📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর কাতান, তুলা ও ইয়ামানী পোশাক ব্যবহার করার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর কাতান, তুলা ও ইয়ামানী পোশাক ব্যবহার করার বর্ণনা


৩২০. হাম্মাদ ইব্‌ন যায়দ (রা) হযরত আইউব (রা)-এর এক বন্ধুর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সালত ইব্‌ন রাশিদ মুহাম্মদ ইব্‌ন সীরীনের কাছে গেলেন। সে সময় তিনি (সালত ইবন রাশেদ) পশমী জুব্বা, পশমী লুঙ্গি ও পশমী পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সীরীন তাঁর এই পোশাক অপছন্দ করলেন এবং বললেন, আমার ধারণা যে একদল লোক পশমী পোশাক পরিধান করে এবং বলে যে, ঈসা ইব্‌ন মারিয়াম (আ)-ও পশমী পোশাক পরিধান করেছেন। অথচ আমি যাকে মিথ্যা বলার সন্দেহ করতে পারি না—এমন একজন লোক আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সুতি, তুলা এবং নক্শাদার ইয়ামানী কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করেছেন। আমাদের নবী-এর সুন্নতই অধিক অনুসরণযোগ্য।

ফায়দা : সালত ইব্‌ন রাশিদ (রা) যেভাবে আপাদমস্তক শুধু পশমী পোশাক পরিধান করেছিলেন তা দেখে এ ধারণা হতে পারতো যে, এটি সুন্নত পোশাক। তাই ইমাম মুহাম্মদ ইব্‌ন সীরীনের অপছন্দ করার অর্থ এ নয় যে, নবী কর্তৃক পশমী পোশাক পরিধান প্রমাণিত নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে পশমী বস্ত্র ছাড়া নবী অন্যান্য পোশাকও পরিধান করেছেন এবং সেটিই তাঁর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নত। সুতরাং পশমী পোশাককে প্রতীক বানিয়ে নেয়ার অর্থ হবে এই যে, পোশাকের ব্যাপারে আমরা নবী-এর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নতকে উপেক্ষা করছি। ফিকহের এই মাসয়ালাটিকে এর দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা যায় যে, সালাতে সর্বদা একই সূরা পড়া ‘মাকরূহ’। কারণ এ কাজ দ্বারা কুরআন মজীদের অন্যান্য সূরার প্রতি বেপরোয়াভাব দেখানো হয়। সুতরাং বোঝা যায় যে, নির্দিষ্ট সূরা পাঠ অপছন্দনীয় নয় এবং কুরআনের অবশিষ্টাংশ না পড়াটা মাকরূহ।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর আংটির বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর আংটির বর্ণনা


৩২১. হযরত জাবির (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২২. হযরত জাবির (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৩২৩. সলত ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি তাঁকে ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আর যতদূর আমার মনে পড়ে তিনি বলেছেন: নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৪. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাফর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৬. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাফর (রা) উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৩২৭. আবদুল্লাহ্ (রা) উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন। এ ছাড়া আরো কিছু সংখ্যক হাদীস থেকে জানা যায় যে, তিনি বাঁ হাতেও আংটি পরেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি কখনো ডান হাতে আবার কখনো বাঁ হাতে আংটি পরতেন। এসব হাদীসের বক্তব্যের মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। মোটকথা উপরোক্ত দু'ভাবেই আংটি পরা হাদীস থেকে প্রমাণিত। সাড়ে চার মাশার অধিক ওজনের না হলে অধিকাংশ আলিমের মতে রৌপ্যের আংটি পরা জায়েয। হানাফী আলিমদের মতে লোহা বা পিতলের আংটি পরা জায়েয নয়। স্বর্ণের আংটি পরিধান করা পুরুষদের জন্য হারাম এবং মেয়েদের জন্য জায়েয।

৩২৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির পাথরখচিত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, আংটি পরার সময় নবী আংটির পাথর খচিত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। কারণ, তাঁর আংটি পরার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য প্রকাশ করা ছিল না। বরং যে উদ্দেশ্যে তিনি আংটি পরতেন তা হলো সেই যুগে আরবের বাইরের দেশসমূহের রাজা-বাদশাহরা মোহরবিহীন চিঠিপত্রের কোন গুরুত্ব দিতেন না। নবী ইসলাম প্রচারের জন্য যখন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ্র কাছে পত্র পাঠাতেন তখন মোহর করার প্রয়োজন দেখা দিল। সেই যুগে আংটির সাথে মোহর বানানোর নিয়ম ছিল। এই উদ্দেশ্যে নবী আংটি তৈরি করেছিলেন।

৩২৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন।
৩৩০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর বাঁ হাতে আংটি পরিধান করতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরেছেন। আর অধিকাংশ বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি ডান হাতে আংটি পরেছেন। এ থেকে বোঝা যায় যে, ডান হাতে আংটি পরা উত্তম। তবে বাঁ হাতে পরাও জায়েয।

৩৩১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন এবং বলতেন: বাঁ হাতের চেয়ে ডান হাত সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার অধিক হকদার।
৩৩২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন। ওফাত লাভের সময়ও তাঁর ডান হাতে আংটি ছিল।
৩৩৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরেছেন।
৩৩৪. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরেছেন।
৩৩৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন। পরে (এ নিয়ম পরিবর্তন করে) বাঁ হাতে পরেছেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী-এর অভ্যাস ছিলো ডান হাতে আংটি পরা। কিন্তু পরে তিনি এ অভ্যাস পরিবর্তন করে বাঁ হাতে পরতে শুরু করেন। সুতরাং দু'হাতেই আংটি পরা নবী থেকে প্রমাণিত।

৩৩৬. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩৩৭. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩৩৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।

ফায়দা: এসব হাদীস থেকেও জানা যায় যে, নবী-এর নিয়ম ছিলো ডান হাতে আংটি পরিধান করা।

৩৩৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর আংটি তাঁর বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে পরিহিত ছিলো।
৩৪০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী এর আংটি তাঁর এই আঙুলে পরা থাকতো। এই বলে তিনি নিজের বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের দিকে ইশারা করলেন।
৩৪১. জাফর ইব্‌ন মুহাম্মদ (র) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ আবু বকর, উমর, আলী, হাসান ও হুসাইন (রা) সবাই বাম হাতে আংটি পরতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী-কে বাম হাতে আংটি পরতে দেখে সাহাবায়ে কিরামও বাম হাতে আংটি পরতে শুরু করেছিলেন।

৩৪২. রুবাইহ্ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আবু সাঈদ (র) কর্তৃক তার পিতার সূত্রে তার দাদা (আবূ সাঈদ) থেকে বর্ণিত যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরতেন।
৩৪৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির নক্শার দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : নবী-এর বাঁ হাতে আংটি পরা এ দু'টি হাদীস থেকেও প্রমাণিত হয়। কতিপয় আলিম এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে, সৌন্দর্যের জন্য ডান হাতে আংটি পরা উত্তম এবং মোহর লাগানোর জন্য বাঁ হাতে পরা সুবিধাজনক। কারণ বাঁ হাত থেকে আংটি খুলে সহজেই মোহর করা যায়।

৩৪৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর আংটির খোদাইকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। একই সনদে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী-এর আংটির খোদাইকৃত অংশ ছিল হাবশার তৈরি এবং তাতে লেখা ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ (আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। 'لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ' ছিল একটি লাইনে, 'مُحَمَّد' ছিল একটি লাইনে এবং 'رَسُولُ اللَّهِ' একটি লাইনে।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ্ -এর আংটিতে কালিমা তাইয়্যেবা খোদিত ছিল। নবী তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পত্র সমূহে এই পবিত্র নক্শা খোদিত মোহরটি ব্যবহার করতেন।

৩৪৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ডান হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির নক্শার দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।
৩৪৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী তাঁর আংটির খোদাইকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সব সময় তাঁর আংটির নক্শাকৃত অংশ ভেতরের দিকে রাখতেন। কারণ তিনি সৌন্দর্যের জন্য আংটি ব্যবহার করতেন না।

৩৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর রৌপ্যের একটি আংটি ছিলো যার নক্শা ছিলো হাব্শার তৈরি।
৩৪৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, নবী তাঁর ডান হাতে একটি আংটি পরেছেন যার নক্শা ছিল হাবশার তৈরি এবং সেটি ছিল তাঁর হাতের তালুর দিকে।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী এমন আংটি পরেছেন যাতে হাবশার তৈরি নক্শা ছিলো।

৩৪৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর আংটি ও তার নক্শা ছিল রৌপ্যের।
৩৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর আংটি ও তার খোদাইকৃত অংশ ছিলো রৌপ্যের। আমি হুমায়দকে তার নক্সা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সেটি কেমন ছিলো তা আমি জানি না।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী -এর আংটি ছিলো রৌপ্যের। প্রথম হাদীসটির বর্ণনা অনুসারে তার খোদাইকৃত অংশ ছিলো রৌপ্যের তৈরি।

৩৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ একটি আংটি পরলেন। তিনি তার খোদাইকৃত অংশ হাতের তালুর দিকে রাখতেন। পরে তিনি তা খুলে ফেললে অন্যরাও তাদের আংটি খুলে ফেললো। এরপর তিনি আরেকটি আংটি তৈরি করে নিলেন যা দ্বারা তিনি মোহর করতেন কিন্তু হাতে পরতেন না।
৩৫২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্ -এর হাতের আঙুলে একটি রূপার আংটি দেখেছেন। এরপর লোকেরাও আংটি তৈরি করে পরতে থাকলে তিনি তা খুলে ফেললেন। অতপর লোকেরাও তাদের আংটি খুলে ফেললো।
৩৫৩. হযরত যিয়াদ ইবন সা'দ (রা) ইবন শিহাবের সূত্রে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে রৌপ্যের একটি আংটি দেখেছেন। তারপর লোকেরা আংটি তৈরি করে পরতে শুরু করলে নবী তাঁর হাতের আংটি খুলে ফেললেন। এ দেখে লোকেরাও তাদের হাতের আংটিসমূহ খুলে ফেললো।

ফায়দা: হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অধিকাংশ সময় হাতে আংটি পরতেন না, শুধু মোহর করার প্রয়োজনে তা কাছে রাখতেন। কিন্তু এক সময় তিনি তা পরিধান করলে তাঁর অনুসরণে লোকেরাও আংটি তৈরি করিয়ে পরিধান করতে শুরু করলো। এ অবস্থা দেখে তিনি তাঁর হাতের আংটি খুলে ফেললেন যাতে লোকেরা আংটি পরিধান অত্যাবশ্যকীয় মনে না করেন।

৩৫৪ হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী একটি আংটি তৈরি করিয়ে পরলেন। পরে তিনি বললেন: আজ এই আংটি আমাকে তোমাদের প্রতি মনোযোগ দিতে দেয়নি। কারণ, আমি একবার আংটির প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছিলাম এবং একবার তোমাদের প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছিলাম। তারপর তিনি সেটি খুলে রাখলেন।

৩৫৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী স্বর্ণের একটি আংটি তৈরি করিয়ে তা পরলেন। তিনি তখন নক্শাকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। এ দেখে লোকেরাও আংটি তৈরি করে পরতে শুরু করলো। এতে তিনি একদিন মিম্বরে উঠে বসলেন এবং হাত থেকে আংটিটি খুলে বললেন, আমি আংটি পরলে তার নক্শাকরা দিকটি ভেতরের দিকে রাখতাম। এরপর তিনি সেটি ফেলে দিয়ে বললেন : আল্লাহ্র শপথ! আমি আর কখনো এটি পরবো না। এ অবস্থা দেখে লোকজন সবাই তাদের আংটি খুলে ফেললো।

ফায়দা : এটা ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনা। সে সময় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার জায়েয ছিলো। পরে পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম হয়ে যায়।

৩৫৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আরবের বাইরে রাজা-বাদশাহদের কাছে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে রৌপ্যের আংটি তৈরির নির্দেশ দিলেন এবং উক্ত আংটির ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করিয়ে নিলেন।

৩৫৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী রৌপ্যের একটি আংটি করালেন এবং তাতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করে লোকদের বললেন: আমি একটি আংটি বানিয়ে তার ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করেছি। সুতরাং অন্য কেউ যেন এ কথাটি তার আংটির ওপরে খোদাই না করে।
৩৫৮. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আংটিটির নক্শায় 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদিত ছিলো।
৩৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রৌপ্যের একটি আংটি তৈরি করিয়ে তার ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করালেন এবং বললেনঃ তোমরা তোমাদের আংটিতে অনুরূপ খোদাই করাবে না।
৩৬০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর আংটি তিন লাইনে খোদিত ছিলো। এক লাইনে 'মুহাম্মদ', এক লাইনে 'রাসূল' এবং আরেক লাইনে 'আল্লাহ্' খোদিত ছিলো।
৩৬১. ইয়াস ইবনুল হারিস ইব্‌ন মুআইকিব তার দাদা মুআইকিব (রা) থেকে বর্ণিত, নবী-এর আংটি ছিলো লোহার তৈরি এবং তার ওপর রৌপ্যের আস্তরণ দেওয়া ছিলো। বেশির ভাগ সময় তা আমার হাতে থাকতো। আংটির সংরক্ষণকারী ছিলেন মুআইকিব।
৩৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী-এর সম্পূর্ণ আংটিটি ছিলো রৌপ্যের তৈরি।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা


৩৬৩. হযরত আমির (র) থেকে বর্ণিত, মুগীরা ইব্‌ন শুবা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ -এর মোজা কোথা থেকে এসেছিলো? তিনি বললেন, দেহইয়া কালবী (রা) মোজা দু'টি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা ব্যবহারও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো যে বিষয়টি জানা যায়, তাহলো তিনি উপহার গ্রহণ করতেন।

৩৬৪. ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) নবী -কে কালো রঙের দু'টি সাদামাঠা চামড়ার মোজা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। নবী মোজা দু'টি পরেছেন এবং তার ওপর 'মাসেহ্' করেছেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) কর্তৃক উপহার হিসেবে প্রেরিত কালো রঙের দু'টি চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, মোজার ওপর 'মাসেহ্' করা জায়েয।

৩৬৫. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা (রা) তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর চপ্পলের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চপ্পলের বর্ণনা


৩৬৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর ফিতাওয়ালা এক জোড়া চপ্পল ছিলো।
৩৬৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চপ্পলের দুটি ফিতা ছিলো।
৩৬৮. হাম্মাম (র) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী-এর চপ্পল ছিলো দুই ফিতা বিশিষ্ট। তিনি এর একটি রাখতেন পায়ের বৃদ্ধাঙুলি ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুলের মধ্যখানে এবং অপরটি রাখতেন পায়ের মধ্যমা আঙুল ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুলের মধ্যখানে।

৩৬৯. তায়েমী (র) বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন ব্যক্তি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যিনি নবী-এর চপ্পল দেখেছেন যার দুটি ফিতা ছিলো এবং বাঁধার পর উক্ত ফিতার কিছুটা অবশিষ্ট থাকতো।
৩৭০. হযরত আওস ইব্‌ন আওস আস-সাকাফী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে পনের দিন ছিলাম। আমি তাঁর চপ্পলে পাশাপাশি দু'টি ফিতা দেখেছি।

৩৭১. আবু ইসহাক (র) এমন এক ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যিনি আম্র ইবন হুরাইস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আম্র ইবন হুরাইস (রা) বলেন, আমি নবী -কে এমন একজোড়া চপ্পল পায়ে সালাত পড়তে দেখেছি যাতে ডবল চামড়া লাগিয়ে সেলাই করা ছিলো।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ ডবল সেলাই বা তালি দেয়া চপ্পল ব্যবহার করেছেন। আরও জানা যায় যে, তিনি চপ্পল পরেই সালাত পড়েছেন।

৩৭২. হুমায়দ ইব্‌ন হিলাল (র) এক ব্যক্তির সূত্রে এক বেদুঈন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-কে গরুর চামড়ার চপ্পল পায়ে দিয়ে সালাত পড়তে দেখেছি।
৩৭৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-কে গরুর চামড়ার তৈরি ডবল সেলাই যুক্ত চপ্পল পরে সালাত পড়তে দেখেছি।
৩৭৪. মুতারিফ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে ডবল সেলাই বা তালিযুক্ত চপ্পল পরে নামায পড়তে দেখেছি।
৩৭৫. ইয়াযীদ ইব্‌ন আবু যিয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখেছি নবী -এর চপ্পল, তলার দিকে মধ্যখানে পাতলা ও জিহবার পার্শ্বদেশের মত সরু ছিল এবং গোড়ালির পেছনের দিকের অংশ কিছুটা বেরিয়ে থাকতো।

৩৭৬. উবাইদ ইব্‌ন জুরাইয (র) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা)-কে বললেন, আমি আপনাকে লোমবিহীন পাকা চামড়ার চপ্পল পরতে দেখি (এর কারণ কি)? তিনি বললেন, আমি অধিকাংশ সময় নবী -কে লোমহীন পাকা চামড়ার চপ্পল পরতে দেখেছি। ঐ ধরনের চপ্পল পরে তিনি ওযুও করতেন।

৩৭৭. ঈসা ইবন তাহমান (র) বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবন মালিক (রা) দুটি ফিতা বিশিষ্ট দুখানা চপ্পল এনে আমাদের দেখালেন যার চামড়ার ওপর কোন পশম ছিলো না।
৩৭৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর চপ্পলের দু'টি ফিতা ছিলো এবং আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা)-এর চপ্পলেরও দু'টি ফিতা ছিলো।
৩৭৯. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সব সময় ডান পায়ে আগে চপ্পল পরতেন এবং খোলার সময় বাঁ পায়ের চপ্পল আগে খুলতেন।
৩৮০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চপ্পল পরার সময় রাসূলুল্লাহ্ ডান পা থেকে শুরু করতেন এবং খোলার সময় বাঁ পা থেকে শুরু করতেন।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, চপ্পল বা জুতা পরার সময় প্রথমে ডান পায়ে ও পরে বাঁ পায়ে এবং খোলার সময় প্রথমে বাঁ পা থেকে এবং পরে ডান পা থেকে খুলতে হবে। প্রতিটি ভাল কাজে ডান দিকটাকে আগে রাখতে হবে।

৩৮১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী -কে খালি পায়ে এবং জুতা পায়ে উভয় অবস্থায়ই সালাত পড়তে এবং সালাত শেষে ডান ও বাম উভয় দিকে ফিরে বসতে দেখেছি।
৩৮২. হযরত ইমরান ইবন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী খালি পায়ে ও জুতা পায়ে পথ চলতেন, দাঁড়িয়ে ও বসে উভয় অবস্থায় পান করতেন, (নামায) শেষে ডান বা বাঁ দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।
৩৮৩. আবূ মাসলামা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুতা পরে সালাত পড়া সম্পর্কে আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, নবী চপ্পল পরে সালাত পড়তেন।
৩৮৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে চপ্পল পরে সালাত পড়তে দেখেছি। তাই আমিও তাঁর মত চপ্পল পরে সালাত পড়ি।
৩৮৫. হযরত বারাআ (ইব্‌ন আযিব) (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আমাদের নিয়ে কা'বার পাশে জুতা পরে এবং জুতা ছাড়া সালাত পড়েছেন।
৩৮৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী জুতা পায়ে এবং জুতা ছাড়াও সালাত পড়েছেন।
৩৮৭. হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ জুতা পরেই সালাত পড়তেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px