📄 মুতাওয়াতির (ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক রাবী কর্তৃক বর্ণিত)
এটি হলো এমন বর্ণনা যার সানাদের শুরু থেকে শেষ অবধি সকল স্তরে এতো বিপুল সংখ্যক [১] বর্ণনাকারী থাকে যে, এদের মিথ্যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা অকল্পনীয়। [২] অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, মুতাওয়াতির হাদীসে বর্ণিত বিধি-বিধানের আইনগত অবস্থান কুরআনে বর্ণিত আইন-বিধানের সমান। এটি সুনিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াক্বীন) প্রদান করে এবং মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান ইন্দ্রিয়ানুভূতির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের সমান। [৩] মুতাওয়াতির বর্ণনাকে আরো দু'টি উপভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে, মুতাওয়াতির বিল লাফজ (শব্দের দিক থেকে মুতাওয়াতির) ও মুতাওয়াতির বিল মা'না (অর্থের দিক থেকে মুতাওয়াতির)।
মুতাওয়াতির বিল লাফজ (متواتر باللفظ)
সব ক'টি বর্ণনার শব্দ হতে হবে এক রকম। এ প্রকার মুতাওয়াতির হাদীস অত্যন্ত দুর্লভ। শব্দগত দিক দিয়ে সর্বমোট কয়টি মুতাওয়াতির হাদীস রয়েছে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয় যে, এর সংখ্যা দশের অধিক নয়। এ ধরনের হাদীসের একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে নাবী ﷺ থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসটিতে:
مِنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার সম্পর্কে কোনো মিথ্যা কথা বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা খুঁজে নেয়।”[৪]
সত্তরের অধিক সাহাবী ও তাঁদের পর সমসংখ্যক বর্ণনাকারী এ হাদীসটি একই শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন।
মুতাওয়াতির বিল মা’না (متواتر بالمعنى) (মুতাওয়াতির বাল্-মা’নী)
অর্থগত দিক দিয়ে মুতাওয়াতির হলো এমন বর্ণনা যেখানে বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী হাদীসটির অর্থের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন, কিন্তু শব্দের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে হয়তো কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, আনুষ্ঠানিক সালাত, হজ্জ ও সিয়াম পালনের পদ্ধতি, যাকাতের পরিমাণ, কিসাসের বিধি-বিধান ইত্যাদি বিষয়ের বাস্তব সাক্ষী ছিলেন বিপুল সংখ্যক সাহাবী, আর প্রত্যেক যুগে অজস্র মানুষ সেসব বিধি-বিধান বর্ণনা করে এসেছেন।
কতিপয় বিশেষজ্ঞ মুতাওয়াতির হাদীসের কয়েকটি সংকলন তৈরী করেছেন। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত সংকলনটি হলো জালালুদ্দীন সুয়ূতীর আল আযহারুল মুতানাসিরাহ।
টিকাঃ
[১] মুতাওয়াতির এর জন্য সর্বনিম্ন কয় জন রাবী বাঞ্ছনীয়- তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো কমপক্ষে দশজন হতে হবে। (তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ২, পৃ, ১৭৭)
[২] স্টাডিজ ইন হাদীস মেথডলজি, পৃ, ৪৩।
[৩] প্রিন্সিপ্লস অব ইসলামিক জুরিস্প্রুডেন্স
[৪] যুহাইর ইবনুল আওযাম কর্তৃক বর্ণিত। সহীহ বুখারী, খণ্ড ১, পৃ. ৬৪, নং ১০৯ ও সুনানু আবী দাউদ, খণ্ড ৩, পৃ. ১০৯৫, নং ৩৬৫১।