📄 নবী (সা)-এর মখমলের চাদরের বর্ণনা
৪৭৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -কে দাফনকালে তাঁর ও কবরের মাঝখানে বালাবাক্কা এলাকা তৈরি একটি সাদা মখমলের চাদর রাখা হয়।
৪৭৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ এমন একটি পুরাতন ও জীর্ণশীর্ণ জিনের উপর হজ্জের সফর করেন যাতে বিছানো চাদরের মূল্য চার দিরহামও ছিলো না।
৪৭৬. হযরত যায়নাব (রা) তাঁর মা উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী-এর সাথে একই চাদরে ঘুমাতাম।
📄 নবী (সা)-এর বালিশের বর্ণনা
৪৭৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ।
৪৭৮. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী তাঁর গৃহের উপরিতলে তাশরিফ আনলেন। ঘরের দরজায় ছিলো তাঁর এক খাদেম। আমি বললাম, আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করল। আমি প্রবেশ করে দেখলাম রাসূলুল্লাহ্ একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন এবং চাটাইয়ের দাগ তাঁর দেহের পার্শ্বদেশে বসে গিয়েছিলো। আর তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।
৪৭৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর হেলান দেওয়ার বস্তু বলতে ছিল খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।
📄 নবী (সা)-এর খাটের বর্ণনা
৪৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং উমর ইবন খাত্তাব (রা)ও তাঁর নিকট হাযির ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তখন রশির তৈরি খাটের উপর শায়িত ছিলেন এবং খাটের বুননও তাঁর দেহের মধ্যখানে কিছু ছিলো না। তাঁর দেহ মোবারক ছিলো অত্যন্ত কোমল। তিনি পার্শ্ববদল করলে তাঁর চামড়ায় বা পার্শ্বদেশে রশির বুননের দাগ পরিলক্ষিত হলো। এই অবস্থা দেখে উমর (রা) কেঁদে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি কেবল এ জন্য কাঁদছি যে, আমি জানি, আপনি মহান আল্লাহ্র নিকট (রোম সম্রাট) কায়সার ও (পারস্য সম্রাট) কিস্সার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানিত। এই দুইজন বাদশাহ এই পার্থিব জগতে পর্যাপ্ত ভোগ-বিলাসের জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহ্র রাসূল, অথচ আমি আপনাকে এই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। নবী বললেনঃ হে উমর! তুমি কি একথা শুনে সন্তুষ্ট হবে যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাতের জীবন এবং তাদের (দুনিয়াদারদের) জন্য রয়েছে পার্থিব জীবন! তিনি বলেন, হ্যাঁ। নবী বলেন, ব্যাপারটি হলো এই।
৪৮১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি খেজুর পাতার দ্বারা তৈরি রশি দ্বারা বানানো একটি খাটের উপর আরাম করছিলেন।
৪৮২. মুহাম্মদ ইব্ন মুহাজির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর কিছু পরিত্যক্ত মালপত্র উমর ইব্ন আবদুল আযীয (র)-এর নিকট একটি ঘরে রক্ষিত ছিলো। তিনি প্রত্যহ তা দর্শন করতেন। রাবী বলেন, কুরাইশগণ কখনো তাঁর নিকট সমবেত হলে তিনি তাদেরকে সেই ঘরে প্রবেশ করাতেন এবং ওই মালপত্র তাদের পরিদর্শন করাতেন এবং বলতেন, যে মহান ব্যক্তিত্বের বদৌলতে আল্লাহ্ পাক তোমাদের সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছেন তাঁর সমস্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি হলো এই। রাবী বলেন, তাঁর বরকতময় জিনিসের মধ্যে ছিলো দড়ি দ্বারা বানানো একটি খাটিয়া, খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার ক্ষুদ্র বালিশ, একটি বড় পেয়ালা, একটি ছোট পেয়ালা, সিরিয়ার জারমাকানীগণ কর্তৃক তৈরি উলের একটি চাদর, একটি চাকতি এবং কয়েকটি তীর ভর্তি একটি তৃণীর। তাঁর উলের চাদরে তাঁর মাথার ময়লা সদৃশ কিছু লেগে ছিলো।
📄 নবী (সা)-এর মাদুরের বর্ণনা
৪৮৩. হযরত আনাস ইব্ন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্ন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী-এর জন্য একটি মাদুরের অংশবিশেষ পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হলে তিনি দুই রাকআত সালাত আদায় করেন।
৪৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী মাদুরের উপর সালাত আদায় করেছেন।
৪৮৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ উম্মে সুলায়ম (রা)-এর বাড়িতে যেতেন। তাঁর জন্য চাটাই বিছিয়ে দেওয়া হতো এবং তিনি তাতে সালাত পড়তেন।
৪৮৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট একটি চাটাই ছিলো। দিনের বেলা তা বসার জন্য বিছাতাম এবং রাতের বেলা তা দাঁড় করিয়ে নিজেদের জন্য কোঠার মত বানিয়ে নিতাম।
৪৮৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাতের বেলা একটি চাটাই ভাঁজ করে তাতে সালাত পড়তেন। দিনের বেলা আমরা তা খুলে ফেলতাম এবং (আগন্তুক) লোকেরা তাতে বসতো।
৪৮৮. হযরত মুগীরা ইব্ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী চাটাই এবং পশমযুক্ত পাকা চামড়ার উপর (বাড়িতে) সালাত পড়তেন।
৪৮৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ একটি মাদুরের উপর ঘুমালেন। মাদুরের দাগ তাঁর দেহে বসে গেলো। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাদের অনুমতি দিবেন না যে, আমরা আপনার জন্য নরম বিছানা পেতে দেই? তিনি বলেন, আমারও এই পৃথিবীর (বিলাস ব্যসনের) সাথে কি সম্পর্ক আছে? আমার ও পৃথিবীর দৃষ্টান্ত তো একজন পথিকের মতো, যে গ্রীষ্মের মৌসুমে সফর করছে এবং দুপুরের সময় একটি ছায়াদার গাছের নিচে কিছুক্ষণ আরাম করছে তারপর সেই ছায়াদার বৃক্ষ ত্যাগ করে পুনরায় গন্তব্যের পানে এগিয়ে যাচ্ছে।