📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 মুয়াত্তা ইমাম মালিক (র)

📄 মুয়াত্তা ইমাম মালিক (র)


ইমাম মালিক (র) একলক্ষ হাদীস বাছাই করে প্রথমে দশ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করেন। এরপর আবারো বাছাই করে সংখ্যা কমাতে লাগলেন। শেষাবধি বর্তমান আকারের ভলিউম পর্যন্ত পৌঁছলেন। এরপর তিনি সংকলনটি মদীনার সত্তরজন ফকীহ্ সামনে পেশ করেন। তাঁরা সকলেই এই সংকলেনের সাথে একমত হন। তখন তিনি বললেন, 'তাঁরা সবাই সেটা সমর্থন করেছেন। তাই আমি এর নাম রাখলাম আল মুয়াত্তা।'

মুয়াত্তাতে নবী করীম (সা)-এর হাদীসসমূহ ছাড়া সাহাবায়ে কিরামের উক্তিসমূহ ও মদীনায় অবস্থানকারী তাবেঈগণের অভিমতও স্থান পেয়েছে। এই সংকলনে হাদীসের সংখ্যা ১৭২০। এগুলোর মধ্যে ৬০০টি মুসনাদ মরফু, ২২২টি মুরসাল মরফু, ৬১৩টি মওকুফ এবং ২৮৫টি মকতু হাদীস রয়েছে।

ইমাম মালিক থেকে ১০০০ জন আলিম মুয়াত্তা শ্রবণ করেছেন। তাদের মধ্যে মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, সূফী, আমীর-উমরা ও খলীফাগণ ছিলেন। ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম শাফিঈ ইমাম মালিকের মুয়াত্তা অধ্যয়ন করেছেন।

মুয়াত্তার সর্বোচ্চ সনদ সুনইয়্যাত যেগুলোর মাধ্যম সর্বমোট দু'জন। মুয়াত্তার মোট ষোলটি নোসখা বা কপি প্রচলিত আছে। সেগুলোর মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে আল লাইসীর রেওয়ায়েত সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

মুয়াত্তা হিজরী দ্বিতীয় শতকের অন্যতম সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস সংকলন। মুসলিম উম্মাহ এটিকে মূল্যবান জ্ঞান করে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুয়াত্তাকে সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। ইমাম শাফিঈ মন্তব্য করেন, "আল্লাহ্র কিতাব কুরআন মজীদের পর মুয়াত্তা ইমাম মালিক সর্বাধিক বিশুদ্ধ।” মুয়াত্তার মুসনাদ হাদীসগুলো সহীহাঈন অর্থাৎ সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে মওজুদ রয়েছে। ইবনে আবদিল বার এর সকল মুরসাল ও মুনকাতা হাদীস পর্যালোচনা করেছেন এবং সবগুলোর মুত্তাসাল সনদ লিখেছেন।

মুয়াত্তার অনেক ভাষ্য (ব্যাখ্যা পুস্তক) রয়েছে। সবচে পুরাতন ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো ইবনে হাবীব মালিকীর (ওফাত হিজরী ২২৯ সন) ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তাছাড়া রয়েছে ইবনে আবদিল বার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত্মাগাওর এবং যুরকানীর (হিজরী ১১২২ সনে ওফাত) লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আবু বকর ইবনুল আরাবীর ব্যাখ্যা, শাহ ওয়ালীউল্লাহ্র মুসাওয়া ও মুসাফফা এবং মোল্লা আলী কারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর মাওলানা আবদুল হাই আত্তালিকুল মুমাজ্জাদ শীর্ষক টীকা লিখেছেন। মুয়াত্তাকে সংক্ষিপ্ত আকারে সংকলিত করেন ইমাম খাত্তাবী, আবদুল ওয়ালীদ বাজী প্রমুখ। বারতী শরহে গরীব শিখেছেন। মুয়াত্তার রাবীদের সম্পর্কে কাযী আবদুল্লাহ এবং ইমাম সয়ূতীর পৃথক পৃথক গ্রন্থ রয়েছে। মৌলভী ওয়াহীদুযযামান মুয়াত্তার উর্দু শরাহ লিখেছেন।

📘 হাদিস চর্চার ইতিহাস > 📄 মুসনাদে আহমাদ

📄 মুসনাদে আহমাদ


এই মুসনাদে ৭০০ বর্ণনাকারীর রেওয়ায়েত রয়েছে। এগুলো থেকে একাধিকবার উল্লেখ বাদ দেয়ার পর আরো ৩০০০ হাদীস আর সেগুলোসহ ৪০,০০০ হাদীস, ইবনে খালদূনের মতে ৫০,০০০ হাদীস এতে রয়েছে। সাধারণভাবে এটা বলা চলে যে, এতে সব মরফু হাদীস রয়েছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সাড়ে সাত লাখ হাদীস থেকে এগুলো বাছাই করেছেন। এটি মুসনাদ গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত গ্রন্থ।

শাহ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, "তাঁর সংগৃহীত হাদীসগুলো দুর্বল নয়। কেননা এই হাদীসগুলো পরবর্তী ইমামগণ কর্তৃক স্বীকৃত সহীহ হাদীসসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।" কানযুল উম্মাল গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ রয়েছে যে, এই মুসনাদের সব ধরনের হাদীস মকবুল।

মুসনাদের কয়েকটি মাত্র হাদীস সম্পর্কে ইবনে জুযীসহ কয়েকজন আলোচক সমালোচনা করেছেন। ইবনে হাজার 'আল কাউলুল মুসাদ্দাম' ও ইমাম সয়ূতী "আয যায়লুল মুমাহীহ” গ্রন্থে এর জবাব দিয়েছেন। কিন্তু ইনসাফের কথা হলো, এতে কিছু দুর্বল হাদীসও রয়েছে। তাও ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ্র পরিবর্ধনের কারণে এমনটি হয়েছে। মুসনাদের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ নিজের বিশেষ রেওয়ায়েত সমূহও এতে যোগ করেছেন। বর্তমানে মিসরের কোন কোন আলিম মুসনাদকে 'বাব' হিসেবে বিন্যস্ত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00