📄 সুনানে নাসায়ী
ইমাম নাসাঈ 'কিতাবুস্ সুনান আল কুবরা' নামক হাদীসের একখানা বড় কিতাব প্রণয়ন করেন। এর শর্ত ছিলো যে এখন থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি হাদীস লিপিবদ্ধ করবেন যা পরিত্যাগ করার ইজমা ও ইত্তেফাক হয়নি। রামলার আমীর যখন এই কিতাব পেলেন তিনি ইমাম নাসাঈকে জিজ্ঞেস করলেন, 'এই কিতাবের সব হাদীস কি সহীহ?' তিনি উত্তরে বললেন, 'সহীহ, হাসান ও এর নিকটবর্তী সব ধরনের হাদীসই এর মধ্যে রয়েছে।' আমীর অনুরোধ করলেন, 'এই কিতাবের শুধু সহীহ হাদীসগুলো একত্রিত করে দিন।' ইমাম নাসাঈ তখন কিতাবুস্ সুনান আল কুবরা থেকে কিতাবুস্ সুনান আস্ সুগরা সংকলন করেন। আর এর নাম রাখেন মুজতানা (নির্বাচিত) অথবা মুজতাবা (পছন্দনীয়)। এই গ্রন্থ থেকে অন্যান্য হাদীস বাদ দিয়ে কেবল সহীহগুলোই রাখেন।
আহমাদ রামলী বলেন যে ইমাম নাসাঈ বলেছেন, 'সংকলনের সময় প্রত্যেক হাদীস নির্বাচনকালে আমি ইস্তিখারা করতাম। সন্দেহের উদ্রেক হলেই তা পরিত্যাগ করতাম।'
মুজতাবায় তিন ধরনের হাদীস স্থান পেয়েছে। প্রথমত ঐসব হাদীস যেগুলো সহীহাঈনে রয়েছে। দ্বিতীয়ত ঐসব হাদীস যেগুলো উভয়ের শর্ত পূরণ করেছে। তৃতীয়ত ঐসব হাদীস যেগুলো নাসাঈর শর্ত পূরণ করেছে। মুজতানার মধ্যে কিছু সংখ্যক হাদীস মালুল ও মুনকাতা দৃষ্ট হয়। কোন কোন হাদীসের ত্রুটি উক্ত কিতাবেই বর্ণিত রয়েছে। আমার মনে হয় মুজতানার রাবী ইবনুস সুন্নী তা বৃদ্ধি করেছেন। কেননা তিনি সংকলনে শরীক ছিলেন। দেখুন সালাতুল খাওফ ও আন্নাদহু মিনাত তাহারাতে মিন ইবনিস্ সুন্নী যা তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।
ইমাম নাসাঈর কিতাব মুজতানা বাচনভংগির দৃষ্টিতে সহীহ মুসলিমের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। অধ্যায় নিরূপণ এবং মাসআলা নির্বাচনে এটি সহীহুল বুখারীর অনুরূপ। এটি বুখারী ও মুসলিমের পদ্ধতি একত্রকারী।
এর সাথে ইল্লাতের ফায়দা আলাদা রয়েছে। উপরোক্ত অবস্থানুযায়ী সহীহাঈন ছাড়া অন্যান্য হাদীসের কিতাবের সাথে তুলনা করলে অনেক কম দুর্বল হাদীস ও বিতর্কিত বর্ণনাকারী মুজতানায় পাওয়া যাবে।
মুজতানায় ৫১টি অধ্যায় ও ১৭৪৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। হাদীস রয়েছে ৪৪৮২টি। ইমাম নাসাঈ থেকে মুজতানা রেওয়ায়েতকারীর সংখ্যা একাধিক। তবে ইবনুস্ সুন্নীর রেওয়ায়েত প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত।
সিরাজুদ্দীন ইবনে মুলকান মুজতানার শরাহ লিখেছেন। সিন্দি ও সয়ূতী মুজতাবার পাদটিকা লিখেছেন। এর উর্দু তরজমাও প্রকাশিত হয়েছে।
📄 ইমাম আবু দাউদ (র)
ইমাম আবু দাউদের নাম সুলাইমান। উপনাম আবূ দাউদ। বংশ পরম্পরা : সুলাইমান ইবনে আশয়াস ইবনে ইসহাক ইবনে বশীর ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান। কান্দাহারের নিকটবর্তী সিস্তান তাঁর জন্মস্থান। হিজরী ২০২ সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
হাদীস শিক্ষার্থে তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ইরাক, খোরাসান, শাম, হিজায, মিসর ও জযীরার মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি ইমাম বুখারীর সমসাময়িক ছিলেন। আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইবনে মুয়ীন, উসমান ইবনে আবী শাইবাহ, কুতাইবাহ, কাবেনী, তায়ালিসী প্রমুখ তাঁর উস্তাদ ছিলেন। ইমাম আবূ দাউদ তাঁর উস্তাদগণ থেকে পাচ লাখ হাদীস শিখেছেন। তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ ইবনে খিলাল প্রমুখ আবূ দাউদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ্ লু'লুয়ীসহ ইবনুল আরাবী ও ইবনে ওয়াসা তাঁর প্রখ্যাত ছাত্র।
ইমাম আবূ দাউদ উঁচু পর্যায়ের হাদীসের হাফিয, ইলাল বিশারদ ও ফকীহ ছিলেন। ইবাদাত, সালাহ ও তাকওয়ায় সুসমন্বিত ছিলেন। তিনি একাধিকবার বাগদাদ আসেন এবং বসরায় বসতি স্থাপন করেন। হিজরী ২৭৫ সনের ১৫ই শাওয়াল জুম'আর দিন তিনি ইন্তিকাল করেন।
ইমাম আবূ দাউদের গ্রন্থাবলীর মধ্যে সুনান ও মারাসীল বেশি প্রসিদ্ধ।
📄 সুনানু আবী দাউদ
সুনান অর্থাৎ ধারাবাহিক ফিকহী আহকামের কিতাব হচ্ছে সুনanu আবী দাউদ। পাঁচ লাখ হাদীস থেকে বাছাই করে তিনি এই সংকলন তৈরি করেন। এর মধ্যে সহীহ, হাসান, লাইয়েন ও আমল উপযোগী হাদীসগুলো তিনি সংকলিত করেছেন। তিনি শর্ত করেছিলেন যে, যেসব হাদীস পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সকল ইমাম একমত তিনি সেগুলো লিপিবদ্ধ করবেন না। কিন্তু যেগুলো পরিত্যাগের ব্যাপারে তাঁরা একমত নন এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীনের মধ্যে কেউ তা আমলকারী হলে তিনি সেগুলো লিপিবদ্ধ করবেন। সুতরাং রাফয়ে ইয়াদাইন, আদমে রাফয়ে ইয়াদাইন, আমীন বিল জিহর ও আমীন বিস্ সির, কিরায়াত খালফাল ইমাম ও আদমে কিরায়াত খালাফাল ইমাম-সব ধরনের হাদীস এর মধ্যে রয়েছে। ইমাম আবূ দাউদের দৃষ্টিতে যে হাদীস মালুল (আপত্তিকর) তিনি তার কারণ বর্ণনা করেছেন। হাদীসের দ্বারা কোন মাস'আলা উদ্ভাবিত হলে তা অধ্যায়ের শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ গ্রন্থটি আহকাম সংগ্রহ ও ফিকাহর সংকলনের অনন্য দাবিদার। আবূ দাউদ যেসব হাদীস সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন সেই হাদীসগুলো মুহাদ্দিসগণের নিকট গৃহীত। শৃংখলা বিধান ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে হাদীস যাতে দীর্ঘ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রয়োজনে তিনি সংক্ষিপ্ত আকারে হাদীস একত্রিত করেছেন। সংকলনের পর তিনি গ্রন্থটি ইমাম আহমাদের নিকট পেশ করেন। তিনি গ্রন্থখানি পছন্দ করেন। ইমাম গাযালী লিখেছেন, মুজতাহিদদের জন্য তাঁর কিতাবই যথেষ্ট।
এটি খুব জনপ্রিয় সংকলন। সুন্নাতুল জামায়াতের সব ফিরকার আলিম ও ফকীহগণ এই গ্রন্থটি গ্রহণ করেছেন।
সুনanu আবী দাউদে পাঁচ ধাপের (মাধ্যমের) কম কোন হাদীস নেই। শুধু একটি হাদীসে চার ধাপ রয়েছে। সুনানের অধ্যায় সংখ্যা ৪০। এতে মোট চার হাজার আট শত হাদীস সন্নিবেশিত হয়েছে। তন্মধ্যে মারাসীলের সংখ্যা ৬০০টি। সুনanu আবী দাউদ চারটি রেওয়ায়েত হিসেবে প্রসিদ্ধ।
১. ইবনে ওয়াসা আবূ দাউদ থেকে রেওয়ায়েত করেছেন। এটি একটি পরিপূর্ণ রেওয়ায়েত। মাগরিবে এর প্রচলন বেশি।
২. আবী আলী আল লুয়ীর রেওয়ায়েত। এটিই প্রসিদ্ধ সহীহ রেওয়ায়েত। প্রাচ্যে এর প্রচলন বেশি।
৩. আবী সাঈদ ইবনুল 'আরাবীর রেওয়ায়েত। এই রেওয়ায়েতে কিছু ত্রুটি রয়েছে।
৪. আবু ঈসা ইসহাক আর রমলী ওয়ারিক আবী দাউদের রেওয়ায়েত। এই রেওয়ায়েত ইবনে ওয়াসার সমপর্যায়ের রেওয়ায়েত।
সুনanu আবী দাউদের অনেক শরাহ রয়েছে। তন্মধ্যে খাত্তাবীর মায়ালিমু সীন, শায়খ শামসুল হকের গায়াতুল মাকসূদ, শায়খ আশরাফ আলী আযিমাবাদীর উনুল মা'বুদ, শায়খ খলীল আহমদের বযলুল মাযহুদ খুবই প্রসিদ্ধ। ইমাম মুনযিরী সুনanu আবী দাউদের সার-সংক্ষেপ লিখেছেন। সুনানের ওপর পাদটিকা সম্বলিত কয়েকটি কিতাব লিখেছেন। রিজাল (চরিত অভিধান) ও লেখা হয়েছে। আমি (আমীমুল ইহসান) সুনানের মুকাদ্দমা (ভূমিকা) লিখেছি। তা প্রকাশিতও হয়েছে। সুনানের উর্দু অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে। আবু দাউদের মারাসীলও আমার (মুফতী আমীমুল ইহসান) ভূমিকাসহ ছাপা হয়েছে।
📄 ইমাম তিরমিযী (র)
ইমাম তিরমিযীর নাম মুহাম্মদ। উপনাম আবু ঈসা। বংশ পরম্পরা: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সূরাহ ইবনে মূসা ইবনে যাহ্হাক আস্ সালমী আল বুগী আত্ তিরমিযী। তিনি একজন প্রসিদ্ধ হাকিম ও ইলমে হাদীসের প্রখ্যাত ইমাম ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ মরোর অধিবাসী। তাঁর দাদা বলখ এলাকার তিরমিযে এসে বসতি স্থাপন করেন।
ইমাম তিরমিযী হিজরী ২০০ সনে জন্মগ্রহণ করেন। হাদীস সংগ্রহের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেন। বসরা, কুফা, ওয়াসিত, রায়, খোরাসান ও হিজাযে তিনি হাদীসের সন্ধানে গমন করেন। ঐসব স্থানের বড় বড় মুহাদ্দিস থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ উস্তাদ ছিলেন কুতাইবা আবূ মুসয়াব, ইসমাঈল ইবনে মূসা এবং ইমাম বুখারী। ইমাম তিরমিযী থেকে বহু লোক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন আবূ হামেদ মরোযী, হাইশাম ইবনে কালীবুস্ শাসী, মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব আল মরোযী ও হাম্মাদ ইবনে শাকের। ইমাম তিরমিযীর বিশ্বস্ততা, স্মরণশক্তি এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ নিঃসংশয়। তিনি ফকীহ ছিলেন। হিফয সম্পর্কে তাঁকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হতো। তিনি পরহেযগার ও নিঃস্বার্থ ব্যক্তি ছিলেন।
হিজরী ২৭৯ সনের ১৩ই রজব সোমবার তিরমিয থেকে ছয় ক্রোশ দূরবর্তী বুগ নামক গ্রামে তিনি ইন্তিকাল করেন। বহু গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম তিরমিযীর প্রখ্যাত দু'টি গ্রন্থ হচ্ছে 'শামায়েল' ও 'জামি'উত তিরমিযী'।
'ইমাম বুখারীর জামে' সহীহ পরিচিতির মূলগ্রন্থ। আর তাঁর ছাত্র ইমাম তিরমিযীর জামে' হাসান পরিচিতির মূল উৎস। জামে' তিরমিযী গভীরতা ও বিশুদ্ধতার দৃষ্টিতে বুখারীর পদ্ধতির বাহক। উপস্থাপনা ও শৃংখলার দিক দিয়ে এটি সহীহ মুসলিমের অনুরূপ। আহকামের হাদীস ও ফকীহদের প্রমাণাদির বয়ানের দিক থেকে এটি সুনanu আবী দাউদের অনুরূপ। এই গ্রন্থ উপরোল্লিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত। তদুপরি নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে অন্যান্য হাদীসগ্রন্থের তুলনায় অধিকতর উপকারী।
১. অভিনব শৃংখলা, পুনরাবৃত্তিহীনতা ও তরীকের সংক্ষেপণ।
২. ফকীহদের মাযহাব ও প্রমাণাদির উল্লেখ
৩. সহীহ, হাসান, যয়ীফ, গরীব, ইলাল প্রভৃতি হাদীস পরিবেশন।
৪. রাবীদের নাম, উপনাম, উপাধি প্রভৃতির উল্লেখ।
ইমাম তিরমিযী যখন এই কিতাব লিপিবদ্ধ করে হিজাযের আলিমদের নিকট পেশ করেন, তখন তাঁরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইরাকের আলিমদেরকেও এটি দেখানো হয়। খোরাসানের আলিমগণও এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। শাইখুল ইসলাম হারদী (র) বলেন, "হাদীস শাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই কিতাব সহীহাঈন থেকেও বেশি উপকারী।"
ইমাম তিরমিযীর জামে' হাসান পরিচিতির জন্য মৌলিক গ্রন্থ। প্রাথমিক কালের আলিমগণ সহীহ ও হাসানের মধ্যে পার্থক্য করতেন না। সর্বপ্রথম ইমাম বুখারী ও ইবনুল মদীনী এই পার্থক্যের কথা বলেন। আর ইমাম তিরমিযী এটিকে পূর্ণত্ব দান করেন।
জামিউত তিরমিযীতে ১৪৬টি অধ্যায় রয়েছে। এতে রয়েছে ৩৮১৪টি হাদীস। পুনঃ উল্লেখিত হাদীসের সংখ্যা মাত্র ৮৩টি। অনেক অধ্যায়ের পুনরুল্লেখ আছে। একটিতে মাত্র সুলাসী বা তিনজনের সূত্র আছে।
জামে'র মধ্যে ইমাম তিরমিযীর শর্ত শুধু এই যে, হাদীস এমন হতে হবে যা কোন মুজতাহিদ কর্তৃক ব্যবহৃত যদিও এর সনদ বিতর্কিত। এইজন্য জামিউত্ তিরমিযীর প্রায় সকল হাদীস আমলযোগ্য। জামিউত তিরমিযী সুনানে তিরমিযী নামেও পরিচিত। নাসাঈ, আবু দাউদ ও তিরমিযী এই তিনটি সুনানে কোন মওযু হাদীস নেই। কিন্তু ইবনে জওযী সুনানে নাসাঈর একটি, সুনanu আবী দাউদের চারটি এবং জামিউত তিরমিযীর তেইশটি হাদীস মওযু হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। এটা কিন্তু তাঁর ভুল ধারণা। কেননা হাফিয ইবনে হাজার 'আল কাউলুল হাসান ফিল কিযবে আনিস সুনান' গ্রন্থে ইবনে জওযীর অভিমতকে ভুল প্রমাণিত করেছেন।
জামিউত তিরমিযীতে যয়ীফ হাদীস আছে। অবশ্য ইমাম তিরমিযী নিজেই এগুলোর দুর্বলতা স্বীকার করেছেন। জামিউত তিরমিযীর মধ্যে কতিপয় শব্দের বিশেষ পরিভাষা রয়েছে। আর এগুলোর রয়েছে বিশেষ নিয়মনীতি। এগুলোর তাফসীল আমার (মুফতী আমীমুল ইহসান) লেখা 'ইলমুল হাদীসকে মুবাদিয়াত' নামক পুস্তিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জামিউত তিরমিযীতে রাবী বা বর্ণনাকারী ছয়জন : ১. আবুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহবুব। ২. আবূ সাঈদ ইবনে হাইশাম ইবনে কালীবুস শাসী। ৩. আবূ যার মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম। ৪. আবূ মুহাম্মাদ আলহাসান ইবনে ইবরাহীম আল কাত্তান। ৫. আবূ হামীদ আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ্। ৬. আবুল হাসান আল ওয়াযরী।
এই উপমহাদেশে প্রথম রাবীর রেওয়ায়েতই বেশি প্রচলিত। জামিউত্ তিরমিযীর শরাহ অনেক। তন্মধ্যে 'আরেদাতুল আহওয়াযী' (ইবনুল আরাবী কৃত) ও 'তুহফাতুল আহওয়াযী' (শায়খ আবদুর রহমান মুবারকপুরী কৃত) খুবই প্রসিদ্ধ। মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরীর অভিমত যুক্ত 'আল উরফুস শাসী'ও সুন্দর গ্রন্থ।
হাফিয ইবনে হাজার 'আল লুবাবু মা ফিলবাব' লিখেছেন। এতে জামিউত্ তিরমিযীতে উল্লিখিত সাহাবায়ে কিরামের সংক্ষিপ্ত সম্বোধিত হাদীসগুলো নির্বাচিত করা হয়েছে। জামিউত্ তিরমিযী উর্দু ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে।