📄 নবী (সা) ঘি খেয়েছেন
৬১৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে তাঁর মায়ের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমাদের একটি বক্সী ছিল। তার দুধ থেকে ঘি তৈরি করে আমি একটি পাত্রে জমালাম এবং পাত্রটি ভরে গেল। অতপর আমি 'ঘি'র পাত্রসহ আমার সেবিকাকে পাঠিয়ে বললাম, হে সেবিকা! এই পাত্রটি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর নিকট পৌছিয়ে দাও। তিনি তা তাঁর খাদ্যের সাথে খাবেন। সে ঘিসহ রওনা হয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উম্মে সুলায়ম (রা) এই ঘি আপনার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, ঘির পাত্র খালি করে পাত্রটি তাকে দিয়ে দাও। অতএব পাত্রটি খালি করে তাকে দেওয়া হলো। সে তা নিয়ে চলে এলো। তখন উম্মে সুলায়ম (রা) ঘরে ছিলেন না। সে পাত্রটি একটি কিলকের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। উম্মে সুলায়ম (রা) ফিরে এসে দেখতে পেলেন যে, পাত্রটি ঘি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তিনি বললেন, হে সেবিকা! আমি কি তোমাকে নির্দেশ দেইনি যে, তুমি এটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে দিয়ে আসবে?
৬১৫. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে ঘি, পনির ও গুঁইসাপের গোশত উপহার দেওয়া হলো। তিনি ঘি ও পনির থেকে আহার করলেন। তারপর গুঁইসাপ সম্পর্কে বললেন, এটা এমন জিনিস যা আমি কখনও আহার করিনি। অতএব তা কেউ আহার করতে চাইলে করতে পারো। সুতরাং তাঁর সামনেই তা খাওয়া হলো।
📄 নবী (সা)-এর দুধপান এবং এ সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা
৬১৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: আল্লাহ্ যাকে আহার করান সে যেন বলে, "হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দান করুন এবং এর চেয়ে উত্তম রিযিক দান করুন।" আল্লাহ্ যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এই দুধে বরকত দান করুন এবং এটি আরো বৃদ্ধি করে দিন।" কারণ আমার জানামতে দুধ ব্যতীত এমন কোনো জিনিস নেই যা পানাহার উভয়টির প্রয়োজন একসাথে মিটায়।
৬১৭. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ দুধপান করলেন। এরপর পানি নিয়ে আসতে বললেন, তারপর তা দিয়ে কুলকুচা করলেন। অতঃপর বললেন: দুধে তৈলাক্ততা রয়েছে।
৬১৮. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুধ রাসূলুল্লাহ্-এর সর্বাধিক প্রিয় পানীয় ছিলো।
📄 নবীয (শরবত) পান করা এবং তার পন্থা
৬১৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য এক মশকে ভোরবেলা নবীয তৈরি করতাম, তিনি তা সন্ধ্যাবেলা পান করতেন। আবার সন্ধ্যাবেলা নবীয তৈরি করতাম, তিনি তা ভোরবেলা পান করতেন।
৬২০. হযরত সুমামা ইবন হাযান কুশায়রী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-এর নিকট নবীয সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি একটি হাবশী দাসীকে ডেকে এনে বললেন, এর নিকট জিজ্ঞেস করো। সে বললো, আমি রাতের বেলা একটি মশকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য নবীয তৈরি করতাম এবং মশকের মুখ ঢেকে রাখতাম। ভোর হলে তিনি তা পান করতেন।
📄 নবী (সা)-এর পানকৃত নবীযের বিবরণ
৬২১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ পাথরের নির্মিত একটি পাত্রে নবীয তৈরি করতেন। তিনি তা থেকে তৈরির দিন, তার পরের দিন এবং তার পরের দিন দুপুর পর্যন্ত পান করতেন। এরপর তিনি অবশিষ্ট অংশ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন অথবা (খারাপ না হলে) খাদেমদের তা পান করতে দিতেন।
৬২২. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ-এর জন্য নবীয তৈরি করা হতো—হাদীসের বাকি অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
৬২৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সকাল বেলা একটি মশকে রাসূলুল্লাহ্-এর জন্য নবীয বানাতাম, তিনি তা রাতের আহারের পর পান করতেন। যদি কিছু অবশিষ্ট থাকতো আমি ফেলে দিতাম। তারপর পাত্রটি ধুয়ে আবার তাতে নবীয বানাতাম। ভোরবেলা তিনি নাস্তার পরে তা পান করতেন। কিছু অবশিষ্ট থাকলে আমি তা ফেলে দিতাম।
৬২৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর নবীযের মধ্যে এক মুষ্টি কিশমিশ ঢেলে দিতাম, যাতে তার অম্লস্বাদ কিছুটা কমে যায়।
৬২৫. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্-এর জন্য আজ, আগামী কাল ও আগামী পরশুর জন্য একটি পাত্রে নবীয বানানো হতো। (তৃতীয় দিন) সন্ধ্যা হয়ে গেলে তিনি নির্দেশ দিলে ফেলে দেওয়া হতো অথবা পান করা হতো।
৬২৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য সন্ধ্যাবেলা নবীয বানানো হতো এবং তা এক দিন-রাত রাখা হতো। অতপর সন্ধ্যাবেলা তা খাদেমগণ পান করতো অথবা (খারাপ হয়ে গেলে) ফেলে দিতো।
৬২৭. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর জন্য নবীয তৈরি করা হতো। তা তিনি ওই দিন ও ওই রাত, পরের দিন ও রাত এবং তৃতীয় দিন পর্যন্ত পান করতেন।