📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা


৭৫০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সব সময় কাজের মধ্যে শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন। কখনো অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না। অনুরূপ তিনি সুন্দর ও ভাল নাম পছন্দ করতেন।

৭৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনো কুলক্ষণ গ্রহণ করতেন না বরং সর্বদা শুভলক্ষণ গ্রহণ করতেন।

৭৫২. মুতারিফ ইবন্ আবদুল্লাহ্ (র) তাঁর পিতা আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন কাউকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেন তখন যদি নামটি সুন্দর হতো তা হলে তা নবী (সা)-এর চেহারা মুবারক দেখেই অনুমান করা যেতো।

৭৫৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শুভলক্ষণ কী? নবী (সা) বললেন, শুভলক্ষণ হলো এমন শব্দ যা সুন্দর ও সঠিক।

৭৫৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) একটি শব্দ শুনতে পেলেন। শব্দটি তাঁর কাছে খুবই ভাল লেগেছিল। অতএব তিনি ইরশাদ করলেন: আমি তোমার ব্যাপারে (তোমার মুখ থেকে পাওয়া শব্দ থেকে) শুভলক্ষণ গ্রহণ করে রেখেছি।

৭৫৫. কাছীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমার ইবন আউফ (রা) তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী (সা) এক লোককে বলতে শুনেছেন যে, সে বলছে, সবুজ ও সজীব জিনিসটি তুলে নাও। তখন নবী (সা) বললেন, আমরা তোমার মুখ থেকে পাওয়া কথাটি থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করছি।

৭৫৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (সা) বলেছেন, আমরা তোমার ব্যাপারে শুভলক্ষণ তোমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা কথা থেকেই নিয়ে রেখেছি।

৭৫৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন, পাখি তো আল্লাহ্র নির্দেশ মত উড়ে যায় নিজ পথে। তবে নবী (সা) কোন বিষয়ে শুভলক্ষণ গ্রহণ করাকে পছন্দ করতেন।

৭৫৮. হযরত উব্বা ইন্ন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমাদের এ উটনী থেকে দুধ দোহন করে কে দিতে পার? এক ব্যক্তি তার নাম বললো 'ইয়ায়িশ' (বেঁচে থাকা)। নবী (সা) তার নামের শুভলক্ষণ গ্রহণপূর্বক বললেন, যাও তুমি দুধ দোহন করে আনো।

৭৫৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) মন্দ নাম পরিবর্তন করে কোনো ভাল নাম রেখে দিতেন।

৭৬০. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে এক ব্যক্তির আলোচনা উঠলো। লোকটির নাম ছিলো শিহাব। নবী (সা) তাকে বললেন, তুমি শিহাব নও বরং তুমি হিশাম।

৭৬১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন: আমার কাছে শুভ লক্ষণ গ্রহণ পছন্দনীয়। আর শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা হয় সুন্দর শব্দ থেকে।

৭৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) হযরত আলী (রা)-কে যুদ্ধের জন্য একটি গোত্রের দিকে প্রেরণ করলেন। তারপর তাঁর পেছনে অপর এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন, দেখ তাকে পেছন দিক থেকে ডাকতে যেও না।

৭৬৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমরা আমার নিকট কোনো সংবাদ দাতাকে প্রেরণ করবে তখন এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবে যে সুদর্শন ও সুন্দর নামের অধিকারী।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর কথা বলার মধ্যে ফারসী শব্দ ব্যবহার করার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর কথা বলার মধ্যে ফারসী শব্দ ব্যবহার করার বর্ণনা


৭৬৪. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) তাঁর সাহাবীদেরকে লক্ষ করে বলেছেন, তোমরা উঠো, জাবির তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে। (এখানে 'সূরান' শব্দটি ফারসী ভাষা থেকে আগত যার অর্থ জিয়াফত)।

৭৬৫. হযরত মুজাহিদ (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) মসজিদে প্রবেশ করলেন, আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম। নবী (সা) আমাকে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? (ফারসী ভাষায়: আশকামত দারদ?) আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে যাও এবং সালাত পড়ো। সালাতের মধ্যে শিফা (আরোগ্য) আছে।

৭৬৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম। নবী (সা) আমাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? তোমার কি পেটে অসুখ? তুমি সালাতের অভিমুখী হও। কেননা, সালাত সর্বপ্রকার রোগব্যাধির জন্য শিফা।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা) জুমু‘আর ফযীলত ও বরকত অর্জনার্থে জুমু‘আর দিবস ও রজনীতে যে সব বিশেষ আমল করতেন সে সবের বর্ণনা

📄 নবী (সা) জুমু‘আর ফযীলত ও বরকত অর্জনার্থে জুমু‘আর দিবস ও রজনীতে যে সব বিশেষ আমল করতেন সে সবের বর্ণনা


৭৬৭. আবদুল কুদ্দুস (র) হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী (সা) যখন কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন তা শুরু করতেন শুক্রবার থেকে।

৭৬৮. হযরত ইকরিমা (র) হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) গরমের মৌসুমে শুক্রবার রাতে সফরের জন্য যাত্রা করতেন। আর শীতের মৌসুমে তাঁর গৃহে প্রত্যাবর্তনও হতো শুক্রবার রাতে।

৭৬৯. হযরত আবূ আবদুল্লাহ্ আল আগার্ (র) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা) জুমু'আর সালাতে যাওয়ার পূর্বে নিজের গোঁফ ছোট করতেন এবং হাতের নখ কাটতেন।

৭৭০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমার (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) প্রত্যেক জুমু'আর দিনে নিজের গোঁফ ছোট করতেন এবং আঙ্গুলের নখ কাটতেন।

৭৭১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) জুমু'আর দিনে হাতের নখ কেটে নিতেন।

৭৭২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন হাতিব তার পিতা ও দাদা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা) জুমু'আর দিনে নিজের গোঁফ ও নখ কাটতেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর নাভীর নিচের পশম পরিষ্কারের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর নাভীর নিচের পশম পরিষ্কারের বর্ণনা


৭৭৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) নাভীর নিচের লোম পরিষ্কারের জন্য চুনা কিংবা কোনো লোমনাশক ব্যবহার করতেন না। বরং লোম বেড়ে উঠলে তিনি ক্ষুর দিয়ে পরিষ্কার করে নিতেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px