📄 হাঁচি দেয়ার মুহূর্তে মহানবী (সা)-এর কর্মনীতি
৭২০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর যখন হাঁচি আসতো তখন তিনি আওয়াজ (যথাসম্ভব) ছোট করতেন, হাঁচিকে একটি কাপড়ে নিয়ে নিতেন এবং নিজের সম্পূর্ণ চেহারা মুবারক ঢেকে ফেলতেন।
ফায়দা: হাঁচি আসা আল্লাহ পাকের নিকট একটি পছন্দনীয় জিনিস। মহানবী (সা) নিজ আমলের মাধ্যমে হাঁচি দেওয়ার পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পর্কে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। এখানে সর্বপ্রথম নিয়ম হলো, হাঁচি দেওয়ার সময় আওয়াজ যথাসম্ভব ছোট করবে। প্রচণ্ড আওয়াজে হাঁচি দিবে না। দ্বিতীয় নিয়ম হলো হাঁচির ছিটানো পানির কণাগুলি একটি কাপড়ের উপর নিতে হবে। যাতে এগুলি এদিক সেদিক ছড়িয়ে পরিবেশ খারাপ করতে না পারে। তাছাড়া নিজের মুখমণ্ডল একটি কাপড়ের সাহায্যে এভাবে ঢেকে নিতে হবে যেন তার হাঁচিজনিত চেহারা অন্যজনের চোখে দৃষ্টিকটু না ঠেকে।
৭২১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন পূর্ণ মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন।
৭২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন এক টুকরা কাপড় কিংবা আপন হাতের সাহায্যে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন।
৭২৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন হাঁচি দিতেন তখন হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন এবং নিজের মুখমণ্ডল সামলে রাখতেন।
৭২৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন আপন চেহারা মুবারক ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন।
৭২৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন এক টুকরা কাপড়ের সাহায্যে আপন মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলতেন এবং হাতের তালুদ্বয় নিজের ভ্রূদ্বয়ের উপর স্থাপন করতেন।
📄 নবী (সা)-এর ডান হাত ও বাম হাত ব্যবহার করার বর্ণনা
৭২৬. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) তাঁর ডান হাত ব্যবহার করতেন ওযু ও আহার গ্রহণের কাজে। আর বাম হাত ব্যবহার করতেন পেশাব, পায়খানা কিংবা এ ধরনের কোনো ময়লা পরিষ্কার করার কাজে।
ফায়দা: মহানবী (সা)-এর মুবারক নিয়ম ছিলো যে, তিনি প্রতিটি ভাল কাজ এবং পছন্দনীয় আমল সম্পাদনের সময় নিজের ডান হাত ব্যবহার করতেন এবং প্রতিটি ভাল কাজের সূচনা ডান দিক থেকে করাই ছিলো তাঁর নীতি। আহার করা, ওযু করা, মাথার চুল আঁচড়ানো, মসজিদে প্রবেশ করা, জুতা পরিধান করা ইত্যাকার কাজ তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। এর বিপরীতে পেশাব-পায়খানার প্রয়োজনে কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো কাজ যেমন মসজিদ থেকে বের হওয়া, পা থেকে জুতা খোলা ইত্যাদি কাজে তিনি বাম হাত ও বাম পা থেকে শুরু করতেন।
📄 নবী (সা)-এর ডান হাত ও বাম হাত ব্যবহার করার বর্ণনা
৭২৬. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) তাঁর ডান হাত ব্যবহার করতেন ওযু ও আহার গ্রহণের কাজে। আর বাম হাত ব্যবহার করতেন পেশাব, পায়খানা কিংবা এ ধরনের কোনো ময়লা পরিষ্কার করার কাজে।
ফায়দা: মহানবী (সা)-এর মুবারক নিয়ম ছিলো যে, তিনি প্রতিটি ভাল কাজ এবং পছন্দনীয় আমল সম্পাদনের সময় নিজের ডান হাত ব্যবহার করতেন এবং প্রতিটি ভাল কাজের সূচনা ডান দিক থেকে করাই ছিলো তাঁর নীতি। আহার করা, ওযু করা, মাথার চুল আঁচড়ানো, মসজিদে প্রবেশ করা, জুতা পরিধান করা ইত্যাকার কাজ তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। এর বিপরীতে পেশাব-পায়খানার প্রয়োজনে কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো কাজ যেমন মসজিদ থেকে বের হওয়া, পা থেকে জুতা খোলা ইত্যাদি কাজে তিনি বাম হাত ও বাম পা থেকে শুরু করতেন।
📄 নবী (সা)-এর তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে বহুল পরিমাণে পরামর্শ করা
৭২৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) অপেক্ষা লোকজনের সাথে অধিক পরামর্শকারী কোনো ব্যক্তি দেখিনি।
ফায়দা: নবী (সা)-এর নীতি ছিল যে, তিনি সর্বদা সকল কাজ পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদন করতেন। পরামর্শের মাধ্যমে কাজ করার মধ্যে বহু উপকারিতা ও বরকত বিদ্যমান। পরামর্শের কারণে কাজে ভুল ও ত্রুটির ভয় কম থাকে। তবে মহানবী (সা)-এর পরামর্শ করার বিষয়টি হতো যুদ্ধ কিংবা মুসলিম জনকল্যাণ কিংবা এ পর্যায়ের দুনিয়াবী বিষয়াদির ক্ষেত্রে। কেননা, দীনী কোনো ব্যাপারে কিংবা শরয়ী বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ পরামর্শের আদৌ প্রয়োজন ছিলো না এবং তা পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারণের কোনো বিষয়ও নয়।