📄 সাহাবায়ে কিরামের হাদীস হিফয করা
হযরত আলী (রা) তাঁর শিষ্যদেরকে উপদেশ দিতেন, "তোমরা হাদীস চর্চা করতে থাক....."। -আল মুস্তাদরাক, পৃ. ৯৫
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) এই কাজের তাকিদ নিয়ে বলেন, "তোমরা হাদীস চর্চা করতে থাক। কেননা হাদীস স্মরণ ও চর্চার অপর নাম জীবন।" -আল-মুস্তাদরাক। একদিন তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা যখন একত্রে বস তখন হাদীস চর্চা কর কি?" ছাত্রগণ জবাব দিলেন, "হ্যাঁ। আমরা তো এটাকে এতোই গুরুত্ব দিই যে, আমাদের কোন সাথী যদি কখনো না আসে আমরা গিয়ে তার সাথে মিলিত হই, যদিও সে কুফার শেষ প্রান্তে থাকে।" আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বললেন, "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের এই নেক আমলের সুফল সর্বদা ভোগ করতে থাকবে।"-দারেমী, পৃ. ৭৯। হযরত আবূ সাঈদ (রা) হাদীস চর্চার জন্য তাকিদ দিতেন। -দারেমী। বরং যখনই তাঁর কোন ছাত্র হাদীস লিখে দেয়ার জন্য তাঁর নিকট আবেদন পেশ করতো তিনি তা অস্বীকার করতেন আর বলতেন, "আমরা যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট থেকে হাদীস শুনে মুখস্থ করেছি তোমরাও সেভাবে মুখস্থ কর।"-দারেমী।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলতেন, "তোমরা হাদীস চর্চা করতে থাক। যদি এগুলো মুখস্থ না কর তাহলে এগুলো বিস্মৃত হতে থাকবে।"-দারেমী। এমনকি নিজের অনুসৃত নিয়ম সম্পর্কে তিনি বলতেন, "আমরা নিজেরাও হাদীস মুখস্থ করতাম।"-সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০
হযরত আনাস (রা) বলেন, "আমরা রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে হাদীস শুনতাম, যখন তিনি মজলিস থেকে উঠে যেতেন আমরা সেগুলো পরস্পর পর্যালোচনা করতাম। অতঃপর আমরা যখন মজলিস থেকে উঠতাম সেগুলো আমাদের মুখস্থ হয়ে যেতো এমনভাবে যে, যেন সেগুলো আমাদের মনে রোপিত হয়ে গেছে।"-আল মাজমা, পৃ. ১৬১
হযরত মুয়াবিয়া (রা) বলেন, "আমি একদিন নবী (সা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন, মসজিদে কয়েকজন লোক বসা ছিলো, নবী (সা) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি জন্য বসেছো?' তারা বললো, 'আমরা ফরয নামায আদায় করেছি। অতঃপর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে বসেছি।” নবী (সা) বললেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ যখন কোন বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তার স্মরণ-পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।"-আল মুস্তাদরাক, পৃ. ৯৪
হাদীস সংগ্রহে সাহাবায়ে কিরামের তৎপরতা বিস্ময়কর। তাঁরা একটিমাত্র হাদীস শুনার জন্য কয়েক হাজার মাইল দূরের পথ সফর করতেন। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা)-এর ঘটনা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। সহীহুল বুখারীর ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা) থেকে একটিমাত্র হাদীস শুনার জন্য তিনি একমাসের পথ সফর করেছিলেন।
"জামিউ বায়ানিল ইলম” গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, হযরত আবু আইউব আনসারী (রা) একটি মাত্র হাদীস শুনার জন্য মদীনা থেকে মিসর পর্যন্ত সফর করেছিলেন।
সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে শুধু যে হাদীস সংগ্রহের ব্যাপারে অসাধারণ উৎসাহ ছিলো তা-ই নয়, হাদীসের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রেও তাঁদের তৎপরতা ছিলো অসাধারণ। তাঁদের এই আগ্রহের উৎস ছিলো নবী (সা)-এর একটি উক্তি। রাসূলুল্লাহ (সা) দু'আর সুরে বলেছিলেন, "আল্লাহ্ সেই ব্যক্তির চেহারা সর্বদা খোশহাল রাখুন, যে আমার কথাগুলো শুনেছে, স্মৃতিতে গেঁথে নিয়েছে এবং অবিকল তা অপরাপর মানুষের নিকট পৌঁছিয়েছে।"
প্রকৃতপক্ষে সাহাবায়ে কিরাম হাদীসের প্রচার ও প্রসার কাজকে নিজেদের জন্য ফরয করে নিয়েছিলেন। ফলে শুধু কুফাতে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-এর ছাত্রসংখ্যা দাঁড়ায় চার হাজারে—যাঁরা তাঁর নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন, শিখেছেন।
📄 হাদীস সংগ্রহে সাহাবায়ে কিরামের উদ্যম ও সতর্কতা
হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতেন। নবী (সা)-এর একটি সাবধানবাণীর কারণে ভীত সন্ত্রস্ত থেকেই এ কাজ করতেন। নবী (সা) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করে সে তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়।" সাহাবীগণ চরমভাবে সচেষ্ট ছিলেন যাতে কোন ভুল উদ্ধৃতি করা না হয়।
হযরত আনাস (রা)-এর নিয়ম ছিলো, যে কোন হাদীস সম্পর্কে তাঁর মনে বিন্দুমাত্র খটকা লাগলে তিনি তা বর্ণনাই করতেন না এবং বলতেন, ভুল হওয়ার আশংকা না থাকলে অবশ্যই হাদীস বর্ণনা করতাম। দারেমী
কোন কোন সাহাবী এমনও ছিলেন যে, তাঁদের বর্ণনায় ভুলক্রমে হ্রাস বা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে তাঁরা খুব কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করতেন। সহীহুল বুখারীর ২১ পৃষ্ঠায় হযরত যুবায়র (রা)-এর ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) এই কারণেই হাদীস কম বর্ণনা করার তাকিদ দিতেন। হযরত উমর ফারুক (রা)-এর নিয়ম ছিলো, কেউ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি সাক্ষ্য তলব করতেন। হযরত আলী (রা) বর্ণনাকারীর শপথ নিতেন। তাঁদের খিলাফতকালে এই ধরনের বিভিন্ন শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ ছিলো। এর মূল কারণ ছিলো, যাতে কোন ভুল উক্তি নবী করীম (সা)-এর ওপর আরোপিত হয়ে না যায়। এই হলো খুলাফায়ে রাশিদীনের সতর্কতা অবলম্বনের নমুনা।
খুলাফায়ে রাশিদীনের যামানা শেষে প্রথম পর্যায়ের তাবেঈগণের যুগ শুরু হয়। তাঁদের যামানায় হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে পাবন্দি কিছুটা কমে যায় এবং হাদীস বর্ণনা আগের চেয়ে অনেক বেশি হতে থাকে। অবশ্য হাদীস শিক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যায়। হাদীস পর্যালোচনার কাজ ব্যাপকতা লাভ করে।
একথা অনস্বীকার্য যে, সাহাবায়ে কিরাম ও শীর্ষস্থানীয় তাবেঈগণের অস্বাভাবিক স্মরণশক্তি ছিলো। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, "নবী (সা)-এর বর্ণিত হাদীসের একটি বিন্দুবিসর্গও আমি ভুলতাম না।"-তাযকিরাতুল হুফফায, পৃ. ৩৩ তাবেঈগণের মধ্যে হযরত কাতাদাহ, হযরত শায়াবী, ইমাম জুহরী প্রমুখ ব্যক্তির অসাধারণ স্মরণশক্তির কথাও 'তাযকিরাতুল হুফফায' গ্রন্থে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোটকথা, নবী করীম (সা) ও সাহাবায়ে কিরামের স্বর্ণযুগে মুখস্থ রাখা, পর্যালোচনা করা, হাদীস শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ এবং হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অসাধারণ পর্যায়ের ছিলো বিধায় আল কুরআনের মতো আল হাদীস লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তখন অনুভূত হয়নি।
তাহাছাড়া নবী করীম (সা)-এর যামানা আল কুরআন নাযিলের যামানা ছিল। তখন আল-কুরআন লিখা ও লিখানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো। কিছু হাদীসও লিখা হতো। তবে আল কুরআন ও আল হাদীস পরস্পর মিশে যেতে পারে এই আশঙ্কায় নবী করীম (সা) সাধারণভাবে হাদীস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সহীহ মুসলিম-এর ৮ম খণ্ডের ২২৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, নবী (সা) বলেছেন, “আমার হাদীসগুলো লিখো না। কুরআন মজীদ ছাড়া কেউ আমার হাদীস লিখে থাকলে তা মুছে ফেলা হোক। অবশ্য আমার হাদীস বর্ণনা করতে কোন আপত্তি নেই।”
কিন্তু নবী করীম (সা)-এর নির্দেশে সেকালের এক বিশেষ প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে ছিলো। শরীয়ার কোন স্থায়ী নির্দেশ হিসেবে নবী (সা) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নি। নবী (সা) ইবনে আমর ইবনুল আস (রা)-কে হাদীস লিপিবদ্ধ করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি লিখিত হাদীসগুলো নিজের জন্য সংরক্ষণ করতেন। এতে তাঁর নিকট হাদীসের বিরাট সম্পদ জমেছিলো। তিনি এই সংকলনের নাম রেখেছিলেন ‘সাদিকাহ’।—সহীহুল বুখারী, ১ ম খণ্ড, পৃ. ২২; তাহাবী শরীফ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৪; সুনানু আবী দাউদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭৭; দারেমী, পৃ. ৬৭; তাবারাতী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৮; তাহজীব ও ইসবা ইত্য্যাদি।
এভাবে, নবী করীম (সা) হযরত রাফে ইবনে খাদীজ (রা)-কে হাদীস লিপিবদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।—আল মাজমা, ১ ম খণ্ড, পৃ. ১৫২
আরো কিছু সংখ্যক সাহাবীকেও এই অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। জামিউত তিরমিযী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯১, কানযুল উম্মাল, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২২৩, মাজমা। সহীহুল বুখারীতে উল্লেখ আছে যে, আবূ শাহ ইয়ামানী (রা)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) নিজেই ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ লিখে দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে বিভিন্ন সরকারী কর্মচারীদের জন্য ‘কিতাবুস সাদাকাহ’ (সাদাকাহ-যাকাত সংক্রান্ত মাসায়েল) ও অন্যান্য ফরমান লিখিয়ে পাঠিয়েছিলেন। গোত্র-প্রধান ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন দেশের বাদশাহদের নামেও লিখিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
হযরত আলী (রা) ও সে যুগে কিছুসংখ্যক হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন।— সহীহুল বুখারী ও তাহাবী।
মোটকথা, গবেষণা ও গভীর পর্যালোচনা করলে প্রমাণিত হয় যে, নবী করীম (সা)-এর যামানাতেও হাদীস, চিঠিপত্র ইত্যাদির একটি সম্ভার মজুদ ছিল। প্রথম পর্যায়ের তাবেঈগণের যুগেও হাদীস লিপিবদ্ধ করার নিয়ম ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত (রা) ইলমুল ফারায়েজ-এর ওপর একখানা গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন।—তাওজীহ, পৃ. ৮; এরই একাংশ সুনানে বাইহাকীতে (৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৪৮) বিদ্যমান।
ইবনে নাদীম ফিরিস্ত-এ লিখেছেন যে, হযরত হাসান (রা), হযরত হুসাইন (রা) ও হযরত আলী (রা)-এর লিখিত পুস্তকাদি তিনি দেখেছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)ও পাঁচ শত হাদীস সম্বলিত একখানা গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। কিন্তু বিশেষ কারণে তা বিনষ্ট করে ফেলেছিলেন।- তাযকিরাহ, পৃ. ৫, কানযুল উম্মাল, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৩৭
সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা), হযরত আনাস (রা), হযরত আবু রাফে (রা), হযরত আবূ মূসা আল আশআরী (রা), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা), হযরত আবূ হুরায়রা (রা), হযরত সাদ ইবনে আবী উবাদাহ (রা), হযরত কায়েস ইবনে সাদ (রা), হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রা), হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা), হযরত সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা), হযরত ওয়াসিলাহ ইবনে আসকা (রা) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (রা) এবং তাবেঈগণের মধ্যে সাঈদ ইবনে যুবায়র, ইবনে ওরওয়াহ, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনিল হানাফিয়াহ, মুজাহিদ প্রমুখ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাঁরা হাদীসগুলোকে বিষয়বস্তুর নিরিখে ভাগ করে স্বতন্ত্র কোন কিতাবের রূপ দেন নি। বরং মুখস্থ করার সুবিধার্থে এ পন্থা (লিখন) অবলম্বন করতেন। প্রকৃত কিতাব ছিলো তাঁদের বক্ষে। এগুলোর প্রচার ও প্রসারের দিকে ছিলো তাঁদের দৃষ্টি।
তাযকিরাতুল হুফফায গ্রন্থে হাদীসের হাফিযের সংখ্যা ৯২ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবীদের মধ্যে ২২ জন, প্রথম দিকের তাবেঈদের মধ্যে ৪০ জন এবং মধ্যভাগের তাবেঈদের মধ্যে ৩০ জন হাদীসের হাফিয ছিলেন। পরবর্তীকালে হাদীসের হাফিযের সংখ্যা এতো বেড়ে গিয়েছিলো তা স্মরণ রাখা ও লিপিবদ্ধ করা আয়াসসাধ্য ব্যাপার ছিলো। ইমাম যাহাবী তাঁর গ্রন্থ তাযকিরাতুল হুফফাযে তাঁর যামানা পর্যন্ত অধিকাংশ হাফিযের কথা উল্লেখ করেছেন।
📄 হাদীস রেওয়ায়েতের সংখ্যা অনুসারে সাহাবীদের বিভিন্ন শ্রেণী
হাদীস রেওয়ায়েতের সংখ্যার ভিত্তিতে সাহাবায়ে কিরামকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা, (১) মুকাস্স্সিরীন, (২) মুতাওয়াসিতীন, (৩) মুকিল্লীন ও (৪) অন্যান্য মুকিল্লীন।
**মুকাস্সিরীন**
যেসব সাহাবীর রেওয়ায়েতকৃত হাদীসের সংখ্যা এক হাজারের বেশি তাঁরা এই শ্রেণীর অন্তর্গত। তাঁদের সংখ্যা সাত। তাঁরা হচ্ছেন,
১. আবূ হুরায়রা (রা)। তাঁর আসল নাম আবদুর রহমান। পিতার নাম সাখর আদ্ দাওসী। তিনি ৭৮ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫,৩৭৪টি। তিনি ইয়ামেনের অধিবাসী ছিলেন। আদ দাউস গোত্রের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিলো। হিজরী ৭ সনে খাইবার যুদ্ধের পর ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সান্নিধ্যে হাজির হন। ইলম হাসিলের তাকিদে সর্বদা নবী করীম (সা)-এর সান্নিধ্যে উপস্থিত থাকতেন। তিনি ছিলেন আসহাবুস্ সুফ্ফার একজন। নবী (সা)-এর সান্নিধ্যে অবস্থানকালে কোন প্রকারে ক্ষুধা মেটাবার মতো খাদ্য খেতে পারলেই তিনি তুষ্ট থাকতেন। তিনি নিয়মিতভাবে নবী করীম (সা)-এর সফরসঙ্গী হতেন। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। তিনি বলেছেন, আমি নবী (সা)-এর খিদমতে আরয করলাম, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি আপনার মুখ নিঃসৃত অনেক কিছু শুনি, কিন্তু সবগুলো মনে রাখতে পারি না।' নবী (সা) বললেন, 'তোমার চাদর বিছিয়ে দাও'। আমি চাদর বিছিয়ে দিলাম। তিনি অনেক হাদীস বললেন। তখন থেকে তাঁর হাদীসগুলো আমি আর ভুলতাম না। বেশি সংখ্যক হাদীস রেওয়ায়েতকারী হচ্ছেন হযরত আবূ হুরায়রা (রা)। শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের নিকট থেকেও তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বহু তাবেঈ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর জামাতা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব সর্বাধিক সংখ্যক হাদীস রেওয়ায়েতকারী। তাঁর মাওয়ালী আ'রাজও অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারীদের একজন। প্রখ্যাত আলিম ও মুফতী ইমাম আরাজ বড় ধরনের আবিদ ছিলেন। ৫৮ হিজরী সনে তিনি ইন্তিকাল করেন।
২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)। হিজরতের তিন বছর পূর্বে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৭১ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২৬৬০। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চাচাতো ভাই। উম্মুল মু'মিনীন মাইমুনা (রা)-এর বোন লুবাবাহ বিনতে হারিস তাঁর মাতা। উম্মাতে মুহাম্মাদীয়ার একজন প্রখ্যাত আলিম ও শীর্ষস্থানীয় মুফাস্স্সির ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস। নবী (সা) হিকমাহ, ফিকহ এবং তাবীলে কুরআনের জন্য তাঁকে দু'আ করেছিলেন। অত্যন্ত সুন্দর ও সুশ্রী পুরুষ ছিলেন তিনি। কম বয়েসী হওয়া সত্ত্বেও হযরত উমরের মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন তিনি। মুয়াম্মার বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তিনজন মহান ব্যক্তির নিকট থেকে জ্ঞান হাসিল করেন। তাঁরা হলেন উমর (রা), আলী (রা) ও উবাই ইবনে কা'ব (রা)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন, "আমি যখন শুনতাম যে অমুক ব্যক্তির নিকট হাদীস সংরক্ষিত আছে, আমি তাঁর কাছে যেতাম, তাঁর নিকট বসতাম। এমনকি যখন তিনি বের হতেন তখনও আমি হাদীস জিজ্ঞেস করতে থাকতাম।” তাফসীর ও ফিকাহর ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের ইলমের মূলে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)। নবী করীম (সা)-এর ওফাতের সময় তাঁর বয়স ছিলো প্রায় চৌদ্দ বছর। তাঁর মরফু (নবী থেকে বর্ণিত) অধিকাংশ হাদীস মুরসাল, কিন্তু তা মকবুল বা গৃহীত। হিজরী ৬৮ সনে তিনি তায়েফে ইন্তিকাল করেন।
৩. উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা)। তিনি ৬৫ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২২১০। তিনি হযরত আবূ বকর (রা)-এর কন্যা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) হিজরতের তিন বছর পূর্বে তাঁকে বিয়ে করেন। তখন তাঁর বয়স ছিলো সাত বছর। তিনি নবী (সা)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন ৯ বছর। তাঁর বয়স যখন ১৮ বছর তখন নবী (সা) ইন্তিকাল করেন। তিনি অত্যন্ত জ্ঞানবতী ও মহতী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনের বহু ঘটনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহ বিষয়ে তিনি ওয়াকিফহাল ছিলেন। তিনি কবিতা চর্চাও করতেন। মুসনাদে আহমদে তাঁর রেওয়ায়েতগুলো ২৫৩ পৃষ্ঠাব্যাপী লিপিবদ্ধ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) গৃহাভ্যন্তরে যা কিছু করতেন সেই সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা)-এর রেওয়ায়েতের ওপর বেশি নির্ভর করা হয়। সাহাবা ও তাবেঈগণ তাঁর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বোনের ছেলে উরওয়াহ ইবনে যুবায়র এবং ভাইয়ের ছেলে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ তাঁর থেকে অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। হযরত আয়েশা (রা) হিজরী ৫৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)। তিনি ৮৫ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৬৩০। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির এক বছর পূর্বে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরিখার যুদ্ধে ও পরবর্তী সবক'টি যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাসূল (সা)-এর শিক্ষার একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তিনি একজন উঁচুমানের আবিদ, যাহিদ ও দাতা ছিলেন। জনসাধারণের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণে আগ্রহী হন নি। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম থেকেও হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তাবেঈগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক বর্ণনা করেছেন সালিম ও তাঁর ক্রীতদাস নাফি'। তিনি হিজরী ৭৩ সনে ইন্তিকাল করেন। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইন্তিকালের পর তিনি ৬০ বছর জীবিত ছিলেন।
৫. হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা)। তিনি ৯৪ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৫৪০। তিনি ছিলেন আনসারদের সুলাইমান গোত্রের লোক। বদর ও অন্যান্য সব যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেন। রেওয়ায়েতকারীদের বেশ একটি বড় দল তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি হিজরী ৭৪ সনে মদীনায় ইন্তিকাল করেন।
৬. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা)। তিনি ১০৩ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১২৮৬। তিনি দশ বছর নবী (সা)-এর সান্নিধ্যে ছিলেন। সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে তাঁর বর্ণিত ১২৮টি হাদীস সংকলিত হয়েছে। সর্বশেষ সাহাবী হিসেবে তিনি হিজরী ৯১/৯৩ সনে বসরাতে ইন্তিকাল করেন।
৭. হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী (রা)। তিনি ৮৪ বছর বেঁচেছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১১৭০। তাঁর আসল নাম সাদ ইবনে মালিক আনসারী। 'আল খুদরী' উপনামে তিনি বেশি পরিচিত। তিনি হাফিযে হাদীস এবং শীর্ষস্থানীয় আলিমদের একজন ছিলেন। বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈ তাঁর নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি মদীনাতে ইন্তিকাল করেন।
**মুতাওয়াসিতীন**
এই শ্রেণীতে রয়েছেন ঐসব সাহাবী যাঁদের বর্ণিত হাদীস সংখ্যা এক হাজারের কম কিন্তু পাঁচ শতের অধিক। এঁদের সংখ্যা চার।
১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)। তিনি হিজরী ৩২ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৮৪৮।
২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল 'আস (রা)। তিনি হিজরী ৬৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৭০০।
৩. হযরত আলী মুর্তাজা (রা)। তিনি অন্যতম খালীফায়ে রাশেদ। জ্ঞানের তোরণ নামেও খ্যাত। তিনি একজন ফিকাহবিদ ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি তাঁদের একজন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তিনি হিজরী ৪০ সনে শহীদ হন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫৮৬।
৪. হযরত উমর ফারুক (রা)। তিনি দ্বিতীয় খলীফা। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যামানায় হাদীস সংকলনকারীদের অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন যাহিদ সাহাবী ছিলেন। তিনি হিজরী ২৩ সনে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫৩৯।
**মুকিল্লীন**
এই শ্রেণীতে রয়েছেন ঐসব সাহাবী যাঁদের রেওয়ায়েত সংখ্যা পাঁচ শতের নিচে এবং চল্লিশের ঊর্ধ্বে। তাঁদের সংখ্যা ৫৭। নিম্নে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হলো।
১. উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে উমাইয়া (রা)। তিনি হিজরী ৫৯ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৩৭৮।
২. হযরত আবূ মূসা আশআরী আবদুল্লাহ্ ইবনে কায়েস (রা)। তিনি হিজরী ৫৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৩৬০।
৩. হযরত বারা ইবনে আয়েব (রা)। তিনি হিজরী ৭২ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৩০৫।
৪. হযরত আবু যর গিফারী (রা)। তিনি হিজরী ৩২ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ২৮১।
৫. হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা)। তিনি হিজরী ৫৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ২১৫।
৬. হযরত সাহাল আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৯১ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৮৮।
৭. হযরত উবাদাহ্ ইবনে সামিত (রা)। তিনি হিজরী ৩৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৮১।
৮. হযরত আবুদ্ দারদা উ'ওয়াইমির ইবনে আমীর (রা)। তিনি হিজরী ৩২ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৭৯।
৯. হযরত আবূ কাতাদাহ আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৫৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৭০।
১০. হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা)। তিনি হিজরী ১৯ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৬৪।
১১. হযরত বুরাইদাহ্ ইবনে হাসিব আল আসলামী (রা)। তিনি হিজরী ৬৩ সনে মারা যান। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৬৪।
১২. হযরত মু'য়ায ইবনে জাবাল (রা)। তিনি হিজরী ১৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৭৫।
১৩. হযরত আবু আইউব খালেদ ইবনে যায়েদ আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৫১ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৫০।
১৪. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা)। তিনি তৃতীয় খালীফায়ে রাশেদ। তিনি হিজরী ৩৫ সনে শাহাদাত লাভ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৪৬।
১৫. হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ (রা)। তিনি হিজরী ৭৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৪৬।
১৬. হযরত আবু বকর আস্ সিদ্দিক (রা)। প্রথম খালীফায়ে রাশেদ। তিনি হিজরী ১৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৪২।
১৭. হযরত মুগীরা ইবনে শো'বা (রা)। তিনি হিজরী ৫০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৩৬।
১৮. হযরত আবূ বাকরাহ নাদী ইবনুল হারিস (রা)। তিনি হিজরী ৪৯ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৩০।
১৯. হযরত ইমরান ইবনে হাসান (রা)। তিনি হিজরী ৫২ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৩০।
২০. হযরত মু'য়াবিয়া (রা)। তিনি হিজরী ৬০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১৩০।
২১. হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা)। তিনি হিজরী ৫৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১২৮।
২২. হযরত সাওবান (রা)। তিনি হিজরী ৫৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১২৭।
২৩. হযরত নু'মান ইবনে বাশীর (রা)। তিনি হিজরী ৬৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১২৪।
২৪. হযরত সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা)। তিনি হিজরী ৫৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১২৩।
২৫. হযরত আবূ সউদ উকবা ইবনে আমর আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৪০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১০২।
২৬. হযরত জাবীর ইবনে আবদুল্লাহ্ আল বাজালী (রা)। তিনি হিজরী ৫১ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ১০০।
২৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আবী আওফা (রা)। তিনি হিজরী ৭৭ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৯৫।
২৮. হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত আল আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৪৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৯২।
২৯. হযরত আবূ তালহা যায়িদ ইবনে সাহাল আল আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৩৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৯০।
৩০. হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম আল আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৪৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৯২।
৩১. হযরত যায়িদ ইবনে খালেদ (রা)। তিনি হিজরী ৭৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৮১।
৩২. হযরত কা'ব ইবনে মালিক আল আনসারী (রা)। তিনি হিজরী ৫০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৮০।
৩৩. হযরত রাফি' ইবনে খাদীজ (রা)। তিনি হিজরী ৭৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৭৮।
৩৪. হযরত সালমা ইবনুল আকওয়া (রা)। তিনি হিজরী ৭৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৭৭।
৩৫. হযরত আবু রাফি' (রা)। তিনি হিজরী ৩৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬৮।
৩৬. হযরত আউফ ইবনে মালিক (রা)। তিনি হিজরী ৭৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬৭।
৩৭. হযরত 'আদী ইবনে হাতেম (রা)। তিনি হিজরী ৬৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬৬।
৩৮. হযরত সালমান আল ফারেসী (রা)। তিনি হিজরী ৩৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬৪।
৩৯. উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবাহ বিনতে আবু সুফিয়ান (রা)। তিনি হিজরী ৪৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬৫।
৪০. উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)। তিনি হিজরী ৪৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬০।
৪১. হযরত শাদ্দাদ ইবনুল আওস (রা)। তিনি হিজরী ৬০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬০।
৪২. হযরত 'আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা)। তিনি হিজরী ৩৭ সনে শহীদ হন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬২।
৪৩. হযরত উয়াসিলা ইবনুল আসকা' (রা)। তিনি হিজরী ৮৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৫৬।
৪৪. হযরত যুবায়র ইবনে মুতয়াম (রা)। তিনি হিজরী ৫৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৬০।
৪৫. হযরত উকবা ইবনে আমীর আল জুহানী (রা)। তিনি হিজরী ৬০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৫৫।
৪৬. হযরত আসমা বিনতে আবী বকর (রা)। তিনি হিজরী ৭৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৫৬।
৪৭. হযরত আমর ইবনে উতবাহ (রা)। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৮।
৪৮. হযরত ফুযালা ইবনে উবাইদ (রা)। তিনি হিজরী ৫৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৫০।
৪৯. হযরত কা'ব ইবনে আমর (রা)। তিনি হিজরী ৫৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৭।
৫০. উম্মুল মু'মিনীন মাইমুনাহ (রা)। তিনি হিজরী ৫১ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৬।
৫১. হযরত উম্মেহানী বিনতে আবী তালিব (রা)। তিনি হিজরী ৫০ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৬।
৫২. হযরত আবু হুযাইফা ওহাব ইবনে আবদুল্লাহ্ (রা)। তিনি হিজরী ৭৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৫।
৫৩. হযরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা)। তিনি হিজরী ১৮ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৪।
৫৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মুগফাল (রা)। তিনি হিজরী ৫৭ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৩।
৫৫. হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)। তিনি হিজরী ৩৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪৩।
৫৬. উম্মে আতীয়া নাসীবা ইবনে কা'ব (রা)। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪১।
৫৭. হযরত হাকীম ইবনে হাযাম (রা)। তিনি হিজরী ৫৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সংখ্যা ৪০।
**অন্যান্য মুকিল্লীন**
উপরোল্লিখিত সাহাবীগণের বাইরেও আরো রেওয়ায়েতকারী সাহাবী রয়েছেন যাঁদের সংখ্যা চল্লিশ বলে উল্লেখ রয়েছে। গভীরভাবে অনুসন্ধান চালালে আরো অনেকের খোঁজ পাওয়া যাবে যাঁদের জীবনী ইসাবা, উসুদুলগাবা ও আল ইসতীয়াব গ্রন্থে রয়েছে। মুসনাদে আহমদ প্রভৃতিতে তাঁদের রেওয়ায়েত রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সাহাবায়ে কিরামের প্রতি তাঁর সন্তোষ বর্ষণ করুন। এই যুগের কয়েকজন প্রখ্যাত তাবেঈর নাম নিম্নে প্রদত্ত হলো। তাঁদের নামের পাশে তাদের মৃত্যু সনও উল্লেখ করা হলো।
১. আলকামা ইবনে কায়েস। হিজরী ৬২ সন।
২. আবু মুসলিম খাওলানী। হিজরী ৬২ সন।
৩. রবী ইবনে খাইসাম। হিজরী ৬২ সন।
৪. আমর ইবনে সারজীল। হিজরী ৬৩ সন।
৫. মাসরুক ইবনুল আজরা। হিজরী ৬৩ সন।
৬. আবূ আবদুর রহমান আসলামী। হিজরী ৭৩ সন।
৭. আবূ বুরদাহ আমের ইবনে আবী মূসা। হিজরী ৭৪ সন।
৮. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ আন্নাখয়ী। হিজরী ৭৫ সন।
৯. আবদুর রহমান ইবনে গানাম। হিজরী ৭৮ সন।
১০. কাজী শরীহ। হিজরী ৭৯ সন।
১১. সুলাইমান ইবনে কায়েস। হিজরী ৮০ সন।
১২. আবূ ইদরীস খাওলানী। হিজরী ৮০ সন।
১৩. মুহাম্মদ ইবনুল হানাফীয়া। হিজরী ৮১ সন।
১৪. আবূ দায়েল ইবনে সালামাহ। হিজরী ৮২ সন।
১৫. যার ইবনে জাইশ। হিজরী ৮৩ সন।
১৬. আবদুর রহমান ইবনে আবী লাইলা। হিজরী ৮৩ সন।
১৭. কাবীসা ইবনে যুয়াইব। হিজরী ৮৬ সন।
১৮. ইবরাহীম ইবনে ইয়াযিদ আত্মাইলামী। হিজরী ৯২ সন।
১৯. আবুল আলীয়াহ আর রাইয়াহী। হিজরী ৯৬ সন।
২০. যয়নুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন। হিজরী ৯৪ সন।
২১. আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান মাখযুমী। হিজরী ৯৪ সন।
২২. আবু সালমাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ। হিজরী ৯৪ সন।
২৩. সাঈদ ইবনে যুবায়র। হিজরী ৯৪ সন।
২৪. সাঈদ ইবনুল মুসাইব। হিজরী ৯৪ সন।
২৫. ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ নাখয়ী। হিজরী ৯৫ সন।
২৬. ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ তাইমী। হিজরী ৯৫ সন।
২৭. উরওয়াহ ইবনে যুবায়র। হিজরী ৯৪ সন।
২৮. হাসান মুসান্না ইবনে হাসান। হিজরী ৯৮ সন।
২৯. আবদুল্লাহ্ ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে উতবা মাসউদ। হিজরী ৯৯ সন।
৩০. আবদুল্লাহ্ ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে উতবাহ। হিজরী ৯৯ সন।
৩১. হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফীয়া। হিজরী ৯৯ সন।
৩২. আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদ আননাখয়ী। হিজরী ৯৯ সন।
৩৩. খারিজাহ ইবনে যায়িদ। হিজরী ১০০ সন।
৩৪. সুলাইমান ইবনে ইয়াসার। হিজরী ১০০ সন।
৩৫. আবু উসমান নাহদী। হিজরী ১০০ সন।
উপরোক্ত সাহাবী ও তাবেঈগণের আলোচনা রয়েছে 'ইকমাল ফী আসমায়ের রিজালিল মিশকাত' গ্রন্থে।