📄 নবী (সা)-এর লেপের বর্ণনা
৪৬৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং নবী একই লেপের মধ্যে ঘুমাতাম।
৪৬৮. আইযার ইবন হুরাইস (র) হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন (শীতের রাতে) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ সালাত পড়তেন লেপের এক প্রান্ত তাঁর গায়ের ওপর থাকতো এবং আরেক প্রান্ত আয়েশা (রা)-এর গায়ের ওপর থাকতো।
৪৬৯. যুবায়র (ইবনুল আওয়াম) (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার শীতের দিনে রাসূলুল্লাহ্ আমাকে কোন কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম (শীতের কারণে) তিনি তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের একজনের সাথে লেপ গায়ে জড়িয়ে বসে আছেন। তিনি আমাকেও তাঁর লেপের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিলেন।
৪৭০. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর একটি হলুদ রঙের লেপ ছিলো। তাঁর স্ত্রীগণ পালাক্রমে সেটি ব্যবহার করতেন।
৪৭১. ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাফর (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবীকে দুইখানা জাফরানী রঙের কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। কাপড় দুইখানার একখানা ছিলো চাদর এবং অন্যখানা পাগড়ি।
৪৭২. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি আমার খালা উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা (রা)-এর ঘরে মেহমান হলাম। সেই সময় তিনি (ঋতুমতী হওয়ার কারণে) সালাত পড়তেন না। রাতে তিনি একটি কম্বল এনে নবী-এর বিছানা হিসেবে মাটিতে বিছিয়ে নিলেন। অতপর বালিশ এনে বিছানার মাথার দিকে রাখলেন এবং লাল রঙের একখানা পশমী চাদর এনে সেটিও বিছানার মাথার দিকে রাখলেন। তারপর নিজে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর পাশেই আমার জন্য একটা বিছানা পাতলেন। এরপর নবী এশার সালাত শেষে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর বিছানার মাথার দিক থেকে একখানা কাপড় নিয়ে লুঙ্গির মত করে পরিধান করলেন, নিজের কামিজ ও ইযার খুলে খুঁটির মাথায় লটকিয়ে রাখলেন এবং মায়মূনা (রা)-এর লেপের মধ্যেই শুয়ে পড়লেন।
তারপর শেষ রাতে উঠলেন এবং লটকিয়ে রাখা পানির মশক নিয়ে ঝাঁকুনি দিলেন আর পানি দিয়ে ওযু করতে শুরু করলেন। ওযূ শেষে তিনি বিছানায় ফিরে আসলেন, লুঙ্গি খুলে নিজের কাপড় পরিধান করলেন এবং জায়নামাযে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়তে শুরু করলেন। তখন আমিও উঠে ওযু করে তাঁর বাঁ পাশে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাকে ধরে পেছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে এনে ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং সালাত পড়তে থাকলেন। আমিও তাঁর সাথে তের রাকআত সালাত পড়লাম। এরপর তিনি বসে পড়লে আমিও তাঁর পাশে বসে পড়লাম। (ঘুমের প্রভাবে) তিনি আমার মুখের দিকে মুখ করে এতটা ঝুঁকে পড়লেন যে, আমি ঘুমন্ত ব্যক্তির শব্দের মত শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ইতিমধ্যে হযরত বিলাল (রা) এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সালাত প্রস্তুত। তখন তিনি উঠে মসজিদে গেলেন।
৪৭৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শাবানের পনের তারিখের রাতে রাসূলুল্লাহ্ অতি সন্তর্পণে আমার চাদরের ভেতর থেকে উঠে গিয়েছিলেন। এর পরে আয়েশা (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের চাদর রেশম, তুলা বা কাতানের ছিলো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ্! তাহলে তা কিসের তৈরি ছিলো? তিনি বললেন, তার সুতা বকরীর পশমের এবং বুনন ছিলো উটের পশমের।
📄 নবী (সা)-এর মখমলের চাদরের বর্ণনা
৪৭৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -কে দাফনকালে তাঁর ও কবরের মাঝখানে বালাবাক্কা এলাকা তৈরি একটি সাদা মখমলের চাদর রাখা হয়।
৪৭৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ এমন একটি পুরাতন ও জীর্ণশীর্ণ জিনের উপর হজ্জের সফর করেন যাতে বিছানো চাদরের মূল্য চার দিরহামও ছিলো না।
৪৭৬. হযরত যায়নাব (রা) তাঁর মা উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী-এর সাথে একই চাদরে ঘুমাতাম।
📄 নবী (সা)-এর বালিশের বর্ণনা
৪৭৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ।
৪৭৮. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী তাঁর গৃহের উপরিতলে তাশরিফ আনলেন। ঘরের দরজায় ছিলো তাঁর এক খাদেম। আমি বললাম, আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করল। আমি প্রবেশ করে দেখলাম রাসূলুল্লাহ্ একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন এবং চাটাইয়ের দাগ তাঁর দেহের পার্শ্বদেশে বসে গিয়েছিলো। আর তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।
৪৭৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর হেলান দেওয়ার বস্তু বলতে ছিল খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।
📄 নবী (সা)-এর খাটের বর্ণনা
৪৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং উমর ইবন খাত্তাব (রা)ও তাঁর নিকট হাযির ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তখন রশির তৈরি খাটের উপর শায়িত ছিলেন এবং খাটের বুননও তাঁর দেহের মধ্যখানে কিছু ছিলো না। তাঁর দেহ মোবারক ছিলো অত্যন্ত কোমল। তিনি পার্শ্ববদল করলে তাঁর চামড়ায় বা পার্শ্বদেশে রশির বুননের দাগ পরিলক্ষিত হলো। এই অবস্থা দেখে উমর (রা) কেঁদে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি কেবল এ জন্য কাঁদছি যে, আমি জানি, আপনি মহান আল্লাহ্র নিকট (রোম সম্রাট) কায়সার ও (পারস্য সম্রাট) কিস্সার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানিত। এই দুইজন বাদশাহ এই পার্থিব জগতে পর্যাপ্ত ভোগ-বিলাসের জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহ্র রাসূল, অথচ আমি আপনাকে এই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। নবী বললেনঃ হে উমর! তুমি কি একথা শুনে সন্তুষ্ট হবে যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাতের জীবন এবং তাদের (দুনিয়াদারদের) জন্য রয়েছে পার্থিব জীবন! তিনি বলেন, হ্যাঁ। নবী বলেন, ব্যাপারটি হলো এই।
৪৮১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি খেজুর পাতার দ্বারা তৈরি রশি দ্বারা বানানো একটি খাটের উপর আরাম করছিলেন।
৪৮২. মুহাম্মদ ইব্ন মুহাজির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর কিছু পরিত্যক্ত মালপত্র উমর ইব্ন আবদুল আযীয (র)-এর নিকট একটি ঘরে রক্ষিত ছিলো। তিনি প্রত্যহ তা দর্শন করতেন। রাবী বলেন, কুরাইশগণ কখনো তাঁর নিকট সমবেত হলে তিনি তাদেরকে সেই ঘরে প্রবেশ করাতেন এবং ওই মালপত্র তাদের পরিদর্শন করাতেন এবং বলতেন, যে মহান ব্যক্তিত্বের বদৌলতে আল্লাহ্ পাক তোমাদের সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছেন তাঁর সমস্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি হলো এই। রাবী বলেন, তাঁর বরকতময় জিনিসের মধ্যে ছিলো দড়ি দ্বারা বানানো একটি খাটিয়া, খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার ক্ষুদ্র বালিশ, একটি বড় পেয়ালা, একটি ছোট পেয়ালা, সিরিয়ার জারমাকানীগণ কর্তৃক তৈরি উলের একটি চাদর, একটি চাকতি এবং কয়েকটি তীর ভর্তি একটি তৃণীর। তাঁর উলের চাদরে তাঁর মাথার ময়লা সদৃশ কিছু লেগে ছিলো।