📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 সহীহাইন সঙ্ক্রান্ত

📄 সহীহাইন সঙ্ক্রান্ত


সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর হাদীসগুলো অনেকেই একত্রিত করেছেন। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হচ্ছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ আল জাওযী (মৃত্যু: হিজরী ৩৮৮ সন), ইসমাঈল ইবনে আহমাদ আল মারুফ বি ইবনিল ফুরাত (মৃত্যু: হিজরী ৪১৪ সন), আহমাদ আল খাওয়ারিজমী আল বারকানী (মৃত্যু: হিজরী ৪৩৫), মুহাম্মাদ ইবনে আবী নসর আল হুমাইদী (মৃত্যু: হিজরী ৪৮৮ সন), হুসাইন ইবনে মাসউদ আল বগভী (মৃত্যু: হিজরী ৫১৬ সন), মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হক আল ইশবীলী (মৃত্যু: হিজরী ৫৮২) এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ কুরতুবী ইবনে আবিল হুজ্জাত (মৃত্যু: হিজরী ৬৪২ সন)।

শায়খ হাসান সানয়ানী লাহোরী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫০ সন) কর্তৃক প্রণীত 'মাশারেকুল আনওয়ার' এই বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকটি গ্রন্থ। এতে তিনি সহীহাঈনের হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন। কয়েক শত বছর এই গ্রন্থটি এই উপমহাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এর কতিপয় শরাহও আছে।

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর হাদীসগুলো অনেকেই একত্রিত করেছেন। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হচ্ছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ আল জাওযী (মৃত্যু: হিজরী ৩৮৮ সন), ইসমাঈল ইবনে আহমাদ আল মারুফ বি ইবনিল ফুরাত (মৃত্যু: হিজরী ৪১৪ সন), আহমাদ আল খাওয়ারিজমী আল বারকানী (মৃত্যু: হিজরী ৪৩৫), মুহাম্মাদ ইবনে আবী নসর আল হুমাইদী (মৃত্যু: হিজরী ৪৮৮ সন), হুসাইন ইবনে মাসউদ আল বগভী (মৃত্যু: হিজরী ৫১৬ সন), মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হক আল ইশবীলী (মৃত্যু: হিজরী ৫৮২) এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ কুরতুবী ইবনে আবিল হুজ্জাত (মৃত্যু: হিজরী ৬৪২ সন)।

শায়খ হাসান সানয়ানী লাহোরী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫০ সন) কর্তৃক প্রণীত 'মাশারেকুল আনওয়ার' এই বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকটি গ্রন্থ। এতে তিনি সহীহাঈনের হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন। কয়েক শত বছর এই গ্রন্থটি এই উপমহাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এর কতিপয় শরাহও আছে।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 সিহাহ্ সিত্তাহর সংকলন গ্রন্থাদি

📄 সিহাহ্ সিত্তাহর সংকলন গ্রন্থাদি


মুয়াত্তা, সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ, সুনানু আবী দাউদ এবং জামিউত্ তিরমিযীর হাদীসগুলো একত্রিত করার কাজ সর্বপ্রথম শুরু করেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে রযীন ইবনে মুয়াবিয়া আল আবদী আস্ সতস্স্তী (মৃত্যু : হিজরী ৫৩৫ সন)। কিন্তু এর তারতীব ও তাহযীব ভালো ছিলো না। তিনি নিজের অনেক রেওয়ায়েতও এর মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রযীনের পর আবুস্ সায়াদাত মুবারক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনিল আসীর আল জাযেরী (মৃত্যু : হিজরী ৬০৬ সন) 'জামিউল উসূলে' অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপরোক্ত গ্রন্থগুলোর হাদীসসমূহ একত্রিত করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে আলী আল মারুফ বি ইবনে দীবা আশ্শাইবানী (মৃত্যু : হিজরী ৯৪৪) এর তাখলীস বা সারগ্রন্থ লিখেছেন এবং এর নাম রেখেছেন 'তাইসীরুল উসূল ইলা জামিল উসূল'। মুহাম্মাদ মরোওযী (মৃত্যু : হিজরী ৬৮২ সন) এবং হিবাতুল্লাহ্ আবদুল হক হামভী (মৃত্যু : হিজরী ৭১৮ সন) 'জামিউল উসূলের' সারসংক্ষেপ লিখেছেন। আবদুল হক ইবনে আবদুর রহমান আল ইশবীলী ইবনিল খারাত (মৃত্যু : হিজরী ৫৮২ সন) এবং কুতুবদ্দীন মুহাম্মাদ আল মালিকী (মৃত্যুঃ হিজরী ৯৯০ সন) সিহাহ সিত্তাহর হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন।

মুয়াত্তা, সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ, সুনানু আবী দাউদ এবং জামিউত্ তিরমিযীর হাদীসগুলো একত্রিত করার কাজ সর্বপ্রথম শুরু করেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে রযীন ইবনে মুয়াবিয়া আল আবদী আস্ সতস্স্তী (মৃত্যু : হিজরী ৫৩৫ সন)। কিন্তু এর তারতীব ও তাহযীব ভালো ছিলো না। তিনি নিজের অনেক রেওয়ায়েতও এর মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

রযীনের পর আবুস্ সায়াদাত মুবারক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনিল আসীর আল জাযেরী (মৃত্যু : হিজরী ৬০৬ সন) 'জামিউল উসূলে' অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপরোক্ত গ্রন্থগুলোর হাদীসসমূহ একত্রিত করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে আলী আল মারুফ বি ইবনে দীবা আশ্শাইবানী (মৃত্যু : হিজরী ৯৪৪) এর তাখলীস বা সারগ্রন্থ লিখেছেন এবং এর নাম রেখেছেন 'তাইসীরুল উসূল ইলা জামিল উসূল'। মুহাম্মাদ মরোওযী (মৃত্যু : হিজরী ৬৮২ সন) এবং হিবাতুল্লাহ্ আবদুল হক হামভী (মৃত্যু : হিজরী ৭১৮ সন) 'জামিউল উসূলের' সারসংক্ষেপ লিখেছেন। আবদুল হক ইবনে আবদুর রহমান আল ইশবীলী ইবনিল খারাত (মৃত্যু : হিজরী ৫৮২ সন) এবং কুতুবদ্দীন মুহাম্মাদ আল মালিকী (মৃত্যুঃ হিজরী ৯৯০ সন) সিহাহ সিত্তাহর হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 সাধারণ সংগ্রহ গ্রন্থসমূহ

📄 সাধারণ সংগ্রহ গ্রন্থসমূহ


প্রসিদ্ধ কয়েকটি সংগ্রহ গ্রন্থের কথা নিম্নে বর্ণিত হলো :

১. আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলী আল জুযী (মৃত্যু : হিজরী ৫৯৭ সন) কৃত 'জামিউল মাসানীদ ওয়াল আলকাব'। এটি সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ ও জাতিউত্ তিরমিযীর হাদীসসমূহের সংগ্রহ গ্রন্থ।

২. হাফিয ইসমাঈল ইবনে কাসীর (মৃত্যু : হিজরী ৭৮৪ সন) প্রণীত 'জামিউল মাসানীদ'। এটি সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আববায়া, মাসানিদে আহমাদ, বাযযার ও মায়াজিমে তাবরানীর হাদীসসমূহের সংগ্রহ।

৩. আবুল হাসান নুরুদ্দীন আল হাইসামী (মৃত্যু : হিজরী ৮৭৭ সন) কৃত 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ', 'মাসানীদে আহমদ', আবী ইয়ালী, বাযযার ও তারবানীর 'মায়াজিমে সালাসা' থেকে 'জামিউল উসূলের' ওপর যাওয়ায়েদ জমা করেছেন। প্রতিটি হাদীসের সনদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দশ খণ্ডে এই কিতাবটি মুদ্রিত হয়েছে।

৪. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমানুল ফরাসী (মৃত্যু: হিজরী ১০৯৪ সন) লিখিত 'জামিউল ফাওয়ায়েদ', 'জামিউল উসূল' ও 'মাজমাউয যাওয়ায়েদে'র হাদীসগুলোকে সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানুদ্ দারেমীর হাদীসগুলো বাড়িয়ে জমা করেছেন। এটি আসলে চৌদ্দটি কিতাবের সংগ্রহ। এটি অতীব প্রয়োজনীয় কিতাব। এই কিতাব মুদ্রিতও হয়েছে।

৫. ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ আল বাগভী (মৃত্যু: হিজরী ৫১৬ সন) প্রণীত মাসাবীহুস সুন্নাহ্। গ্রন্থকার সিহাহ সিত্তাহ্র হাদীসগুলোকে একত্রিত করেছেন। কিন্তু কিতাব ও সাহাবীর নাম প্রকাশ করেন নি। প্রতি অধ্যায়ে দু'টি পরিচ্ছেদ সংযোজন করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে 'সিহাহ' এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে 'হাসান' শিরোনামে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। এই কিতাবে গৃহীত হাদীস সংখ্যা ৪৪৪৮টি। এটিও মুদ্রিত হয়েছে। অনেক দিন পর্যন্ত এটি পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

৬. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ আল খতীব (মৃত্যু হিজরী ৮০০ সন, মদীনার সীমানায়) রচিত মিশকাতুল মাসাবীহ। এর প্রত্যেক হাদীসে সাহাবী ও সংগ্রহকারীর নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। লেখক নিজেই অতিরিক্ত হাদীসগুলো তৃতীয় পরিচ্ছেদে সংযোজন করেছেন। এটি খুবই প্রয়োজনীয় কিতাব। দীর্ঘকাল ধরে এটি পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থের অনেক শরাহ রয়েছে। তন্মধ্যে তাযবীর শরাহ, মোল্লা আলী কারীর মিরকাত এবং শায়খ আবদুল হক দেহলবীর আল্লোময়াত আরবী ও আশয়াতুল লোময়াত ফারসী অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ। এর উর্দু অনুবাদ হয়েছে। নওয়াব কুতুবুদ্দীন লিখিত এই কিতাবের উর্দু শরাহ মাযাহেরে হকও অতি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।

৭. 'জামউল জাওয়ামে' প্রণেতা হচ্ছেন ইমাম সয়ূতী। শত শত হাদীসগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত এটি হাদীসের একটি বিরাট গ্রন্থ। লেখক এতে সকল হাদীস একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেন নি। মিসরের আলিম সমাজ জামউল জাওয়ামে'র আল জামিউল আযহার নামে টীকা লিখেছেন। মুহাদ্দিস শায়খ আলী মুত্তাকী (মৃত্যু: হিজরী ৯৫৫ সন) জামিউল জাওয়াম সুবিন্যস্ত করেছেন, এর নাম রেখেছেন কানযুল উম্মাল। এটি আট খণ্ডে ছাপা হয়েছে।

৮. সয়ূতী প্রণীত জামিউল সগীর। এটি সংক্ষিপ্ত হাদীসসমূহের সমষ্টি। লেখক জামউল জাওয়ামে থেকে এই কিতাব সংকলন করেছেন। জামিউস সগীরের শরাহ আযীযীও লিখেছেন। শরাহর নাম আসিরাজুল মুনীর। মুনাদীও এর একটি শরাহ লিখেছেন।

৯. আহমাদুল বুসাইরী (মৃত্যু: হিজরী ৮৪০ সন) প্রণীত ইত্তিহাদুল খাইরাহ (মাসানীদে আশরাহ) দশটি মুসনাদ অর্থাৎ তায়ালিসী, হুমাইদী, মুসাদ্দাদ, ইবনে আবী উমার, ইসহাক ইবনে রাহুইয়া, ইবনে আবী শাইবাহ, আহমাদ ইবনে মুনী, আবদুল হামীদ, হারিস ইবনে মুহাম্মাদ এবং আবু ইয়ালী মওসলীর-মাসানীদ থেকে সিহাহ সিত্তাহর ওপর অতিরিক্ত টীকা একত্রিত করেছেন।

১০. শায়খ আবদুল আযীয আল মুনযেরী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫৬ সন) লিখিত আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব। এটি আশা-নিরাশার হাদীসের একটি সংগ্রহ।

১১. শামসুদ্দীন আল জাযারী, (মৃত্যু: হিজরী ৭৩৪ সন) প্রণীত আল হিসনুল হাসীন, দু'আ মাসূরা, যিকর ও দু'আ সম্বলিত একটি সংগ্রহ গ্রন্থ। মোল্লা আলী কারী এর শরাহ লিখেছেন এবং মাওলানা আবদুল হাই এর টীকা লিখেছেন।

১২. ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শরফ আন্ নববী (মৃত্যু হিজরী ৬৭৬ সন) রচিত রিয়াদুস সালেহীন। এই গ্রন্থটি সদাচরণের হাদীসসমূহের সমষ্টি। ইমাম নববী শুধু যিকর সম্পর্কিত একটি উৎকৃষ্ট হাদীস সংগ্রহ তৈরি করেছেন। এর নাম কিতাবুল আযকার। ইবনে উলানী (মৃত্যু: হিজরী ১০৫৭ সন)-এর শরাহ লিখেছেন এবং এটি মুদ্রিতও হয়েছে।

প্রসিদ্ধ কয়েকটি সংগ্রহ গ্রন্থের কথা নিম্নে বর্ণিত হলো :

১. আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলী আল জুযী (মৃত্যু : হিজরী ৫৯৭ সন) কৃত 'জামিউল মাসানীদ ওয়াল আলকাব'। এটি সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ ও জাতিউত্ তিরমিযীর হাদীসসমূহের সংগ্রহ গ্রন্থ।

২. হাফিয ইসমাঈল ইবনে কাসীর (মৃত্যু : হিজরী ৭৮৪ সন) প্রণীত 'জামিউল মাসানীদ'। এটি সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আববায়া, মাসানিদে আহমাদ, বাযযার ও মায়াজিমে তাবরানীর হাদীসসমূহের সংগ্রহ।

৩. আবুল হাসান নুরুদ্দীন আল হাইসামী (মৃত্যু : হিজরী ৮৭৭ সন) কৃত 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ', 'মাসানীদে আহমদ', আবী ইয়ালী, বাযযার ও তারবানীর 'মায়াজিমে সালাসা' থেকে 'জামিউল উসূলের' ওপর যাওয়ায়েদ জমা করেছেন। প্রতিটি হাদীসের সনদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দশ খণ্ডে এই কিতাবটি মুদ্রিত হয়েছে।

৪. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমানুল ফরাসী (মৃত্যু: হিজরী ১০৯৪ সন) লিখিত 'জামিউল ফাওয়ায়েদ', 'জামিউল উসূল' ও 'মাজমাউয যাওয়ায়েদে'র হাদীসগুলোকে সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানুদ্ দারেমীর হাদীসগুলো বাড়িয়ে জমা করেছেন। এটি আসলে চৌদ্দটি কিতাবের সংগ্রহ। এটি অতীব প্রয়োজনীয় কিতাব। এই কিতাব মুদ্রিতও হয়েছে।

৫. ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ আল বাগভী (মৃত্যু: হিজরী ৫১৬ সন) প্রণীত মাসাবীহুস সুন্নাহ্। গ্রন্থকার সিহাহ সিত্তাহ্র হাদীসগুলোকে একত্রিত করেছেন। কিন্তু কিতাব ও সাহাবীর নাম প্রকাশ করেন নি। প্রতি অধ্যায়ে দু'টি পরিচ্ছেদ সংযোজন করেছেন। প্রথম পরিচ্ছেদে 'সিহাহ' এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে 'হাসান' শিরোনামে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। এই কিতাবে গৃহীত হাদীস সংখ্যা ৪৪৪৮টি। এটিও মুদ্রিত হয়েছে। অনেক দিন পর্যন্ত এটি পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

৬. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ আল খতীব (মৃত্যু হিজরী ৮০০ সন, মদীনার সীমানায়) রচিত মিশকাতুল মাসাবীহ। এর প্রত্যেক হাদীসে সাহাবী ও সংগ্রহকারীর নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। লেখক নিজেই অতিরিক্ত হাদীসগুলো তৃতীয় পরিচ্ছেদে সংযোজন করেছেন। এটি খুবই প্রয়োজনীয় কিতাব। দীর্ঘকাল ধরে এটি পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রন্থের অনেক শরাহ রয়েছে। তন্মধ্যে তাযবীর শরাহ, মোল্লা আলী কারীর মিরকাত এবং শায়খ আবদুল হক দেহলবীর আল্লোময়াত আরবী ও আশয়াতুল লোময়াত ফারসী অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ। এর উর্দু অনুবাদ হয়েছে। নওয়াব কুতুবুদ্দীন লিখিত এই কিতাবের উর্দু শরাহ মাযাহেরে হকও অতি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।

৭. 'জামউল জাওয়ামে' প্রণেতা হচ্ছেন ইমাম সয়ূতী। শত শত হাদীসগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত এটি হাদীসের একটি বিরাট গ্রন্থ। লেখক এতে সকল হাদীস একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেন নি। মিসরের আলিম সমাজ জামউল জাওয়ামে'র আল জামিউল আযহার নামে টীকা লিখেছেন। মুহাদ্দিস শায়খ আলী মুত্তাকী (মৃত্যু: হিজরী ৯৫৫ সন) জামিউল জাওয়াম সুবিন্যস্ত করেছেন, এর নাম রেখেছেন কানযুল উম্মাল। এটি আট খণ্ডে ছাপা হয়েছে।

৮. সয়ূতী প্রণীত জামিউল সগীর। এটি সংক্ষিপ্ত হাদীসসমূহের সমষ্টি। লেখক জামউল জাওয়ামে থেকে এই কিতাব সংকলন করেছেন। জামিউস সগীরের শরাহ আযীযীও লিখেছেন। শরাহর নাম আসিরাজুল মুনীর। মুনাদীও এর একটি শরাহ লিখেছেন।

৯. আহমাদুল বুসাইরী (মৃত্যু: হিজরী ৮৪০ সন) প্রণীত ইত্তিহাদুল খাইরাহ (মাসানীদে আশরাহ) দশটি মুসনাদ অর্থাৎ তায়ালিসী, হুমাইদী, মুসাদ্দাদ, ইবনে আবী উমার, ইসহাক ইবনে রাহুইয়া, ইবনে আবী শাইবাহ, আহমাদ ইবনে মুনী, আবদুল হামীদ, হারিস ইবনে মুহাম্মাদ এবং আবু ইয়ালী মওসলীর-মাসানীদ থেকে সিহাহ সিত্তাহর ওপর অতিরিক্ত টীকা একত্রিত করেছেন।

১০. শায়খ আবদুল আযীয আল মুনযেরী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫৬ সন) লিখিত আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব। এটি আশা-নিরাশার হাদীসের একটি সংগ্রহ।

১১. শামসুদ্দীন আল জাযারী, (মৃত্যু: হিজরী ৭৩৪ সন) প্রণীত আল হিসনুল হাসীন, দু'আ মাসূরা, যিকর ও দু'আ সম্বলিত একটি সংগ্রহ গ্রন্থ। মোল্লা আলী কারী এর শরাহ লিখেছেন এবং মাওলানা আবদুল হাই এর টীকা লিখেছেন।

১২. ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শরফ আন্ নববী (মৃত্যু হিজরী ৬৭৬ সন) রচিত রিয়াদুস সালেহীন। এই গ্রন্থটি সদাচরণের হাদীসসমূহের সমষ্টি। ইমাম নববী শুধু যিকর সম্পর্কিত একটি উৎকৃষ্ট হাদীস সংগ্রহ তৈরি করেছেন। এর নাম কিতাবুল আযকার। ইবনে উলানী (মৃত্যু: হিজরী ১০৫৭ সন)-এর শরাহ লিখেছেন এবং এটি মুদ্রিতও হয়েছে।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 জাওয়ামেয়ে আহকাম

📄 জাওয়ামেয়ে আহকাম


হুকুম আহকাম সম্পর্কিত সংকলিত কতিপয় কিতাবের নাম নিম্নে দেয়া হলো:

১. ইবনুল খাররাত আবী মুহাম্মাদ আবদুল হক আল ইশবীলী (মৃত্যু: হিজরী ৫৮১ সন) প্রণীত আল আহকামুস্ সুগরা। গ্রন্থকারের আহকামুল কুবরা নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে।

২. হাফিয আবদুল গণী (মৃত্যুঃ হিজরী ৬০০ সন) প্রণীত উমদাতুল আহকাম। এটি সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর আহকামের হাদীসসমূহের একটি সমষ্টি। ইবনে দাকীকুল ঈদ এর শরাহ লিখেছেন।

৩. ইবনে শাদ্দাদুল হালাবী (মৃত্যু: হিজরী ৬৩৬ সন) প্রণীত দালায়েলুম আহকাম। গ্রন্থকার হাদীস লিখে তা থেকে আংশিক আহকাম বের করেছেন।

৪. হাফিয মজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়া আল হাম্বলী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫২ সন) প্রণীত 'মুনতাকাল আখবার'। এই কিতাব সিহাহ সিত্তাহ এবং মুসনাদে আহমাদ থেকে সংগৃহীত হুকুম আহকামের সমষ্টি। ইয়ামানের কাযী শাওকানী (মৃত্যু: হিজরী ১২৫০ সন) এর চমৎকার শরাহ লিখেছেন। এর নাম নাইলুল আওতার।

৫. শায়খ মুহিবুত তাবারী (মৃত্যু: হিজরী ৬৯৪ সন) প্রণীত আহকামুল কুবরা। আহকামুল উসতা এবং আহকামুস্ সুগরা নামে লেখকের আরো দু'টি কিতাব রয়েছে।

৬. ইবনে দাকীকিল ঈদ (মৃত্যুঃ হিজরী ৭০২ সন) প্রণীত আল আলসাম ফী আহাদীসিল আহকাম। লেখক নিজেই এর শরাহ লিখেছেন।

৭. ইমামুদ্দীন ইবনে কাসীর (মৃত্যু: হিজরী ৭৪৪ সন) প্রণীত আল আহকামুস্ সুগরা।

৮. শায়খ ইমামুদ্দীন ইবনে কোদামাতুল হাম্বলী (মৃত্যু: হিজরী ৭৪৪ সন) প্রণীত আল মুহাররার। এটি একটি উৎকৃষ্ট কিতাব যা মুদ্রিত হয়েছে।

৯. যয়নুদ্দীন আল ইরাকী (মৃত্যু: হিজরী ৮০৬ সন) প্রণীত তাকরীবুল আসানীদ। লেখকের পুত্র আবু যুরয়া আল ইরাকী (মৃত্যু: হিজরী ৮২৬ সন) এর শরাহ লিখেছেন। এই শরাহ্র নাম হলো তারহুত তাশরীব। এটি আট খণ্ডে সমাপ্ত। গ্রন্থখানি মুদ্রিত হয়েছে।

১০. হাকিম আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল আসকালানী আশ্ শাফিঈ (মৃত্যু: হিজরী ৮৫২ সন) প্রণীত বুলুগুল মুরামিন আদিল্লাতিল আহকাম। এটি বড় আকারের সুপ্রসিদ্ধ একটি কিতাব। এর মধ্যে ১৪০০টি আহকাম সম্পর্কিত হাদীস রয়েছে। এর একাধিক শরাহ আছে। তন্মধ্যে ইসমাঈল আস্ সানয়ানী রচিত সুবুলুস সালাম প্রসিদ্ধ।

১১. যহীর আহসান শাওকানী মুতী (মৃত্যু: হিজরী ১৩২২ সন) প্রণীত আসারুস সুনান। এটিও একটি উন্নতমানের কিতাব। এতে হানাফী দলীলাদি বিশ্লেষিত হয়েছে। শুধু কিতাবুস্ সালাম পর্যন্ত লেখা হয়েছে এবং তা মুদ্রিত হয়েছে।

১২. আশরাফ আলী থানবী (মৃত্যু: হিজরী ১৩৬২ সন) প্রণীত ইহইয়াউস্ সুনান ইলাউস্ সুনান। তাঁর তত্ত্বাবধানে জাফর আহমদ উসমানী প্রমুখের দ্বারা এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। হানাফী হাদীসের দলীলাদির বিশদ ব্যাখ্যা এর মূল আলোচ্য বিষয়। এটি দশ খণ্ডে ছাপা হয়েছে।

১৩. জাফরউদ্দীন রিজভী প্রণীত জামে রিজভী। হানাফীদের সহায়ক হাদীসের সমষ্টি। এটি দু'খণ্ডে লিখিত।

১৪. এই গ্রন্থকার (সাইয়িদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান) কর্তৃক রচিত ফিকহুল সুনান ওয়াল আসার। এটি পাঁচশত পৃষ্ঠাব্যাপী বিভিন্ন ধরনের আহকামের সমষ্টি। এতে সনদের অবস্থাও বর্ণিত হয়েছে। আকাঈদ, উসূলে দীন, ইহসান, তারগীব এবং আযকার ও দু'আর হাদীসও এতে রয়েছে। এটিও মুদ্রিত হয়েছে।

হুকুম আহকাম সম্পর্কিত সংকলিত কতিপয় কিতাবের নাম নিম্নে দেয়া হলো:

১. ইবনুল খাররাত আবী মুহাম্মাদ আবদুল হক আল ইশবীলী (মৃত্যু: হিজরী ৫৮১ সন) প্রণীত আল আহকামুস্ সুগরা। গ্রন্থকারের আহকামুল কুবরা নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে।

২. হাফিয আবদুল গণী (মৃত্যুঃ হিজরী ৬০০ সন) প্রণীত উমদাতুল আহকাম। এটি সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর আহকামের হাদীসসমূহের একটি সমষ্টি। ইবনে দাকীকুল ঈদ এর শরাহ লিখেছেন।

৩. ইবনে শাদ্দাদুল হালাবী (মৃত্যু: হিজরী ৬৩৬ সন) প্রণীত দালায়েলুম আহকাম। গ্রন্থকার হাদীস লিখে তা থেকে আংশিক আহকাম বের করেছেন।

৪. হাফিয মজদুদ্দীন ইবনে তাইমিয়া আল হাম্বলী (মৃত্যু: হিজরী ৬৫২ সন) প্রণীত 'মুনতাকাল আখবার'। এই কিতাব সিহাহ সিত্তাহ এবং মুসনাদে আহমাদ থেকে সংগৃহীত হুকুম আহকামের সমষ্টি। ইয়ামানের কাযী শাওকানী (মৃত্যু: হিজরী ১২৫০ সন) এর চমৎকার শরাহ লিখেছেন। এর নাম নাইলুল আওতার।

৫. শায়খ মুহিবুত তাবারী (মৃত্যু: হিজরী ৬৯৪ সন) প্রণীত আহকামুল কুবরা। আহকামুল উসতা এবং আহকামুস্ সুগরা নামে লেখকের আরো দু'টি কিতাব রয়েছে।

৬. ইবনে দাকীকিল ঈদ (মৃত্যুঃ হিজরী ৭০২ সন) প্রণীত আল আলসাম ফী আহাদীসিল আহকাম। লেখক নিজেই এর শরাহ লিখেছেন।

৭. ইমামুদ্দীন ইবনে কাসীর (মৃত্যু: হিজরী ৭৪৪ সন) প্রণীত আল আহকামুস্ সুগরা।

৮. শায়খ ইমামুদ্দীন ইবনে কোদামাতুল হাম্বলী (মৃত্যু: হিজরী ৭৪৪ সন) প্রণীত আল মুহাররার। এটি একটি উৎকৃষ্ট কিতাব যা মুদ্রিত হয়েছে।

৯. যয়নুদ্দীন আল ইরাকী (মৃত্যু: হিজরী ৮০৬ সন) প্রণীত তাকরীবুল আসানীদ। লেখকের পুত্র আবু যুরয়া আল ইরাকী (মৃত্যু: হিজরী ৮২৬ সন) এর শরাহ লিখেছেন। এই শরাহ্র নাম হলো তারহুত তাশরীব। এটি আট খণ্ডে সমাপ্ত। গ্রন্থখানি মুদ্রিত হয়েছে।

১০. হাকিম আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল আসকালানী আশ্ শাফিঈ (মৃত্যু: হিজরী ৮৫২ সন) প্রণীত বুলুগুল মুরামিন আদিল্লাতিল আহকাম। এটি বড় আকারের সুপ্রসিদ্ধ একটি কিতাব। এর মধ্যে ১৪০০টি আহকাম সম্পর্কিত হাদীস রয়েছে। এর একাধিক শরাহ আছে। তন্মধ্যে ইসমাঈল আস্ সানয়ানী রচিত সুবুলুস সালাম প্রসিদ্ধ।

১১. যহীর আহসান শাওকানী মুতী (মৃত্যু: হিজরী ১৩২২ সন) প্রণীত আসারুস সুনান। এটিও একটি উন্নতমানের কিতাব। এতে হানাফী দলীলাদি বিশ্লেষিত হয়েছে। শুধু কিতাবুস্ সালাম পর্যন্ত লেখা হয়েছে এবং তা মুদ্রিত হয়েছে।

১২. আশরাফ আলী থানবী (মৃত্যু: হিজরী ১৩৬২ সন) প্রণীত ইহইয়াউস্ সুনান ইলাউস্ সুনান। তাঁর তত্ত্বাবধানে জাফর আহমদ উসমানী প্রমুখের দ্বারা এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। হানাফী হাদীসের দলীলাদির বিশদ ব্যাখ্যা এর মূল আলোচ্য বিষয়। এটি দশ খণ্ডে ছাপা হয়েছে।

১৩. জাফরউদ্দীন রিজভী প্রণীত জামে রিজভী। হানাফীদের সহায়ক হাদীসের সমষ্টি। এটি দু'খণ্ডে লিখিত।

১৪. এই গ্রন্থকার (সাইয়িদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান) কর্তৃক রচিত ফিকহুল সুনান ওয়াল আসার। এটি পাঁচশত পৃষ্ঠাব্যাপী বিভিন্ন ধরনের আহকামের সমষ্টি। এতে সনদের অবস্থাও বর্ণিত হয়েছে। আকাঈদ, উসূলে দীন, ইহসান, তারগীব এবং আযকার ও দু'আর হাদীসও এতে রয়েছে। এটিও মুদ্রিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00