📄 ইলমু আসমায়ির রিজাল
ইলমুল হাদীসের অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় শাখা হচ্ছে চরিত অভিধান। এতে : হাদীস বর্ণনাকারীদের জন্ম-মৃত্যু, নাম-উপাধি, বংশ-গোত্র, জন্মস্থান, বিদ্যার্জন, ধার্মিকতা, স্মৃতিশক্তি, রুচি, সুস্থতা, অসুস্থতা, ওসাকাত ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। এতে তাঁদের উস্তাদগণের নিবাস, প্রবাস, গুণাবলী এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি বর্ণিত হয়েছে। এই বিদ্যা ছাড়া হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়। এই বিদ্যা সম্পর্কে প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ ও দার্শনিক ডঃ স্প্রিংগার বলেন, 'পৃথিবীতে আর কোন জাতি হয়নি, বর্তমানকালেও নেই যারা মুসলমানদের চরিত-অভিধানের (আসমাউর রিজাল) মতো উঁচু মানের শাস্ত্র আবিষ্কার করেছে। এই বিদ্যার বদৌলতে আজ পাঁচ লক্ষ লোকের জীবনকথা জানা যায়।' (ইসাবাহ গ্রন্থের ভূমিকা, কলকাতায় মুদ্রিত)।
দুনিয়ায় যত ঘটনা ঘটে তা জানার উপায় দু'টি। প্রথমত, ঐ ঘটনা ঘটার সময় কোন ব্যক্তি স্বয়ং উপস্থিত থাকবে। এই অবস্থায় ঘটনা জ্ঞাত হওয়া ব্যক্তির ইলম, অনুভূতি ও দেখার ওপর নির্ভর করে। যেমন, নবী (সা)-এর হাদীস সম্পর্কে সাহাবাদের জ্ঞান। এই জ্ঞান সাধারণত অকাট্য। দ্বিতীয়ত, অন্যের নিকট শুনে জ্ঞাত হওয়া। এই অবস্থায় জ্ঞানের নির্ভুলতা নিরূপণের জন্য বর্ণনাকারীর সততা ও ধার্মিকতার দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। যদি বর্ণনাকারী সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য হয় তাহলে ঐ জ্ঞান গ্রহণীয় (ইতিবার), অন্যথায় তা বর্জনীয়। চরিত-অভিধানের উদ্দেশ্য এটাই।
সাহাবাগণ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রেও ন্যায়পরায়ণ ও সত্যনিষ্ঠ। কিন্তু যাঁরা সাহাবা নন এমন বর্ণনাকারীর বর্ণনার নির্ভুলতা সম্পর্কে নিঃসংশয় হওয়ার প্রয়োজনে চরিত অভিধানে জেরাহ ও তা'দীলের ব্যবস্থাও অত্যাবশ্যক। এই সিলসিলায় ঐসব বড় বড় মুহাদ্দিসের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন যাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত এবং জেরাহ ও তা'দীল সম্পর্কেও ওয়াকিফহাল।
সাহাবাদের নাম সম্বলিত প্রথম চরিত-অভিধান লিখেন ইমাম বুখারী (র)। এরপর এই সম্পর্কে লিখেন আবদুল্লাহ্ আল বাগভী (হিজরী ৩৩০ সন), আবদুল্লাহ্ ইবনে আবী দাউদ (হিজরী ৩১৬ সন), আলী ইবনে আসকন ইবনে শাহীন আবু মানসুর মাওয়ারদী, আবু হাতেম রাযী, ইবনে জান তাবরানী, ইবনে মানদাহ, আবু নাঈম প্রমুখ।
সাহাবাদের নাম সম্বলিত তিনটি গ্রন্থ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ১. ইবনে আবদুল বার রচিত আল ইসতীয়াব, ২. ইবনুল আসীর রচিত উসুদুল গাবাহ এবং ৩. ইবনে হাজার রচিত আল ইসাবাহ।
এছাড়া হাফিয যাহাবী তাজরীদ আসমায়ে সাহাবা নামক গ্রন্থ লিখেছেন। সাহাবাদের সাথে অ-সাহাবাদের বর্ণনাসহ সুবিন্যস্ত গ্রন্থ লিখেছেন খলীফা ইবনে খাইরাত, (হিজরী ২৪০ সন), ইবনে সা'দ (হিজরী ২৩০ সন), ইয়াকুব ইবনে আবী শাইবাহ (হিজরী ২৭৭ সন), আবুবকর ইবনে খাইসুমা (হিজরী ২৭৯ সন) প্রমুখ।
📄 বর্ণনাকারীদের স্তর
চরিত-অভিধানে তবকা বা বর্ণনাকারীদের স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবকা মানে ঐ ব্যক্তিবর্গ যারা সমসাময়িক। এটাও হতে পারে যে একই ব্যক্তি কয়েকটি স্তরে গণ্য। যেমন, হযরত আনাস (রা)। স্তর বিন্যাসে তিনি আশারায়ে মুবাশশারাহর শামিল। আবার বয়সের কারণে তাঁকে পরবর্তী স্তরে গণ্য করা হয়।
ইবনে সা'দ তাঁর রচিত 'তাবাকাতে' সাহাবাদের পাঁচটি স্তর নির্ধারিত করেছেন। যথা,
১. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ,
২. প্রথমে যাঁরা মুসলিম হয়েছেন,
৩. যারা পরিখা যুদ্ধ ও পরবর্তী যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন,
৪. মক্কা বিজয়ের দিন যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং
৫. সাহাবাদের শিশু ও বালকগণ।
হাকিম সাহাবাদেরকে বারটি স্তরে ভাগ করেছেন।
১. প্রথমে ইসলাম গ্রহণকারীগণ,
২. দারুল আরকামের সাহাবীগণ,
৩. হাবশায় হিজরাতকারীগণ,
৪. প্রথম বাইয়াতে আকাবার সাহাবীগণ,
৫. দ্বিতীয় বাইয়াতে আকাবার সাহাবীগণ,
৬. প্রথম হিজরাতকারীগণ,
৭. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ,
৮. বদর ও হুদাইবিয়ার মধ্যবর্তী সময়ে হিজরাতকারীগণ,
৯. বাইয়াতে রিদওয়ানের সাহাবীগণ,
১০. হুদাইবিয়া ও মক্কা বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ে হিজরাতকারীগণ,
১১. মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণকারীগণ,
১২. শিশু ও কিশোরগণ যাঁরা মক্কা বিজয় ও বিদায় হজ্জ দেখেছেন।
ইবনে সা'দ তাবেঈগণকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। হাকিম তাঁদেরকে ভাগ করেছেন তেরটি ভাগে। ইবনে হাব্বান সকল তাবেঈকে একই শ্রেণীভুক্ত করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার তাঁর রচিত তাকরীবুত্ তাহযীব গ্রন্থে হাদীসের বর্ণনাকারীদেরকে বারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা:
১. সাহাবাগণ,
২. উচ্চ শ্রেণীর তাবেঈগণ। যেমন, ইবনুল মুসাইয়েব প্রমুখ। মুখত্যারমীনকেও এই স্তরে রেখেছেন। মুখত্যারমীন হচ্ছেন তাঁরা যাঁরা নবীর যামানা পেয়েছেন কিন্তু সেই সময় মুসলিম হননি অথবা মুসলিম হয়েছেন কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাক্ষাত পাননি। অবশ্য সাহাবাগণ থেকে তাঁরা ফায়দা পেয়েছেন।
৩. মধ্যম শ্রেণীর তাবেঈগণ। যেমন, হাসান বসরী, ইবনে সিরীন প্রমুখ।
৪. ঐসব তাবেঈ যাঁদের বেশিরভাগ রেওয়ায়েত উচ্চশ্রেণীর তাবেঈ থেকে বর্ণিত। যেমন, যুহরী প্রমুখ।
৫. ঐসব তাবেঈ যাঁরা দু' একজন সাহাবা দেখেছেন। যেমন, আ'মাশ ও ইমাম আবূ হানিফা।
৬. তাবেঈগণের সমকালীন তাবে' তাবেঈন। যেমন, ইবনে জরীহ।
৭. উচ্চশ্রেণীর তাবে' তাবেঈন। যেমন, ইমাম মালিক, ইমাম সওরী।
৮. তাবে' তাবেঈনের মধ্যম শ্রেণী। যেমন, ইবনে উয়াইনাহ।
৯. তাবে' তাবেঈনের শেষ শ্রেণী। যেমন, ইমাম শাফিঈ, তায়ালিসী আবদুর রায্যাক প্রমুখ।
১০. তাবে' তাবেঈন থেকে ইলম অর্জনকারীদের প্রথম শ্রেণী; যেমন, ইমাম আহমাদ।
১১. তাবে' তাবেঈন থেকে ইলম অর্জনকারীদের মধ্যম শ্রেণী।
১২. তাবে' তাবেঈনের ছাত্রবৃন্দ। যেমন, ইমাম তিরমিযী।
প্রথম ও দ্বিতীয়ভাগের যামানা হচ্ছে হিজরী প্রথম শতাব্দী। তৃতীয় থেকে অষ্টমভাগের যামানা হচ্ছে হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দী। নবম থেকে দ্বাদশভাগের যামানা হচ্ছে হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর পরবর্তী কাল।
📄 জেরাহ্ ও তা’দীল
ফিতনার যুগে কিছু লোক নিজ নিজ মতের সমর্থনে মনগড়া হাদীস বর্ণনা শুরু করে। ফলে হাদীস বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা, হাদীস মুখস্থ রাখার সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এভাবে চরিত অভিধানে জেরাহ ও তা'দীল স্বতন্ত্র বিদ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাহাবাদের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) (হিজরী ৬৮ সন), হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত (রা) (হিজরী ৩৪ সন), হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) (হিজরী ৯৩ সন) এবং তাবেঈগণের মধ্যে ইবনুল মুসাইয়েব, শা'বী, ইবনে সিরীন, আ'মাশ ও আবু হানিফা প্রমুখ রুওয়াতে হাদীসের জেরাহ ও তা'দীল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে তা ছিলো খুবই সংক্ষিপ্ত।
তাবে' তাবেঈগণের মধ্যে ইমাম শু'বা প্রথম জেরাহ ও তা'দীলের নিয়মাবলী নির্ধারণ করেন। এই কালে মুয়াম্মার (হিজরী ১৫৩ সন), দিশামুস্তুওয়াই (হিজরী ১৫৪ সন), আওযায়ী, সুফিয়ান সাওরী, হাম্মাদ ইবনে সালমাহ, লাইস ইবনে সা'দ, ইমাম মালিক, আবদুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক, আবু ইসহাক ফারাবী, মুয়ালী ইবনে ইমরান মুসেনী (হিজরী ১৮৫ সন), বাশার ইবনুল মুফাদ্দাল (হিজরী ১৮৬ সন), হাইসাম (হিজরী ১৮৮ সন), ইবনে আলিয়া (হিজরী ১৯২ সন), ইবনে ওহাব (হিজরী ১৯৭ সন), ওকীহ ইবনুল জারীহ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ প্রমুখ নির্ভরযোগ্যদের মধ্যে গণ্য।
ছোট তাবে' তাবেঈদের মধ্যে ইয়াহ ইবনে সাঈদুল কাত্তান ও আবদুর রহমান ইবনুল মাহদী এই বিদ্যার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সাঈদুল কাত্তান জেরাহ ও তা'দীলের ওপর কিতাব লিখেছেন। তাবে' তাবেঈগণের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ীন, ইবনুল মাদানী এবং ইমাম মুহাম্মাদ এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
উপরোক্ত ব্যক্তিদের যামানা এবং তাঁদের পরবর্তীকালে হিজরী নবম শতাব্দী পর্যন্ত জেরাহ ও তা'দীল শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন আবু দাউদ তায়ালিসী, ইয়াযীদ ইবনে হারুন (হিজরী ২০৬ সন), আবদুর রাযযাক ইবনে হুমাম, আবু আসিম আয্যাহ্হাক (হিজরী ২১২ সন), ইবনু মাযেশুন (হিজরী ২১৩ সন), আবূ খাইসামা যহীর ইবনে হারব (হিজরী ২৩৪ সন), আবু জাফর আবদুল্লাহ্ আন্নাবিল হাফিযুল জাযরাহ, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনুন্ নাসীর (হিজরী ২৩৪ সন), আবদুল্লাহ্ ইবনে আমরুল কাওয়ারীরী (হিজরী ২৩৫ সন), ইসহাক ইবনে রাহুইয়া, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে আমারুল মুসেলী (হিজরী ২৪২ সন), আহমাদ ইবনে সালিহ (হিজরী ২৪৮ সন), হারুন ইবনে আবদুল্লাহিল হাম্মাম (হিজরী ২৪২ সন), ইসহাকুল কুসাজ (হিজরী ২৫১ সন), আদ্দারেমী, ইমাম বুখারী, আল আজলী (হিজরী ২৬১ সন), বাকা ইবনে মুখাল্লাদ (হিজরী ২৭৬ সন), আবু যারআ দামেসকী (হিজরী ২৮১ সন), আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ বাগদাদী, ইবরাহীম ইবনে ইসহাক হারবী (হিজরী ২৮৫ সন), মুহাম্মাদ ইবনে ওযাহ (হিজরী ২৮৯ সন), আবু বকর ইবনে আবি আসিম, আবদুল্লাহ্ ইবনে আহমাদ (হিজরী ২৯০ সন), সালিহ জাযয়াহ (হিজরী ২৯৩ সন), আবুবকর আল বাযযার, মুহাম্মাদ ইবনে নাসরুল মাযাভিরী (হিজরী ২৯৪ সন), মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবী শাইবাহ (হিজরী ২৯৭ সন), আবু বকর ফারয়াবী, নাসাঈ আসাজী (হিজরী ৩০৭ সন), আবু ইয়ালী, আবুল হাসান সুফিয়ান, ইবনে খুযাইমা, ইবনে জরীর আত্ তাবারী, আবু জাফর আত্ তাহাবী, আবূ বশর আদদাওলাবী, আবূ উরুবা আল হাররানী (হিজরী ৩১৮ সন), আবুল হাসান আহমাদ ইবনে উমাইর, আবু জাফর আল আকীলী (হিজরী ৩২১ সন), ইবনে আবী হাতেম, আহমাদ ইবনে নাসরুল বাগদাদী শায়খ আদদারুল কুর্নী (হিজরী ৩২৩ সন), আবু হাতেম ইবনে হাববানুল বাসতী, তাবরানী ইবনে আদী, আবূ আলী আল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আন্ নিশাপুরী (হিজরী ৩৬৫ সন), আবুশ্ শায়খ ইবনে হাব্বান (হিজরী ৩৬৯ সন), আবূ বকর আল ইসমাঈলী (হিজরী ৩৭১ সন), আবু আহমাদ আল হাকিম (হিজরী ৩৭৮ সন), আদ্দারু কুতনী ইবনে শাহীন, ইবনে মান্দাহ, আবূ আবদুল্লাহ্ আল হাকিম, আবু নসর আলকালাবাযী (হিজরী ৩৯৮ সন), আবদুর রহমান ইবনুল ফাতিতস (হিজরী ৪০২ সন), আবদুল গণী ইবনে সাঈদ, আবুবকর ইবনে মারদুইয়া আল ইসফাহানী, মুহাম্মাদ ইবনুল ফাওয়ারেস আল বাগদাদী (হিজরী ৪১২ সন), আবু বকর আলবারকানী (হিজরী ৪২৫ সন), আবু হাতেম আল আবদারী, খালাফ ইবনে মুহাম্মাদ আলওয়াসিতী (হিজরী ৪০১ সন), আবূ মাসউদ আল দামেশকী (হিজরী ৪০০ সন), আবুল ফযল আল ফালাকী (হিজরী ৪৩৮ সন) আবুল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল খালাল আল বাগদাদী (হিজরী ৪৩৯ সন), আবু ইয়ালী আল খলীলী, ইবনে আবদুল বার, ইবনে হাযম, আল বায়হাকী, আল খতীব, ইবনে মাকুলা আবুল ওয়ালী দুলবাহী, আবূ আবদুল্লাহ্ আল হুমাইদী, আয্যাহলী (হিজরী ৫০৭ সন), আবুল ফযল ইবনে তাহিরুল মুকাদ্দেসী (হিজরী ৫০৭ সন), আল মুতামীন ইবনে আহমাদ (হিজরী ৫০৭ সন), শীরুইয়া আদ্দুয়ালিমী আশ্ শাতরী (হিজরী ৫২২ সন), আস্সাময়ানী (হিজরী ৫৬২ সন), আবূ মূসা আলমদিনী (হিজরী ৫৮১ সন), ইবনুল জুযী, আবুল কাসেম ইবনে আসাকির, ইবনে বশকুওয়াল (হিজরী ৫৭৮ সন), আবুবকর আল হাযেমী (হিজরী ৫৮৪ সন), আবদুল গণী আল মুকাদ্দেসী (হিজরী ৬০০ সন), আর রাহাদী, ইবনে মুফাযযল আল মুকাদ্দেসী (হিজরী ৬১৬ সন), আবুল হাসসান আল কাত্তান (হিজরী ৬৩৮ সন), ইবনুল আনমাতী (হিজরী ৬১৯ সন), ইবনে নুকতা (হিজরী ৬২৯ সন), ইবনুস সালাহ, আলমানদেরী, আবূ আবদুল্লাহ্ আল বারযালী (হিজরী ৬৩৬ সন), ইবনুল আবার, আবু শামাহ (হিজরী ৬২৫ সন), ইবনুদ্ দাবেসী (হিজরী ৬৩৭ সন), ইবনুন্ নাজজার (হিজরী ৬৪৩ সন), ইবনু দাকীকীল ঈদ, আশ শারফুল মারদূমী, দিমইয়াতী, ইবনে তাইমিয়াহ, আলমযী, ইবনু সাইয়িদুন্নাস, আবু আবদুল্লাহ্ ইবনে আইবেক আযযাহাবী, আশিহাব ইবনে ফাযালুল্লাহ্ (হিজরী ৭৪৯ সন), মুগলতাঈ ইবনে আরতকামানী, আশ্ শরীফুল হুসাইনী আল মুকাদ্দেসী, আযযাইনুল ইরাকী, আলওয়ালীউল ইরাকী, আল হাইসুমী, আল বুরহান, আল হালাবী, ইবনুল হাজার আল আসকালানী, বাদরুদ্দীন আল আইনী, ইবনে কাতলুবাগা, আস্সাখাভী প্রমুখ।
জেরাহ ও তা'দীলের ইমামদের এই দীর্ঘ তালিকা এ জন্য দেয়া হলো যাতে আন্দাজ করা যায় কত বিপুলসখ্যক হাদীসবিশারদ হাদীস বাছাইয়ের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আল্লাহ্ তাঁদের প্রতি রহম করুন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই উম্মাহ জানতে পেরেছে কোন্ হাদীসটি সহীহ এবং কোন্টি দুর্বল।
ইবনে সুয়ূতী তাঁর 'তারীখুল খুলাফা' গ্রন্থে ইবনে আসাকিরের বরাতে ইবনে আলিয়া থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
ঘটনাটি নিম্নরূপঃ আব্বাসী খলীফা হারুনুর রশীদের নিকট এক যিন্দিককে আনা হলো। খলীফা তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন। লোকটি বললো, 'হে আমীরুল মু'মিনীন, আমি যে মনগড়া চার হাজার হাদীস তৈরি করেছি সেগুলোর কি করবেন? সেগুলোর একটি অক্ষরও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বর্ণিত নয়। আর সেগুলো লোকদের মধ্যে প্রচারিত হয়ে গেছে।' খলীফা উত্তরে বললেন, 'তুমি কি আবদুল্লাহ্ ইবনে মুবারক ও আবু ইসহাক ফারায়ীকে চেন? তাঁরা হাদীস পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা ভূয়া হাদীসের প্রতিটি অক্ষর বের করে ছাড়বেন।'
📄 চরিত অভিধান সম্পর্কিত গ্রন্থাদি
চরিত অভিধান সম্পর্কিত গ্রন্থাদি এবং জেরাহ ও তা'দীলের বর্ণনাকারী বিভিন্ন ধরনের। যথা,
(ক) ঐসব গ্রন্থ যেগুলোতে সহীহ ও দুর্বল উভয় প্রকার হাদীস শামিল আছে। তাবাকাতে ইবনে সা'দ এই বিষয়ের ওপর সবচে' বেশি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। সয়ূতী এর সার-সংক্ষেপ তৈরি করে নাম রাখেন ইনজাযুল ওয়াদ। এই বিষয়ের উপর অন্যান্য প্রখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে খলীফা ইবনে খাইয়াতের (হিজরী ২৪০ সন) তাবাকাত; তাবাকাতে মুসলিম, তারিখে ইবনে খাইসুমাহ, ইমাম বুখারীর তারীখে কবির, আওসাত ও সগীর, তারীখে ইবনে আবী হাতেম, তারীখে হুসাইন ইবনে ইদরীস আল আনসারী ইবনে খুরাম (হিজরী ৩১০ সন), তারীখে ইবনে আলমদীনী, ইবনে হাব্বানের কিতাবুল ওহাম ওয়াল ঈহাম, আবু মুহাম্মাদ ইবনুল জারুদ রচিত কিতাবুল জিরাহ ওয়াত্ তা'দীল, আল ই'তেবারু মুসলিম, নাসাঈ রচিত আত্তামীয, আবু ইয়ালিল খলীলা রচিত আল ইরশাদ, ইবনে কাসির প্রণীত আত্ তাকমীল ফী মারিফাতিস্ সিকাত ওয়া যুয়াফা ওয়াল মাজাহীল, তারীখুয যাহাবী, ইসমাঈল ইবনে উমার ইবনে কাসির প্রণীত আত্ তাকমীল ফী আসমায়িস্ সিকাত ওয়া যুয়াফা, ইবনুল মুলকিন (হিজরী ৮০৪ সন) প্রণীত তাবাকাতুল মুহাদ্দীসীন ওয়াল কামাল ফী মা'রিফাতির-রিজাল।
(খ) ঐসব গ্রন্থ যেগুলো শুধু সিকাত ও হুফফায সম্পর্কে রচিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আজালী প্রণীত কিতাবুস সিকাত, ইবনে শাহীন প্রণীত কিতাবুস সিকাত, আবী হাতেম প্রণীত কিতাবুস সিকাত, যয়নুদ্দীন কাসেম ইবনে কাতলুবাগা প্রণীত কিতাবুস সিকাত, যাহাবী রচিত তাবাকাতুল হুফফায, ইবনে দাববাগ (হিজরী ৫৪৬ সন) রচিত তাবাকাতুল হুফফায। উক্ত নামে ইবনে হাজার, ইবনে মুফাদ্দাল, সয়ূতী, তকী ইবনে মাহ্দ, মুহাম্মাদ ইবনে হাশেমীও গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমিও তাবাকাতুল হুফফায-এর সার সংক্ষেপ লিখেছি।
(গ) ঐসব গ্রন্থ যাতে যয়ীফ সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে। যেমন, ইমাম বুখারীর কিতাবুয যুয়াফা, নাসাঈ রচিত আযযুয়াফাউ ওয়াল মাতরুকীন, আবিল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলী আল জুযী রচিত আল যুয়াফাউ, ইবনে জুযী রচিত মুখতাসার যুয়াফা, মুতালতায়ী রচিত বাইলুষ যুয়াফা, আকীলী রচিত আয যুয়াফা, হাসান আস্ সানয়ায়ী রচিত আয্যয়াফা, ইবনে হাব্বান বসতী প্রণীত আয্যুয়াফা, ইবনে আদী রচিত কিতাবুল কামিল, ইবনে রুমিয়াহ্ (হিজরী ৬৩৭ সন) রচিত যায়ল কিতাবুল কামিল, দারু কুতনী রচিত আয্যয়াফা, হাকিম প্রণীত কিতাবুয যুয়াফা, মারদীনী রচিত আয যুয়াফা, যাহাবী প্রণীত মীযানুল ই'তিদাল, ইরাকী রচিত যায়ল মীযানুল ই'তিদাল, ইবনে হাজার কর্তৃক প্রণীত লিসানুল মীযান ওয়া তাকবীমুল লিসান ওয়া তাহবীরুল মীযান ইত্যাদি।
শেষের দিকে উল্লেখিত কতক গ্রন্থে এমন ব্যক্তিরও নাম রয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে দুর্বল নয়।
(ঘ) ঐসব গ্রন্থ যা হাদীস তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত ও মিথ্যাবাদীদের নিয়ে রচিত। যেমন, হালাবী রচিত আল কাশফুল হাসীসু ফী মান রামা বিওযযিল হাদীস, শায়খ মুহাম্মাদ তাহির ফাতানী রচিত কানুনুল মাওযুয়াত ওয়াল কাযযাবীন। আমি কিতাবুল ওয়ায্যায়ীন নামে একটি সারগ্রন্থ লিখেছি।
(ঙ) ঐসব গ্রন্থ যাতে বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততার সাথে সাথে তাদের সুবিন্যস্ততা সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। হালাবী এই বিষয়ের ওপর আল ইহতিয়াবু বিমান রামা বিল ইখতিলাত নামক পুস্তিকা লিখেছেন। আমি এর সার-কথা লিপিবদ্ধ করেছি।
হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততা, বিন্যস্ততা তেমনি প্রয়োজন ইত্তেসালে সনদ বা সনদের যোগসূত্র। ইত্তেসালের বিপরীত হলো ইনকিতা। আর তা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. উভয় ব্যক্তি (হাদীস বর্ণনাকারী ও রেওয়ায়েতকারী) সমকালীন না হওয়া। রেওয়ায়েতকারীর জন্মগ্রহণের পূর্বেই হাদীস বর্ণনাকারী মারা গেছেন। জন্ম-মৃত্যু-সম্পর্কীয় গ্রন্থ লিখা হয়েছে।
২. উভয় ব্যক্তি সমকালীন হওয়া সত্ত্বেও উভয়ের সাক্ষাত ঘটেনি। এই ধরনের রেওয়ায়েতকারী সম্পর্কে মারাসীল গ্রন্থ লেখা হয়েছে।
৩. উভয় ব্যক্তি সমকালীন এবং তাঁদের সাক্ষাত ঘটেছে। কিন্তু রেওয়ায়েতকারী অভ্যাসজনিত কারণে যাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন তাঁর নাম উল্লেখ করেননি বরং ঊর্ধ্বের সমকালীন রাবীর নাম উল্লেখ করেন। এই রকমের রাবী মুদাল্লাস। তাঁদের জন্য আসমাউল মুদাল্লিসীন লেখা হয়েছে।
(চ) ঐসব গ্রন্থ যা মুহাদ্দিসীন ও হাদীসের রাবীদের মৃত্যু সম্পর্কে লেখা হয়েছে। এই বিষয়ের ওপর সর্বপ্রথম বই লিখেন আবূ সুলাইমান মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্। হিজরতের পর থেকে হিজরী ৩৩৮ সন পর্যন্ত সময়ের রাবীদের জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কীয় বিবরণ এতে রয়েছে। এই গ্রন্থের ওপর কাত্তানী (হিজরী ৪৬৬ সন), হিবতুল্লাহ্ আকনানী (হিজরী ৪৮৫ সন), আলী ইবনে মুফায্যাল মুকাদ্দেসী (হিজরী ৬১১ সন), সানযারী (হিজরী ৬৫৬ সন), আযীযুদ্দীন ইবনে মুহাম্মাদ (হিজরী ৬৭৪ সন), দিমইয়াতী (হিজরী ৭০৫ সন) এবং ইরাকী (হিজরী ৮০৬ সন) টীকা লিখেছেন এবং নিজ নিজ যামানা পর্যন্ত রাবীদের জন্য-মৃত্যুর বর্ণনা যোগ করেছেন। তারিখে বারযানীও (হিজরী ৭৩৮ সন) এই বিষয়ের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তকীউদ্দীন রাফে এর ওপর টীকা লিখেছেন এবং হিজরী ৭৭৪ সন পর্যন্ত সময়ের রাবীদের জন্ম-মৃত্যুর বিবরণ যোগ করেছেন।
হাফিয ইবনে হাজার এর টীকা লিখেছেন এবং তাঁর সমকালীন রাবীদের জন্ম-মৃত্যুর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন।
শায়খদের মৃত্যু সম্পর্কে মুবারক ইবনে আহমাদ আনসারী এবং ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল আল হাম্বল (হিজরী ৪৮২ সন) গ্রন্থ লিখেছেন।
(ছ) ঐসব গ্রন্থ যাতে মারাসীল ও মুদাল্লিসীন সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। মারাসিল অর্থাৎ মুনকাতে' হাদীসসমূহের রাবী সম্পর্কিত গ্রন্থ লিখেছেন ইবনে আবী হাতেম। এর নাম মারাসীলে ইবনে হাতেম। আমি এর সার-সংক্ষেপ লিখেছি।
মুদাল্লিসীনের নামসমূহ সর্বপ্রথম হুসাইন ইবনে আলী কারাবিসী (হিজরী ২৪৮ সন) একত্রিত করেছেন। এরপর নাসাঈ, দারু কুতনী, যাহাবী, ইবরাহীম মুকাদ্দেসী, যয়নুদ্দীন, ইরাকী ও ওয়ালীউদ্দীন ইবনে আবী যারআ গ্রন্থ লিখেন। ইবরাহীম জলি (হিজরী ৮৪১ সন) আবিঈন ফী আসমায়িল মুদাল্লিসীন গ্রন্থ লিখেন। ইবনুল ইরাকী, ইবনে হাজার এবং সয়ূতী এর টীকা লিখেছেন। আসমায়ে মুদাল্লিসীন সম্পর্কে আমি একটি পুস্তিকা লিখেছি।
(জ) ঐসব গ্রন্থ যাতে কুনিয়াত (উপনাম), উপাধি ও রাবীদের নাম রয়েছে। রাবী কখনো স্বনামে, কখনো উপনামে আবার কখনো উপাধি দ্বারা পরিচিত হন। অপরিচিত উপনাম বা উপাধি উল্লেখের দরুন কখনো কখনো সংখ্যাজনিত ভ্রম ঘটে যেতে পারে। সেজন্য হাদীস বিশারদগণ এই বিষয়ের ওপর নযর দেয়া প্রয়োজন বলে বোধ করেছেন।
নাম ও উপনামের ওপর যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁরা হচ্ছেন আলী ইবনে আল মদীনী, নাসাঈ, হাকিম ইবনে আবদুল বার, আবু হাতেম এবং যাহাবী। উপাধি সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন আবুবকর শীরাযী (হিজরী ৪০৭ সন), আবুল ফযল, ইবনুল জুযী, ইবনে হাজার প্রমুখ।
(ঝ) ঐসব গ্রন্থ যাতে মুতালিফ, মুখতালিফ, মুত্তাফিক, মুতাফাররিক এবং মুশতাবাহ নাম রয়েছে। নাম ও নসবে কোন কোন শব্দ লিখায় এক হলেও উচ্চারণে ভিন্ন হয়। একই নামের বিভিন্ন ব্যক্তিও থাকতে পারে। তাই হাদীস বিশারদগণ বিষয়টি সুস্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন।
মুতালিফ ও মুখতালিফ রাবীদের নাম সম্পর্কিত গ্রন্থ সর্বপ্রথম লিখেন আবু আহমাদ আসকারী। এরপর গ্রন্থ রচনা করেন আবদুল গণী ইবনে সাঈদিল আযদী। দারু কুতনী, ইবনে মাকুলা, আহমাদ ইবনে আলী আল খতীব, ইবনে নুকতা, মানসুর, ইবনে সলীম, আবূ মুহাম্মাদ দামেশকী, মোগলতাঈ, ইয়াহইয়া ইবনে আলী মিসরী, মুহাম্মাদ আল আবইউরদী, ইবনুল গুতী এবং মারদীনা।
মুত্তাফিক, মুতাফাররিক এবং মুশতাবাহ সম্পর্কিত বই লিখেছেন আবূ বকর আহমাদ ইবনে আলী আল খতীব।
(ঞ) আসমাউর রিজালের ঐসব গ্রন্থ যা বিশেষ বিশেষ বিষয়ের উপর লিখিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মুহাম্মাদ ইবনে দাউদুল কুর্দী রচিত রিজালুল বুখারী, ইবনে মনজুইয়া (হিজরী ৪২৮ সন) রচিত রিজালু মুসলিম, আমাদ আল ইসফাহানী (হিজরী ২৬৯ সন) রিজালু মুসলিম, মুহাম্মাদ তাহিরুল মুকাদ্দেসী (হিজরী ৫০৭ সন) প্রণীত রিজলুস্ সহীহাইন, হিবতুল্লাহ্ আল লিলিকাই (হিজরী ৪১৮ সন) রচিত রিজালুস সহীহাইন, জানাই (হিজরী ৪৯৮ সন) রচিত রিজালু আবূ দাউদ, সয়ূতী রচিত কাশফুল মাবতা বিরিজালিল মুয়াত্তা, আইনী রচিত রিজালু শরহে মায়ানীল আসার (কাশফুল আসতার নামে এর সার-সংক্ষেপ বের হয়েছে), হাফিয ইবনে হাজার রচিত তা'জীলুল মুনফিয়াতু লি বি রিজালিল আরবায়াহ (অর্থাৎ মুয়াত্তা, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে শাফিঈ এবং মুসনাদে আবী হানিফার রিজাল), আহমাদ ইবনে আহমাদ আল কুর্দী প্রণীত রিজালুস সুনানিল আরবায়াহ, আবী মূসা আল ইসফাহানী রচিত রিজাল মুসনাদে আহমাদ আল মুসামমা বি খাসায়েসে মুসনাদিল ইমাম, মুহাম্মাদ আল শাইবানী রচিত কিতাবুল হুজাজ ওয়া কিতাবুল আসার এবং আবিল ওয়াফা আল আফগানী রচিত রিজাল আসার আবী ইউসুফ।
সিহাহ সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের নামগুলো আবূ মুহাম্মাদ আবদুল গণী আল-মুকাদ্দেসী (হিজরী ৬০০ সন) 'আল কামাল' নামক গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। ইউসুফ মযী একে তাহযীব বা সুবিন্যস্ত রূপ দিয়েছেন। যাহাবী তাহযীবুল কামালের সার-সংক্ষেপ লিখেছেন এবং এর নাম তাহযীবুল কামালই রেখেছেন। মোগলতাঈ তাহযীবুল কামালের ইকমাল করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার তাহযীবুল কামালের তাহযীব করেছেন যা তাহযীবুত তাহযীব নামে বার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। চরিত অভিধানের এটি একটি উন্নতমানের গ্রন্থ। ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীবের সার-গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাকরীবুত্ তাহযীব নামে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়ে অন্যদের লেখা আরো বই আছে।
মিশকাত প্রণেতা আল ইকমাল ফী আসমায়ির রিজাল নামক গ্রন্থ লিখেছেন। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলবীও মিশকাতের রিজাল সম্পর্কে বই লিখেছেন। জেরাহ-তা'দীলের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আবদুল হাই লক্ষ্ণৌভী আব্রাফ্ট ওয়া তাকমীলু ফী জিরাহে ওয়া তা'দীল নামক গ্রন্থ রচনা করেছেন।