📄 সহীহ মুসলিম
ইমাম মুসলিম তিন লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই বাছাই করে ১৫ বছর পরিশ্রম করে সহীহ হাদীসের এই পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। আবূ যুরআ রাযী থেকেও সংগ্রহ সম্পর্কে পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আবু আলী নিশাপুরী হাদীসের গ্রন্থ সমূহের মধ্যে সহীহ মুসলিমকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সনদের বিশুদ্ধতার সাথে বর্ণনা নৈপুণ্য ও সুশৃংখল উপস্থাপনার দৃষ্টিতে এই কিতাব নজীরবিহীন। তিনি খবর ও হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করেন। আর মুজমাল, মুশকিল, মানসুখ, মু'য়ানয়ান ও মুবহাম হাদীসকে সনদ সহকারে বয়ান করেন। অতঃপর সেই সাথে মুবীন, নাসিখ, মুসারাহ, মুয়ীন ও মানসুব হাদীসের উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেক হাদীসের বাক্য নিজ মূল সনদের সাথে লিখেছেন। সনদের মতপার্থক্যের সাথে শব্দ ও বাক্যের মতপার্থক্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেক অধ্যায়ের একই মহল নির্ধারণ করেছেন যদ্দরুন পঠন সহজ হয়েছে। আর তালাশের জটিলতাও দূর হয়েছে।
ইমাম মুসলিম সহীহ গ্রন্থের প্রথমে একটি ভূমিকাও লিপিবদ্ধ করেছেন। এতে কিতাব প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছাড়া রেওয়ায়েত সম্পর্কে অনেক মূল্যবান বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তিনি ভূমিকায় রাবী বা বর্ণনাকারীদের তিনটি শ্রেণী নির্ধারিত করেছেন। যথা: ১. মারায়াহুল হুফফাযুল মুত্তাকীনুন, ২. মারায়াহুল মাসতুরুন ওয়াল মুতাওয়াসসিতুন, ৩. মারায়াহুয যুয়াফাউ। তিনি নিজ সহীহ সংকলনে প্রথম শ্রেণীর হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় শ্রেণীর হাদীসগুলো আনুষঙ্গিকভাবে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় শ্রেণীর হাদীসগুলো বাদ রেখেছেন। হাযিমী একেই মুসলিমের শর্ত বলে নির্ধারণ করেছেন। সহীহ মুসলিমে সুলাসিয়াত নেই। তবে রুবাইয়াত আশিরও বেশি রয়েছে। বারবার উল্লিখিত হাদীসের সংখ্যা মোট ১৭৫১টি। পুনরুল্লেখ বাদে ৪০০০ হাদীস রয়েছে। সহীহ মুসলিমের তালীকাত দু'টি। প্রকাশ্যে যদিও চৌদ্দটি দেখা যায় কিন্তু বারটি হাদীস অন্যস্থানে বিদ্যমান।
তারাজুমে আবওয়াব বা অধ্যায়ের শিরোনাম ইমাম মুসলিম নিজে স্থাপন করেন নি। অন্যরা পাদটিকা হিসেবে এর প্রবর্তন করেছেন।
মুতাদাওল কিতাবাদির মধ্যে ইমাম নববীর স্থিরকৃত শিরোনাম বা তারাজুম রয়েছে।
সহীহ মুসলিমের দু'জন রাবী আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ নিশাপুরী ও আবূ মুহাম্মাদ আহমাদ ইবনে আলী কালানসীর মধ্যে প্রথম জনের রেওয়ায়েত সর্বত্র প্রচলিত।
সহীহ মুসলিমের একাধিক শরাহ (ব্যাখ্যা) রয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম নববী, উবাই ও সনূসীর শরাহ মুতাদাওল। মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানীর শরাহ ফাতহুল মুলহিমও প্রসিদ্ধ কিতাব। ইস্তাম্বুলের আলিমগণ এর পাদটিকা লিখেছেন। সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ওপর যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে। এগুলোর ফার্সী ও উর্দু অনুবাদও বের হয়েছে।
📄 বুখারী ও মুসলিমের শর্তাবলী
সহীহাঈনের মধ্যে শুধু সহীহ হাদীস সীমাবদ্ধ নয়। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম নিজ নিজ সহীহর মধ্যে সহীহ হাদীসসমূহের সঠিকতার দাবিদার নন। অবশ্য এই দু'জনের সহীহাঈনে যত হাদীস আছে সেগুলো নিশ্চিতভাবে সহীহ এবং সহীহ হাদীসসমূহ থেকেই সংকলিত। কিন্তু এদের কেউ সহীহ হাদীসের মাপকাঠি কি তা উল্লেখ করেন নি। তবে তাঁদের হাদীসের ওপর চিন্তা-ভাবনার পর মুহাদ্দিসগণ এর শর্তাবলী নির্ধারণ করেছেন। ইমাম আবুল ফযল মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল মুকাদ্দেসী (মৃত্যু ৫০৭ হিজরী সন) শরুতু আইম্মায়িস্ সিত্তাতে লিখেছেন, "প্রকাশ থাকে যে, বুখারী ও মুসলিমের মুত্তাফিক বর্ণনার শর্ত হলো: কোন প্রসিদ্ধ সাহাবী থেকে নির্ভরযোগ্যতা ও প্রামাণ্যতার মতভেদ ব্যতীত উক্ত হাদীস বর্ণিত হবে এবং এর ইসনাদ মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন থাকবে-কোন রকমের ছেদ পড়বে না। কোন সাহাবী থেকে যদি দুই বা তার অধিক সংখ্যক সাহাবী বর্ণনা করেন তবে তা হবে ভাল। উক্ত হাদীসের যদি একাধিক রাবী না থাকেন এবং উক্ত রাবী পর্যন্ত যদি বর্ণনাসূত্র (সনদ) সহীহ হয়, তাহলে উভয়েই তা গ্রহণ করেন। অবশ্য ইমাম বুখারী তাঁর সন্দেহের জন্য যেসব রাবীর হাদীস ত্যাগ করেছেন ইমাম মুসলিম এমন সব রাবীর হাদীস সমূহও তাদের সন্দেহ দূর করার পর গ্রহণ করেছেন।"
হাফেজ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন মূসা আল হাযিমী (মৃত্যু ৫৮৪ হিঃ) পঞ্চ ইমামের শর্ত সমূহে লিখেছেন: পরে প্রকাশিত হয়েছে যে, বুখারীর উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষিপ্তকরণ। তিনি বর্ণনাকারী এবং হাদীস কোনটিতেই পূর্ণতার ইচ্ছা করেন নি। যদিও তিনি সহীহ হাদীস বর্ণনা করা শর্ত সাব্যস্ত করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন, আমি এই গ্রন্থে সহীহ ছাড়া কোন হাদীস গ্রহণ করবো না। তিনি অন্যসব বিষয়ের অবতারণা করেন নি। যে হাদীসের সনদ ছেদ ও মিশ্রণ ইত্যাদি দুর্বলতা থেকে নিরাপদ হবে, তা' দুই অবস্থা থেকে খালি নয়--তা' হয়তো সহীহ নামে অভিহিত হবে অথবা তাকে সহীহ নামে অভিহিত করা হবে না। যদি সহীহ নামে অভিহিত হয় তবে তা' বুখারীর শর্ত মুতাবিকই হলো। এই অবস্থায় সংখ্যার কোন গুরুত্ব নেই। আর সহীহ নামে অভিহিত না করলে সংখ্যার কোন প্রভাব নেই। কেননা সন্দেহের সাথে সন্দেহের মিলনে নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে কোন প্রভাব বিস্তার করে না এবং বিজ্ঞদের কারও এ ধরনের বক্তব্যও নেই।
মুহাদ্দিসগণ এই নিয়ম নির্ধারিত করেছেন (অবশ্য ফকীহগণ এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন) যে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম যেসব হাদীসের ওপর একমত সেগুলো অন্যান্য হাদীসের ওপর অগ্রগণ্য। এরপর স্থান ইমাম বুখারীর অন্যান্য হাদীসের। পরবর্তী স্থানে রয়েছে ইমাম মুসলিমের অন্যান্য হাদীস।
এরপর ঐ হাদীসগুলোর স্থান যেগুলো উভয়ের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। তারপর শুধু বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহগুলোর স্থান। তারপর শুধু মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহগুলোর স্থান। এরপর ঐগুলোর স্থান যেগুলো অন্যান্য ইমামের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
কোন হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ হওয়া সম্পর্কে দু'টি অভিমত রয়েছে। ১. হাদীসের সনদ এমন বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত হবে যাদের হাদীসগুলো সনদ সহকারে সহীহাঈনে বিদ্যমান। এসব হাদীস সম্পর্কে বলা হয় সহীহুন রিজালুহু রিজালুশ্ শাইখাইন অথবা সহীহুন আলা শারতিশ্ শাইখাইন।
২. হাদীসের সনদের বর্ণনাকারী ঐসব গুণে গুণান্বিত হবে যেসব গুণে গুণান্বিত বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারীগণ যদি উভয়ে এদের থেকে হাদীস গ্রহণ নাও করে থাকেন। অর্থাৎ এদের বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকবে না। সনদ কর্তিত হবে না। শাষ, নাফ্রাত (কম প্রচলিত) ইত্যাদি ত্রুটিমুক্ত থাকে। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী 'মুকাদ্দামা'য় লিখেছেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্ত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারীগণের যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, সেইসব গুণের অধিকারী হওয়া। যেমন স্মরণশক্তি, ন্যায়-নিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় সংখ্যার কম না হওয়া, অস্বীকৃত ও বাহুল্য না হওয়া। কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বয়ং বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী হওয়া শর্ত।”
📄 সহীহায়নের মধ্যে তুলনা
অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে সহীহুল বুখারীর পরেই সহীহ মুসলিমের স্থান। কিন্তু কুরতুবী দু'টিকে সমমানের মনে করেন। আর আবূ আলী নিশাপুরী মুসলিমকে বুখারীর ওপর প্রাধান্য দেয়ার পক্ষপাতী।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা, বর্ণনাশৈলী, সুন্দর উপস্থাপনা এবং রেওয়ায়েতের শব্দবিন্যাসের দৃষ্টিতে (ইমাম) মুসলিমের সহীহটি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। অবশ্য শুধু বিশুদ্ধতার দৃষ্টিতে, হাদীসের শক্তিশালী হওয়ার দিক থেকে এবং সতর্কতা-বিচক্ষণতার দৃষ্টিতে বুখারীর প্রাধান্যই স্বীকৃত।
প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের হাদীস বর্ণনার পাঁচটি শ্রেণী বা স্তর রয়েছে। যথা, ১. কাসীরুয যবত ওয়াল ইতকান ওয়া কাসীরুল মুলাযামাহ, ২. কাসীরুষ যবত ওয়াল ইতকান ওয়া কালীলুল মুলাযামাহ্, ৩. কালীলু যবত ওয়াল ইতকান ওয়া কাসীরুল মুলাযামাহ, ৪. কাশীলু যবত ওয়াল ইতকান ওয়া কালীলুল মুলাযামাহ এবং ৫. কালীলু যবত ওয়াল ইতকান ওয়া কালীলুল মুলাযামাহ--অন্যান্য জটিল জেরাহ সহকারে।
এই ব্যাপারে বলা যায়, যুহরীর ছাত্রদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ আয যেহলী ও মালিক ইবনে আনাস। দ্বিতীয় সারিতে রয়েছেন আওযায়ী ও লাইস ইবনে সাঈদ। তৃতীয় সারিতে রয়েছেন জাফর ইবনে মারওয়ান ও ইসহাক আল কালাবী। চতুর্থ সারিতে রয়েছেন রাবীয়া ইবনে সালিহ ও মুসান্না ইবনুস সাবাহ। আর পঞ্চম সারিতে রয়েছেন আবদুল কুদ্দুস ইবনে হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ মসলুব।
ঠিক এভাবে নাফি', আ'মাশ প্রমুখের রেওয়ায়েতেরও পাঁচটি শ্রেণী রয়েছে।
১. ইমাম বুখারী প্রথম শ্রেণীকে গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে সংকলন করেছেন। আর তৃতীয়টি গ্রহণ করেন নি। ইমাম মুসলিম প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী গ্রহণ করেছেন। তৃতীয়টি থেকে সংকলন করেছেন।
২. ইমাম বুখারী মুয়ানয়ানের মধ্যে সাক্ষাৎকারকে শর্ত সাব্যস্ত করছেন। ইমাম মুসলিম সমকালকে যথেষ্ট মনে করেন।
৩. সহীহুল বুখারীর মুতাফারিদ রাবী ৪৮৩ জন। আর মুতাকাল্লিম ফীহ রেওয়ায়েত ৮০টি। আর সহীহ মুসলিমের মুতাফারিদ রাবী ৬২৫ জন। আর মুতাকাল্লিম ফীহ রেওয়ায়েত ১৬০টি।
৪. সহীহাঈনের ২১০টি হাদীস আলিমগণ সমালোচনা করেছেন। যার মধ্যে ৭৮টি সহীহুল বুখারীর খাস, ১১০টি সহীহ মুসলিমের খাস এবং ৩২টি উভয়ের।
৫. সহীহুল বুখারীর মুতাকাল্লিম ফীহ রেওয়ায়েত বেশির ভাগ বুখারীর শায়খ ও প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের যাঁদের জীবনী সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত ছিলেন। সহীহ মুসলিমের মুতাকাল্লিম ফীহ রেওয়ায়েত বেশির ভাগ উচ্চস্তরের বুযুর্গদের।
মোটকথা সাক্ষ্য দেয় এইসব বিষয় ইমাম বুখারী হাদীস সংগ্রহে কত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। এটি দেখে বলতে হয়, আল্লাহর কিতাবের পর সহীহ বুখারীর স্থান। এরপরই রয়েছে সহীহ মুসলিমের স্থান। অবশ্য আল্লাহ্ সবচে' ভালো জানেন।
সহীহাঈনের হাদীসের ওপর কোন কোন আলিম সমালোচনাগ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে দারু কুতনীর রিসালা আল-ইসতিদরাক ও ওয়াত্তা তাবুব অত্যধিক প্রসিদ্ধ। আবূ মাসউদ দামেশকীও সমালোচনাগ্রন্থ লিখেছেন। আবু আলী গাসসানী তাঁর তানকিদুল মুহমাল ফী জুয়িল ইলালে উভয়ের হাদীসগুলো পর্যালোচনা করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর ভূমিকায় সকলের জওয়াব প্রদান করেছেন।
📄 ইমাম নাসায়ী
তাঁর নাম আহমাদ, উপনাম আবূ আবদুর রহমান। আহমাদ ইবনে আলী ইবনে শু'আইব বংশ। খোরাসান এলাকার নাসায় হিজরী ২১৫ সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পনর বছর বয়সে কুতাইবা ইবনে সাঈদ বলখীর নিকট হাদীস শিক্ষার জন্য যান। তারপর ইসহাক ইবনে রাহুইয়া, আলী ইবনে খুশরাম, আবু দাউদ প্রমুখ উচ্চশ্রেণীর মুহাদ্দিস থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। ইমাম নাসাঈ ইমাম আহমদের সংগেও সাক্ষাত করেন। হাদীস শিক্ষার জন্য স্বদেশ ছাড়াও হিজায, ইরাক, মিসর, সিরিয়া ও আলজিরিয়া সফর করেন। অবশেষে তিনি মিসরেই বসতি স্থাপন করেন এবং হাদীসের ইমাম, হাফিয ও হুজ্জাতের মর্যাদা লাভ করেন। আলী ইবনে উমাইরের ভাষায় মিসরে সেই সময় ফিকাহ ও হাদীসের সবচে' বেশি অভিজ্ঞ সহীহ ও সকীম হাদীসসমূহের আলেম ছিলেন। রেওয়ায়েতের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। আবুল বাশার দুওয়ালাবী, ইবনুস সুন্নী, আবু জাফর তাহাভী প্রমুখ তাঁর থেকে রেওয়ায়েত করেছেন। শেষ জীবনে ইমাম নাসাঈ হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
দামেশকে পৌঁছে তিনি লক্ষ্য করেন যে বনু উমাইয়া সরকারের প্রভাবে ও খারেজীদের কারণে বহু লোক হযরত আলী (রা) সম্পর্কে ভুল ধারণায় নিমজ্জিত। তিনি হযরত আলী (রা)-এর প্রশংসা সম্বলিত হাদীস সংকলন করেন এবং দামেশকের জামে মসজিদে তা পড়ে শুনান। কিছুসংখ্যক লোক তাঁকে আমীর মুয়াবিয়া (রা)-এর প্রশংসাসূচক হাদীস পড়ার জন্য বলে। তিনি জানালেন যে আমীর মুয়াবিয়া (রা)-এর প্রশংসাসূচক হাদীস তাঁর জানা নেই। তবে একটি মরফু' রেওয়ায়েত আছে, 'আল্লাহ্ যেন তার পেটকে আসুদা না করেন'। এই কথা শুনার সংগে সংগেই কতিপয় লোক তাঁকে আক্রমণ করে বসে। এতে ইমাম নাসাঈ গুরুতর আহত হন। তাঁর সাথীরা তাঁকে নিয়ে মক্কার পথে রওয়ানা হন। সেখানে পৌঁছার পর হিজরী ৩০৩ সনের সফর অথবা শাবান মাসের ১৩ তারিখ সোমবার তিনি ৮৮ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
ইমাম নাসাঈ (র) একাধিক কিতাব লিখেছেন। তন্মধ্যে 'সুনান'ই বেশি প্রসিদ্ধ।