📄 পানি পানের সময় নবী (সা)-এর শ্বাস গ্রহণের বর্ণনা
৬৬৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি দেখেছেন, রাসূলুল্লাহ্ এক ঢোক পানি পান করে থামলেন এবং 'বিসমিল্লাহ্' বললেন। তারপর এক ঢোক পানি পান করে থামলেন। এভাবে তিনি তিনবার 'বিসমিল্লাহ্' বললেন এবং পানি পান শেষ করলেন। সবশেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।
৬৬৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পাত্রে পানি পান করার সময় নবী দুই অথবা তিনবার শ্বাস নিতেন।
৬৭০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পানি পান করার সময় নবী তিনবার শ্বাস গ্রহণ করতেন।
৬৭১. হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ পাত্রে পানি পান করার সময় তিনবার শ্বাস গ্রহণ করতেন। প্রতিবার শ্বাস গ্রহণ করার সময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং শেষবারে তাঁর শুকরিয়া আদায় করতেন।
৬৭৩. হযরত আনাস ইবন্ মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পানি পান করার সময় নবী তিনবার শ্বাস গ্রহণ করতেন। তিনি (নবী) বলতেন: এটা সবচেয়ে আরামদায়ক, স্বাস্থ্যকর এবং রোগ নিরাময়কারী।
৬৭৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, পানি পানকালে নবী দুইবার শ্বাস গ্রহণ করেছেন।
৬৭৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী তিন নিঃশ্বাসে পান করা ছাড়া পানি পান করতেন না। তিনি এই সময় 'বিসমিল্লাহ্' এবং 'আলহামদুলিল্লাহ্' পড়তেন।
৬৭৭. হযরত ইয়ায়ীদ ইব্ন আসাম্ম (রা) তাঁর খালা (উম্মুল মু'মিনীন) মায়মুনা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী পানির পাত্র নিয়ে মুখে লাগাবার সময় 'বিসমিল্লাহ্' বলতেন এবং শুকরিয়া আদায় করতেন। তিনবার এরূপ করতেন।
📄 অন্যদের পানি পান করানোর সময় নবী (সা) নিজে সবার শেষে পান করতেন
৬৭৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ একবার তাঁর সাহাবাদেরকে কিছু পান করাচ্ছিলেন? সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি পান করুন। তিনি বললেন: কোন দলকে যিনি পান করান তিনি সবশেষে পান করেন।
৬৭৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী নিজে পান করার পরে তাঁর ডানপাশে উপবিষ্ট ব্যক্তিকে দিলেন।
৬৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী দাঁড়িয়ে পান করলেন। তিনি পান করার পর বেদুঈনকে দিয়ে বললেন: প্রথমে ডান দিকের ব্যক্তি এবং পরে তার ডান দিকের ব্যক্তিকে ক্রমান্বয়ে দিতে হবে।
৬৮১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ্-এর জন্য কিছু পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলে তিনি তার কিছুটা পান করলেন। তিনি পান করার পর বেদুঈনকে দিয়ে বললেন: প্রথম হকদার ডান দিকের ব্যক্তি এবং তারপর তার ডান দিকের ব্যক্তি।
৬৮২. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন মা'মার আনসারী (রা) আনাস ইব্ন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এই বাড়িতে আসলেন। নবী ﷺ পান করার পর উমর (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবূ বকরকে দিন। কিন্তু তিনি প্রথমেই মরুবাসী বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেন: প্রথমে ডান দিকের ব্যক্তিদের অধিকার।
📄 নবী (সা)-এর দাঁড়িয়ে ও বসে পানি পান করার বর্ণনা
৬৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ দাঁড়িয়ে ও বসে পান করেছেন, জুতা পরে এবং জুতা খুলে সালাত পড়েছেন এবং সালাত শেষে ডান ও বাঁ (দুই দিক) থেকে উঠে মুসাল্লা হতে ফিরেছেন।
৬৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী দাঁড়িয়ে পান করেছেন।
৬৮৫. আয়েশা বিন্ত সাদ তাঁর পিতা সা'দ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্-কে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছি।
৬৮৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ উম্মে সুলায়মের বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন পানিভর্তি একটি মশক লটকানো আছে। তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই তা থেকে পানি পান করলেন।
📄 নবী (সা)-এর জন্য মিঠা পানি সরবরাহ করার বর্ণনা
৬৮৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'বুয়ুতুস্ সুকইয়া' নামক ঝর্ণা থেকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য মিঠা পানি আনা হতো।
৬৮৮. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ -এর জন্য (মদীনার পার্শ্ববর্তী) 'হাররা'-এর দিক থেকে সুস্বাদু পানি আনা হতো।
৬৮৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, খাবার পানির মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল মিঠা ঠাণ্ডা পানি।
৬৯০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাবার পানির মধ্যে মিঠা ও ঠাণ্ডা পানি ছিলো রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।
৬৯১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর জন্য 'সুকইয়া' নামক স্থান থেকে সুস্বাদু পানি আনা হতো।
৬৯২. হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য পানি ঠাণ্ডা করতো।