📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 তাহাম্মুলুল ইলম

📄 তাহাম্মুলুল ইলম


প্রথম তিন শতকে হাদীস সম্প্রসারণ ও সঙ্কলনের যুগে হাদীস শেখা ও শেখানোর রকমারি পদ্ধতির বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে সেসব পদ্ধতিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে সেগুলোর জন্য হাদীস শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষা সৃষ্টি করা হয়। হাদীস শাস্ত্রে নিম্নোক্ত ছয়টি পদ্ধতিকে সনাক্ত করা হয়েছে; এর মধ্যে প্রথম দু'টি সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ও সর্বাধিক বিশুদ্ধ।

সামা': শিক্ষকের পঠন এ প্রক্রিয়ায় হাদীস সংরক্ষণের চারটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি রয়েছেঃ * স্মৃতি থেকে শিক্ষকের পঠন। এ পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার দ্বিতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। তারপরও এ পদ্ধতি কিছুটা কম পরিসরে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে যথার্থ মাত্রায় জ্ঞান অর্জন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্ররা স্ব স্ব শিক্ষকের নিকট দীর্ঘদিন যাবৎ অবস্থান করতেন। * গ্রন্থ থেকে পঠন। এ পদ্ধতিতে শিক্ষক তার নিজের লেখা গ্রন্থ থেকে পাঠ করতেন অথবা তার ছাত্রের লেখা কোনো গ্রন্থ (যা তার নিজের লেখা থেকে অনুলিপি করা হয়েছে কিংবা যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট অংশ বাছাই করা হয়েছে) থেকে পাঠ করতেন। তবে এ ক্ষেত্রে নিজের গ্রন্থ থেকে পাঠ করাকে প্রাধান্য দেয়া হতো। * প্রশ্নোত্তর। ছাত্ররা হাদীসের অংশবিশেষ নিজেদের শিক্ষকদেরকে পড়ে শোনাতেন, তারপর শিক্ষক বাকীটুকু সমাপ্ত করতেন।

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 আরদ, শিক্ষকের সামনে ছাত্রদের পঠন

📄 আরদ, শিক্ষকের সামনে ছাত্রদের পঠন


* লিপিবদ্ধ করানো। অন্য কাউকে দিয়ে হাদীস লিপিবদ্ধ করানোর প্রথম প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন সাহাবী ওয়াসিলাহ ইবনু আসকা (মৃত্যু ৮৩ হি.)। খুব আরামে জ্ঞানার্জনের সুবিধা থাকায় প্রথম দিকে এ পদ্ধতিটিকে খুব একটা সুনজরে দেখা হয়নি। তবে ইমাম যুহরী এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে সারাজীবন অপরকে দিয়ে হাদীস লিপিবদ্ধ করানোর পদ্ধতি অনুসরণ করেন। পরবর্তীতে কতিপয় বিশেষজ্ঞ তাদের সামনে হাদীস লিপিবদ্ধ না করলে এ পদ্ধতিতে হাদীস শেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিজের স্মৃতি কিংবা গ্রন্থ থেকে হাদীস পাঠ করে শোনাতেন। হাদীসগুলোকে লিপিবদ্ধ করার জন্য একজন দ্রুতগতিসম্পন্ন লেখককে বেছে নেয়া হতো, আর অন্যরা তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য লেখার ওপর নজর রাখতো। পরবর্তীতে তারা বইগুলো ধার নিয়ে নিজেদের অনুলিপি তৈরী করে নিতো। ভুল সংশোধন ও মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে ছাত্ররা সেসব অনুলিপি নিজেদের মধ্যে কিংবা স্বয়ং শিক্ষকের সামনে পুনর্বার পাঠ করতো।

এ পদ্ধতিতে কিছু ছাত্র শিক্ষকের সামনে তারই লেখা গ্রন্থ পাঠ করে শোনাতো, আর অবশিষ্ট ছাত্ররা নিজেদের গ্রন্থের হাদীসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখতো কিংবা মনোযোগ সহকারে সেসব হাদীস শ্রবণ করতো। দ্বিতীয় শতকের শুরু থেকে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয় পদ্ধতিতে পরিণত হয়। অনেক শিক্ষকের নিজস্ব লিপিকার থাকায় তারা ছাত্রদেরকে নিজেদের কপিসমূহ সরবরাহ করতেন। অন্যথায় ছাত্ররা শিক্ষকের মূলগ্রন্থ থেকে ইতোপূর্বে যেসব অনুলিপি তৈরী করেছিল সেগুলো থেকে পাঠ করে শোনাতো। সেসব অনুলিপিতে তারা প্রত্যেক হাদীসের শেষে একটি বৃত্ত এঁকে রাখতো এবং শিক্ষকের সামনে প্রতিবার পড়ে শোনানো সম্পন্ন হলে বৃত্তের ভেতর পাঠের সংখ্যা নির্দেশ করে রাখতো। কোনো ছাত্র বই থেকে হাদীস শিখে ফেললেও তাকে সেসব হাদীস অন্যের নিকট বর্ণনা করার অধিকার দেয়া হতো না কিংবা তার নিজের সঙ্কলনেও সেগুলোকে ব্যবহার করতে দেয়া হতো না, যতক্ষণ না সে সেসব হাদীস শিক্ষকের সামনে পাঠ করে তার অনুমোদন নিয়ে নিতো। এ নিয়মের অন্যথা করলে তাকে হাদীস চোর (সা-রিকুল হাদীস) হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। এটি ছিল হাল আমলের গ্রন্থস্বত্ব আইনের মতোই একটি ব্যাপার, যেখানে একজন ব্যক্তিকে যতগুলো ইচ্ছে বই কেনার অনুমতি দেয়া হয়, কিন্তু একটি অনুলিপিও তৈরী করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 ইজাযাহ, অন্যদের নিকট হাদীস বর্ণনার অনুমতি

📄 ইজাযাহ, অন্যদের নিকট হাদীস বর্ণনার অনুমতি


হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় ইজাযাহ অর্থ হলো শিক্ষক কর্তৃক কোনো ছাত্রকে এই মর্মে অনুমতি প্রদান যে, সে শিক্ষকের গ্রন্থটিকে তার নিজের বরাতে অন্যদের নিকট বর্ণনা করতে পারবে এবং এ ক্ষেত্রে উক্ত গ্রন্থটি শিক্ষককে পুনরায় পাঠ করে শোনাতে হবে না। তৃতীয় শতক থেকে এ পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়। মূল পাঠকে রদবদলের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এ পদ্ধতিটি বিকাশ লাভ করে। কতিপয় হাদীস বিশেষজ্ঞ অবশ্য এ পদ্ধতির বৈধতার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেছেন।

📘 হাদীস বোঝার মূলনীতি > 📄 মুনাওয়ালাহ, গ্রন্থ দান

📄 মুনাওয়ালাহ, গ্রন্থ দান


এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক তার নিজের গ্রন্থ কিংবা তার কোনো একটি অনুলিপি ছাত্রকে দান করার পাশাপাশি তা অন্যের নিকট প্রচার করার অনুমতি প্রদান করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ইমাম যুহরী (মৃত্যু ১২৪) তার পাণ্ডুলিপিসমূহ বেশ কয়েকজন বিদ্বান ব্যক্তিকে দান করেছিলেন; তাদের মধ্যে ছিলেন ইমাম সুফিয়ান সাওরী, আওযায়ী ও উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর। প্রথম শতকে এর প্রচলন ছিল একেবারে অল্প।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00