📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর পশমী পোশাকের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পশমী পোশাকের বর্ণনা


৩১০. হযরত সাহল ইব্‌ন সাদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর জন্য বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে একটি পশমী জুব্বা তৈরি করা হলে তিনি তা পরিধান করলেন এবং ঐ পোশাকে তিনি যত খুশি হয়েছিলেন ইতিপূর্বে আর কোন পোশাকে তত খুশি হননি। তিনি জুব্বাটি হাত দিয়ে এভাবে স্পর্শ করছিলেন এবং বলছিলেন, দেখো এটা কত সুন্দর! এই সময় সেখানে উপস্থিত লোকদের মধ্যে একজন বেদুঈন ছিলো। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি আমাকে উপহার দিন। তিনি তখনই জুব্বাটি খুলে তার হাতে তুলে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, পরে তিনি অনুরূপ আরেকটি জুব্বা বানানোর নির্দেশ দিলেন। উক্ত জুব্বা তৈরি করার কাজ চলছিলো—এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর ওফাত হয়ে গেল।

ফায়দা : এই পশমী পোশাকটি তাঁর খুবই পছন্দ হয়েছিলো। তিনি সেটির প্রশংসাও করেছিলেন। কিন্তু বেদুঈন লোকটি সেটি তাঁর কাছে উপহার হিসাবে চেয়ে নিলে তিনি অনুরূপ আরেকটি জুব্বা তৈরির নির্দেশ দিলেন। এ হাদীস থেকে নবী ﷺ-এর বদান্যতা ও দানশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বিনাদ্বিধায় তাঁর প্রিয় জুব্বাটি চাওয়া মাত্র বেদুঈনকে হাদিয়া হিসেবে প্রদান করলেন।

৩১১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক সময়) নবী ﷺ শুধুমাত্র পশমী জুব্বা পরিধান করে সালাত পড়ছিলেন। সেই সময় তাঁর পরনে কোন লুঙ্গি বা চাদর ছিলো না। প্রত্যেক বার 'রুকু' করার সময় তিনি হাত উঠিয়েছিলেন।

৩১২. হযরত উবাদা ইব্‌ন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ একবার রোমে তৈরি সংকীর্ণ হাতা বিশিষ্ট পশমী জুব্বা পরে আমাদের সালাত পড়িয়েছেন।

ফায়দা : এসব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী পশমী জুব্বা পরিধান করেছেন।

৩১৩. হযরত উরওয়া ইব্‌ন মুগীরা (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর গায়ে একটি পশমী জুব্বা দেখেছি।

৩১৪. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-কে একটি পশমী জুব্বা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি।

৩১৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ পশমী কাপড়, তালি দেওয়া জুতা ও মোটা বস্ত্র পরিধান করেছেন এবং অরুচিকর খাবার খেয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি হাসানকে জিজ্ঞেস করলাম অরুচিকর খাবার কি? তিনি বললেন, মোটা যব যা পানি ছাড়া গলাধঃকরণ করা যায় না।

ফায়দা : এই হাদীস থেকে অনুমান করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ কত সহজ-সরল জীবন যাপন করেছেন। তিনি রাজা-বাদশাহদের মত আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসপূর্ণ জীবন যাপন করেননি। সুতরাং পশমী ও সুতী মোটা কাপড় পেলে তাই পরেছেন। তালি দেওয়া জুতা ব্যবহার করেছেন এবং অতি সাধারণ খাবার পেলে তাই খেয়েছেন। যা পেয়েছেন দ্বিধাহীন চিত্তে সহজে তাই ব্যবহার করেছেন, যদিও সামান্য ইংগিত দিলে সব কিছুর ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারতো। তিনি উত্তম পোশাক ও উন্নতমানের সুস্বাদু খাদ্য যোগাড় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কখনো সেদিকে আগ্রহী হননি। তাঁর এই সাদামাটা পূত-পবিত্র জীবন মানুষের মনকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেছিলো।

৩১৬. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কখনো কখনো শুধু পশমী জুব্বা পরে সালাত পড়েছেন। সেটি ছাড়া তাঁর গায়ে অন্য কোন কাপড় থাকতো না।

৩১৭. আবূ আইউব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ পশমী বস্ত্র পরিধান করতেন, জুতা সেলাই করতেন, জামায় তালি লাগাতেন, গাধার পিঠে আরোহণ করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি আগ্রহী নয় সে আমার (উম্মত) নয়।

৩১৮. হযরত আবু বুরদা তাঁর পিতা (আবূ মূসা আশআরী) (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ মোটা পশমী কাপড় পরিধান করতেন, গাধার পিঠে সওয়ার হতেন, বকরী দোহন করতেন এবং দুর্বল ও অসহায়দের ডাকে সাড়া দিতেন।

ফায়দা : নবী কতটা সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন এ দু'টি হাদীস থেকেও তা জানা যায়। তিনি এমন কি পারিবারিক কাজকর্ম করতেও দ্বিধা সংকোচ অনুভব বা অপমান বোধ করতেন না। তিনি নিজের সব রকম কাজ নিজেই করতেন।

৩১৯. হযরত আায়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর জন্য একখানা কালো পশমী চাদর তৈরি করা হলে তিনি তা পরিধান করলেন এবং খুবই পছন্দ করলেন। কিন্তু ঘামে ভিজে তা থেকে পশমের গন্ধ আসছে দেখে তিনি তা পরিত্যাগ করলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী পশমের তৈরি কালো রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন যা তাঁর খুব পছন্দনীয় ছিলো। তবে ঘামের গন্ধের কারণে তা বর্জন করেন। এ হাদীস থেকে তাঁর সুন্দর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর কাতান, তুলা ও ইয়ামানী পোশাক ব্যবহার করার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর কাতান, তুলা ও ইয়ামানী পোশাক ব্যবহার করার বর্ণনা


৩২০. হাম্মাদ ইব্‌ন যায়দ (রা) হযরত আইউব (রা)-এর এক বন্ধুর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সালত ইব্‌ন রাশিদ মুহাম্মদ ইব্‌ন সীরীনের কাছে গেলেন। সে সময় তিনি (সালত ইবন রাশেদ) পশমী জুব্বা, পশমী লুঙ্গি ও পশমী পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সীরীন তাঁর এই পোশাক অপছন্দ করলেন এবং বললেন, আমার ধারণা যে একদল লোক পশমী পোশাক পরিধান করে এবং বলে যে, ঈসা ইব্‌ন মারিয়াম (আ)-ও পশমী পোশাক পরিধান করেছেন। অথচ আমি যাকে মিথ্যা বলার সন্দেহ করতে পারি না—এমন একজন লোক আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সুতি, তুলা এবং নক্শাদার ইয়ামানী কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করেছেন। আমাদের নবী-এর সুন্নতই অধিক অনুসরণযোগ্য।

ফায়দা : সালত ইব্‌ন রাশিদ (রা) যেভাবে আপাদমস্তক শুধু পশমী পোশাক পরিধান করেছিলেন তা দেখে এ ধারণা হতে পারতো যে, এটি সুন্নত পোশাক। তাই ইমাম মুহাম্মদ ইব্‌ন সীরীনের অপছন্দ করার অর্থ এ নয় যে, নবী কর্তৃক পশমী পোশাক পরিধান প্রমাণিত নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে পশমী বস্ত্র ছাড়া নবী অন্যান্য পোশাকও পরিধান করেছেন এবং সেটিই তাঁর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নত। সুতরাং পশমী পোশাককে প্রতীক বানিয়ে নেয়ার অর্থ হবে এই যে, পোশাকের ব্যাপারে আমরা নবী-এর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নতকে উপেক্ষা করছি। ফিকহের এই মাসয়ালাটিকে এর দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা যায় যে, সালাতে সর্বদা একই সূরা পড়া ‘মাকরূহ’। কারণ এ কাজ দ্বারা কুরআন মজীদের অন্যান্য সূরার প্রতি বেপরোয়াভাব দেখানো হয়। সুতরাং বোঝা যায় যে, নির্দিষ্ট সূরা পাঠ অপছন্দনীয় নয় এবং কুরআনের অবশিষ্টাংশ না পড়াটা মাকরূহ।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর আংটির বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর আংটির বর্ণনা


৩২১. হযরত জাবির (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২২. হযরত জাবির (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৩২৩. সলত ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি তাঁকে ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আর যতদূর আমার মনে পড়ে তিনি বলেছেন: নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৪. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাফর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩২৬. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাফর (রা) উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৩২৭. আবদুল্লাহ্ (রা) উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন। এ ছাড়া আরো কিছু সংখ্যক হাদীস থেকে জানা যায় যে, তিনি বাঁ হাতেও আংটি পরেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি কখনো ডান হাতে আবার কখনো বাঁ হাতে আংটি পরতেন। এসব হাদীসের বক্তব্যের মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। মোটকথা উপরোক্ত দু'ভাবেই আংটি পরা হাদীস থেকে প্রমাণিত। সাড়ে চার মাশার অধিক ওজনের না হলে অধিকাংশ আলিমের মতে রৌপ্যের আংটি পরা জায়েয। হানাফী আলিমদের মতে লোহা বা পিতলের আংটি পরা জায়েয নয়। স্বর্ণের আংটি পরিধান করা পুরুষদের জন্য হারাম এবং মেয়েদের জন্য জায়েয।

৩২৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির পাথরখচিত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, আংটি পরার সময় নবী আংটির পাথর খচিত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। কারণ, তাঁর আংটি পরার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য প্রকাশ করা ছিল না। বরং যে উদ্দেশ্যে তিনি আংটি পরতেন তা হলো সেই যুগে আরবের বাইরের দেশসমূহের রাজা-বাদশাহরা মোহরবিহীন চিঠিপত্রের কোন গুরুত্ব দিতেন না। নবী ইসলাম প্রচারের জন্য যখন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ্র কাছে পত্র পাঠাতেন তখন মোহর করার প্রয়োজন দেখা দিল। সেই যুগে আংটির সাথে মোহর বানানোর নিয়ম ছিল। এই উদ্দেশ্যে নবী আংটি তৈরি করেছিলেন।

৩২৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন।
৩৩০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর বাঁ হাতে আংটি পরিধান করতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরেছেন। আর অধিকাংশ বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি ডান হাতে আংটি পরেছেন। এ থেকে বোঝা যায় যে, ডান হাতে আংটি পরা উত্তম। তবে বাঁ হাতে পরাও জায়েয।

৩৩১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন এবং বলতেন: বাঁ হাতের চেয়ে ডান হাত সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার অধিক হকদার।
৩৩২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন। ওফাত লাভের সময়ও তাঁর ডান হাতে আংটি ছিল।
৩৩৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরেছেন।
৩৩৪. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরেছেন।
৩৩৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন। পরে (এ নিয়ম পরিবর্তন করে) বাঁ হাতে পরেছেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী-এর অভ্যাস ছিলো ডান হাতে আংটি পরা। কিন্তু পরে তিনি এ অভ্যাস পরিবর্তন করে বাঁ হাতে পরতে শুরু করেন। সুতরাং দু'হাতেই আংটি পরা নবী থেকে প্রমাণিত।

৩৩৬. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩৩৭. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।
৩৩৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।

ফায়দা: এসব হাদীস থেকেও জানা যায় যে, নবী-এর নিয়ম ছিলো ডান হাতে আংটি পরিধান করা।

৩৩৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর আংটি তাঁর বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে পরিহিত ছিলো।
৩৪০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী এর আংটি তাঁর এই আঙুলে পরা থাকতো। এই বলে তিনি নিজের বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের দিকে ইশারা করলেন।
৩৪১. জাফর ইব্‌ন মুহাম্মদ (র) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ আবু বকর, উমর, আলী, হাসান ও হুসাইন (রা) সবাই বাম হাতে আংটি পরতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী-কে বাম হাতে আংটি পরতে দেখে সাহাবায়ে কিরামও বাম হাতে আংটি পরতে শুরু করেছিলেন।

৩৪২. রুবাইহ্ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইব্‌ন আবু সাঈদ (র) কর্তৃক তার পিতার সূত্রে তার দাদা (আবূ সাঈদ) থেকে বর্ণিত যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরতেন।
৩৪৩. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী বাঁ হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির নক্শার দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : নবী-এর বাঁ হাতে আংটি পরা এ দু'টি হাদীস থেকেও প্রমাণিত হয়। কতিপয় আলিম এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে, সৌন্দর্যের জন্য ডান হাতে আংটি পরা উত্তম এবং মোহর লাগানোর জন্য বাঁ হাতে পরা সুবিধাজনক। কারণ বাঁ হাত থেকে আংটি খুলে সহজেই মোহর করা যায়।

৩৪৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর আংটির খোদাইকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। একই সনদে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী-এর আংটির খোদাইকৃত অংশ ছিল হাবশার তৈরি এবং তাতে লেখা ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ (আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। 'لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ' ছিল একটি লাইনে, 'مُحَمَّد' ছিল একটি লাইনে এবং 'رَسُولُ اللَّهِ' একটি লাইনে।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ্ -এর আংটিতে কালিমা তাইয়্যেবা খোদিত ছিল। নবী তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পত্র সমূহে এই পবিত্র নক্শা খোদিত মোহরটি ব্যবহার করতেন।

৩৪৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ডান হাতে আংটি পরতেন এবং আংটির নক্শার দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।
৩৪৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী তাঁর আংটির খোদাইকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সব সময় তাঁর আংটির নক্শাকৃত অংশ ভেতরের দিকে রাখতেন। কারণ তিনি সৌন্দর্যের জন্য আংটি ব্যবহার করতেন না।

৩৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর রৌপ্যের একটি আংটি ছিলো যার নক্শা ছিলো হাব্শার তৈরি।
৩৪৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, নবী তাঁর ডান হাতে একটি আংটি পরেছেন যার নক্শা ছিল হাবশার তৈরি এবং সেটি ছিল তাঁর হাতের তালুর দিকে।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী এমন আংটি পরেছেন যাতে হাবশার তৈরি নক্শা ছিলো।

৩৪৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর আংটি ও তার নক্শা ছিল রৌপ্যের।
৩৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর আংটি ও তার খোদাইকৃত অংশ ছিলো রৌপ্যের। আমি হুমায়দকে তার নক্সা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সেটি কেমন ছিলো তা আমি জানি না।

ফায়দা : এ দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী -এর আংটি ছিলো রৌপ্যের। প্রথম হাদীসটির বর্ণনা অনুসারে তার খোদাইকৃত অংশ ছিলো রৌপ্যের তৈরি।

৩৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ একটি আংটি পরলেন। তিনি তার খোদাইকৃত অংশ হাতের তালুর দিকে রাখতেন। পরে তিনি তা খুলে ফেললে অন্যরাও তাদের আংটি খুলে ফেললো। এরপর তিনি আরেকটি আংটি তৈরি করে নিলেন যা দ্বারা তিনি মোহর করতেন কিন্তু হাতে পরতেন না।
৩৫২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্ -এর হাতের আঙুলে একটি রূপার আংটি দেখেছেন। এরপর লোকেরাও আংটি তৈরি করে পরতে থাকলে তিনি তা খুলে ফেললেন। অতপর লোকেরাও তাদের আংটি খুলে ফেললো।
৩৫৩. হযরত যিয়াদ ইবন সা'দ (রা) ইবন শিহাবের সূত্রে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে রৌপ্যের একটি আংটি দেখেছেন। তারপর লোকেরা আংটি তৈরি করে পরতে শুরু করলে নবী তাঁর হাতের আংটি খুলে ফেললেন। এ দেখে লোকেরাও তাদের হাতের আংটিসমূহ খুলে ফেললো।

ফায়দা: হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অধিকাংশ সময় হাতে আংটি পরতেন না, শুধু মোহর করার প্রয়োজনে তা কাছে রাখতেন। কিন্তু এক সময় তিনি তা পরিধান করলে তাঁর অনুসরণে লোকেরাও আংটি তৈরি করিয়ে পরিধান করতে শুরু করলো। এ অবস্থা দেখে তিনি তাঁর হাতের আংটি খুলে ফেললেন যাতে লোকেরা আংটি পরিধান অত্যাবশ্যকীয় মনে না করেন।

৩৫৪ হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী একটি আংটি তৈরি করিয়ে পরলেন। পরে তিনি বললেন: আজ এই আংটি আমাকে তোমাদের প্রতি মনোযোগ দিতে দেয়নি। কারণ, আমি একবার আংটির প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছিলাম এবং একবার তোমাদের প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছিলাম। তারপর তিনি সেটি খুলে রাখলেন।

৩৫৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী স্বর্ণের একটি আংটি তৈরি করিয়ে তা পরলেন। তিনি তখন নক্শাকৃত দিকটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন। এ দেখে লোকেরাও আংটি তৈরি করে পরতে শুরু করলো। এতে তিনি একদিন মিম্বরে উঠে বসলেন এবং হাত থেকে আংটিটি খুলে বললেন, আমি আংটি পরলে তার নক্শাকরা দিকটি ভেতরের দিকে রাখতাম। এরপর তিনি সেটি ফেলে দিয়ে বললেন : আল্লাহ্র শপথ! আমি আর কখনো এটি পরবো না। এ অবস্থা দেখে লোকজন সবাই তাদের আংটি খুলে ফেললো।

ফায়দা : এটা ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনা। সে সময় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার জায়েয ছিলো। পরে পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম হয়ে যায়।

৩৫৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আরবের বাইরে রাজা-বাদশাহদের কাছে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে রৌপ্যের আংটি তৈরির নির্দেশ দিলেন এবং উক্ত আংটির ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করিয়ে নিলেন।

৩৫৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী রৌপ্যের একটি আংটি করালেন এবং তাতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করে লোকদের বললেন: আমি একটি আংটি বানিয়ে তার ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করেছি। সুতরাং অন্য কেউ যেন এ কথাটি তার আংটির ওপরে খোদাই না করে।
৩৫৮. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আংটিটির নক্শায় 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদিত ছিলো।
৩৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রৌপ্যের একটি আংটি তৈরি করিয়ে তার ওপর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করালেন এবং বললেনঃ তোমরা তোমাদের আংটিতে অনুরূপ খোদাই করাবে না।
৩৬০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর আংটি তিন লাইনে খোদিত ছিলো। এক লাইনে 'মুহাম্মদ', এক লাইনে 'রাসূল' এবং আরেক লাইনে 'আল্লাহ্' খোদিত ছিলো।
৩৬১. ইয়াস ইবনুল হারিস ইব্‌ন মুআইকিব তার দাদা মুআইকিব (রা) থেকে বর্ণিত, নবী-এর আংটি ছিলো লোহার তৈরি এবং তার ওপর রৌপ্যের আস্তরণ দেওয়া ছিলো। বেশির ভাগ সময় তা আমার হাতে থাকতো। আংটির সংরক্ষণকারী ছিলেন মুআইকিব।
৩৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী-এর সম্পূর্ণ আংটিটি ছিলো রৌপ্যের তৈরি।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ 📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মোজার বর্ণনা


৩৬৩. হযরত আমির (র) থেকে বর্ণিত, মুগীরা ইব্‌ন শুবা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ -এর মোজা কোথা থেকে এসেছিলো? তিনি বললেন, দেহইয়া কালবী (রা) মোজা দু'টি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা ব্যবহারও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো যে বিষয়টি জানা যায়, তাহলো তিনি উপহার গ্রহণ করতেন।

৩৬৪. ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) নবী -কে কালো রঙের দু'টি সাদামাঠা চামড়ার মোজা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। নবী মোজা দু'টি পরেছেন এবং তার ওপর 'মাসেহ্' করেছেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী নাজাশী (হাবশার বাদশাহ্) কর্তৃক উপহার হিসেবে প্রেরিত কালো রঙের দু'টি চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, মোজার ওপর 'মাসেহ্' করা জায়েয।

৩৬৫. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা (রা) তাঁর পিতা বুরায়দা (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px