📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 ইলমু তালফীকুল হাদীস

📄 ইলমু তালফীকুল হাদীস


ইলমু তালফীকুল হাদীসে দু'টি হাদীসের পারস্পরিক বিরোধিতা দূর করা হয়েছে। অথবা আমকে খাস বলে, মুতলাককে মুকাইয়াদ দেখিয়ে কিংবা ঘটনা প্রবাহের উপর নির্ভর করে বিরোধ নিরসন করা হয়েছে। এই বিষয়ের ওপর সর্বপ্রথম ইমাম শাফিঈ 'ইখতিলাফুল হাদীস' নামক গ্রন্থ লিখেন। তারপর আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ্ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবাহ (হিজরী ২৬৩ সন), ইবনে জরীর, ইবনে খুযাইমা এবং আবূ ইয়াহইয়া আসসাজী (হিজরী ৩০৭ সন) গ্রন্থ লিখেন। ইমাম তাহাভীর 'শরহে মায়ানিল আসার' ও 'শরহে মুশকিল আসার' এই বিষয়ের ওপর মূল্যবান গ্রন্থ। এই বিষয়ের ওপর আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (হিজরী ৫৯৭ সন) 'আত্তাহকীক ফী আহাদিসিল খিলাফ' নামক গ্রন্থ লিখেন। ইবরাহীম ইবনে আলী ইবনে আবদুল হক এর তাখলিস বা সারগ্রন্থ রচনা করেন।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 ইলমু নাসিখিল হাদীস ওয়া মানসুখ

📄 ইলমু নাসিখিল হাদীস ওয়া মানসুখ


দু'টি হাদীসের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে পূর্ববর্তীটি রহিত এবং পরবর্তীটি রহিতকারী হয়ে থাকে। নাসেখ-মানসুখ হাদীস সম্পর্কে বহু মুহাদ্দিস গ্রন্থ রচনা করেছেন। আহমাদ ইবনে ইসহাকুদ্দীনারী (হিজরী ৩১৮ সন), মুহাম্মদ ইবনে বাহরুল ইসবাহানী (হিজরী ৩২২ সন), আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদুন্নাহাস (হিজরী ৩৩৮ সন), আবু মুহাম্মাদ কাসিম ইবনে আসবাগ (হিজরী ৩৪০ সন), মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল মা'রূফ বিহি জায়াদুশ শায়বানী হিকতুল্লাহ্ ইবনে সালামত (হিজরী ৪১০ সন), আবূ হাফস উমার ইবনে শাহীন, ইবনে জুযী, আবদুল করীম ইবনে হাওযান আল কুশাইরী এদের মধ্যে প্রধান। এই বিষয়ের ওপর মুহাম্মাদ ইবনে মূসা হাযেমী (হিজরী ৫৮৪ সন) রচিত গ্রন্থ 'আল ইয়তিবার' মুদ্রিত হয়েছে।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 ইলমুল আতরাফ

📄 ইলমুল আতরাফ


বর্ণমালার ধারাবাহিকতা অনুসারে হাদীসের কোন বিশেষ অংশকে—যার দ্বারা সম্পূর্ণ হাদীস বুঝা যায়—উল্লেখ করে কোন গ্রন্থ থেকে এর সংগ্রহের স্থান, অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ নির্দেশ করাকে ইলমুল আতরাফ বলা হয়।

হাফিয ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ দামেসকী (হিজরী ৪০০ সন) এবং হাফিয আবূ মুহাম্মাদ খালাফ ইবনে মুহাম্মাদ ওয়াসেতী (হিজরী ৪০১ সন) এই বিষয়ের প্রতি সর্বপ্রথম মনোযোগ দেন। তাঁরা শুধু সহীহাঈনের আতরাফ লিখেন। হাফিয তাহির মুকাদ্দেসী (হিজরী ৫০৭ সন) সিহাহ সিত্তাহ আতরাফ লিখেছেন। হাফিয ইবনে আসারিক শুনানে আরবায়ার আতরাফ সংগ্রহ করেন এবং এর নাম রাখেন 'আল আশরাফ'। মযী 'তুহফাতুল আশরাফ' নামে সিহাহ সিত্তাহর আতরাফ লিখেন। যাহাবী এর তাখলিস (সারগ্রন্থ) লিখেন। শামসুদ্দীন মুকাদ্দেসীও (হিজরী ৫০৭ সন) সিহাহ সিত্তাহ্র আতরাফ সংকলন করেন। হাফিয ইবনে হাজার কুতুবে সিত্তাহ ও মাসানীদে আরবায়ার আতরাফ একত্রিত করেছেন এবং গ্রন্থের নাম রেখেছেন 'আতরাফুল মুহরা বি আতরাফিল আশারাহ'। এই বিষয়ের ওপর শায়খ আবদুল গণী নামলুসীর 'যাখায়েরুল মাওয়ারীস ফীদ্দালালাতে বি মাওযিয়িল আহাদীস' একটি চমৎকার গ্রন্থ। এসব কিতাব মুদ্রিত হয়েছে। সিহাহ সিত্তাহ ও মুয়াত্তার আতরাফগুলো সংগৃহীত হয়েছে। আবদুল আযীয পাঞ্জাবী 'নাবরাসূল লিস্সারী' নামক গ্রন্থে শুধু সহীহুল বুখারীর আতরাফ সংকলন করেছেন।

মিফতাহু কুনযিস সুন্নাহ, মুয়াজ্জামুল ফিহরেস, মিফতাহুস সহীহাঈন ও মিফতাহুল বুখারী এবং সহজ ধরনের নতুন সূচীপত্র সম্বলিত বই প্রকাশিত হয়েছে।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 ইলমুত্ তাখরীজ

📄 ইলমুত্ তাখরীজ


ইলমুত্ তাখরীজ হচ্ছে কোন গ্রন্থের উদ্ধৃতিহীন হাদীসগুলোর উদ্ধৃতি হাদীস গ্রন্থ থেকে দেয়া। এ সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে নসবুর রায় লি তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ, আল মুগনী আনিল আসফার লি তাখরীজি আহাদীসে ইহইয়াইল উলূম, আত্ তাল্ল্বীসুল জাবীর লি তাখরীজি আহাদিসির রাফিয়িল কবীর (হাফিজ ইবনে হাজার), আহাদীসুল কাশাফ (হাফিজ ইবনে হাজার), তাখরীজু আহাদীসিল মুখতার (কাসিম ইবনে কাতলুবাগা), তাখরীজু আহাদীস্ শিফা (সিউতী)। অত্র লেখক তাখরীজু আহাদীসে মাকাতীবে ইমাম রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফিসানী লিখেছি যার নাম উমদাতুল মাজানী। আমি রিসালা রদ্দে রাওয়াফিযের হাদীসও বের করেছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00