📄 নবী (সা)-এর খেজুর ভক্ষণ এবং তার আঁটি নিক্ষেপণ
৬১০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুস্ত্র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের বাড়ি এলেন। আমার পিতা তাঁর খেদমতে খেজুর ও ছাতু পেশ করলেন। তিনি খেজুর খেতে থাকলেন এবং আঁটিগুলো তাঁর তর্জনি ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয়ের পিঠের উপর রেখে নিক্ষেপ করলেন।
৬১১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী ﷺ-এর সংগে ছিলাম। তিনি আমাদের দিকে আজওয়া খেজুর নিক্ষেপ করেন এবং আমরা তখন অভুক্ত ছিলাম। তিনি যখন দুই দু'টি খেজুর একত্রে খেতেন তখন আমাদেরও বলে দিতেন দেখো! আমি দু'টো করে খেজুর একত্রে খেয়েছি, তোমরাও দু'টো করে খাও।
📄 নবী (সা) ঘি খেয়েছেন
৬১৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে তাঁর মায়ের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমাদের একটি বক্সী ছিল। তার দুধ থেকে ঘি তৈরি করে আমি একটি পাত্রে জমালাম এবং পাত্রটি ভরে গেল। অতপর আমি 'ঘি'র পাত্রসহ আমার সেবিকাকে পাঠিয়ে বললাম, হে সেবিকা! এই পাত্রটি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর নিকট পৌছিয়ে দাও। তিনি তা তাঁর খাদ্যের সাথে খাবেন। সে ঘিসহ রওনা হয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উম্মে সুলায়ম (রা) এই ঘি আপনার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, ঘির পাত্র খালি করে পাত্রটি তাকে দিয়ে দাও। অতএব পাত্রটি খালি করে তাকে দেওয়া হলো। সে তা নিয়ে চলে এলো। তখন উম্মে সুলায়ম (রা) ঘরে ছিলেন না। সে পাত্রটি একটি কিলকের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। উম্মে সুলায়ম (রা) ফিরে এসে দেখতে পেলেন যে, পাত্রটি ঘি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তিনি বললেন, হে সেবিকা! আমি কি তোমাকে নির্দেশ দেইনি যে, তুমি এটা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে দিয়ে আসবে?
৬১৫. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে ঘি, পনির ও গুঁইসাপের গোশত উপহার দেওয়া হলো। তিনি ঘি ও পনির থেকে আহার করলেন। তারপর গুঁইসাপ সম্পর্কে বললেন, এটা এমন জিনিস যা আমি কখনও আহার করিনি। অতএব তা কেউ আহার করতে চাইলে করতে পারো। সুতরাং তাঁর সামনেই তা খাওয়া হলো।
📄 নবী (সা)-এর দুধপান এবং এ সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা
৬১৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: আল্লাহ্ যাকে আহার করান সে যেন বলে, "হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দান করুন এবং এর চেয়ে উত্তম রিযিক দান করুন।" আল্লাহ্ যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে, “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এই দুধে বরকত দান করুন এবং এটি আরো বৃদ্ধি করে দিন।" কারণ আমার জানামতে দুধ ব্যতীত এমন কোনো জিনিস নেই যা পানাহার উভয়টির প্রয়োজন একসাথে মিটায়।
৬১৭. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ দুধপান করলেন। এরপর পানি নিয়ে আসতে বললেন, তারপর তা দিয়ে কুলকুচা করলেন। অতঃপর বললেন: দুধে তৈলাক্ততা রয়েছে।
৬১৮. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুধ রাসূলুল্লাহ্-এর সর্বাধিক প্রিয় পানীয় ছিলো।
📄 নবীয (শরবত) পান করা এবং তার পন্থা
৬১৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য এক মশকে ভোরবেলা নবীয তৈরি করতাম, তিনি তা সন্ধ্যাবেলা পান করতেন। আবার সন্ধ্যাবেলা নবীয তৈরি করতাম, তিনি তা ভোরবেলা পান করতেন।
৬২০. হযরত সুমামা ইবন হাযান কুশায়রী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-এর নিকট নবীয সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি একটি হাবশী দাসীকে ডেকে এনে বললেন, এর নিকট জিজ্ঞেস করো। সে বললো, আমি রাতের বেলা একটি মশকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য নবীয তৈরি করতাম এবং মশকের মুখ ঢেকে রাখতাম। ভোর হলে তিনি তা পান করতেন।