📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা


৩৬৩. হযরত আমির (র) থেকে বর্ণিত, মুগীরা ইব্‌ন শুবা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ -এর মোজা কোথা থেকে এসেছিলো? তিনি বললেন, দেহইয়া কালবী (রা) মোজা দু'টি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা ব্যবহারও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো যে বিষয়টি জানা যায়, তাহলো তিনি উপহার গ্রহণ করতেন।

৩৬৪. ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) নবী -কে কালো রঙের দু'টি সাদামাঠা চামড়ার মোজা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। নবী মোজা দু'টি পরেছেন এবং তার ওপর 'মাসেহ্' করেছেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) কর্তৃক উপহার হিসেবে প্রেরিত কালো রঙের দু'টি চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, মোজার ওপর 'মাসেহ্' করা জায়েয।

৩৬৫. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা (রা) তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর চপ্পলের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চপ্পলের বর্ণনা


৩৬৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ফিতাওয়ালা এক জোড়া চপ্পল ছিলো।
৩৬৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চপ্পলের দুটি ফিতা ছিলো।
৩৬৮. হাম্মাম (র) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী-এর চপ্পল ছিলো দুই ফিতা বিশিষ্ট। তিনি এর একটি রাখতেন পায়ের বৃদ্ধাঙুলি ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুলের মধ্যখানে এবং অপরটি রাখতেন পায়ের মধ্যমা আঙুল ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুলের মধ্যখানে।

৩৬৯. তায়েমী (র) বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন ব্যক্তি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যিনি নবী-এর চপ্পল দেখেছেন যার দুটি ফিতা ছিলো এবং বাঁধার পর উক্ত ফিতার কিছুটা অবশিষ্ট থাকতো।
৩৭০. হযরত আওস ইব্‌ন আওস আস-সাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে পনের দিন ছিলাম। আমি তাঁর চপ্পলে পাশাপাশি দু'টি ফিতা দেখেছি।

৩৭১. আবু ইসহাক (র) এমন এক ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যিনি আম্র ইবন হুরাইস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আম্র ইবন হুরাইস (রা) বলেন, আমি নবী -কে এমন একজোড়া চপ্পল পায়ে সালাত পড়তে দেখেছি যাতে ডবল চামড়া লাগিয়ে সেলাই করা ছিলো।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ ডবল সেলাই বা তালি দেয়া চপ্পল ব্যবহার করেছেন। আরও জানা যায় যে, তিনি চপ্পল পরেই সালাত পড়েছেন।

৩৭২. হুমায়দ ইব্‌ন হিলাল (র) এক ব্যক্তির সূত্রে এক বেদুঈন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-কে গরুর চামড়ার চপ্পল পায়ে দিয়ে সালাত পড়তে দেখেছি।
৩৭৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-কে গরুর চামড়ার তৈরি ডবল সেলাই যুক্ত চপ্পল পরে সালাত পড়তে দেখেছি।
৩৭৪. মুতারিফ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে ডবল সেলাই বা তালিযুক্ত চপ্পল পরে নামায পড়তে দেখেছি।
৩৭৫. ইয়াযীদ ইব্‌ন আবু যিয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখেছি নবী -এর চপ্পল, তলার দিকে মধ্যখানে পাতলা ও জিহবার পার্শ্বদেশের মত সরু ছিল এবং গোড়ালির পেছনের দিকের অংশ কিছুটা বেরিয়ে থাকতো।

৩৭৬. উবাইদ ইব্‌ন জুরাইয (র) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা)-কে বললেন, আমি আপনাকে লোমবিহীন পাকা চামড়ার চপ্পল পরতে দেখি (এর কারণ কি)? তিনি বললেন, আমি অধিকাংশ সময় নবী -কে লোমহীন পাকা চামড়ার চপ্পল পরতে দেখেছি। ঐ ধরনের চপ্পল পরে তিনি ওযুও করতেন।

৩৭৭. ঈসা ইবন তাহমান (র) বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক (রা) দুটি ফিতা বিশিষ্ট দুখানা চপ্পল এনে আমাদের দেখালেন যার চামড়ার ওপর কোন পশম ছিলো না।
৩৭৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর চপ্পলের দু'টি ফিতা ছিলো এবং আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর চপ্পলেরও দু'টি ফিতা ছিলো।
৩৭৯. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সব সময় ডান পায়ে আগে চপ্পল পরতেন এবং খোলার সময় বাঁ পায়ের চপ্পল আগে খুলতেন।
৩৮০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চপ্পল পরার সময় রাসূলুল্লাহ্ ডান পা থেকে শুরু করতেন এবং খোলার সময় বাঁ পা থেকে শুরু করতেন।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, চপ্পল বা জুতা পরার সময় প্রথমে ডান পায়ে ও পরে বাঁ পায়ে এবং খোলার সময় প্রথমে বাঁ পা থেকে এবং পরে ডান পা থেকে খুলতে হবে। প্রতিটি ভাল কাজে ডান দিকটাকে আগে রাখতে হবে।

৩৮১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী -কে খালি পায়ে এবং জুতা পায়ে উভয় অবস্থায়ই সালাত পড়তে এবং সালাত শেষে ডান ও বাম উভয় দিকে ফিরে বসতে দেখেছি।
৩৮২. হযরত ইমরান ইবন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী খালি পায়ে ও জুতা পায়ে পথ চলতেন, দাঁড়িয়ে ও বসে উভয় অবস্থায় পান করতেন, (নামায) শেষে ডান বা বাঁ দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।
৩৮৩. আবূ মাসলামা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুতা পরে সালাত পড়া সম্পর্কে আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, নবী চপ্পল পরে সালাত পড়তেন।
৩৮৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে চপ্পল পরে সালাত পড়তে দেখেছি। তাই আমিও তাঁর মত চপ্পল পরে সালাত পড়ি।
৩৮৫. হযরত বারাআ (ইব্‌ন আযিব) (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আমাদের নিয়ে কা'বার পাশে জুতা পরে এবং জুতা ছাড়া সালাত পড়েছেন।
৩৮৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী জুতা পায়ে এবং জুতা ছাড়াও সালাত পড়েছেন।
৩৮৭. হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ জুতা পরেই সালাত পড়তেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ধনুকের বর্ণনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ধনুকের বর্ণনা


৩৮৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সফরে জুমু'আর দিনে ধনুকের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।
৩৮৯. ইয়াযীদ ইব্‌ন বারআ তার পিতা বারাআ (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী একটি ধনুক অথবা লাঠির উপর ভর দিয়ে ঈদের দিন তাদের সামনে খুতবা দিতেন।

ফায়দা: এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন জিনিসে ভর দিয়ে খুতবা দেয়া সুন্নত। যুদ্ধের সময়ে হলে যে সব জিনিসে ইসলামের শান-শওকত ও গৌরব প্রকাশ পায় সেসব জিনিস হাতে নিয়ে খুতবা দেয়া উচিত। যেমন তরবারি, ধনুক ইত্যাদি। আর যুদ্ধের সময় না হলে লাঠি ইত্যাদির ওপর ভর দিয়ে খুতবা দেয়া সুন্নত।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর বর্শার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বর্শার বর্ণনা


৩৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একটি বর্শা অথবা লাঠি ছিলো। সেটি মাটিতে গেড়ে দেয়া হতো এবং তিনি সেদিকে মুখ করে সালাত পড়তেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন উন্মুক্ত স্থানে সালাত পড়ে সেখানে মানুষ যাতায়াত করে তাহলে সেক্ষেত্রে মুসল্লি ব্যক্তির কর্তব্য সুতরা বা আড়াল হিসেবে ব্যবহারের জন্য অন্তত একহাত লম্বা একটি কাষ্ঠদণ্ড, বর্শা বা অন্য কোন জিনিস গেড়ে দেওয়া।

ফন্ট সাইজ
15px
17px