📄 নবী (সা)-এর শিরস্ত্রাণের বর্ণনা
৪০৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিলো।
ফায়দা: লৌহ নির্মিত টুপিকে লৌহ শিরস্ত্রাণ বলে। এটি যুদ্ধের সময় মাথা রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
📄 নবী (সা)-এর পতাকার বর্ণনা
৪০৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের এবং ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের।
৪০৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ফায়দা : নবী-এর যুদ্ধ পতাকা দুই রকম ছিলো, একটি বড় এবং আরেকটি ছোট। বড় পতাকাকে 'রায়াহ' বলা হতো এবং ছোট পতাকাকে 'লেওয়াহ'।
৪০৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা এবং বড় পতাকা ছিলো কালো। সেটি হযরত আয়েশা (রা)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিলো এবং তার ওপর উটের পালান বা খাটনির নক্শা ছিলো।
৪১০. আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ছোট পতাকা বাঁধার সময় তা সাদা রঙের বাঁধতেন। এবং তাঁর নিজের ছোট পতাকাও ছিলো সাদা রঙের।
৪১১. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা এবং বড় পতাকা ছিলো কালো।
📄 নবী (সা)-এর বড় পতাকার বর্ণনা
৪১২. মুহাম্মাদ ইব্ন কাসিমের আযাদকৃত দাস ইউনুস ইবন উবাইদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইব্ন কাসিম (র) আমাকে বারাআ ইব্ন আযিব (রা)-এর কাছে পাঠালেন যেন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেই রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর পতাকা কিসের ছিলো? বারাআ ইব্ন আযিব (রা) বললেন, তাঁর বড় পতাকা ছিলো বর্গাকৃতির এবং কালো রঙের ডোরাবিশিষ্ট।
৪১৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের এবং ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের। এতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লেখা ছিলো।
৪১৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী ﷺ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪১৫. আম্মা বিন্ত আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের এবং বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের সেটি আয়েশা (রা)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিলো এবং তার ওপর উটের পালানের নক্শা ছিলো।
৪১৬. হাসান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর বড় পতাকার নাম ছিল ‘উকাব’।
৪১৭. সিমাক ইব্ন হারব (র) তার কাওমের এক ব্যক্তির সূত্রে অপর এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি বলেছেন, আমি নবী -এর পতাকা দেখেছি। তার রঙ ছিল হলুদ।
৪১৮. ইব্ন আবূ জারীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী -এর বড় পতাকা আয়েশা (রা)-এর চাদরের একটি অংশ দিয়ে তৈরি ছিল।
৪১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আলী (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ -এর পতাকাবাহী। সর্বক্ষেত্রেই মুহাজিরদের পতাকাবাহী ছিলেন আলী (রা) এবং আনসারদের পতাকাবাহী ছিলেন সা'দ ইবন উবাদা (রা)।
📄 নবী (সা)-এর বল্লমের বর্ণনা
৪২০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, সফরকালীন সময়ে নবী -এর জন্য তাঁর ঠিক সামনে সুতরা বা আড়াল হিসেবে বল্লম পুঁতে দেয়া হতো। তিনি সে দিকে সালাত পড়তেন এবং লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়াতো।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে একটি ফিকহী মাসয়ালা জানা যায়। অর্থাৎ সফরকালে মানুষ যদি এমন কোন জায়গায় অবস্থান করে যেখানে সুতরা নেই তাহলে ইমাম তাঁর সামনে বল্লম বা লাঠি ইত্যাদি পুঁতে নিলেই তা সুতরার প্রয়োজন পূরণ করবে।
৪২১. সুদাই ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজদাতুল হারূরী আমাকে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর কাছে এ কথা জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর সফরের সময় বল্লম সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হতো কিনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি যখন খায়বার যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলেন তখন তাঁর কাছে বল্লম ছিলো।