📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 ই‘লাম, ঘোষণা

📄 ই‘লাম, ঘোষণা


এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষক বা ছাত্র এই মর্মে ঘোষণা দিতেন যে, বইয়ের লেখক তাকে উক্ত গ্রন্থটি প্রচারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে এরূপ প্রচারকার্য শুরু করার পূর্বে ঐ ছাত্রকে মূল গ্রন্থকারের স্বাক্ষর সম্বলিত মূলগ্রন্থের আদি অনুলিপি সংগ্রহ করতে হতো।

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 ওসিয়্যাহ, উইলের মাধ্যমে গ্রন্থ দান

📄 ওসিয়্যাহ, উইলের মাধ্যমে গ্রন্থ দান


এ প্রক্রিয়ায় লেখক ইন্তেকালের সময় নিজের কোনো ছাত্রকে তার গ্রন্থ প্রচার করার অনুমতি দিয়ে যেতেন। এর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে তাবি'ঈ আবু কিলাবাহ আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ বসরী (মৃত্যু ১০৪ হি.) এর ঘটনায়, যিনি ইন্তেকালের সময় আইয়ুবের নিকট স্বীয় গ্রন্থাবলী উইল করে গিয়েছিলেন।[২]

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 ওজাদাহ, গ্রন্থ আবিষ্কার

📄 ওজাদাহ, গ্রন্থ আবিষ্কার


কোনো ছাত্র বা শিক্ষক কোনো বিদ্বান ব্যক্তির গ্রন্থ আবিষ্কার করেছেন, কিন্তু কারো নিকট থেকে উক্ত গ্রন্থ প্রচার করার অনুমতি পাননি। এরূপ পদ্ধতিকে হাদীস শেখার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এ ধরনের গ্রন্থ থেকে যিনি বর্ণনা করতেন তার জন্য এটি উল্লেখ করা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল যে, উক্ত হাদীসটি অমুক বিশেষজ্ঞের গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।[৩]

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 হাদীস বর্ণনার পরিভাষা

📄 হাদীস বর্ণনার পরিভাষা


হাদীসের উৎস ও বর্ণনার ধরণ বুঝাতে হাদীস বিশেষজ্ঞগণ বেশ কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। হাদীস শাস্ত্রের সাথে পরিচিত নয় এমন লোকজন এসব আরবি পরিভাষা বুঝতে প্রায়শ ভুল করে থাকেন। নিম্নে সর্বাধিক ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ ও সেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ উল্লেখ করা হলো:
১) হাদ্দাসানা (حدثنا): সচরাচর এ পরিভাষাটিকে সংক্ষেপে ছানা (ثنا) কিংবা না (ث) লিখা হয়।
প্রথম পদ্ধতির শিক্ষণ অর্থাৎ শিক্ষকের পঠন বুঝাতে এ পরিভাষাটি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়েছে।
২) আখবারানা (أخبرنا): অধিকাংশ সময় এ পরিভাষাটিকে সংক্ষেপে আনা (أنا) এবং কদাচিৎ আরানা-ও (أرنا) লিখা হয়।
কতিপয় বিশেষজ্ঞ এ হাদ্দাসানা ও আখবারানা পরিভাষা দু'টিকে পরস্পরের সমার্থবোধক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করেছেন; তবে আখবারানা পরিভাষাটি দ্বিতীয় পদ্ধতির শিক্ষণ অর্থাৎ ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকের সামনে পাঠ বুঝাতে অধিক ব্যবহৃত হয়েছে।
৩) আমবাআনা (أنبأنا): ইজাযাহ ও মুনাওয়ালাহ এর ক্ষেত্রে এ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৪) সামি'আ (سمع): এ পরিভাষাটি প্রথম পদ্ধতির শিক্ষণ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৫) 'আন (عن): সকল পদ্ধতির শিক্ষণের ক্ষেত্রে এ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে। অস্পষ্টতার কারণে এ পরিভাষাটিকে হাদীস বর্ণনার সবচেয়ে নিম্ন মানের পদ্ধতি মনে করা হয়।[৪]

হাদ্দাসানা (তিনি আমাদেরকে বলেছেন) ও আখবারানা (তিনি আমাদেরকে অবহিত করেছেন) পরিভাষা দু'টি যেহেতু মৌখিক বর্ণনার ইঙ্গিতবহ, তাই সাধারণত মনে করা হয় যে, সংশ্লিষ্ট হাদীসটি কমপক্ষে একশ' বছর যাবৎ মৌখিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, নাবী ﷺ-এর অনেক সাহাবী হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন; একই কাজ করেছেন তাবি'ঈন ও তাবি'উত তাবি'ঈনগণ। অধিকন্তু, পূর্বে উল্লিখিত আটটি শিক্ষণ পদ্ধতির সাতটিই (অর্থাৎ ২-৮ নং শিক্ষণ পদ্ধতি) ছিল লিখিত গ্রন্থের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। এমনকি প্রথম পদ্ধতিটিও অনেক ক্ষেত্রে লিখিত গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনানোর সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অতএব হাদ্দাসানা ও আখবারানা পরিভাষা দু'টিতে আক্ষরিক অর্থ প্রযোজ্য নয়; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিখিত গ্রন্থ থেকে হাদীস বর্ণনার জন্যও এ পরিভাষা দু'টি ব্যবহৃত হয়েছে।

টিকাঃ
[২] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৬৩।
[৩] তাদরীব আর-রাউই, পৃষ্ঠা ১২৯-১৫০
[৪] স্টাডিজ ইন হাদীস মেথডোলজি, পৃষ্ঠা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00