📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর লৌহ বর্মের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর লৌহ বর্মের বর্ণনা


৪০১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর বর্মের নাম ছিলো 'যাতুল ফুযূল'।

ফায়দা : এখানে নবী -এর বর্মের বর্ণনা দেয়াই গ্রন্থকারের হাদীস বর্ণনার উদ্দেশ্য। 'দিরে' বলা হয় এমন পোশাককে যা লোহার শিকল দ্বারা তৈরি করা হয় এবং যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, যাতে তরবারির আঘাত ক্ষতি করতে না পারে।

৪০২. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর ঘোড়ার নাম ছিলো 'মুরতাজিয', খচ্চরের নাম ছিলো 'দুলদুল', গাধার নাম ছিলো 'আফীর', তরবারির নাম ছিলো 'যুলফিকার', বর্মের নাম ছিলো 'যাতুল ফুযূল' এবং উটনীর নাম ছিলো 'আল-কাস্তয়া'।
৪০৩. সায়িব ইব্‌ন ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী ﷺ দু'টি বর্মে সজ্জিত হয়েছিলেন।
৪০৪. আমির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবন হুসাইন (রা) আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ্-এর একটি বর্ম বের করে আনলেন। সেটি ছিলো ইয়ামানে তৈরি হালকা শিকলের বর্ম।
৪০৫. জাফর ইব্‌ন মুহাম্মদ তার পিতা মুহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলূল্লাহ্ ﷺ বর্মের বুকের ওপর এবং পিঠের ওপর দু'টি করে রৌপ্যের রিং ছিলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বর্মটি পরিধান করলে তা মাটি স্পর্শ করে দাগের সৃষ্টি করলো।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর শিরস্ত্রাণের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর শিরস্ত্রাণের বর্ণনা


৪০৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিলো।

ফায়দা: লৌহ নির্মিত টুপিকে লৌহ শিরস্ত্রাণ বলে। এটি যুদ্ধের সময় মাথা রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর পতাকার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পতাকার বর্ণনা


৪০৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের এবং ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের।
৪০৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফায়দা : নবী-এর যুদ্ধ পতাকা দুই রকম ছিলো, একটি বড় এবং আরেকটি ছোট। বড় পতাকাকে 'রায়াহ' বলা হতো এবং ছোট পতাকাকে 'লেওয়াহ'।

৪০৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা এবং বড় পতাকা ছিলো কালো। সেটি হযরত আয়েশা (রা)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিলো এবং তার ওপর উটের পালান বা খাটনির নক্শা ছিলো।
৪১০. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ ছোট পতাকা বাঁধার সময় তা সাদা রঙের বাঁধতেন। এবং তাঁর নিজের ছোট পতাকাও ছিলো সাদা রঙের।
৪১১. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা এবং বড় পতাকা ছিলো কালো।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর বড় পতাকার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বড় পতাকার বর্ণনা


৪১২. মুহাম্মাদ ইব্‌ন কাসিমের আযাদকৃত দাস ইউনুস ইবন উবাইদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইব্‌ন কাসিম (র) আমাকে বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা)-এর কাছে পাঠালেন যেন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেই রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর পতাকা কিসের ছিলো? বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) বললেন, তাঁর বড় পতাকা ছিলো বর্গাকৃতির এবং কালো রঙের ডোরাবিশিষ্ট।
৪১৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের এবং ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের। এতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লেখা ছিলো।
৪১৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী ﷺ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪১৫. আম্মা বিন্ত আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর ছোট পতাকা ছিলো সাদা রঙের এবং বড় পতাকা ছিলো কালো রঙের সেটি আয়েশা (রা)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিলো এবং তার ওপর উটের পালানের নক্শা ছিলো।
৪১৬. হাসান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর বড় পতাকার নাম ছিল ‘উকাব’।
৪১৭. সিমাক ইব্‌ন হারব (র) তার কাওমের এক ব্যক্তির সূত্রে অপর এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি বলেছেন, আমি নবী -এর পতাকা দেখেছি। তার রঙ ছিল হলুদ।
৪১৮. ইব্‌ন আবূ জারীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী -এর বড় পতাকা আয়েশা (রা)-এর চাদরের একটি অংশ দিয়ে তৈরি ছিল।
৪১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আলী (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ -এর পতাকাবাহী। সর্বক্ষেত্রেই মুহাজিরদের পতাকাবাহী ছিলেন আলী (রা) এবং আনসারদের পতাকাবাহী ছিলেন সা'দ ইবন উবাদা (রা)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px