📄 মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা করতেন
৭৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানোর জন্যে কাপড় খুলে রাখতেন এবং পরিবারের লোকদের অনুরূপ করার জন্যে নির্দেশ দিতেন।
৭৮১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টিপড়া শুরু হলে তিনি তা গায়ে লাগানোর জন্য পোশাক উপরের দিকে কুঞ্চিত করলেন এবং বললেন, এ বৃষ্টি এইমাত্র তার রবের সান্নিধ্য থেকে এসেছে।
৭৮২. মুআবিয়া ইব্ন কুরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাহাবীগণ বছরের প্রথম মৌসুমে আসমান থেকে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার সময় মাথা খোলা রাখতেন। আর রাসূলুল্লাহ (সা) বলতেন, এ বৃষ্টির পানি আমাদের রবের নিকট থেকে এইমাত্র এসেছে, কাজেই এগুলো খুবই বরকতপূর্ণ।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সমস্ত কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন
৭৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সব কাজ ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। এমনকি মাথার চুল আঁচড়াতে এবং জুতো পরিধান করতেও।
৭৮৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যথাসম্ভব সব কাজ ডানদিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন, এমনকি মাথা আঁচড়ানো, জুতো পরিধান ও ওযু করার সময়ও।
৭৮৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন চাঁদর পরতেন কিংবা চুল আঁচড়াতেন অথবা জুতো পায়ে দিতেন তখন ডান থেকে শুরু করতেন।
৭৮৬. হযরত ইবন উমর (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, তিনি যখন কোনো পোশাক পরতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন।
৭৮৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) যখন কাপড় পরতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন।
📄 নবী (সা) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ।
৭৮৮. শাহর ইবন হাওশাব (র) বলেন, আসমা বিন্ত ইয়াযীদ (রা) আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন তাঁর বর্মটি জনৈক ইয়াহুদীর কাছে এক ওয়াসাক যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল।
৭৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা)-এর পরিবার এমন কোনো সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করেনি যেখানে এক সা' পরিমাণের চাইতে অধিক খাদ্যদ্রব্য গৃহে বিদ্যমান ছিলো। এ সময়ে তাঁর নয়টি ঘর ছিল অর্থাৎ নয়জন স্ত্রীর সংসার ছিল।
৭৯০. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইন্তিকালের সময় তিনি কোনো দীনার দিরহাম রেখে যান নি। বরং তিনি যে বর্মটি দিয়ে যুদ্ধ করতেন তাও তিরিশ 'কফীয' যবের বিনিময়ে বন্ধক রেখে যান।
৭৯১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা (রা) যবের এক টুকরা রুটি নিয়ে নবী (সা)-এর কাছে এলে তিনি বললেন, গত তিন দিনের মধ্যে এটাই প্রথম খাবার যা তোমার আব্বার মুখে প্রবেশ করছে।
৭৯২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর ইন্তিকাল-পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার একাধারে তিনদিন গমের রুটি তৃপ্তি সহকারে খেতে পারেন নি।
৭৯৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা)-এর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার কখনই তরকারির সাথে রুটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হতে পারেননি।
৭৯৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনই দিনে দু'বার রুটি ও তেল দিয়ে আহার করে পরিতৃপ্ত হতে পারেননি।
৭৯৫. নাওফিল ইব্ন ইয়াস মুযানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর পরিবারের লোকজন দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন অথচ তাঁরা যবের রুটি পেটভরে তৃপ্তির সাথে খেতে পারেননি।
৭৯৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদা আমরা নবী (সা)-এর কাছে আমাদের ক্ষুধার ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করলাম এবং আমাদের পেটে বাধা একটি একটি পাথর খুলে দেখালাম। তখন নবী (সা) তাঁর পেটে বাঁধা দু'টি পাথর দেখালেন।
৭৯৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তিনি কখনই যবের রুটি তৃপ্তির সাথে খেতে পান নাই।
৭৯৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনই টেবিলে বসে আহার করেননি এবং ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত কখনই চাপাতি বা নরম রুটি খাননি।
৭৯৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর জীবন একাধারে তিনদিন গমের রুটি তৃপ্তির সাথে খেয়েছেন এমন সুযোগ আসেনি।
৮০০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত কখনই বেলুনী দিয়ে বেলা আটার তৈরি রুটি দেখেননি।
৮০১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) বলেছেন যে, আমি দুনিয়া থেকে নিরাশ আর দুনিয়াও আমার থেকে নিরাশ।
৮০২. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: একদা আমার রব মক্কা উপত্যকাকে সোনায় পরিণত করে আমার সামনে পেশ করেন। আমি তখন বললাম, হে রব! আমি একদিন ক্ষুধার্ত থাকতে আর একদিন পেটভরে খেতে চাই।
৮০৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আল্লাহ্র কাছে এরূপ দু'আ করেন : হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মদ-এর পরিবারের রিযিক প্রয়োজন মাফিক রেখে দিও।
৮০৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) দু'আ করলেন, হে আল্লাহ্! মুহাম্মদ-এর পরিবারের জন্য এমন রিযকের ব্যবস্থা করো যাতে তাদের ক্ষুধা নিবারণ হয়।
৮০৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) বললেন, হে আয়েশা! দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক কিসের? আমার ও দুনিয়ার উদাহরণ তো ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে কোনো একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম করতে নামল, তারপর তা ছেড়ে চলে গেল।
৮০৭. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন : জিব্রাঈল (আ) পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবিসমূহ আমাকে প্রদান করেন।
৮০৮. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সকাল বেলায় রাসূলুল্লাহ (সা) ক্ষুধার্ত ছিলেন অথচ ঘরে খাবার মতো কোনো কিছুই পান নাই।
৮০৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) ক্ষুধার তীব্রতার সময় সাহাবীদের সাথে খেজুরের গুচ্ছ থেকে খাবার গ্রহণ করলেন এবং বললেন, ওই দিন তোমাদের নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৮১০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন, হে আয়েশা! মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের জন্য দুনিয়াদারী শোভনীয় নয়।
৮১১. হযরত জুবায়ের ইবন নুফায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: ধন-সম্পদ সঞ্চয় করতে ও ব্যবসায়ী হতে আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় নাই।
৮১২. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) একটি চাটাইয়ের উপর ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর পার্শ্বদেশে চাটাইয়ের দাগ দেখে আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন, দুনিয়া তো তাদের জন্যেই আর আমাদের জন্যে রয়েছে পরকাল।
৮১৪. হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: মহান আল্লাহ্ আমাদের আহলে বাইতের জন্য দুনিয়ার স্থলে আখিরাতকে পছন্দ করেছেন।
৮১৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন : পৃথিবীর সমুদয় ধন-ভাণ্ডারের চাবিসমূহ আমার হাতে দিয়ে বলা হয়, মহান আল্লাহ্র কাছে আপনার যা বিনিময় পাওনা আছে সেগুলোর সাথে এ সম্পদগুলোও দেয়া হলো।
৮১৬. হযরত উরওয়া (রা) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন, আমাদের উপর দিয়ে মাসকে মাস এমন অতিবাহিত হতো যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ঘরে কোনো আগুন জ্বলতো না।
৮২০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, ফাতিমা (রা) একটি রুটি নিয়ে এলে নবী (সা) বললেন, গত তিন দিনের মধ্যে এটাই প্রথম খাবার যা তোমার আব্বার মুখে প্রবেশ করছে।
৮২৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মদ (সা)-এর পরিবার কখনোই একাধারে তিন দিন পেটভরে গমের রুটি খেতে পাননি।
৮৩১. সাহল ইবন সা'দ (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সা) ময়দার রুটি দেখেন নাই।
৮৩২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) আগামী কালের জন্য কোনো কিছুই সঞ্চয় করে রাখতেন না।
৮৩৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন ঘরে থাকা কয়টি দীনার অবিলম্বে বিলিয়ে দিতে বললেন।
৮৩৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইন্তিকালের সময় দীনার, দিরহাম, ছাগল ও উট কিছুই রেখে যাননি।
৮৪০. হযরত আমর ইব্ন শুআয়ব তাঁর বাবার কাছ থেকে আর তিনি তাঁর দাদার কাছ থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সা) তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দিকে কিছুটা পরিপাটি করতেন।
৮৪৯. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর প্রায় ২০টি চুল মুবারক সাদা ছিল।