📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা


۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা


۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পাগড়ির বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পাগড়ির বর্ণনা


٢٩٣ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَخْطُبُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ .

২৯৩. হযরত জাফর ইন্ন আম্মর ইন্ন হুরাইস (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী -কে কালো পাগড়ি বাঁধা অবস্থায় খুৎবা দিতে দেখেছি।

٢٩٤ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَكَّةَ عَامَ الفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةُ سَوْدَاءُ .

২৯৪. আবূ যুবায়র (র) জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ মাথায় কালো পাগড়ি বেঁধে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

٢٩٥ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللهِ تَعَمَّمَ بِعِمَامَةِ سَوْدَاءَ -

২৯৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ -কে কালো পাগড়ি বাঁধতে দেখেছেন।

ফায়দা : পাগড়ি পরা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ্ প্রায়ই পাগড়ি পরতেন। তিনি পাগড়ি পরতে উৎসাহিত করতেন। হযরত উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একটি হাদীসে নবী বলেছেন: তোমরা পাগড়ি পরিধান করো। কারণ পাগড়ি ফেরেস্তাদের বিশেষ প্রতীক (অর্থাৎ ফেরেস্তাগণ পাগড়ি পরে থাকেন) আর পাগড়ির প্রান্তভাগকে পিঠের ওপর লটকিয়ে দাও। (মিশকাত, পৃষ্ঠা ৩৭৭)

এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে নবী ওপরে বর্ণিত বিশেষ ক্ষেত্রে কালো রঙের পাগড়ি পরেছেন। তবে বেশির ভাগ সময়ে তিনি সাদা পাগড়ি পরিধান করতেন। যেহেতু রঙের মধ্যে সাদা রঙই ছিলো তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। একটি হাদীসে নবী বলেছেন : সাদা পোশাকই তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক। তোমাদের মৃতদেরকে সাদা কাপড়ে দাফন করো। তাই অধিকাংশ সময় তাঁর পাগড়ি হতো সাদা রঙের। কিন্তু বিশেষ কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি কালো রঙের পাগড়ি ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ মক্কা বিজয় কিংবা খুৎবা ইত্যাদির সময়। ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে, এসব ক্ষেত্রে নবী -এর কালো পাগড়ি পরিধান ছিলো নেতৃত্বের প্রতীকস্বরূপ। আরবী ভাষায় কালো রঙকে সোয়াদ বলে। আর সোয়াদ শব্দ থেকেই সুওদ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ নেতৃত্ব। বড় আকারের মানব সমাবেশকে আরবীতে সোয়াদ্ আযম বলা হয়। সুতরাং ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, বনু আব্বাস (রা) এই দিকটি বিবেচনা করেই কালো রঙকে নিজেদের প্রতীক বানিয়েছিল।

নবী -এর পবিত্র পাগড়ির পরিমাপ সম্পর্কে আল্লামা জাযরী (র) লিখেছেন: আমি নবী -এর পাগড়ির সঠিক পরিমাপ জানার জন্য অনুসন্ধান চালিয়েছি, যাতে কোন এক জায়গা থেকে তা জানতে পারি। কিন্তু আমি সঠিক পরিমাপ জানতে পারিনি। তবে আমার এক নির্ভরযোগ্য মুরব্বী আল্লামা নববী (র)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী -এর পাগড়ি ছিলো দুই প্রকারের। ছোট এবং বড়। তাঁর ছোট পাগড়ির দৈর্ঘ ছিলো সাত হাত এবং বড় পাগড়ির দৈর্ঘ ছিলো বার হাত। (মিরকাত)

পাগড়ির বহুবিধ পার্থিব উপকারিতাও রয়েছে। যেমন সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়া, প্রভাব ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া ইত্যাদি।

٢٩٦. عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ دَخَلَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ وَالغُبَارُ عَلَى كَتِفَيْهِ.

২৯৬. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ যে সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিলো এবং তাঁর দুই কাঁধের ওপর ধুলাবালি জমে ছিলো।

٢٩٧. عَنْ خَالِدٍ الْحَنَّاءِ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ السَّلَامِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَعْتَمُ؟ قَالَ يُدِيرُ كُوْرَ العِمَامَةِ عَلَى رَأْسِهِ وَيَغْرِسُهَا مِنْ وَرَائِهِ وَيُرْخِي لَهَا نُوَابَةُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، قَالَ نَافِعُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ -

২৯৭. খালিদ হায্যা (র) আবূ আবদুস্ সালাম (র) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম রাসূলুল্লাহ্ কিভাবে পাগড়ি পরতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ পাগড়িটা মাথায় জড়াতেন এবং তার প্রান্তভাগ পেছনের দিকে ভাঁজের মধ্যবর্তী স্থানে লটকিয়ে দিতেন। নাফি' (হাদীস বর্ণনাকারী) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা)-ও সব সময় এভাবে পাগড়ি বাঁধতেন।

ফায়দা: এ হাদীসে নবী -এর পাগড়ি বাঁধার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে। এটাই পাগড়ি বাঁধার সুন্নত পদ্ধতি। আলিমগণ আজ পর্যন্ত এই নিয়মেই পাগড়ি বেঁধে থাকেন।

۲۹۸. عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ قَالَ كَسَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَيْمًا عِمَامَةً يُقَالُ لَهَا السَّحَابُ فَاقْبَلَ عَلِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهِيَ عَلَيْهِ فَقَالَ هُذَا عَلِيٌّ قَدْ أَقْبَلَ فِي السَّحَابِ فَحَرَّفَهَا هَؤُلَاءِ فَقَالُوْا عَلِيُّ فِي السَّحَابِ -

২৯৮. জাফর ইবন মুহাম্মদ (র) তার পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আলী (রা)-কে সাহাব (মেঘ) নামক একটি পাগড়ি পরিয়েছিলেন। এক সময় আলী (রা) সেই পাগড়ি পরে নবী-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, এই তো সাহাব (মেঘ) পরে আলী (রা) এসেছেন। কিন্তু এই সব লোক এই বিষয়টিকে বিকৃত করে বলতে শুরু করেছে যে, আলী (রা) মেঘের মধ্যে আছেন।

ফায়দা : এ হাদীসটি বর্ণনায় গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য এ কথা তুলে ধরা যে, নবী -এর কাছে 'আস্ সাহাব' (মেঘ) নামের একটি পাগড়ি ছিলো। তিনি হযরত আলী (রা)-কে সেই পাগড়িটা উপহার দিয়েছিলেন। হযরত আলী (রা) সেটি পরিধান করতেন। একদিন তিনি সেটি পরিধান করে নবী -এর দরবারে হাযির হলে তিনি বললেন, দেখো! আলী সাহাব পাগড়ি পরিধান করে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীসের এই কথাটা বিকৃত করে গোঁড়া শী'আরা এই বলে তাদের দাবি প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছে যে, নবী বলেছেন, হযরত আলী মেঘের মধ্যে অর্থাৎ আসমানে আছেন। সুতরাং তারা বিশ্বাস করে যে, হযরত আলী (রা)-কে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কিছুকাল পরে তিনি এই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটা যে বিকৃতি ও সত্য গোপন তা সুস্পষ্ট। নবী তো বলেছিলেন যে, আলী 'সাহাব' নামক পাগড়ি পরে আসছে।

۲۹۹. عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ كَانَ إِذَا اعْتَمَّ سَدَلَ عِمَامَتَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ -

২৯৯. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী পাগড়ি পরিধান করলে তাঁর শামলা (প্রান্তভাগ) দুই কাঁধের মধ্যখানে লটকিয়ে দিতেন।

٣٠٠. عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَسْدِلُهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ -

৩০০. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ পাগড়ির প্রান্তভাগে দুই কাঁধের মধ্যস্থানে লটকিয়ে দিতেন।

ফায়দা : রাসূলুল্লাহ্ -এর অভ্যাস ছিলো পাগড়ি বাঁধলে তিনি তার প্রান্তভাগ দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে লটকিয়ে দিতেন। এটাই উত্তম ও সুন্নত পন্থা।

٣٠١ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّاءُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةُ قَطَرِيهُ

৩০১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ্-কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি কাতারে তৈরি একটি পাগড়ি পরেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ কাতারে তৈরি পাগড়িও পরিধান করেছেন। قطری বলে কাতার শহরের সাথে সম্পর্কিত বোঝানো হয়েছে। সেই যুগে ঐ শহর থেকে উন্নতমানের কাপড় প্রস্তুত হয়ে আসতো।

۳۰۲. عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ فَتَحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ .

৩০২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী কাল রঙের পাগড়ি পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পাগড়ির বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পাগড়ির বর্ণনা


٢٩٣ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَخْطُبُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ .

২৯৩. হযরত জাফর ইন্ন আম্মর ইন্ন হুরাইস (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী -কে কালো পাগড়ি বাঁধা অবস্থায় খুৎবা দিতে দেখেছি।

٢٩٤ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَكَّةَ عَامَ الفَتْحِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةُ سَوْدَاءُ .

২৯৪. আবূ যুবায়র (র) জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ মাথায় কালো পাগড়ি বেঁধে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

٢٩٥ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللهِ تَعَمَّمَ بِعِمَامَةِ سَوْدَاءَ -

২৯৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ -কে কালো পাগড়ি বাঁধতে দেখেছেন।

ফায়দা : পাগড়ি পরা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ্ প্রায়ই পাগড়ি পরতেন। তিনি পাগড়ি পরতে উৎসাহিত করতেন। হযরত উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একটি হাদীসে নবী বলেছেন: তোমরা পাগড়ি পরিধান করো। কারণ পাগড়ি ফেরেস্তাদের বিশেষ প্রতীক (অর্থাৎ ফেরেস্তাগণ পাগড়ি পরে থাকেন) আর পাগড়ির প্রান্তভাগকে পিঠের ওপর লটকিয়ে দাও। (মিশকাত, পৃষ্ঠা ৩৭৭)

এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে নবী ওপরে বর্ণিত বিশেষ ক্ষেত্রে কালো রঙের পাগড়ি পরেছেন। তবে বেশির ভাগ সময়ে তিনি সাদা পাগড়ি পরিধান করতেন। যেহেতু রঙের মধ্যে সাদা রঙই ছিলো তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। একটি হাদীসে নবী বলেছেন : সাদা পোশাকই তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক। তোমাদের মৃতদেরকে সাদা কাপড়ে দাফন করো। তাই অধিকাংশ সময় তাঁর পাগড়ি হতো সাদা রঙের। কিন্তু বিশেষ কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি কালো রঙের পাগড়ি ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ মক্কা বিজয় কিংবা খুৎবা ইত্যাদির সময়। ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে, এসব ক্ষেত্রে নবী -এর কালো পাগড়ি পরিধান ছিলো নেতৃত্বের প্রতীকস্বরূপ। আরবী ভাষায় কালো রঙকে সোয়াদ বলে। আর সোয়াদ শব্দ থেকেই সুওদ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ নেতৃত্ব। বড় আকারের মানব সমাবেশকে আরবীতে সোয়াদ্ আযম বলা হয়। সুতরাং ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, বনু আব্বাস (রা) এই দিকটি বিবেচনা করেই কালো রঙকে নিজেদের প্রতীক বানিয়েছিল।

নবী -এর পবিত্র পাগড়ির পরিমাপ সম্পর্কে আল্লামা জাযরী (র) লিখেছেন: আমি নবী -এর পাগড়ির সঠিক পরিমাপ জানার জন্য অনুসন্ধান চালিয়েছি, যাতে কোন এক জায়গা থেকে তা জানতে পারি। কিন্তু আমি সঠিক পরিমাপ জানতে পারিনি। তবে আমার এক নির্ভরযোগ্য মুরব্বী আল্লামা নববী (র)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী -এর পাগড়ি ছিলো দুই প্রকারের। ছোট এবং বড়। তাঁর ছোট পাগড়ির দৈর্ঘ ছিলো সাত হাত এবং বড় পাগড়ির দৈর্ঘ ছিলো বার হাত। (মিরকাত)

পাগড়ির বহুবিধ পার্থিব উপকারিতাও রয়েছে। যেমন সূর্যের উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়া, প্রভাব ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া ইত্যাদি।

٢٩٦. عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ دَخَلَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ وَالغُبَارُ عَلَى كَتِفَيْهِ.

২৯৬. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ যে সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিলো এবং তাঁর দুই কাঁধের ওপর ধুলাবালি জমে ছিলো।

٢٩٧. عَنْ خَالِدٍ الْحَنَّاءِ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ السَّلَامِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَعْتَمُ؟ قَالَ يُدِيرُ كُوْرَ العِمَامَةِ عَلَى رَأْسِهِ وَيَغْرِسُهَا مِنْ وَرَائِهِ وَيُرْخِي لَهَا نُوَابَةُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، قَالَ نَافِعُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ -

২৯৭. খালিদ হায্যা (র) আবূ আবদুস্ সালাম (র) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম রাসূলুল্লাহ্ কিভাবে পাগড়ি পরতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ পাগড়িটা মাথায় জড়াতেন এবং তার প্রান্তভাগ পেছনের দিকে ভাঁজের মধ্যবর্তী স্থানে লটকিয়ে দিতেন। নাফি' (হাদীস বর্ণনাকারী) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা)-ও সব সময় এভাবে পাগড়ি বাঁধতেন।

ফায়দা: এ হাদীসে নবী -এর পাগড়ি বাঁধার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে। এটাই পাগড়ি বাঁধার সুন্নত পদ্ধতি। আলিমগণ আজ পর্যন্ত এই নিয়মেই পাগড়ি বেঁধে থাকেন।

۲۹۸. عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِهِ قَالَ كَسَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَيْمًا عِمَامَةً يُقَالُ لَهَا السَّحَابُ فَاقْبَلَ عَلِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهِيَ عَلَيْهِ فَقَالَ هُذَا عَلِيٌّ قَدْ أَقْبَلَ فِي السَّحَابِ فَحَرَّفَهَا هَؤُلَاءِ فَقَالُوْا عَلِيُّ فِي السَّحَابِ -

২৯৮. জাফর ইবন মুহাম্মদ (র) তার পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আলী (রা)-কে সাহাব (মেঘ) নামক একটি পাগড়ি পরিয়েছিলেন। এক সময় আলী (রা) সেই পাগড়ি পরে নবী-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, এই তো সাহাব (মেঘ) পরে আলী (রা) এসেছেন। কিন্তু এই সব লোক এই বিষয়টিকে বিকৃত করে বলতে শুরু করেছে যে, আলী (রা) মেঘের মধ্যে আছেন।

ফায়দা : এ হাদীসটি বর্ণনায় গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য এ কথা তুলে ধরা যে, নবী -এর কাছে 'আস্ সাহাব' (মেঘ) নামের একটি পাগড়ি ছিলো। তিনি হযরত আলী (রা)-কে সেই পাগড়িটা উপহার দিয়েছিলেন। হযরত আলী (রা) সেটি পরিধান করতেন। একদিন তিনি সেটি পরিধান করে নবী -এর দরবারে হাযির হলে তিনি বললেন, দেখো! আলী সাহাব পাগড়ি পরিধান করে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীসের এই কথাটা বিকৃত করে গোঁড়া শী'আরা এই বলে তাদের দাবি প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছে যে, নবী বলেছেন, হযরত আলী মেঘের মধ্যে অর্থাৎ আসমানে আছেন। সুতরাং তারা বিশ্বাস করে যে, হযরত আলী (রা)-কে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কিছুকাল পরে তিনি এই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটা যে বিকৃতি ও সত্য গোপন তা সুস্পষ্ট। নবী তো বলেছিলেন যে, আলী 'সাহাব' নামক পাগড়ি পরে আসছে।

۲۹۹. عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ كَانَ إِذَا اعْتَمَّ سَدَلَ عِمَامَتَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ -

২৯৯. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী পাগড়ি পরিধান করলে তাঁর শামলা (প্রান্তভাগ) দুই কাঁধের মধ্যখানে লটকিয়ে দিতেন।

٣٠٠. عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَسْدِلُهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ -

৩০০. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ পাগড়ির প্রান্তভাগে দুই কাঁধের মধ্যস্থানে লটকিয়ে দিতেন।

ফায়দা : রাসূলুল্লাহ্ -এর অভ্যাস ছিলো পাগড়ি বাঁধলে তিনি তার প্রান্তভাগ দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে লটকিয়ে দিতেন। এটাই উত্তম ও সুন্নত পন্থা।

٣٠١ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّاءُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةُ قَطَرِيهُ

৩০১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ্-কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি কাতারে তৈরি একটি পাগড়ি পরেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ কাতারে তৈরি পাগড়িও পরিধান করেছেন। قطری বলে কাতার শহরের সাথে সম্পর্কিত বোঝানো হয়েছে। সেই যুগে ঐ শহর থেকে উন্নতমানের কাপড় প্রস্তুত হয়ে আসতো।

۳۰۲. عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ فَتَحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ .

৩০২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী কাল রঙের পাগড়ি পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00