📄 নবী (সা)-এর ঘুমের সময়কার আমল
৪৯০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতেন তখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের দুই হাতের তালুতে দম ফেলতেন, তারপর দুই হাত গোটা দেহে মুছতেন এবং উক্ত সূরা দু'টি পড়তে থাকতেন।
৪৯১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ আলী (রা)-এর সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলেন, হে আলী! শোয়ার সময় তুমি কী পড়ো? আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যা পড়েন আমিও তাই পড়ি। তিনি পুনরায় বলেন, সেই দু'আটি কী? আলী (রা) বলেন, আমি বলি: “হে আল্লাহ্! তুমি স্রষ্টা, তুমি চিরস্থায়ী, তুমি অমনোযোগী নও, তুমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছো। তোমার কোন শরীক নেই, কোনরূপ শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীতই তুমি প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে জ্ঞাত; আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ব্যতীত গুনাহ্ মাফকারী আর কেউ নেই।"
৪৯২. হযরত বারা'আ ইব্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ্! তোমার নাম নিয়েই জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।” ভোরে ঘুম থেকে জেগে অথবা বিছানা ত্যাগকালে তিনি বলতেন : "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৩. হযরত বারাআ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর সময় তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রেখে বালিশ হিসাবে ব্যবহার করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যে দিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সে দিন তোমার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো"।
৪৯৪. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন বিছানাগত হতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।" তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন: "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৫. হযরত বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় তাশরীফ আনতেন তখন তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: 'হে প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় যেতেন তখন তাঁর ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের একত্র করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৭. আবু যুহায়র আল-আনমারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানাগত হয়ে বলতেনঃ "হে আল্লাহ্! আমার গুনাহ্ মাফ করে দাও, আমার শয়তানকে অপমানিত করো, আমার বন্ধক ছাড়িয়ে দাও, আমার আমলের পাল্লা ভারি করে দাও এবং আমাকে উচ্চতর জগতের সম্মানিতদের দলভুক্ত করো।
৪৯৮. হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বিছানাগত হওয়াকালে এই দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার সম্মানিত সত্তার এবং তোমার পূর্ণাঙ্গ বাক্যের আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রতিটি জিনিসের ক্ষতি থেকে যা তোমার আয়ত্তাধীন রয়েছে। হে আল্লাহ্! ঋণের দায় থেকে উদ্ধারকারী তুমিই, গুনাহ্ থেকে রক্ষাকারীও তুমি। হে আল্লাহ্! তোমার সৈন্যবাহিনীকে কখনও পরাস্ত করা সম্ভব নয়, তোমার প্রতিশ্রুতির কখনও বিপরীত হতে পারে না।"
৪৯৯. খারিজা ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইব্ন্ন সাবিত (রা) বলেন, ঘুমানোর উদ্দেশ্যে শোয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ এ দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছি তার অভিশাপ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। প্রভু! তুমি যদি আমার প্রাণ হরণ করো তবে আমাকে ক্ষমা করে দিও, তার প্রতি অনুগ্রহ করো। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিও এবং তার অপরাধ গোপন রাখিও।"
📄 ঘুমানোর পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চোখে সুরমা লাগানোর বর্ণনা
৫০০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট 'ইসমিদ' নামক সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা প্রত্যেক চোখে তিনবার করে লাগাতেন।
৫০১. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা থেকে প্রত্যেক চোখে তিনবার করে সুরমা লাগাতেন।
৫০২. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর সময় তা থেকে তিনবার করে প্রত্যেক চোখে সুরমা লাগাতেন।
৫০৩. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ প্রত্যেক চোখে দুইবার করে সুরমা লাগাতেন, তারপর পরবর্তী কাঠি উভয় চোখে একবার লাগাতেন।
৫০৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট কালো সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর জন্য বিছানায় গিয়ে এই চোখে তিনবার এবং ওই চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
৫০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার 'ইস্মিদ' নামক সুরমা লাগাতেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আয়না দেখা, চুলে চিরুনি করা এবং মাথায় তৈল মাখার বর্ণনা
৫০৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আয়নায় দর্শনকালে বলতেন: হে আল্লাহ্! আমার দৈহিক গঠন যেমন সুন্দর করেছো তেমনি আমার চরিত্রকে সুন্দর করো।
৫০৭. হযরত কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাতের বেলা ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গিয়ে তাঁর ওযুর পানি, মিস্তয়াক ও চিরুনি এক পাশে রেখে দিতেন। তারপর মহান আল্লাহ্ যখন তাঁকে রাতের বেলা ঘুম থেকে জাগাতেন তখন তিনি মিস্তয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং মাথায় চিরুনি করতেন।
৫০৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গেলে তাঁর জন্য তাঁর মিস্তয়াক, ওযুর পানি ও চিরুনি এক পাশে রেখে দেওয়া হতো। তারপর মহান আল্লাহ্ যখন রাতের বেলা তাঁকে ঘুম থেকে জাগাতেন তখন তিনি মিস্ওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াতেন।
৫০৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন কোন যুদ্ধে যেতেন আমি তাঁর সফরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে দিতাম। আমি তাঁর সাথে যেসব জিনিস দিতাম তার অন্তর্ভুক্ত থাকত তেল, চিরুনি, আয়না, কাঁচি, সুরমাদানি ও মিসওয়াক।
৫১০. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আয়না দেখার সময় বলতেনঃ "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার দেহসৌষ্ঠব ও উত্তম চরিত্র দান করেছেন এবং আমাকে সেই সৌন্দর্য দান করেছেন যা ত্রুটিপূর্ণ দেহের লোকদের দান করা হয়নি।"
৫১১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন আয়নার উপর দৃষ্টিপাত করতেন তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমায় পরিপূর্ণভাবে সৃষ্টি করেছেন, আমার মুখমণ্ডলকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং আমাদের মুসলিম বানিয়েছেন।"
৫১২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ইহ্রাম অবস্থায় আয়নায় দর্শন করতেন।
৫১৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর মাথায় পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মাখতেন।
৫১৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী মাথার চুল ও দাড়ি পানি দ্বারা বারবার পরিপাটি করতেন। অতপর তিনি মাথার এক টুকরা কাপড় জড়াতেন। তা একেবারে তেল চিটচিটে হয়ে যেত।
৫১৫. হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর মাথার সামনের এবং দাড়ির সামনের দিকের কয়েকটি চুল সাদা হয়ে গিয়েছিলো। তিনি মাথার সামনের দিকের চুলে চিরুনি করলে এবং তেল লাগালে উক্ত চুল আর দৃষ্টিগোচর হতো না।
৫১৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ মাথায় তেল ব্যবহার ও চিরুনি করার পর মদীনায় রওয়ানা হয়ে যান।
৫১৭. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীকে ঘ্রাণহীন তেল মাখতে দেখেছি।
৫১৮. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বরই পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা মাথা ধৌত করতেন এবং তাতে ঘ্রাণ যুক্ত তেল মাখতেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) রাতে, ঘুমের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এবং বিছানা ত্যাগের সময় যে আমল করতেন
৫১৯. নবী -এর একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সফরে নবী -এর সাথে সাক্ষাত করলাম। এরপর নবী এশার সালাত পড়ে শুয়ে পড়লেন। রাতের কিছু অংশ নিদ্রা যাওয়ার পর তিনি ঘুম থেকে জাগলেন এবং আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত করে সূরা আল ইমরানের ১৯২-১৯৪ আয়াত পাঠ করলেন। সাহাবী বলেন, অতপর রাসূলুল্লাহ্ তাঁর হাত মুবারক তাঁর থলের দিকে বাড়ালেন এবং তা থেকে মিস্তয়াক বের করলেন, অতপর ওযু করলেন, তারপর দাঁড়ালেন এবং সালাত পড়লেন। তিনি কিছুক্ষণ নামায পড়লেন, অতপর সালাম ফিরালেন তারপর শুয়ে পড়লেন। তিনি পুনরায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে প্রথমবারের মত আমল করলেন। তিনি তিনবার এইরূপ আমল করছিলেন।
৫২০. হুমায়দ ইব্ন আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (র) থেকে বর্ণিত যে, একজন সাহাবী বললেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং আকাশ পানে তাকিয়ে সূরা আল ইমরানের ১৯২-১৯৪ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর তিনি মিসওয়াক নিলেন এবং ওযু করলেন, এরপর দাঁড়ালেন এবং সালাত পড়লেন। তারপর শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে গেলেন। আবার তিনি পূর্বের ন্যায় আমল করলেন।
৫২১. জাসারা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ যার (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, একবার নবী রাতের সালাতে কুরআনের একটি আয়াত পড়তে পড়তে ভোরে উপনীত হলেন। আয়তটি হলো: "(হে আল্লাহ্!) আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা আপনারই বান্দা; আর যদি ক্ষমা করেন তবে আপনি তো সর্বজয়ী ও সর্বজ্ঞ" (সূরা মাইদাঃ ১১৮)।
৫২২. হযরত আবূ যার গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একরাতে নবী -এর সাথে সালাত পড়েছি। তিনি সালাতে দাঁড়ালে আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তাঁর দীর্ঘ সালাতের কারণে আমি আমার মাথা দেওয়ালের সাথে ঠুকতে লাগলাম।
৫২৩. আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রা) বলেন, এক রাতে নবী বললেন, হে আয়েশা! আমাকে অনুমতি দাও, আমি আমার প্রভুর ইবাদত করি। অতপর তিনি উঠে ওযু করলেন, অতপর দাঁড়িয়ে কুরআন পড়লেন। তিনি অঝোরে কাঁদলেন। আয়েশা (রা) বলেন, অতপর বিলাল (রা) এসে তাঁকে ফজরের সালাত পড়ার কথা বললেন। নবী বললেন, আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? আজ রাতে আমার উপর সূরা আল ইমরানের ১৯০-১৯১ আয়াত নাযিল হয়েছে। ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে এই আয়াত তিলাওয়াত করে অথচ তার সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে না।
৫২৪. কুরায়ব (র) ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হলে রাসূলুল্লাহ্ জাগ্রত হলেন। তিনি মুখমণ্ডলে হাত মলে ঘুমের রেশ দূর করলেন, তারপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর ওযু করে সালাত পড়তে দাঁড়ালেন। তিনি দুই রাকআত দুই রাকআত করে সালাত পড়লেন, তারপর বেতের পড়লেন, এরপর শুয়ে পড়লেন। যখন মুয়াযযিন এলো তিনি উঠে সংক্ষেপে দুই রাকআত ফজরের সুন্নত সালাত পড়লেন।
৫২৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাতেন এবং শেষভাগে ইবাদত-বন্দেগী করতেন।
৫২৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী বলেন : আমার নিকট সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হলো রাতের বেলা দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করা।
৫২৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ কখনও গোটা রাত ধরে কুরআন পড়লে কেবল সূরা বাকারা, আলে ইমরান ও নিসা পর্যন্তই পড়তে পারতেন এবং সুসংবাদ সম্বলিত আয়াত আসলে সেখানে থেমে দু'আ করতেন।
৫২৮. আয়েশা (রা) বলেন, নবী উঠে দাঁত মাজতেন এবং ওযু করতেন। তারপর দাঁড়িয়ে নয় রাকআত, তারপর দুই রাকআত সালাত পড়তেন। রোগাক্রান্ত হওয়ার ফলে যখন তিনি রাতের বেলা সালাত পড়তে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন, তখন দিনের বেলা বার রাকআত সালাত পড়ে নিতেন।
৫২৯. হযরত আবূ সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতে নফল সালাত পড়তে দাঁড়ালে প্রথমে এই দু'আ পাঠ করতেন: “হে আল্লাহ্! জিব্রাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের প্রভু... যে সত্যকে নিয়ে তারা মতভেদ করছে আমাকে তুমি সেই সত্যের দিকে পথ দেখাও।"
৫৩০. হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী তাহাজ্জুদের সালাতে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করলেন। তিনি রুকু ও সিজদাও দীর্ঘায়িত করতেন। এভাবে তিনি চার রাকআত সালাত পড়লেন এবং তাতে সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান, সূরা নিসা ও সূরা মায়িদা তিলাওয়াত করলেন।
৫৩১. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা তাঁর জায়নামায থেকে আকাশ পানে তাকাতেন এবং কুরআনের আয়াত পাঠ করতেন: "আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে..." শেষ পর্যন্ত।
৫৩২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ঘুম থেকে জেগে বিছানার উপর বসলেন। তারপর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে তিনবার বললেন, “সুবহানাল মালিকিল কু'দূস"। এরপর সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতগুলো পড়লেন। সালাত শেষে তিনি নূরের জন্য দু'আ করতেন।