📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর বর্শার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বর্শার বর্ণনা


৩৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একটি বর্শা অথবা লাঠি ছিলো। সেটি মাটিতে গেড়ে দেয়া হতো এবং তিনি সেদিকে মুখ করে সালাত পড়তেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন উন্মুক্ত স্থানে সালাত পড়ে সেখানে মানুষ যাতায়াত করে তাহলে সেক্ষেত্রে মুসল্লি ব্যক্তির কর্তব্য সুতরা বা আড়াল হিসেবে ব্যবহারের জন্য অন্তত একহাত লম্বা একটি কাষ্ঠদণ্ড, বর্শা বা অন্য কোন জিনিস গেড়ে দেওয়া।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর তরবারির বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর তরবারির বর্ণনা


৩৯১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর তরবারির নাম ছিল যুলফিকার।

ফায়দা: মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে নয়টি তরবারি ছিলো এবং প্রতিটি তরবারির নামও ভিন্ন ভিন্ন ছিলো। ওই সব তরবারির একটির নাম ছিলো যুলফিকার। মক্কা বিজয়ের দিন উক্ত তরবারিটি নবী-এর কাছে ছিলো।

৩৯২. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর যুলফিকার নামক তলোয়ারটি বদর যুদ্ধের দিন গনীমতের মাল থেকে লাভ করেছিলেন এবং উহুদ যুদ্ধের দিন ঐ তলোয়ার সম্পর্কে স্বপ্ন দেখেছিলেন।

৩৯৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর তরবারি ছিলো হানফিয়া গোত্রের তৈরি এবং তার বাঁট ছিল রৌপ্যের।
৩৯৪. হৃদ আল-আসরী তার দাদা মাযীদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর তরবারিতে স্বর্ণ ও রৌপ্য ছিলো। হুদকে রৌপ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, নবী -এর তরবারির বাঁটের কান দু'টি ছিলো রৌপ্যের।
৩৯৫. হযরত মারযুক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর যুলফিকার নামক তরবারি শান দিয়েছি। এর বাঁটের কান দু'টি, মাঝের রিং এবং বেল্টের দুই প্রান্তের রিং ছিলো রৌপ্যের।
৩৯৬. ইকরামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর তরবারি যুলফিকার মূলত আবুল আস ইব্‌ন মুনাব্বিহের ছিলো। রাসূলুল্লাহ্ তাকে বদর যুদ্ধে হত্যা করেন।
৩৯৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর তরবারির বাঁটের কান দু'টি ছিলো রৌপ্যের তৈরি।
৩৯৮. জা'ফর ইব্‌ন মুহাম্মদ তাঁর পিতা মুহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবী-এর তরবারির সমস্ত অলঙ্কার ছিলো রৌপ্যের। অর্থাৎ তার খাপ, বাঁট এবং বাঁটের কান ও রিং সবই ছিলো রৌপ্যের তৈরি।
৩৯৯. খাসীফ (র) মুজাহিদ ও যিয়াদ ইব্‌ন আবূ মারিয়াম (র) সূত্রে বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর তরবারি হানীফিয়া গোত্রের তৈরি ছিলো এবং তার খাপ ছিল শিঙের তৈরি।
৪০০. হযরত আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইব্‌ন হুসাইন (রা) রাসূলুল্লাহ্ -এর তরবারি বের করে আমাদের কাছে আনলে আমরা দেখলাম তার খাপ ও বাঁটের পাশের দু'টি কান এবং ঝুলানোর রিং রৌপ্যের তৈরি।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর লৌহ বর্মের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর লৌহ বর্মের বর্ণনা


৪০১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর বর্মের নাম ছিলো 'যাতুল ফুযূল'।

ফায়দা : এখানে নবী -এর বর্মের বর্ণনা দেয়াই গ্রন্থকারের হাদীস বর্ণনার উদ্দেশ্য। 'দিরে' বলা হয় এমন পোশাককে যা লোহার শিকল দ্বারা তৈরি করা হয় এবং যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, যাতে তরবারির আঘাত ক্ষতি করতে না পারে।

৪০২. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর ঘোড়ার নাম ছিলো 'মুরতাজিয', খচ্চরের নাম ছিলো 'দুলদুল', গাধার নাম ছিলো 'আফীর', তরবারির নাম ছিলো 'যুলফিকার', বর্মের নাম ছিলো 'যাতুল ফুযূল' এবং উটনীর নাম ছিলো 'আল-কাস্তয়া'।
৪০৩. সায়িব ইব্‌ন ইয়াযীদ (রা) থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী ﷺ দু'টি বর্মে সজ্জিত হয়েছিলেন।
৪০৪. আমির (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবন হুসাইন (রা) আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ্-এর একটি বর্ম বের করে আনলেন। সেটি ছিলো ইয়ামানে তৈরি হালকা শিকলের বর্ম।
৪০৫. জাফর ইব্‌ন মুহাম্মদ তার পিতা মুহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলূল্লাহ্ ﷺ বর্মের বুকের ওপর এবং পিঠের ওপর দু'টি করে রৌপ্যের রিং ছিলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বর্মটি পরিধান করলে তা মাটি স্পর্শ করে দাগের সৃষ্টি করলো।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর শিরস্ত্রাণের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর শিরস্ত্রাণের বর্ণনা


৪০৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিলো।

ফায়দা: লৌহ নির্মিত টুপিকে লৌহ শিরস্ত্রাণ বলে। এটি যুদ্ধের সময় মাথা রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية