📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা) সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় সাহাবীগণের তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর বর্ণনা

📄 নবী (সা) সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় সাহাবীগণের তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর বর্ণনা


৭৩২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন কোনো সফর শেষ করে (মদীনায়) প্রত্যাবর্তন করতেন তখন আমরা তাঁকে (অগ্রসর হয়ে) অভ্যর্থনা জানাতাম。

ফায়দা: উপরোক্ত হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, সাহাবীগণের নিয়ম ছিল নবী (সা) কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানাতেন। অতিথি ও সফরকারী ব্যক্তির অভ্যর্থনা জ্ঞাপন একটি পছন্দনীয় ও ভাল কাজ।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা) যে সব দিনে সফরে যাত্রা করতে ভালবাসতেন এবং সফর চলাকালীন সময়ে তাঁর আমলের বর্ণনা

📄 নবী (সা) যে সব দিনে সফরে যাত্রা করতে ভালবাসতেন এবং সফর চলাকালীন সময়ে তাঁর আমলের বর্ণনা


৭৩৩. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বৃহস্পতিবারকে ভালবাসতেন। আর এই দিনেই সফরের জন্য যাত্রা করা তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিলো।

৭৩৪. হযরত কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) খুব কমই বৃহস্পতিবার ব্যতিরেক অন্য কোনো দিন সফরের জন্য যাত্রা করতেন।

৭৩৫. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সোমবার ও বৃহস্পতিবারে সফরের জন্য যাত্রা করতেন।

ফায়দা : ইসলামী শরীয়ত যেভাবে মানুষের ছোট বড় সকল কাজকর্ম গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে তদ্রূপ মানুষের সফরকেও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। নবী (সা) সাধারণত বৃহস্পতিবার ও সোমবার এই দু'টি দিনকে সফর শুরুর জন্য মনোনীত করতেন।

৭৩৬. হযরত কাব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সফর শেষ করে ফিরে আসতেন তখন প্রথমত মসজিদে তাশরীফ নিতেন। তারপর সালাত আদায় করে লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাত, সালাম-কালাম ও খোঁজ-খবর লওয়া পর্যন্ত মসজিদেই অবস্থান করতেন。

৭৩৭. কা'ব ইব্‌ন মালিক (রা)-এর এক পুত্র তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সর্বদা দিনের প্রথম প্রহরে সফর থেকে বাড়ি ফিরতেন। তারপর প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করে (কিছুক্ষণ পর্যন্ত) সেখানে বসতেন। তারপর নিজ গৃহে তাশরীফ নিতেন。

৭৩৮. হযরত সাঈদ ইব্‌ন সুলাইম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রিয় নবী (সা) যখন কোনো যুদ্ধের জন্য কিংবা কোনো সফরে যাত্রা করতেন তখন প্রত্যেক দিন সফর সঙ্গীদের একজনকে নিজের সঙ্গে বাহনের উপর আরোহণ করাতেন।

৭৩৯. হযরত শারীদ হামদানী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় আমরা নবী (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। একবার আমি পায়ে হেঁটে পথ চলছিলাম। হঠাৎ পেছন দিক থেকে উট চলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি পেছনের দিকে তাকালাম। তখন চেয়ে দেখলাম, (উটের উপর আরোহণ করে আসছেন) নবী (সা)। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি শারীদ? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে সওয়ারীর উপর তুলে নিবো কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তখন নবী (সা) তাঁর সওয়ারী বসালেন এবং আমাকে নিজের সঙ্গে তুলে নিলেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর উপবেশন, হেলান দেয়া ও চাদর মুড়ি দেওয়া ও পথ চলার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর উপবেশন, হেলান দেয়া ও চাদর মুড়ি দেওয়া ও পথ চলার বর্ণনা


৭৪০. হযরত শারীক ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ নামার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সা)-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। এমন সময় উটনীর উপর আরোহী জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করলো। এরপর বললো, তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কোন্ জন? নবী (সা) তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। অতএব আমরা আগন্তুক লোকটিকে বললাম, তিনি এই যে শুভ্র বর্ণের হেলান দিয়ে উপবিষ্ট।

৭৪১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি মসজিদে একটি লাল চাদরের উপর হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন।

৭৪২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত মুআয ইবন জাবাল (রা) নবী (সা)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন নবী (সা) হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন।

৭৪৩. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে ছবি আঁকা একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসতে দেখেছি।

৭৪৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমাকে দেখে নবী (সা) আমার দিকে বালিশটি বাড়িয়ে দিলেন। তারপর বললেন, হে সালমান! যে মুসলমান অপর কোনো মুসলমান ভাইয়ের (সাক্ষাতের জন্য তার) ঘরে প্রবেশ করে আর সে তার সম্মানার্থে নিজের বালিশ বাড়িয়ে দেয়, তা হলে আল্লাহ্ পাক তার গুনাগুলো ক্ষমা করে দেন।

৭৪৫. হযরত রাবীহ্ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আবু সাঈদ (রা) তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বসতেন তখন হাঁটু উপরের দিকে তুলে নিতম্বের উপর বসতেন।

৭৪৬. হযরত আবু উমামা হারেলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বসতেন তখন হাঁটু উঠিয়ে নিতম্বের উপর বসতেন।

৭৪৭. হযরত জাবির ইবন্ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। বালিশটি তাঁর বাম দিকে ছিল।

৭৪৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) তাঁর সাহাবীগণের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। হঠাৎ তাঁদের সামনে জনৈক বেদুঈন এসে বললো, তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের সন্তান কোন্ জন? সাহাবীগণ বললেন, তিনি হলেন এই লাল শুভ্র বর্ণের লোকটি যিনি কনুইয়ের উপর হেলান দিয়ে রয়েছেন।

৭৪৯. আবু ইউনুস (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী (সা) অপেক্ষা অধিক সুন্দর ও সুশ্রী কোনো মানুষ দেখিনি। অনুরূপ আমি নবী (সা) অপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিতে পথ চলতে কাউকে দেখিনি। (তাঁর পথ চলাকালে মনে হতো) যেন ভূমিকে তাঁর জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছে।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা


৭৫০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সব সময় কাজের মধ্যে শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন। কখনো অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না। অনুরূপ তিনি সুন্দর ও ভাল নাম পছন্দ করতেন।

৭৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনো কুলক্ষণ গ্রহণ করতেন না বরং সর্বদা শুভলক্ষণ গ্রহণ করতেন।

৭৫২. মুতারিফ ইবন্ আবদুল্লাহ্ (র) তাঁর পিতা আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন কাউকে তার নাম জিজ্ঞেস করতেন তখন যদি নামটি সুন্দর হতো তা হলে তা নবী (সা)-এর চেহারা মুবারক দেখেই অনুমান করা যেতো।

৭৫৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শুভলক্ষণ কী? নবী (সা) বললেন, শুভলক্ষণ হলো এমন শব্দ যা সুন্দর ও সঠিক।

৭৫৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) একটি শব্দ শুনতে পেলেন। শব্দটি তাঁর কাছে খুবই ভাল লেগেছিল। অতএব তিনি ইরশাদ করলেন: আমি তোমার ব্যাপারে (তোমার মুখ থেকে পাওয়া শব্দ থেকে) শুভলক্ষণ গ্রহণ করে রেখেছি।

৭৫৫. কাছীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমার ইবন আউফ (রা) তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী (সা) এক লোককে বলতে শুনেছেন যে, সে বলছে, সবুজ ও সজীব জিনিসটি তুলে নাও। তখন নবী (সা) বললেন, আমরা তোমার মুখ থেকে পাওয়া কথাটি থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করছি।

৭৫৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (সা) বলেছেন, আমরা তোমার ব্যাপারে শুভলক্ষণ তোমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা কথা থেকেই নিয়ে রেখেছি।

৭৫৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন, পাখি তো আল্লাহ্র নির্দেশ মত উড়ে যায় নিজ পথে। তবে নবী (সা) কোন বিষয়ে শুভলক্ষণ গ্রহণ করাকে পছন্দ করতেন।

৭৫৮. হযরত উব্বা ইন্ন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমাদের এ উটনী থেকে দুধ দোহন করে কে দিতে পার? এক ব্যক্তি তার নাম বললো 'ইয়ায়িশ' (বেঁচে থাকা)। নবী (সা) তার নামের শুভলক্ষণ গ্রহণপূর্বক বললেন, যাও তুমি দুধ দোহন করে আনো।

৭৫৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) মন্দ নাম পরিবর্তন করে কোনো ভাল নাম রেখে দিতেন।

৭৬০. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে এক ব্যক্তির আলোচনা উঠলো। লোকটির নাম ছিলো শিহাব। নবী (সা) তাকে বললেন, তুমি শিহাব নও বরং তুমি হিশাম।

৭৬১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) ইরশাদ করেছেন: আমার কাছে শুভ লক্ষণ গ্রহণ পছন্দনীয়। আর শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা হয় সুন্দর শব্দ থেকে।

৭৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা) হযরত আলী (রা)-কে যুদ্ধের জন্য একটি গোত্রের দিকে প্রেরণ করলেন। তারপর তাঁর পেছনে অপর এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন, দেখ তাকে পেছন দিক থেকে ডাকতে যেও না।

৭৬৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমরা আমার নিকট কোনো সংবাদ দাতাকে প্রেরণ করবে তখন এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবে যে সুদর্শন ও সুন্দর নামের অধিকারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px