📄 নবী (সা)-এর মাদুরের বর্ণনা
৪৮৩. হযরত আনাস ইব্ন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্ন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী-এর জন্য একটি মাদুরের অংশবিশেষ পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হলে তিনি দুই রাকআত সালাত আদায় করেন।
৪৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী মাদুরের উপর সালাত আদায় করেছেন।
৪৮৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ উম্মে সুলায়ম (রা)-এর বাড়িতে যেতেন। তাঁর জন্য চাটাই বিছিয়ে দেওয়া হতো এবং তিনি তাতে সালাত পড়তেন।
৪৮৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট একটি চাটাই ছিলো। দিনের বেলা তা বসার জন্য বিছাতাম এবং রাতের বেলা তা দাঁড় করিয়ে নিজেদের জন্য কোঠার মত বানিয়ে নিতাম।
৪৮৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা একটি চাটাই ভাঁজ করে তাতে সালাত পড়তেন। দিনের বেলা আমরা তা খুলে ফেলতাম এবং (আগন্তুক) লোকেরা তাতে বসতো।
৪৮৮. হযরত মুগীরা ইব্ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী চাটাই এবং পশমযুক্ত পাকা চামড়ার উপর (বাড়িতে) সালাত পড়তেন।
৪৮৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ একটি মাদুরের উপর ঘুমালেন। মাদুরের দাগ তাঁর দেহে বসে গেলো। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাদের অনুমতি দিবেন না যে, আমরা আপনার জন্য নরম বিছানা পেতে দেই? তিনি বলেন, আমারও এই পৃথিবীর (বিলাস ব্যসনের) সাথে কি সম্পর্ক আছে? আমার ও পৃথিবীর দৃষ্টান্ত তো একজন পথিকের মতো, যে গ্রীষ্মের মৌসুমে সফর করছে এবং দুপুরের সময় একটি ছায়াদার গাছের নিচে কিছুক্ষণ আরাম করছে তারপর সেই ছায়াদার বৃক্ষ ত্যাগ করে পুনরায় গন্তব্যের পানে এগিয়ে যাচ্ছে।
📄 নবী (সা)-এর ঘুমের সময়কার আমল
৪৯০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতেন তখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের দুই হাতের তালুতে দম ফেলতেন, তারপর দুই হাত গোটা দেহে মুছতেন এবং উক্ত সূরা দু'টি পড়তে থাকতেন।
৪৯১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ আলী (রা)-এর সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলেন, হে আলী! শোয়ার সময় তুমি কী পড়ো? আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যা পড়েন আমিও তাই পড়ি। তিনি পুনরায় বলেন, সেই দু'আটি কী? আলী (রা) বলেন, আমি বলি: “হে আল্লাহ্! তুমি স্রষ্টা, তুমি চিরস্থায়ী, তুমি অমনোযোগী নও, তুমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছো। তোমার কোন শরীক নেই, কোনরূপ শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীতই তুমি প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে জ্ঞাত; আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ব্যতীত গুনাহ্ মাফকারী আর কেউ নেই।"
৪৯২. হযরত বারা'আ ইব্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ্! তোমার নাম নিয়েই জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।” ভোরে ঘুম থেকে জেগে অথবা বিছানা ত্যাগকালে তিনি বলতেন : "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৩. হযরত বারাআ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর সময় তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রেখে বালিশ হিসাবে ব্যবহার করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যে দিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সে দিন তোমার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো"।
৪৯৪. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন বিছানাগত হতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।" তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন: "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৫. হযরত বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় তাশরীফ আনতেন তখন তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: 'হে প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় যেতেন তখন তাঁর ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের একত্র করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৭. আবু যুহায়র আল-আনমারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানাগত হয়ে বলতেনঃ "হে আল্লাহ্! আমার গুনাহ্ মাফ করে দাও, আমার শয়তানকে অপমানিত করো, আমার বন্ধক ছাড়িয়ে দাও, আমার আমলের পাল্লা ভারি করে দাও এবং আমাকে উচ্চতর জগতের সম্মানিতদের দলভুক্ত করো।
৪৯৮. হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বিছানাগত হওয়াকালে এই দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার সম্মানিত সত্তার এবং তোমার পূর্ণাঙ্গ বাক্যের আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রতিটি জিনিসের ক্ষতি থেকে যা তোমার আয়ত্তাধীন রয়েছে। হে আল্লাহ্! ঋণের দায় থেকে উদ্ধারকারী তুমিই, গুনাহ্ থেকে রক্ষাকারীও তুমি। হে আল্লাহ্! তোমার সৈন্যবাহিনীকে কখনও পরাস্ত করা সম্ভব নয়, তোমার প্রতিশ্রুতির কখনও বিপরীত হতে পারে না।"
৪৯৯. খারিজা ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইব্ন্ন সাবিত (রা) বলেন, ঘুমানোর উদ্দেশ্যে শোয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ এ দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছি তার অভিশাপ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। প্রভু! তুমি যদি আমার প্রাণ হরণ করো তবে আমাকে ক্ষমা করে দিও, তার প্রতি অনুগ্রহ করো। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিও এবং তার অপরাধ গোপন রাখিও।"
📄 ঘুমানোর পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চোখে সুরমা লাগানোর বর্ণনা
৫০০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট 'ইসমিদ' নামক সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা প্রত্যেক চোখে তিনবার করে লাগাতেন।
৫০১. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা থেকে প্রত্যেক চোখে তিনবার করে সুরমা লাগাতেন।
৫০২. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর সময় তা থেকে তিনবার করে প্রত্যেক চোখে সুরমা লাগাতেন।
৫০৩. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ প্রত্যেক চোখে দুইবার করে সুরমা লাগাতেন, তারপর পরবর্তী কাঠি উভয় চোখে একবার লাগাতেন।
৫০৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট কালো সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর জন্য বিছানায় গিয়ে এই চোখে তিনবার এবং ওই চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
৫০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার 'ইস্মিদ' নামক সুরমা লাগাতেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আয়না দেখা, চুলে চিরুনি করা এবং মাথায় তৈল মাখার বর্ণনা
৫০৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আয়নায় দর্শনকালে বলতেন: হে আল্লাহ্! আমার দৈহিক গঠন যেমন সুন্দর করেছো তেমনি আমার চরিত্রকে সুন্দর করো।
৫০৭. হযরত কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাতের বেলা ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গিয়ে তাঁর ওযুর পানি, মিস্তয়াক ও চিরুনি এক পাশে রেখে দিতেন। তারপর মহান আল্লাহ্ যখন তাঁকে রাতের বেলা ঘুম থেকে জাগাতেন তখন তিনি মিস্তয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং মাথায় চিরুনি করতেন।
৫০৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় গেলে তাঁর জন্য তাঁর মিস্তয়াক, ওযুর পানি ও চিরুনি এক পাশে রেখে দেওয়া হতো। তারপর মহান আল্লাহ্ যখন রাতের বেলা তাঁকে ঘুম থেকে জাগাতেন তখন তিনি মিস্ওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াতেন।
৫০৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন কোন যুদ্ধে যেতেন আমি তাঁর সফরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে দিতাম। আমি তাঁর সাথে যেসব জিনিস দিতাম তার অন্তর্ভুক্ত থাকত তেল, চিরুনি, আয়না, কাঁচি, সুরমাদানি ও মিসওয়াক।
৫১০. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আয়না দেখার সময় বলতেনঃ "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার দেহসৌষ্ঠব ও উত্তম চরিত্র দান করেছেন এবং আমাকে সেই সৌন্দর্য দান করেছেন যা ত্রুটিপূর্ণ দেহের লোকদের দান করা হয়নি।"
৫১১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন আয়নার উপর দৃষ্টিপাত করতেন তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমায় পরিপূর্ণভাবে সৃষ্টি করেছেন, আমার মুখমণ্ডলকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন এবং আমাদের মুসলিম বানিয়েছেন।"
৫১২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ইহ্রাম অবস্থায় আয়নায় দর্শন করতেন।
৫১৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর মাথায় পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মাখতেন।
৫১৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী মাথার চুল ও দাড়ি পানি দ্বারা বারবার পরিপাটি করতেন। অতপর তিনি মাথার এক টুকরা কাপড় জড়াতেন। তা একেবারে তেল চিটচিটে হয়ে যেত।
৫১৫. হযরত জাবির ইবন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর মাথার সামনের এবং দাড়ির সামনের দিকের কয়েকটি চুল সাদা হয়ে গিয়েছিলো। তিনি মাথার সামনের দিকের চুলে চিরুনি করলে এবং তেল লাগালে উক্ত চুল আর দৃষ্টিগোচর হতো না।
৫১৬. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ মাথায় তেল ব্যবহার ও চিরুনি করার পর মদীনায় রওয়ানা হয়ে যান।
৫১৭. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীকে ঘ্রাণহীন তেল মাখতে দেখেছি।
৫১৮. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বরই পাতা মিশ্রিত পানি দ্বারা মাথা ধৌত করতেন এবং তাতে ঘ্রাণ যুক্ত তেল মাখতেন।