটিও কুরআন-সুন্নাহয় হাদীসের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, লোকেরা বলাবলি করছে, আবু হুরাইরা বেশি বেশি হাদীস বর্ণনা করছে। যদি আল্লাহর কিতাবে দুটি আয়াত না থাকত আমি একটি হাদীসও বর্ণনা করতাম না। তারপর তিনি সূরা বাকারাহর ১৫৯ ও ১৬০ নং আয়াত দুটি তিলাওয়াত করেন:
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُوْنَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدًى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُوْنَ، إِلَّا الَّذِينَ تَابُوْا وَأَصْلَحُوْا وَبَيَّنُوْا فَأُولَئِكَ أَتُوْبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.
‘নিশ্চয় যারা আমার নাযিলকৃত উজ্জ্বল নিদর্শনাবলি ও হিদায়াত গোপন করে মানুষের জন্য কিতাবে আমি তা বর্ণনা করার পর, তাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ করেন এবং অভিশাপকারীরাও অভিশাপ করেন। তবে যারা বিরত হয়, সংশোধন করে নেয় এবং বর্ণনা করে দেয়, আমি তাদের তাওবা কবুল করে থাকি। আর আমি তো তাওবা কবুলকারী দয়ালু।'২
আবু হুরাইরা (রা.)-এর এ বক্তব্য দ্বারা বোঝা যায়, তিনি হাদীসকে অবতীর্ণ ওহি হিসাবে বিশ্বাস করতেন। কেননা অবতীর্ণ ওহি গোপনের দায় থেকে বাঁচার জন্যই হাদীস বর্ণনা করেন বলে এ হাদীসে তিনি জানাচ্ছেন।
তৃতীয় খলীফা উসমান ইবন আফফান (রা.) একবার আসরের সালাতের জন্য ওযু করেন। তারপর উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বলেন,
أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا لَوْلَا آيَةً مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : لَا يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ يُحْسِنُ وُضُوءَهُ وَيُصَلِّي الصَّلَاةَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ حَتَّى يُصَلِّيَهَا.
শোনো, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস শোনাব। তবে কুরআনের একটি আয়াত যদি না থাকত আমি তোমাদেরকে হাদীস শোনাতাম না। আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে তার পরবর্তী সালাত পর্যন্ত সকল পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
হাদীসটির বর্ণনাকারী উরওয়া (রাহ.) বলেন, উক্ত আয়াতটি হচ্ছে সূরা বাকারাহর ১৫৯ নং আয়াত, যে আয়াতটি আবু হুরাইরা (রা.) পূর্বের হাদীসে উল্লেখ করেছেন।৩
আমরা দেখছি, উসমান (রা.)-ও হাদীসকে অবতীর্ণ ওহি হিসাবে বিশ্বাস করতেন এবং ওহি গোপন করার অপরাধ থেকে মুক্তির জন্যই তিনি হাদীস বর্ণনা করতেন।
তাবিয়ি হাসসান ইবন আতিয়া (রাহ.) বলেন,
كَانَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَنْزِلُ عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالسُّنَّةِ كَمَا يَنْزِلُ عَلَيْهِ بِالْقُرْآنِ وَيُعَلِّمُهُ إِيَّاهَا كَمَا يُعَلِّمُهُ الْقُرْآنَ.
জিবরীল (আ.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, যেমন কুরআন নিয়ে তাঁর নিকট অবতীর্ণ হতেন। এবং তাঁকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন, যেমন তাঁকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। ৪
তাছাড়া আল কুরআনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর মহান আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত সকল বক্তব্যকেই সুস্পষ্টরূপে ওহি নামে অভিহিত করা হয়েছে—তা আল কুরআনে সংকলিত হোক বা না-হোক। ইরশাদ হয়েছে:
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى . إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى .
"তিনি অবতীর্ণ ওহি ব্যতীত প্রবৃত্তি থেকে কিছুই বলেন না।"৫
এ আয়াতে দীন-শরীআত সম্পর্কিত নবীজির সকল বক্তব্যকে ওহি হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং হাদীসে নববি, যা ওহির দ্বিতীয় প্রকার হিসাবে অভিহিত, ওহি হিসাবে তার নামকরণ যথার্থ ও কুরআন সমর্থিত। অন্য আয়াতে আরো বলা হয়েছে:
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيَا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُوْلًا فَيُوْحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ.
"কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহির মাধ্যম, পর্দার অন্তরাল অথবা কোনো দূত প্রেরণের মাধ্যম ব্যতীত, যে দূত তিনি যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবেন। নিশ্চয় তিনি সমুন্নত প্রজ্ঞাময়।”৬
এ আয়াতে মানুষের নিকট মহান আল্লাহর বাণী পৌঁছানোর তিনটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। মুফাসসির ইমামগণ বলেন, 'ওহির মাধ্যম' অর্থ কোনো বক্তব্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে সরাসরি ইলহাম বা ইলকা করা। আর 'পর্দার অন্তরাল থেকে' এর স্বরূপ হলো, যেভাবে ঈসা (আ.)-এর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন। তৃতীয় পদ্ধতি, কোনো দূত অর্থাৎ জিবরীল আমীনকে প্রেরণের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো। উম্মাতের ইজমা' ও আল কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যের আলোকে প্রমাণিত যে, সমগ্র কুরআন মহান আল্লাহ মাত্র এই শেষোক্ত পদ্ধতিতে অর্থাৎ জীবরীল (আ.)- এর মাধ্যমে নাযিল করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:
وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ . نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِينُ . عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ . بِلِسَانٍ عَرَبِي مُّبِينٍ.
"এই কিতাব তো বিশ্বজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা জিবরীল সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় তা নিয়ে আপনার অন্তরে অবতীর্ণ হয়েছেন, যেন আপনি সতর্ককারী হন।”৭
অর্থাৎ মানুষের নিকট আল্লাহর বার্তা প্রেরণের যে তিনটি পদ্ধতির কথা আমাদের আলোচিত আয়াতে বলা হয়েছে তার কেবল একটি পদ্ধতিতেই কুরআন নাযিল হয়েছে। আর বাকি দুটি পদ্ধতিতে নাযিল হয়েছে কুরআনের অতিরিক্ত ওহি। এ দুটি পদ্ধতির একটি পদ্ধতিকে আয়াতে কারীমায় সরাসরি 'ওহি' শব্দেই উল্লেখ করা হয়েছে।৮
প্রাথমিক পর্যায়ে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মহান আল্লাহর বার্তা প্রেরিত হয়েছে। উপরের আলোচনার আলোকে আমরা নিশ্চয় বুঝতে পারছি যে, এ বার্তা কুরআন নয়। কেননা কুরআন তো জিবরীল আমীনের মাধ্যমে নাযিল হয়েছে। তাছাড়া এটি কুরআন নাযিল শুরুর আগের বিষয়। উম্মুল মুমিনীন আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) এ বার্তাকে 'ওহি' শব্দে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন,
أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহির সূচনা হয় ঘুমন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তখন তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রভাতের আলোর ন্যায় পরিষ্কার উদ্ভাসিত হতো।৯
টিকাঃ
২. সহীহ বুখারি, হাদীস : ১১৮, ২৩৫০; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস : ৭২৭৬।
৩. সহীহ বুখারি, হাদীস : ১৬০; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৭।
৪. নুআইম বিন হাম্মাদ, যাওয়ায়িদুয যুহদ: ২/২৩, সুনান দারিমি, হাদীস: ৬০৮; মারাসীল আবু দাউদ, হাদীস: ৫৩৬; মারওয়াযি, আস-সুন্নাহ, হাদীস ১০২, ৪০২। বক্তব্যটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত।
৫. সূরা [৫৩] নাজম, আয়াত: ৩ ও ৪।
৬. সূরা [৪২] শূরা, আয়াত: ৫১।
৭. সূরা [২৬] শুআরা, আয়াত: ১৯২-১৯৫।
৮. তাকি উসমানি, হাদীসের প্রামাণ্যতা, পৃ. ৫৩-৫৪।
৯. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস : ২৫২০২; সহীহ বুখারি, হাদীস: ৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬০; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস: ৪৮৪৩。
📄 হাদীস অস্বীকারের ফিতনা : নবীজির ভবিষ্যৎবাণী
হাদীস 'ওহি এবং ইসলামি শরীআতের অন্যতম উৎস' এ কথা যেমন আল কুরআনের আলোকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তেমনি সমগ্র উম্মাতে মুসলিমার নিকট স্বীকৃত-যদিও হাদীস বিশুদ্ধ হওয়া না-হওয়া এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও মর্ম নির্ধারণে উম্মাতের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে। যেমন : অল্প কিছু মানুষ বাদ দিলে পৃথিবীর সকল কাল ও ভূখণ্ডের মানুষ ধার্মিক। তারা স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী। যদিও সঠিক ধর্ম কোনটি, ধর্মের আকীদা-বিশ্বাস ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের মাঝে তুমুল মতভিন্নতা রয়েছে। যেহেতু ধর্ম নিয়ে এত মতভেদ সুতরাং ধর্ম বাতিল-নাস্তিকদের এ সমীকরণ সর্বৈব ভুল ও অবাস্তব।
বরং সত্য হচ্ছে, মহান আল্লাহ মানব জাতির পথপ্রদর্শনের জন্য যুগেযুগে তাঁর মনোনীত নবী-রাসূলের মাধ্যমে সত্য-সঠিক দীন বা জীবন-ব্যবস্থা পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানব জাতি জ্ঞানগত দুর্বলতা ও স্বার্থচিন্তার কারণে সঠিক দীনের উপর থাকতে পারেনি। কখনো-বা নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করে নিয়েছে। স্বার্থের অনুকূলে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, কিন্তু প্রবল উপস্থিতির কারণে অস্বীকার করতে পারেনি। তবে ব্যাপক বিকৃতি সত্ত্বেও মহান আল্লাহ সঠিক দীন টিকিয়ে রেখেছেন এবং অনুসন্ধানীর জন্য খুঁজে পাওয়ার রাস্তাও পরিষ্কার রেখেছেন। এমনকি নিষ্ঠার সাথে যে সত্য-সঠিক পথ পেতে প্রচেষ্টা চালাবে তাকে পথ দেখানোর দায়িত্ব পর্যন্ত তিনি নিজে নিয়েছেন। ১০
হাদীসও তা-ই। উম্মাত তার শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা নিয়ে, মর্ম নির্ধারণ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে নানান মতভেদ করেছে। কিন্তু শরীআতের দলীল হওয়ার বিষয়টি এমন সুপ্রতিষ্ঠিত, সর্বজনস্বীকৃত ও গৃহীত যে, কিছু বিভ্রান্ত লোক ছাড়া এ বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিষয়টি উজ্জ্বল প্রামাণ্য ও সর্বজনস্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ যে অস্বীকার করবে, এ ভবিষ্যদ্বাণী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায়ই করে গেছেন। বেশ কয়েকজন সাহাবি থেকে এ মর্মে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমরা কিছু হাদীসের অনুবাদ উল্লেখ করছি :
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: أَلَا إِنِّي أُوْتِيْتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلَا يُوْشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُوْلُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيْهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيْهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوْهُ.
মিকদাম ইবন মা'দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শুনে রাখো, আমাকে দেওয়া হয়েছে আল্লাহর কিতাব এবং তার সাথে আরো অতিরিক্ত তার অনুরূপ ওহি। শুনে রেখো, এমন সময়ও আসবে যখন কোনো 'পরিতৃপ্ত লোক' আপন আসনে হেলান দিয়ে বলবে, তোমরা শুধু এই কুরআনই গ্রহণ করো। এখানে যা হালাল আছে শুধু তাকে হালাল এবং এখানে যা হারাম আছে শুধু তাকে হারাম বলে মানবে। ১১
عَنْ أَبِي رَافِعٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : لَأَعْرِفَنَّ مَا bَلَغَ عَنِّي الْحَدِيثُ مِنْ حَدِيثِيْ أَمَرْتُ فِيهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُوْلُ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيْكَتِهِ: هَذَا الْقُرْآنُ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ اتَّبَعْنَاهُ وَمَا لَمْ نَجِدْ فِيْهِ فَلَا حَاجَةَ لَنَا بِهِ.
আবু রাফি' (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এমন লোক সম্পর্কে তোমাদেরকে জানিয়ে রাখছি, আমার হাদীস যখন পৌঁছবে—যে হাদীসে আমি আদেশ অথবা নিষেধ করেছি—পালঙ্কে হেলান দিয়ে সে ব্যক্তি বলবে, এই তো কুরআন রয়েছে। তাতে যা পাব আমরা তার অনুসরণ করব আর যা তাতে পাব না আমাদের সেসবের কোনো প্রয়োজন নেই। ১২
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عَسَى أَنْ تُكَذِّbَنِي رَجُلٌ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَbْلُغُهُ الْحَدِيثُ عَنِّي فَيَقُوْلُ : مَا قَالَ ذَا رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْ هُذَا وَهَاتِ مَا فِي الْقُرْآنِ.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অতিসত্বর এমন লোকের আবির্ভাব হবে, আমার হাদীস যখন তার কাছে পৌঁছবে, তখন আপন আসনে হেলান দিয়ে আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে বলবে, আল্লাহর রাসূল এ কী বলেন! রাখো এসব! কুরআনে যা আছে তা-ই নিয়ে এসো। ১৩
عَنْ خَالِدِ bْنِ الْوَلِيدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَسَى الرَّجُلُ مِنْكُمْ أَنْ يَقُولَ وَهُوَ مُتَّكِيُّ عَلَى أَرِيكَتِهِ : مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ حَلَالٍ أَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ وَإِنِّي أُحَرِّمُ عَلَيْكُمْ أَمْوَالَ الْمُعَاهَدِينَ bِغَيْرِ حَقَّهَا.
খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শীঘ্রই তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি আপন সিংহাসনে হেলান দিয়ে এ কথা বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা হালাল পাব তাকেই হালাল বলে মানব এবং যা হারাম বলে পাব তাকেই হারাম বলে মানব। অথচ আমি চুক্তিতে আবদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা তোমাদের জন্য হারাম করে দিচ্ছি।১৪
এ হাদীসগুলো থেকে তিনটি বিষয় আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি: ১. হাদীস মহান আল্লাহ প্রেরিত ওহি। ওহির মাধ্যমে জেনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে ভবিষ্যতের এই ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন। কারণ, আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো ছাড়া তিনি তো ভবিষ্যৎ জানতেন না। ২. হাদীস শরীআতে ইসলামিয়্যার অন্যতম দলীল। এবং ৩. শরয়ি ইলম বিশুদ্ধভাবে অর্জনের স্বীকৃত ঐতিহ্যগত ধারা রয়েছে।
পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ পূর্ববর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ধারক-বাহক থেকে গ্রহণ ও ধারণ করবেন-যাতে ইলম সকল ধরনের বিকৃতি থেকে পরিচ্ছন্ন থাকে। বুঝ হয় অবিকল-যেমনটি শিক্ষা দিয়েছিলেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর ইখতিলাফ অন্তহীন না হয়ে বৈধতার সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু হাদীস অস্বীকারকারীরা হবে এই ধারা-পরম্পরা থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিলাসী জীবনের অধিকারী। আশ্চর্যজনক বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যতিক্রম বাদে সকল যুগের হাদীস অস্বীকারকারী এমনই ছিল। হাদীস ওহি হওয়ার এটাও একটা প্রমাণ।
হাদীসের এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে। যদিও সর্বকালের সমগ্র উম্মাতে মুসলিমাহ হাদীসকে ওহি এবং শরীআতের দলীল হিসাবে মান্য করেছে, তবুও সর্বযুগেই মুসলিম হিসাবে দাবিকারী বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষ হাদীস অস্বীকার করেছে। তাদের কেউ পুরোপুরি, কেউ আংশিক হাদীস অস্বীকার করে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
আমাদের এই পুস্তকটি এইসব হাদীস অস্বীকারকারীর উদ্দেশে নিবেদিত। তারা সকলেই যেহেতু কুরআন মান্য করার দাবি করে থাকে, হাদীস মানে না, তাই আমরা হাদীসের ওহি হওয়া এবং শরীআতের দলীল হওয়ার বিষয়ে হাদীসকে দলীল হিসাবে পেশ করিনি। প্রধানত কুরআন দ্বারাই এ দুটি বিষয় প্রমাণ করা হয়েছে। তবে প্রচুর সংখ্যক হাদীস এ বইয়ে উল্লেখিত হয়েছে। মূলত আলোচ্য বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়িদের বুঝ জানা এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসাবে তা হাজির করা হয়েছে।
এখন আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করব। মহান আল্লাহই একমাত্র তাওফীকদাতা।
টিকাঃ
১০. সূরা [২৯] আনকাবূত, আয়াত: ৬ ৯।
১১. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস ১৭১৭৪; সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬০৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস: ২৬৬৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ১২; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস: ১২। সামআনি (তাফসীরুস সামআনি: ২/১০১), ইবন তাইমিয়া (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৯/৮৫, ২১/৮), ইবনুল কাইয়িম (আকসামুল কুরআন, পৃ. ২৪৯), ইবন মুফলিহ (আল আদাবুশ শারইয়্যাহ : ২/৩০৬) শাওকানি (ফাতহুল কদীর: ২/১৩৫, ৩/২২৪)-সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে প্রমাণিত বলেছেন।
১২. মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ২৩৮৬১; সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬০৫; সুনান তিরমিযি, হাদীস: ২৬৬৩; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ১৩; মুসনাদুর রুওয়াইনি, হাদীস: ৭২৬; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস: ১৩; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস: ৩৬৮-৩৭০। হাদীসটিকে তিরমিযি, ইবন হিব্বান, হাকিম, যাহাবি, আইনি, রাফিয়ি, ইবনুল আসীর প্রমুখ মুহাদ্দিস প্রমাণিত বলেছেন。
১৩. মুসনাদ আবু ইয়া'লা, হাদীস: ১৮১৩; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/১৫৫。
১৪. তাবারানি, আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস: ৩৮২৯; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১/১৫৫。
📄 উপসংহার
আল কুরআন সকল কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা। এই কুরআন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছে যে, কুরআনের বাইরেও মহান আল্লাহ ওহি নাযিল করেছেন— কুরআনের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের অতিরিক্ত বিধিবিধান সংবলিত ওহি। যা কুরআনের সমপরিমাণ বা তারও অধিক। কুরআনের অতিরিক্ত এই ওহি আমাদের নিকট হাদীস বা সুন্নাহ নামে সংকলিত। এই উভয় প্রকার ওহি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য মান্য করা মহান আল্লাহ আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন এটা বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। কেউ যদি ওহির কোনো অংশ কোনো ধরনের যুক্তির অবতারণা করে অস্বীকার করে তবে মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমান যথার্থ নয়। এবং সে ওহি অস্বীকারকারী বলে গণ্য।
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত। তবে নিজেকে মুসলিম বলে দাবিকারী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হাদীস অস্বীকার করে থাকে। কেউ একবাক্যে সকল হাদীস অস্বীকার করে, কেউ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে কিছু হাদীস অস্বীকার করে আর কেউ এর সাথে সাথে কুরআনের অতিরিক্ত বিষয় সংবলিত হাদীসগুলো অস্বীকার করে।
হাদীস অস্বীকারের এ ফিতনা অনেক প্রাচীন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর উত্থানের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আমাদের আসলাফ-আকাবির তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডনে বিস্তারিত লিখেছেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো এ ফিতনাও দেশ-দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাহফিল মঞ্চে জনপ্রিয় বক্তার কণ্ঠে, চায়ের দোকানে সাধারণের আলাপে, এমনকি খেতখামারে কৃষক-মজুরের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে এসব সংশয়ের কথা।
এ ফিতনা মূলত ইসলামের শিকড়মূলে কুঠারাঘাত। হাদীস অস্বীকারের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের সৌধসমগ্রকে ধসিয়ে দেওয়া যায় আপনারা তা এ পুস্তকের এতক্ষণের আলোচনায় নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কলম ধরেছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ক পূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা কেবল সাধারণ পাঠকের জন্য প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছি। তারা যেন এতটুকু বুঝতে পারেন যে, হাদীস অস্বীকারকারী সম্প্রদায় কর্তৃক হাদীসের উপর আরোপিত সংশয়গুলো ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অযৌক্তিক। কিন্তু তারা যদি এ বিষয়টি বিস্তারিত ও পরিপূর্ণরূপে জানতে চান তবে এ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় কিতাবাদি শাস্ত্রজ্ঞ আলিমের নিকট অধ্যয়ন করে নেবেন।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর, যিনি এ অধমকে প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার তাওফীক দিয়েছেন। তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি, তিনি যেন ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে একে কবুল করে নেন এবং লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাজাতের ওসিলা করেন। সালাত ও সালাম আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিজন, সহচর এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল অনুসারীর উপর। শুরুতে ও শেষে সকল সময়ে সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে।
আল কুরআন সকল কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা। এই কুরআন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছে যে, কুরআনের বাইরেও মহান আল্লাহ ওহি নাযিল করেছেন— কুরআনের ব্যাখ্যা এবং কুরআনের অতিরিক্ত বিধিবিধান সংবলিত ওহি। যা কুরআনের সমপরিমাণ বা তারও অধিক। কুরআনের অতিরিক্ত এই ওহি আমাদের নিকট হাদীস বা সুন্নাহ নামে সংকলিত। এই উভয় প্রকার ওহি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য মান্য করা মহান আল্লাহ আবশ্যক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন এটা বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের অংশ। কেউ যদি ওহির কোনো অংশ কোনো ধরনের যুক্তির অবতারণা করে অস্বীকার করে তবে মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমান যথার্থ নয়। এবং সে ওহি অস্বীকারকারী বলে গণ্য।
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত। তবে নিজেকে মুসলিম বলে দাবিকারী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে হাদীস অস্বীকার করে থাকে। কেউ একবাক্যে সকল হাদীস অস্বীকার করে, কেউ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে কিছু হাদীস অস্বীকার করে আর কেউ এর সাথে সাথে কুরআনের অতিরিক্ত বিষয় সংবলিত হাদীসগুলো অস্বীকার করে।
হাদীস অস্বীকারের এ ফিতনা অনেক প্রাচীন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর উত্থানের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আমাদের আসলাফ-আকাবির তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডনে বিস্তারিত লিখেছেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অন্য অনেক কিছুর মতো এ ফিতনাও দেশ-দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাহফিল মঞ্চে জনপ্রিয় বক্তার কণ্ঠে, চায়ের দোকানে সাধারণের আলাপে, এমনকি খেতখামারে কৃষক-মজুরের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে এসব সংশয়ের কথা।
এ ফিতনা মূলত ইসলামের শিকড়মূলে কুঠারাঘাত। হাদীস অস্বীকারের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের সৌধসমগ্রকে ধসিয়ে দেওয়া যায় আপনারা তা এ পুস্তকের এতক্ষণের আলোচনায় নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কলম ধরেছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ক পূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা কেবল সাধারণ পাঠকের জন্য প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছি। তারা যেন এতটুকু বুঝতে পারেন যে, হাদীস অস্বীকারকারী সম্প্রদায় কর্তৃক হাদীসের উপর আরোপিত সংশয়গুলো ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অযৌক্তিক। কিন্তু তারা যদি এ বিষয়টি বিস্তারিত ও পরিপূর্ণরূপে জানতে চান তবে এ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় কিতাবাদি শাস্ত্রজ্ঞ আলিমের নিকট অধ্যয়ন করে নেবেন।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর, যিনি এ অধমকে প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার তাওফীক দিয়েছেন। তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি, তিনি যেন ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে একে কবুল করে নেন এবং লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাজাতের ওসিলা করেন। সালাত ও সালাম আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিজন, সহচর এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল অনুসারীর উপর। শুরুতে ও শেষে সকল সময়ে সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামীনের নিমিত্তে।