📄 নবী (সা)-এর উপবেশন, হেলান দেয়া ও চাদর মুড়ি দেওয়া ও পথ চলার বর্ণনা
৭৪০. হযরত শারীক ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নামার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সা)-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। এমন সময় উটনীর উপর আরোহী জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করলো। এরপর বললো, তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কোন্ জন? নবী (সা) তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। অতএব আমরা আগন্তুক লোকটিকে বললাম, তিনি এই যে শুভ্র বর্ণের হেলান দিয়ে উপবিষ্ট।
৭৪১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি মসজিদে একটি লাল চাদরের উপর হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন।
৭৪২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত মুআয ইবন জাবাল (রা) নবী (সা)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন নবী (সা) হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন।
৭৪৩. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে ছবি আঁকা একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসতে দেখেছি।
৭৪৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমাকে দেখে নবী (সা) আমার দিকে বালিশটি বাড়িয়ে দিলেন। তারপর বললেন, হে সালমান! যে মুসলমান অপর কোনো মুসলমান ভাইয়ের (সাক্ষাতের জন্য তার) ঘরে প্রবেশ করে আর সে তার সম্মানার্থে নিজের বালিশ বাড়িয়ে দেয়, তা হলে আল্লাহ্ পাক তার গুনাগুলো ক্ষমা করে দেন।
৭৪৫. হযরত রাবীহ্ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আবু সাঈদ (রা) তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বসতেন তখন হাঁটু উপরের দিকে তুলে নিতম্বের উপর বসতেন।
৭৪৬. হযরত আবু উমামা হারেলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বসতেন তখন হাঁটু উঠিয়ে নিতম্বের উপর বসতেন।
৭৪৭. হযরত জাবির ইবন্ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। বালিশটি তাঁর বাম দিকে ছিল।
৭৪৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) তাঁর সাহাবীগণের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। হঠাৎ তাঁদের সামনে জনৈক বেদুঈন এসে বললো, তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের সন্তান কোন্ জন? সাহাবীগণ বললেন, তিনি হলেন এই লাল শুভ্র বর্ণের লোকটি যিনি কনুইয়ের উপর হেলান দিয়ে রয়েছেন।
৭৪৯. আবু ইউনুস (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী (সা) অপেক্ষা অধিক সুন্দর ও সুশ্রী কোনো মানুষ দেখিনি। অনুরূপ আমি নবী (সা) অপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিতে পথ চলতে কাউকে দেখিনি। (তাঁর পথ চলাকালে মনে হতো) যেন ভূমিকে তাঁর জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে।
📄 নবী (সা)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা
৭৫০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সব সময় কাজের মধ্যে শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন। কখনো অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না। অনুরূপ তিনি সুন্দর ও ভাল নাম পছন্দ করতেন।
৭৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরায়দা তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনো কুলক্ষণ গ্রহণ করতেন না বরং সর্বদা শুভলক্ষণ গ্রহণ করতেন।
৭৫২. মুতারিফ ইবন্ আবদুল্লাহ্ (র) তাঁর পিতা আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন কাউকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেন তখন যদি নামটি সুন্দর হতো তা হলে তা নবী (সা)-এর চেহারা মুবারক দেখেই অনুমান করা যেতো।
৭৫৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শুভলক্ষণ কী? নবী (সা) বললেন, শুভলক্ষণ হলো এমন শব্দ যা সুন্দর ও সঠিক।
৭৫৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) একটি শব্দ শুনতে পেলেন। শব্দটি তাঁর কাছে খুবই ভাল লেগেছিল। অতএব তিনি ইরশাদ করলেন: আমি তোমার ব্যাপারে (তোমার মুখ থেকে পাওয়া শব্দ থেকে) শুভলক্ষণ গ্রহণ করে রেখেছি।
৭৫৫. কাছীর ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমার ইবন আউফ (রা) তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী (সা) এক লোককে বলতে শুনেছেন যে, সে বলছে, সবুজ ও সজীব জিনিসটি তুলে নাও। তখন নবী (সা) বললেন, আমরা তোমার মুখ থেকে পাওয়া কথাটি থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করছি।
৭৫৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (সা) বলেছেন, আমরা তোমার ব্যাপারে শুভলক্ষণ তোমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা কথা থেকেই নিয়ে রেখেছি।
৭৫৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন, পাখি তো আল্লাহ্র নির্দেশ মত উড়ে যায় নিজ পথে। তবে নবী (সা) কোন বিষয়ে শুভলক্ষণ গ্রহণ করাকে পছন্দ করতেন।
৭৫৮. হযরত উব্বা ইন্ন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমাদের এ উটনী থেকে দুধ দোহন করে কে দিতে পার? এক ব্যক্তি তার নাম বললো 'ইয়ায়িশ' (বেঁচে থাকা)। নবী (সা) তার নামের শুভলক্ষণ গ্রহণপূর্বক বললেন, যাও তুমি দুধ দোহন করে আনো।
৭৫৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) মন্দ নাম পরিবর্তন করে কোনো ভাল নাম রেখে দিতেন।
৭৬০. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে এক ব্যক্তির আলোচনা উঠলো। লোকটির নাম ছিলো শিহাব। নবী (সা) তাকে বললেন, তুমি শিহাব নও বরং তুমি হিশাম।
৭৬১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন: আমার কাছে শুভ লক্ষণ গ্রহণ পছন্দনীয়। আর শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা হয় সুন্দর শব্দ থেকে।
৭৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) হযরত আলী (রা)-কে যুদ্ধের জন্য একটি গোত্রের দিকে প্রেরণ করলেন। তারপর তাঁর পেছনে অপর এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন, দেখ তাকে পেছন দিক থেকে ডাকতে যেও না।
৭৬৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমরা আমার নিকট কোনো সংবাদ দাতাকে প্রেরণ করবে তখন এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবে যে সুদর্শন ও সুন্দর নামের অধিকারী।
📄 নবী (সা)-এর কথা বলার মধ্যে ফারসী শব্দ ব্যবহার করার বর্ণনা
৭৬৪. হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) তাঁর সাহাবীদেরকে লক্ষ করে বলেছেন, তোমরা উঠো, জাবির তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে। (এখানে 'সূরান' শব্দটি ফারসী ভাষা থেকে আগত যার অর্থ জিয়াফত)।
৭৬৫. হযরত মুজাহিদ (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) মসজিদে প্রবেশ করলেন, আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম। নবী (সা) আমাকে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? (ফারসী ভাষায়: আশকামত দারদ?) আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে যাও এবং সালাত পড়ো। সালাতের মধ্যে শিফা (আরোগ্য) আছে।
৭৬৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম। নবী (সা) আমাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? তোমার কি পেটে অসুখ? তুমি সালাতের অভিমুখী হও। কেননা, সালাত সর্বপ্রকার রোগব্যাধির জন্য শিফা।
📄 নবী (সা) জুমু‘আর ফযীলত ও বরকত অর্জনার্থে জুমু‘আর দিবস ও রজনীতে যে সব বিশেষ আমল করতেন সে সবের বর্ণনা
৭৬৭. আবদুল কুদ্দুস (র) হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী (সা) যখন কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন তা শুরু করতেন শুক্রবার থেকে।
৭৬৮. হযরত ইকরিমা (র) হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) গরমের মৌসুমে শুক্রবার রাতে সফরের জন্য যাত্রা করতেন। আর শীতের মৌসুমে তাঁর গৃহে প্রত্যাবর্তনও হতো শুক্রবার রাতে।
৭৬৯. হযরত আবূ আবদুল্লাহ্ আল আগার্ (র) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা) জুমু'আর সালাতে যাওয়ার পূর্বে নিজের গোঁফ ছোট করতেন এবং হাতের নখ কাটতেন।
৭৭০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমার (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) প্রত্যেক জুমু'আর দিনে নিজের গোঁফ ছোট করতেন এবং আঙ্গুলের নখ কাটতেন।
৭৭১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) জুমু'আর দিনে হাতের নখ কেটে নিতেন।
৭৭২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন হাতিব তার পিতা ও দাদা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা) জুমু'আর দিনে নিজের গোঁফ ও নখ কাটতেন।