📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর খাটের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর খাটের বর্ণনা


৪৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং উমর ইবন খাত্তাব (রা)ও তাঁর নিকট হাযির ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তখন রশির তৈরি খাটের উপর শায়িত ছিলেন এবং খাটের বুননও তাঁর দেহের মধ্যখানে কিছু ছিলো না। তাঁর দেহ মোবারক ছিলো অত্যন্ত কোমল। তিনি পার্শ্ববদল করলে তাঁর চামড়ায় বা পার্শ্বদেশে রশির বুননের দাগ পরিলক্ষিত হলো। এই অবস্থা দেখে উমর (রা) কেঁদে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি কেবল এ জন্য কাঁদছি যে, আমি জানি, আপনি মহান আল্লাহ্র নিকট (রোম সম্রাট) কায়সার ও (পারস্য সম্রাট) কিস্সার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানিত। এই দুইজন বাদশাহ এই পার্থিব জগতে পর্যাপ্ত ভোগ-বিলাসের জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহ্র রাসূল, অথচ আমি আপনাকে এই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। নবী বললেনঃ হে উমর! তুমি কি একথা শুনে সন্তুষ্ট হবে যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাতের জীবন এবং তাদের (দুনিয়াদারদের) জন্য রয়েছে পার্থিব জীবন! তিনি বলেন, হ্যাঁ। নবী বলেন, ব্যাপারটি হলো এই।
৪৮১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি খেজুর পাতার দ্বারা তৈরি রশি দ্বারা বানানো একটি খাটের উপর আরাম করছিলেন।
৪৮২. মুহাম্মদ ইব্‌ন মুহাজির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর কিছু পরিত্যক্ত মালপত্র উমর ইব্‌ন আবদুল আযীয (র)-এর নিকট একটি ঘরে রক্ষিত ছিলো। তিনি প্রত্যহ তা দর্শন করতেন। রাবী বলেন, কুরাইশগণ কখনো তাঁর নিকট সমবেত হলে তিনি তাদেরকে সেই ঘরে প্রবেশ করাতেন এবং ওই মালপত্র তাদের পরিদর্শন করাতেন এবং বলতেন, যে মহান ব্যক্তিত্বের বদৌলতে আল্লাহ্ পাক তোমাদের সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছেন তাঁর সমস্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি হলো এই। রাবী বলেন, তাঁর বরকতময় জিনিসের মধ্যে ছিলো দড়ি দ্বারা বানানো একটি খাটিয়া, খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার ক্ষুদ্র বালিশ, একটি বড় পেয়ালা, একটি ছোট পেয়ালা, সিরিয়ার জারমাকানীগণ কর্তৃক তৈরি উলের একটি চাদর, একটি চাকতি এবং কয়েকটি তীর ভর্তি একটি তৃণীর। তাঁর উলের চাদরে তাঁর মাথার ময়লা সদৃশ কিছু লেগে ছিলো।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মাদুরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মাদুরের বর্ণনা


৪৮৩. হযরত আনাস ইব্‌ন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌ন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী-এর জন্য একটি মাদুরের অংশবিশেষ পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হলে তিনি দুই রাকআত সালাত আদায় করেন।
৪৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী মাদুরের উপর সালাত আদায় করেছেন।
৪৮৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ উম্মে সুলায়ম (রা)-এর বাড়িতে যেতেন। তাঁর জন্য চাটাই বিছিয়ে দেওয়া হতো এবং তিনি তাতে সালাত পড়তেন।
৪৮৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট একটি চাটাই ছিলো। দিনের বেলা তা বসার জন্য বিছাতাম এবং রাতের বেলা তা দাঁড় করিয়ে নিজেদের জন্য কোঠার মত বানিয়ে নিতাম।
৪৮৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা একটি চাটাই ভাঁজ করে তাতে সালাত পড়তেন। দিনের বেলা আমরা তা খুলে ফেলতাম এবং (আগন্তুক) লোকেরা তাতে বসতো।
৪৮৮. হযরত মুগীরা ইব্‌ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী চাটাই এবং পশমযুক্ত পাকা চামড়ার উপর (বাড়িতে) সালাত পড়তেন।
৪৮৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ একটি মাদুরের উপর ঘুমালেন। মাদুরের দাগ তাঁর দেহে বসে গেলো। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাদের অনুমতি দিবেন না যে, আমরা আপনার জন্য নরম বিছানা পেতে দেই? তিনি বলেন, আমারও এই পৃথিবীর (বিলাস ব্যসনের) সাথে কি সম্পর্ক আছে? আমার ও পৃথিবীর দৃষ্টান্ত তো একজন পথিকের মতো, যে গ্রীষ্মের মৌসুমে সফর করছে এবং দুপুরের সময় একটি ছায়াদার গাছের নিচে কিছুক্ষণ আরাম করছে তারপর সেই ছায়াদার বৃক্ষ ত্যাগ করে পুনরায় গন্তব্যের পানে এগিয়ে যাচ্ছে।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর ঘুমের সময়কার আমল

📄 নবী (সা)-এর ঘুমের সময়কার আমল


৪৯০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতেন তখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের দুই হাতের তালুতে দম ফেলতেন, তারপর দুই হাত গোটা দেহে মুছতেন এবং উক্ত সূরা দু'টি পড়তে থাকতেন।
৪৯১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ আলী (রা)-এর সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলেন, হে আলী! শোয়ার সময় তুমি কী পড়ো? আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যা পড়েন আমিও তাই পড়ি। তিনি পুনরায় বলেন, সেই দু'আটি কী? আলী (রা) বলেন, আমি বলি: “হে আল্লাহ্! তুমি স্রষ্টা, তুমি চিরস্থায়ী, তুমি অমনোযোগী নও, তুমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছো। তোমার কোন শরীক নেই, কোনরূপ শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীতই তুমি প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে জ্ঞাত; আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ব্যতীত গুনাহ্ মাফকারী আর কেউ নেই।"
৪৯২. হযরত বারা'আ ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ্! তোমার নাম নিয়েই জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।” ভোরে ঘুম থেকে জেগে অথবা বিছানা ত্যাগকালে তিনি বলতেন : "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৩. হযরত বারাআ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর সময় তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রেখে বালিশ হিসাবে ব্যবহার করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যে দিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সে দিন তোমার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো"।
৪৯৪. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন বিছানাগত হতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে জীবন লাভ করি এবং মৃত্যুবরণ করি।" তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন: "সেই আল্লাহ্ তা'আলার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।"
৪৯৫. হযরত বারাআ ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় তাশরীফ আনতেন তখন তাঁর হাত তাঁর গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: 'হে প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় যেতেন তখন তাঁর ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ্! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের একত্র করবে সেদিনের আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো।"
৪৯৭. আবু যুহায়র আল-আনমারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানাগত হয়ে বলতেনঃ "হে আল্লাহ্! আমার গুনাহ্ মাফ করে দাও, আমার শয়তানকে অপমানিত করো, আমার বন্ধক ছাড়িয়ে দাও, আমার আমলের পাল্লা ভারি করে দাও এবং আমাকে উচ্চতর জগতের সম্মানিতদের দলভুক্ত করো।
৪৯৮. হযরত আলী (রা) রাসূলুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বিছানাগত হওয়াকালে এই দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি তোমার সম্মানিত সত্তার এবং তোমার পূর্ণাঙ্গ বাক্যের আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রতিটি জিনিসের ক্ষতি থেকে যা তোমার আয়ত্তাধীন রয়েছে। হে আল্লাহ্! ঋণের দায় থেকে উদ্ধারকারী তুমিই, গুনাহ্ থেকে রক্ষাকারীও তুমি। হে আল্লাহ্! তোমার সৈন্যবাহিনীকে কখনও পরাস্ত করা সম্ভব নয়, তোমার প্রতিশ্রুতির কখনও বিপরীত হতে পারে না।"
৪৯৯. খারিজা ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইব্‌ন্ন সাবিত (রা) বলেন, ঘুমানোর উদ্দেশ্যে শোয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ এ দু'আ পড়তেন : "হে আল্লাহ্! আমি যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছি তার অভিশাপ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। প্রভু! তুমি যদি আমার প্রাণ হরণ করো তবে আমাকে ক্ষমা করে দিও, তার প্রতি অনুগ্রহ করো। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করিও এবং তার অপরাধ গোপন রাখিও।"

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 ঘুমানোর পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চোখে সুরমা লাগানোর বর্ণনা

📄 ঘুমানোর পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর চোখে সুরমা লাগানোর বর্ণনা


৫০০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট 'ইসমিদ' নামক সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা প্রত্যেক চোখে তিনবার করে লাগাতেন।
৫০১. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর পূর্বে তা থেকে প্রত্যেক চোখে তিনবার করে সুরমা লাগাতেন।
৫০২. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর একটি সুরমাদানি ছিলো। তিনি ঘুমানোর সময় তা থেকে তিনবার করে প্রত্যেক চোখে সুরমা লাগাতেন।
৫০৩. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ প্রত্যেক চোখে দুইবার করে সুরমা লাগাতেন, তারপর পরবর্তী কাঠি উভয় চোখে একবার লাগাতেন।
৫০৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট কালো সুরমা ছিলো। তিনি ঘুমানোর জন্য বিছানায় গিয়ে এই চোখে তিনবার এবং ওই চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
৫০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার 'ইস্মিদ' নামক সুরমা লাগাতেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px