📄 নবী (সা)-এর বড় পতাকার বর্ণনা
৪১২. মুহাম্মাদ ইব্ন কাসিমের আযাদকৃত দাস ইউনুস ইবন উবাইদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইব্ন কাসিম (র) আমাকে বারাআ ইব্ন আযিব (রা)-এর কাছে পাঠালেন যেন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেই রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর পতাকা কিসের ছিলো? বারাআ ইব্ন আযিব (রা) বললেন, তাঁর বড় পতাকা ছিলো বর্গাকৃতির এবং কালো রঙের ডোরাবিশিষ্ট।
৪১৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের এবং ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের। এতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লেখা ছিলো।
৪১৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী ﷺ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪১৫. আম্মা বিন্ত আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের এবং বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের সেটি আয়েশা (রা)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিলো এবং তার ওপর উটের পালানের নক্শা ছিলো।
৪১৬. হাসান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর বড় পতাকার নাম ছিল ‘উকাব’।
৪১৭. সিমাক ইব্ন হারব (র) তার কাওমের এক ব্যক্তির সূত্রে অপর এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি বলেছেন, আমি নবী -এর পতাকা দেখেছি। তার রঙ ছিল হলুদ।
৪১৮. ইব্ন আবূ জারীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী -এর বড় পতাকা আয়েশা (রা)-এর চাদরের একটি অংশ দিয়ে তৈরি ছিল।
৪১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আলী (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ -এর পতাকাবাহী। সর্বক্ষেত্রেই মুহাজিরদের পতাকাবাহী ছিলেন আলী (রা) এবং আনসারদের পতাকাবাহী ছিলেন সা'দ ইবন উবাদা (রা)।
📄 নবী (সা)-এর বল্লমের বর্ণনা
৪২০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, সফরকালীন সময়ে নবী -এর জন্য তাঁর ঠিক সামনে সুতরা বা আড়াল হিসেবে বল্লম পুঁতে দেয়া হতো। তিনি সে দিকে সালাত পড়তেন এবং লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়াতো।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে একটি ফিকহী মাসয়ালা জানা যায়। অর্থাৎ সফরকালে মানুষ যদি এমন কোন জায়গায় অবস্থান করে যেখানে সুতরা নেই তাহলে ইমাম তাঁর সামনে বল্লম বা লাঠি ইত্যাদি পুঁতে নিলেই তা সুতরার প্রয়োজন পূরণ করবে।
৪২১. সুদাই ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজদাতুল হারূরী আমাকে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর কাছে এ কথা জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর সফরের সময় বল্লম সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হতো কিনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি যখন খায়বার যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলেন তখন তাঁর কাছে বল্লম ছিলো।
📄 নবী (সা)-এর ছড়ির বর্ণনা
৪২২. হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ গাছের ডাল পছন্দ করতেন। তাঁর হাতে সব সময় গাছের কোনো না কোনো ডাল থাকতো। একদিন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেই সময় তাঁর হাতে একটি ডাল ছিল। তিনি মসজিদে কিবলার দিকে শিকনি পড়ে থাকতে দেখে ওই ডাল দ্বারা ঘষে ঘষে তুলে ফেললেন।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, ছড়ি বা গাছের ডাল ইত্যাদি হাতে রাখা সুন্নত। এর দ্বারা অনেক উপকারও লাভ করা যায়।
৪২৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, খুতবা দানের সময় রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে একখানা ছড়ি থাকতো।
৪২৪. হযরত আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাকীউল গারকাদ (জান্নাতুল বাকী) নামক স্থানে ছিলেন। তাঁর হাতে একখানা ছড়ি ছিলো। তিনি বসে পড়লেন এবং ঝুঁকে পড়ে তা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকলেন।
📄 নবী (সা)-এর কুরসীর বর্ণনা
৪২৫. হুমায়দ ইব্ন হিলাল (র) আবূ রিফাআ আল-আদবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে হাযির হলাম। তিনি তখন খুতবা দান করছিলেন। পরে তিনি নিচে নামলেন। তখন তাঁর জন্য একটি আসন (কুরসী) আনা হলো। আমার ধারণা, তার পাগুলো লৌহ নির্মিত ছিলো।
৪২৬. আবু রিফাআ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে হাযির হলাম। সে সময়ে তিনি একটি কুরসীতে বসে খুতবা দান করছিলেন। আমার ধারণা, ওই কুরসীর পাগুলো ছিলো লৌহ নির্মিত।
৪২৭. ইসহাক ইব্ন সুওয়ায়দ আদাবী (র) আবূ রিফাআ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নবী এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁকে একটি আসনে (কুরসী) উপবিষ্ট দেখলাম। আমার ধারণা, ওই আসনের পাগুলো ছিল লৌহ নির্মিত।
ফায়দা : এসব হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ চেয়ারে (কুরসীতে) বসেছেন। তবে সাধারণত তিনি চেয়ার ব্যবহার করতেন না। শুধু খুতবা দানের প্রয়োজনে তিনি চেয়ার ব্যবহার করেছেন।