📄 নবী (সা)-এর খচ্চরের বর্ণনা
৪৪২. কাসীর ইব্ন আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব সূত্রে তাঁর পিতা আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সাথে হুনায়েন যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তাঁর কাছে আমি এবং আবু সুফিয়ান ইব্ন হারিস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব (রা) ছাড়া আর কেউ ছিলো না। আমরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করিনি। সেই সময় রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে সওয়ার ছিলেন। ফরওয়া ইব্ন নাফাসা তাঁকে এ খচ্চরটি উপহার দিয়েছিলেন।
৪৪৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনায়ন যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আনসারদের ডাকলেন। হে আনসারগণ! তারা জবাব দিলেন লাব্বায়েক, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা উপস্থিত, আমরা আপনার সাথে আছি। বর্ণনাকারী আনাস (রা) বলেন, সে সময় তিনি সাদা খচ্চরের পিঠে সওয়ার ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি খচ্চরের পিঠ থেকে নেমে বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। পরে মুশরিকরা পরাজিত হলো।
৪৪৪. আসবাগ ইব্ন নাবাতা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রা) যখন নাহরেওয়ানের অধিবাসীদের হত্যা করেন, তখন তিনি নবী-এর শাহবা নামক খচ্চরটির ওপর সওয়ার ছিলেন।
ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী -এর একটি খচ্চরের নাম ছিল 'শাহবা'।
৪৪৫. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (হাবশার বাদশাহ্) নাজাশী রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য একটি খচ্চর উপহার পাঠিয়েছিলেন, যার উপর তিনি সওয়ার হতেন এবং একটি পেয়ালা পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি পানি পান করতেন।
📄 নবী (সা)-এর গাধার বর্ণনা
৪৪৬. হযরত মুআয ইব্ন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর পেছনে তাঁর 'আফীর' নামক গাধার পিঠে সওয়ার হয়েছিলাম।
৪৪৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইয়া'ফুর নামক একটি গাধার পিঠে চড়ে বের হয়েছিলেন।
ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী ﷺ-এর একটি গাধার নাম ছিলো ইয়া'ফুর। এটি ফারওয়া ইব্ন আম্র আল-জুযামী তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন।
৪৪৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর গাধার নাম ছিলো 'আফীর'।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ-এর আরেকটি গাধার নাম ছিলো আফীর। 'আসাহ্হুস্ সিয়ার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, নবী ﷺ-এর তিনটি গাধা ছিলো। একটির নাম ছিলো আফীর। (মিসরের বাদশাহ) মুকাউকিস এটি উপহার পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয়টির নাম ছিলো ইয়াফুর। এটি ফারওয়া আল-জুযামী উপহার পাঠিয়েছিলেন। তৃতীয়টি উপহার দিয়েছিলেন হযরত সা'দ ইবন উবাদা (রা)।
৪৪৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে খায়বারে একটি গাধার ওপর সওয়ার দেখেছি। ওই গাধার পিঠের ওপর খেজুরের ছাল দ্বারা তৈরি পালান ছিলো এবং তার লাগামও ছিলো খেজুর ছালের তৈরি।
📄 নবী (সা)-এর উট্নীর বর্ণনা
৪৫০. হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর একটি উট ছিল আযবা নামীয়। কোনো উটই একে পেছনে ফেলে আগে যেতে পারতো না। একদিন এক বেদুঈন একটি জওয়ান উটের ওপর সওয়ার হয়ে আসলো এবং সেটিকে পেছনে ফেলে আগে চলে গেলো। ব্যাপারটি মুসলিমদের মনে পীড়া দিলো। নবী ﷺ তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বললেন, আপনার উটনী আযবা পিছনে পড়ে রইলো। তিনি বললেন : আল্লাহর নিয়ম হলো, পৃথিবীর যে জিনিসকেই তিনি সমুন্নত করেন সেটিকে আবার অবনমিতও করেন।
ফায়দা : নবী ﷺ-এর তিনটি উট ছিলো। একটি 'আযবা' দ্বিতীয়টি 'কাসওয়া' এবং তৃতীয়টি 'জাদ্আ'। কেউ কেউ এর অধিক সংখ্যার কথাও বর্ণনা করেছেন।
৪৫১. আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁর 'কাসওয়া' নাম্নী উটনীতে সওয়ার হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।
ফায়দা : নবী ﷺ-এর আরেকটি উটীর নাম ছিলো 'কাসওয়া'। এটির পিঠে সওয়ার হয়েই তিনি হিজরত করেছিলেন এবং এ উটনী সম্পর্কেই তিনি বলেছিলেন যে, সেটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আদিষ্ট। আল্লাহ্ যেখানে আমার অবস্থান মঞ্জুর করবেন এটি আপনা থেকেই সেখানে বসে পড়বে। মক্কা বিজয়ের দিনও তিনি এই উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।
৪৫২. হযরত মুআয ইব্ন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি লাল উটের পিঠে নবী ﷺ-এর পেছনে সওয়ার হয়েছিলাম।
৪৫৩. ইকরিমা ইব্ন হিমার (র) হারমাস ইব্ন যিয়াদ বাহেলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মিনায় রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে তাঁর 'আযবা' নাম্নী উটীর পিঠে সওয়ার হয়ে খুতবা দিতে দেখেছি।
৪৫৪. উরওয়া ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ তাঁর অসুস্থ কন্যার দেখা-শোনার জন্য উসমান (রা)-কে রেখে গেলেন এবং উসামা ইবন যায়িদকে মদীনায় নিজের স্থলাভিষিক্ত করে গেলেন। এক সময় তাঁরা তাকবীর বলা শুনলেন এবং দেখলেন যায়িদ ইবন হারিসা (রা) নবী-এর জাদআ নাম্নী উটনীর পিঠে সওয়ার হয়ে এসে সুসংবাদ দিলেন যে, অমুক (মুশরিক) নিহত হয়েছে, অমুক বন্দী হয়েছে ইত্যাদি। অতপর তিনি উসমান (রা)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকেও সুসংবাদ শোনালেন।
📄 যুদ্ধে নবী (সা)-এর ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নের বর্ণনা
৪৫৫. ইয়াস ইব্ন সালামা ইব্ন আকওয়া (র) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা সালামা ইব্ন আকওয়া (রা) আমাকে বলেন যে, যুদ্ধের সময় নবী-এর পরিচিতি জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ ছিলো 'আমিত' 'আমিত'।
ফায়দা : যুদ্ধের সময় সৈনিকরা সাধারণত গোপনে কথাবার্তার জন্য কোড ওয়ার্ড ও বিশেষ বাক্য ঠিক করে নেয় এবং তার সাহায্যেই নিজেদের কথাবার্তা সম্পন্ন করে যাতে শত্রুরা তা বুঝতে না পারে। নবী-ও অনুরূপ যুদ্ধের সময় বিভিন্ন নির্দিষ্ট বাক্য ঠিক করে নিয়েছিলেন। ওইগুলো যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হতো। উপরে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, আমিত, 'আমিত' শব্দটিও ছিল তাঁর সাংকেতিক পরিচয় বা কোড ওয়ার্ড। এর মর্মার্থ হচ্ছে, শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দাও এবং ভীরুতা ও দুর্বলতা প্রদর্শন করো না।
৪৫৬. যায়দ ইব্ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুদ্ধে নবী-এর সাংকেতিক পরিচয় জ্ঞাপক শব্দ ছিলো 'ইয়া মানসুরু আমিত'।
৪৫৭. আবু ইসহাক (র) মুযায়না অথবা জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যুদ্ধের সময় নবী শুনতে পেলেন, কিছু লোক তাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হিসেবে 'ইয়া হারমু' ব্যবহার করছে। তা শুনে নবী বললেন, 'ইয়া হালালু'।
৪৫৮. আবু ইসহাক (র) থেকে বর্ণিত যে, নবী দশ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি ছোট্ট সেনাদলকে যাদের মধ্যে তালহা (রা)ও ছিলেন—অভিযানে পাঠানোর সময় বললেন: তোমাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক নাম হবে 'ইয়া আশরাহ'।
৪৫৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আম্র ইব্ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় নবী-এর পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হতো 'ইয়া কুল্লা খায়র'।
৪৬০. মুহাল্লাব ইব্ন আবু সাফরাহ (র) একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নিজে নবী-কে বলতে শুনেছেন, শত্রু যদি তোমাদের কাছে এসে পড়ে তাহলে তোমাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হবে 'হামীম লা ইউন্সারুন'।