📄 মুনাওয়ালাহ, গ্রন্থ দান
এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক তার নিজের গ্রন্থ কিংবা তার কোনো একটি অনুলিপি ছাত্রকে দান করার পাশাপাশি তা অন্যের নিকট প্রচার করার অনুমতি প্রদান করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ইমাম যুহরী (মৃত্যু ১২৪) তার পাণ্ডুলিপিসমূহ বেশ কয়েকজন বিদ্বান ব্যক্তিকে দান করেছিলেন; তাদের মধ্যে ছিলেন ইমাম সুফিয়ান সাওরী, আওযায়ী ও উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর। প্রথম শতকে এর প্রচলন ছিল একেবারে অল্প।
📄 কিতাবাহ, পত্র যোগাযোগ
শিক্ষক কিছু হাদীস লিখে তা প্রচার করার উদ্দেশ্যে ছাত্রের নিকট প্রেরণ করতেন। এ পদ্ধতিকে বলা হতো কিতাবাহ, যার অনুবাদ হতে পারে 'পত্র যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ' কিংবা আধুনিক পরিভাষায় 'দূরশিক্ষণ'। প্রথম শতক থেকেই এর প্রচলন শুরু হয়। খোলাফায়ে রাশেদীনের চিঠিপত্রসমূহে বহু হাদীসের উল্লেখ ছিল, যা পরবর্তীকালের অনেক বিশেষজ্ঞ নিজ নিজ গ্রন্থের মাধ্যমে প্রচার করেছেন। অনেক বিদ্বান সাহাবী হাদীস লিখে নিজ ছাত্রের নিকট প্রেরণ করতেন। তাদের মধ্যে ইবনু আব্বাসের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য যিনি ইবনু আবী মুলাইকাহ ও নাজদাহ-এর নিকট হাদীসের অনেকগুলো লিখিত বিবরণী প্রেরণ করেছিলেন।[১]
টিকাঃ
[১] স্টাডিজ ইন আর্লি হাদীস লিটারেচার, আরও পিডিএফ বই ডাউনলোড করুন www.boimate.com
📄 ই‘লাম, ঘোষণা
এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষক বা ছাত্র এই মর্মে ঘোষণা দিতেন যে, বইয়ের লেখক তাকে উক্ত গ্রন্থটি প্রচারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে এরূপ প্রচারকার্য শুরু করার পূর্বে ঐ ছাত্রকে মূল গ্রন্থকারের স্বাক্ষর সম্বলিত মূলগ্রন্থের আদি অনুলিপি সংগ্রহ করতে হতো।
📄 ওসিয়্যাহ, উইলের মাধ্যমে গ্রন্থ দান
এ প্রক্রিয়ায় লেখক ইন্তেকালের সময় নিজের কোনো ছাত্রকে তার গ্রন্থ প্রচার করার অনুমতি দিয়ে যেতেন। এর একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে তাবি'ঈ আবু কিলাবাহ আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ বসরী (মৃত্যু ১০৪ হি.) এর ঘটনায়, যিনি ইন্তেকালের সময় আইয়ুবের নিকট স্বীয় গ্রন্থাবলী উইল করে গিয়েছিলেন।[২]