📄 স্ত্রীদের সাথে সহবাসের সময় নবী (সা)-এর পর্দা করা ও চোখ বন্ধ রাখার বর্ণনা
৭০৫. হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, নবী তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের কারো সাথে পর্দা না করে মিলিত হতেন না। এ সময় তিনি তাঁর মাথার ওপরে থেকে একখানা কাপড় লটকিয়ে নিতেন। আর আমি কখনো নবী -এর গোপন অঙ্গ দেখিনি এবং তিনিও কখনো আমার গোপন অঙ্গ দেখেন নি।
📄 নবী (সা) বাসর রাতে তাঁর স্ত্রীদের সালাম দিয়েছেন
৭০৬. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁকে বিয়ে করার পর বাসর রাতে ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়েছিলেন।
📄 নবী (সা)-এর উপহার গ্রহণ করা এবং তার প্রতিদান দেওয়ার বর্ণনা
৭০৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন।
৭০৮. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ হাদিরার প্রতিদান দাতা হিসেবে সর্বাধিক উত্তম মানুষ ছিলেন।
৭০৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী বলেছেন: আমি যদি বকরীর একটি বাহুর জন্যও আমন্ত্রিত হই তাহলেও আমি সাড়া দেবো। আর আমাকে বকরীর পাও যদি হাদিয়া দেয়া হয় তাও আমি গ্রহণ করবো।
৭১০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ নিজের জন্য সাদাকা গ্রহণ করতেন না তবে উপহার গ্রহণ করতেন।
৭১১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমাকে যদি বক্সীর একটি পাও উপহার দেয়া হয় আমি তা গ্রহণ করবো। তিনি মানুষকে পরস্পর উপহার আদান-প্রদানের নির্দেশ দিতেন।
৭১২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেউ যদি নবী -কে যবের রুটির জন্যও দাওয়াত দিতো তিনি দ্বিধাহীনচিত্তে তা গ্রহণ করতেন। এক ইয়াহুদীর কাছে তাঁর একটি বর্ম বন্ধক ছিল।
৭১৩. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে কোন হাদিয়া আসলে হাদিয়াদাতা না খাওয়া পর্যন্ত তিনি তা খেতেন না।
৭১৪. হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁকে এক হাঁড়ি হালুয়া হাদিয়া দেওয়া হয়েছিলো। তিনি প্রত্যেককে এক চামচ করে হালুয়া দিতে থাকলেন।
৭১৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী -কে খেজুর গাছের সর্বপ্রথম ফল উপহার দেওয়া হলে তিনি বরকতের জন্য দু'আ করতেন। অতঃপর তিনি উক্ত ফল শিশুদেরকে বণ্টন করে দিতেন।
৭১৬. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর জন্য প্রথম খেজুর ফল আনা হলে তিনি তাতে বরকতের জন্য দু'আ করতেন।
📄 নবী (সা)-এর রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করার বর্ণনা
৭১৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) রোগীর শুশ্রূষার জন্য তিনদিন পর তশরীফ নিয়ে যেতেন।
ফায়দা: পীড়িত ও রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা মহানবী (সা)-এর বরকতপূর্ণ একটি সুন্নত এবং মানবিক কর্তব্য পালনের সুন্দর একটি আদর্শ। নবী (সা) সকল রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। রোগী মুসলিম কিংবা অমুসলিম কিংবা কোনো ক্রীতদাসই হোক তাঁর কাছে কোনো পার্থক্য ছিল না। অনুরূপ রোগীদের সেবা-শুশ্রূষার কাজে তাঁর নিয়ম ছিল তিনি তৃতীয় দিনে রোগীর সাক্ষাতে যেতেন। এটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি নিয়ম। কেননা তৃতীয় দিনে সাক্ষাত করার দ্বারা একদিকে যেমন রোগীর উপর বারবার যাতায়াত জনিত কষ্ট অনুভূত হয় না, তেমনি অন্যদিকে শুশ্রূষাকারীর জন্যও নিয়মটি বোঝামুক্ত ও সহজ হয়ে থাকে। তা ছাড়া তৃতীয় দিনে রোগের মধ্যেও কিছু না কিছু তফাৎ এসে যায়। বস্তুত নবী (সা)-এর সবকটি নিয়মই ছিল পরম বিজ্ঞতা, উপকারিতা ও ভারসাম্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
৭১৮. মুহাম্মদ ইব্ন নাফি ইব্ন জুবায়র তাঁর পিতা নাফি ইব্ন জুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে হযরত সাঈদ ইব্ন আস (রা)-এর শুশ্রূষা করতে দেখেছি। তখন আমি দেখলাম নবী (সা) টুকরা কাপড়ের সাহায্যে সাঈদ ইব্ন আসকে (শরীরে) গরম সেক দিচ্ছেন।
ফায়দা: রোগীর শুশ্রূষা করার সময় তার সেবা করা, ঔষধপথ্য সেবন করিয়ে দেয়া কিংবা তার কোনো খেদমত করা অত্যন্ত উন্নত একটি আমল। দু'জাহানের বাদশাহ্ মহানবী (সা) এ সকল কাজকর্ম নিজে আমল করার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
৭১৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কৃতদাসের দাওয়াতও গ্রহণ করতেন, গাধার পিঠেও আরোহণ করতেন, পশমের তৈরি কাপড়ও পরিধান করতেন এবং রোগী ও পীড়িতদের শুশ্রূষার জন্য যেতেন।
ফায়দা: এই হাদীসটি মহানবী (সা)-এর পরম বিনয় প্রদর্শন ও নিরহংকার কর্মনীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সাধারণ দাস-দাসীদের দাওয়াতে যেতেন, গাধার পিঠে আরোহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। আমাদের প্রিয় নবী পশমের তৈরি পোশাক পরতেন এবং পীড়িতদের সেবা-যত্নের জন্য সদা সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন।