📄 নবী (সা)-এর উপহার গ্রহণ করা এবং তার প্রতিদান দেওয়ার বর্ণনা
৭০৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন।
৭০৮. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ হাদিরার প্রতিদান দাতা হিসেবে সর্বাধিক উত্তম মানুষ ছিলেন।
৭০৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী বলেছেন: আমি যদি বকরীর একটি বাহুর জন্যও আমন্ত্রিত হই তাহলেও আমি সাড়া দেবো। আর আমাকে বকরীর পাও যদি হাদিয়া দেয়া হয় তাও আমি গ্রহণ করবো।
৭১০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ নিজের জন্য সাদাকা গ্রহণ করতেন না তবে উপহার গ্রহণ করতেন।
৭১১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমাকে যদি বক্সীর একটি পাও উপহার দেয়া হয় আমি তা গ্রহণ করবো। তিনি মানুষকে পরস্পর উপহার আদান-প্রদানের নির্দেশ দিতেন।
৭১২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেউ যদি নবী -কে যবের রুটির জন্যও দাওয়াত দিতো তিনি দ্বিধাহীনচিত্তে তা গ্রহণ করতেন। এক ইয়াহুদীর কাছে তাঁর একটি বর্ম বন্ধক ছিল।
৭১৩. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে কোন হাদিয়া আসলে হাদিয়াদাতা না খাওয়া পর্যন্ত তিনি তা খেতেন না।
৭১৪. হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁকে এক হাঁড়ি হালুয়া হাদিয়া দেওয়া হয়েছিলো। তিনি প্রত্যেককে এক চামচ করে হালুয়া দিতে থাকলেন।
৭১৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী -কে খেজুর গাছের সর্বপ্রথম ফল উপহার দেওয়া হলে তিনি বরকতের জন্য দু'আ করতেন। অতঃপর তিনি উক্ত ফল শিশুদেরকে বণ্টন করে দিতেন।
৭১৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর জন্য প্রথম খেজুর ফল আনা হলে তিনি তাতে বরকতের জন্য দু'আ করতেন।
📄 নবী (সা)-এর রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করার বর্ণনা
৭১৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) রোগীর শুশ্রূষার জন্য তিনদিন পর তশরীফ নিয়ে যেতেন।
ফায়দা: পীড়িত ও রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা মহানবী (সা)-এর বরকতপূর্ণ একটি সুন্নত এবং মানবিক কর্তব্য পালনের সুন্দর একটি আদর্শ। নবী (সা) সকল রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। রোগী মুসলিম কিংবা অমুসলিম কিংবা কোনো ক্রীতদাসই হোক তাঁর কাছে কোনো পার্থক্য ছিল না। অনুরূপ রোগীদের সেবা-শুশ্রূষার কাজে তাঁর নিয়ম ছিল তিনি তৃতীয় দিনে রোগীর সাক্ষাতে যেতেন। এটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি নিয়ম। কেননা তৃতীয় দিনে সাক্ষাত করার দ্বারা একদিকে যেমন রোগীর উপর বারবার যাতায়াত জনিত কষ্ট অনুভূত হয় না, তেমনি অন্যদিকে শুশ্রূষাকারীর জন্যও নিয়মটি বোঝামুক্ত ও সহজ হয়ে থাকে। তা ছাড়া তৃতীয় দিনে রোগের মধ্যেও কিছু না কিছু তফাৎ এসে যায়। বস্তুত নবী (সা)-এর সবকটি নিয়মই ছিল পরম বিজ্ঞতা, উপকারিতা ও ভারসাম্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
৭১৮. মুহাম্মদ ইব্ন নাফি ইব্ন জুবায়র তাঁর পিতা নাফি ইব্ন জুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে হযরত সাঈদ ইব্ন আস (রা)-এর শুশ্রূষা করতে দেখেছি। তখন আমি দেখলাম নবী (সা) টুকরা কাপড়ের সাহায্যে সাঈদ ইব্ন আসকে (শরীরে) গরম সেক দিচ্ছেন।
ফায়দা: রোগীর শুশ্রূষা করার সময় তার সেবা করা, ঔষধপথ্য সেবন করিয়ে দেয়া কিংবা তার কোনো খেদমত করা অত্যন্ত উন্নত একটি আমল। দু'জাহানের বাদশাহ্ মহানবী (সা) এ সকল কাজকর্ম নিজে আমল করার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
৭১৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কৃতদাসের দাওয়াতও গ্রহণ করতেন, গাধার পিঠেও আরোহণ করতেন, পশমের তৈরি কাপড়ও পরিধান করতেন এবং রোগী ও পীড়িতদের শুশ্রূষার জন্য যেতেন।
ফায়দা: এই হাদীসটি মহানবী (সা)-এর পরম বিনয় প্রদর্শন ও নিরহংকার কর্মনীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সাধারণ দাস-দাসীদের দাওয়াতে যেতেন, গাধার পিঠে আরোহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। আমাদের প্রিয় নবী পশমের তৈরি পোশাক পরতেন এবং পীড়িতদের সেবা-যত্নের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন।
📄 হাঁচি দেয়ার মুহূর্তে মহানবী (সা)-এর কর্মনীতি
৭২০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা)-এর যখন হাঁচি আসতো তখন তিনি আওয়াজ (যথাসম্ভব) ছোট করতেন, হাঁচিকে একটি কাপড়ে নিয়ে নিতেন এবং নিজের সম্পূর্ণ চেহারা মুবারক ঢেকে ফেলতেন।
ফায়দা: হাঁচি আসা আল্লাহ পাকের নিকট একটি পছন্দনীয় জিনিস। মহানবী (সা) নিজ আমলের মাধ্যমে হাঁচি দেওয়ার পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পর্কে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। এখানে সর্বপ্রথম নিয়ম হলো, হাঁচি দেওয়ার সময় আওয়াজ যথাসম্ভব ছোট করবে। প্রচণ্ড আওয়াজে হাঁচি দিবে না। দ্বিতীয় নিয়ম হলো হাঁচির ছিটানো পানির কণাগুলি একটি কাপড়ের উপর নিতে হবে। যাতে এগুলি এদিক সেদিক ছড়িয়ে পরিবেশ খারাপ করতে না পারে। তাছাড়া নিজের মুখমণ্ডল একটি কাপড়ের সাহায্যে এভাবে ঢেকে নিতে হবে যেন তার হাঁচিজনিত চেহারা অন্যজনের চোখে দৃষ্টিকটু না ঠেকে।
৭২১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন পূর্ণ মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন।
৭২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন এক টুকরা কাপড় কিংবা আপন হাতের সাহায্যে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন।
৭২৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন হাঁচি দিতেন তখন হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন এবং নিজের মুখমণ্ডল সামলে রাখতেন।
৭২৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন আপন চেহারা মুবারক ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন।
৭২৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন হাঁচি দিতেন তখন এক টুকরা কাপড়ের সাহায্যে আপন মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলতেন এবং হাতের তালুদ্বয় নিজের ভ্রূদ্বয়ের উপর স্থাপন করতেন।
📄 নবী (সা)-এর ডান হাত ও বাম হাত ব্যবহার করার বর্ণনা
৭২৬. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) তাঁর ডান হাত ব্যবহার করতেন ওযু ও আহার গ্রহণের কাজে। আর বাম হাত ব্যবহার করতেন পেশাব, পায়খানা কিংবা এ ধরনের কোনো ময়লা পরিষ্কার করার কাজে।
ফায়দা: মহানবী (সা)-এর মুবারক নিয়ম ছিলো যে, তিনি প্রতিটি ভাল কাজ এবং পছন্দনীয় আমল সম্পাদনের সময় নিজের ডান হাত ব্যবহার করতেন এবং প্রতিটি ভাল কাজের সূচনা ডান দিক থেকে করাই ছিলো তাঁর নীতি। আহার করা, ওযু করা, মাথার চুল আঁচড়ানো, মসজিদে প্রবেশ করা, জুতা পরিধান করা ইত্যাকার কাজ তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। এর বিপরীতে পেশাব-পায়খানার প্রয়োজনে কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো কাজ যেমন মসজিদ থেকে বের হওয়া, পা থেকে জুতা খোলা ইত্যাদি কাজে তিনি বাম হাত ও বাম পা থেকে শুরু করতেন।