📄 নবী (সা)-এর কোন পছন্দনীয় জিনিস দেখে দু‘আর বর্ণনা
৭১০. হযরত হাকীম ইবন হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন এমন কোনো জিনিস দেখতেন যা তাঁর নিকট খুবই পছন্দনীয় এবং তার ব্যাপারে তিনি কুদৃষ্টির আশংকা বোধ করতেন তখন নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতেন: اَللَّهُمَّ بَارِكْ فِيْهِ وَلَا تَضُرَّهُ “হে আল্লাহ! এ জিনিসের মধ্যে বরকত দাও এবং জিনিসটিকে কুদৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে রাখো।”
ফায়দা: উপরোক্ত হাদীসটি মুহাদ্দিস ইবনুস সুন্নী (র) তাঁর "عَمَلُ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ" গ্রন্থে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। কোন কোন আলিম অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উপরোক্ত হাদীসটি কাওলী ও ফেলী উভয়রূপে বর্ণিত আছে। তবে ফেলী হাদীসটির বর্ণনা শুদ্ধ নয় এবং এটি মুনকার তথা পরিত্যাজ্যযোগ্য হাদীস। পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনা হলো হাদীসটির কাওলী রূপ।
📄 সাহাবায়ে কিরামের কোন সফরে যাত্রাকালে নবী (সা)-এর তাঁদেরকে কিছু দূর পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার বর্ণনা
৭১১. সা'দ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন তাবুক অভিযানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, তখন হযরত আলী (রা) তাঁকে কিছুদূর পর্যন্ত এগিয়ে দেন。
ফায়দা : এখানে গ্রন্থকার আল্লামা শায়েখ আবু হাইয়ান ইস্পাহানীর উপস্থাপিত অনুচ্ছেদ শিরনাম ও শিরনামাধীন বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সংগতি রক্ষিত হয়নি। কেননা শিরনাম হলো সাহাবীদের সফরে যাত্রাকালে নবী (সা)-এর তাঁদেরকে কিছু দূর এগিয়ে দেওয়া। অথচ উল্লেখিত হাদীসের বিষয়বস্তু তার উল্টো। অর্থাৎ নবী (সা)-এর সফরে যাত্রাকালে সাহাবী কর্তৃক তাঁকে কিছু দূর এগিয়ে দেওয়ার বর্ণনা। তবে হযরত আলী (রা)-এর এ কাজটি নিশ্চিত প্রমাণ বহন করছে যে, কারোর সফরে যাত্রাকালে তাকে কিছুদূর পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া নবী (সা)-এর কাছে একটি পছন্দনীয় ও ভাল কাজ হিসাবে বিবেচিত ছিল।
📄 নবী (সা) সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় সাহাবীগণের তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর বর্ণনা
৭৩২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর ইব্ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন কোনো সফর শেষ করে (মদীনায়) প্রত্যাবর্তন করতেন তখন আমরা তাঁকে (অগ্রসর হয়ে) অভ্যর্থনা জানাতাম。
ফায়দা: উপরোক্ত হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, সাহাবীগণের নিয়ম ছিল নবী (সা) কোনো সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানাতেন। অতিথি ও সফরকারী ব্যক্তির অভ্যর্থনা জ্ঞাপন একটি পছন্দনীয় ও ভাল কাজ।
📄 নবী (সা) যে সব দিনে সফরে যাত্রা করতে ভালবাসতেন এবং সফর চলাকালীন সময়ে তাঁর আমলের বর্ণনা
৭৩৩. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বৃহস্পতিবারকে ভালবাসতেন। আর এই দিনেই সফরের জন্য যাত্রা করা তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিলো।
৭৩৪. হযরত কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) খুব কমই বৃহস্পতিবার ব্যতিরেক অন্য কোনো দিন সফরের জন্য যাত্রা করতেন।
৭৩৫. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সোমবার ও বৃহস্পতিবারে সফরের জন্য যাত্রা করতেন।
ফায়দা : ইসলামী শরীয়ত যেভাবে মানুষের ছোট বড় সকল কাজকর্ম গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে তদ্রূপ মানুষের সফরকেও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। নবী (সা) সাধারণত বৃহস্পতিবার ও সোমবার এই দু'টি দিনকে সফর শুরুর জন্য মনোনীত করতেন।
৭৩৬. হযরত কাব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সফর শেষ করে ফিরে আসতেন তখন প্রথমত মসজিদে তাশরীফ নিতেন। তারপর সালাত আদায় করে লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাত, সালাম-কালাম ও খোঁজ-খবর লওয়া পর্যন্ত মসজিদেই অবস্থান করতেন。
৭৩৭. কা'ব ইব্ন মালিক (রা)-এর এক পুত্র তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সর্বদা দিনের প্রথম প্রহরে সফর থেকে বাড়ি ফিরতেন। তারপর প্রথমে মসজিদে গিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করে (কিছুক্ষণ পর্যন্ত) সেখানে বসতেন। তারপর নিজ গৃহে তাশরীফ নিতেন。
৭৩৮. হযরত সাঈদ ইব্ন সুলাইম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রিয় নবী (সা) যখন কোনো যুদ্ধের জন্য কিংবা কোনো সফরে যাত্রা করতেন তখন প্রত্যেক দিন সফর সঙ্গীদের একজনকে নিজের সঙ্গে বাহনের উপর আরোহণ করাতেন।
৭৩৯. হযরত শারীদ হামদানী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় আমরা নবী (সা)-এর সঙ্গে ছিলাম। একবার আমি পায়ে হেঁটে পথ চলছিলাম। হঠাৎ পেছন দিক থেকে উট চলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি পেছনের দিকে তাকালাম। তখন চেয়ে দেখলাম, (উটের উপর আরোহণ করে আসছেন) নবী (সা)। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি শারীদ? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে সওয়ারীর উপর তুলে নিবো কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তখন নবী (সা) তাঁর সওয়ারী বসালেন এবং আমাকে নিজের সঙ্গে তুলে নিলেন।