📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পবিত্র চাদরের বর্ণনা
۲۷۰ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ امْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ رِدَاءٌ نَجْرَانِي غَلِيْظُ الْحَاشِيَةِ -
২৭০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথে চলছিলাম। সে সময় তাঁর গায়ে নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট একখানা চাদর ছিলো।
ফায়দা: এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ্-এর পবিত্র চাদরের বর্ণনা স্থান পেয়েছে। তিনি নাজরানের তৈরি মোটা পাড় বিশিষ্ট চাঁদর ব্যবহার করেছেন।
۲۷۱ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ طُولُ رِدَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَرْبَعَةَ ادْرُع وَعَرْضُهُ ذِرَاعَيْنِ وَنِصْفًا وَكَانَ لَهُ ثَوْبٌ أَخْضَرُ يَلْبَسُهُ لِلْوَفُوْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْهِ -
২৭১. হযরত উরওয়া ইন্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চাদর চার হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস্থ ছিল। তাঁর কাছে সবুজ রঙের একখানা কাপড় ছিল। বাইরের প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে সাক্ষাতের জন্য আসলে তিনি তা পরিধান করে তাদের সাক্ষাৎ দিতেন।
ফায়দা: নবী চার হাত দীর্ঘ ও আড়াই হাত প্রস্থের চাদর ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, তাঁর কাছে সবুজ রঙের একটি জুব্বা ছিলো। বিশেষ করে বাইরের প্রতিনিধিদল আগমন করলে তিনি সেটি পরিধান করে তাদেরকে সাক্ষাৎ দিতেন।
۲۷۲ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ رِدَاءُ وَثَوْبُ أَخْضَرَ طُولُهُ أَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشَبِرٍ وَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ الْيَوْمَ قَدْ كَانَ خَلِقَ فَطَوَّقَهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -
২৭২. হযরত উরওয়া (রা) বলেন, যে পোশাক পরিধান করে রাসূলুল্লাহ্ বহিরাগত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ দান করতেন তা ছিলো একখানা সবুজ চাদর ও জুব্বা। চাদরখানার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো দুই হাত ও এক বিঘত। নবী-এর সেই জুব্বাটি বরকত লাভের জন্য বর্তমানে খলীফাদের কাছে সংরক্ষিত। জুব্বাটি খুবই পুরানো হয়ে গিয়েছে। সংরক্ষণ ও সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটিকে ভাঁজ করে আরেকটি কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। এবং তাঁরা কেবল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময় তা ব্যবহার করে থাকেন।
ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পোশাক ব্যবহার করতেন। এসব পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে উক্ত সবুজ রঙের চাদর ও জুব্বার উল্লেখ পাওয়া যায়- যা তাঁর পরবর্তী খলীফাগণও বরকত লাভের উদ্দেশ্যে দুই ঈদে ও অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতেন। এ দু'টি পোশাকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি সাধারণত আমাদের হিসাব অনুসারে দুই গজ লম্বা ও সোয়া গজ চওড়া চাদর ব্যবহার করতেন।
۲۷۳. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ يَوْمًا حَتَّى بَلَغَ وَسَطَ الْمَسْجِدِ فَادْرَكَهُ أَعْرَابِي فَجَبَدَ بِرِدَائِهِ مِنْ وَرَائِهِ وَكَانَ رِدَاءَ خَشِنًا فَحَمَرَ رَقْبَتُهُ .
২৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী একদিন উঠে দাঁড়ালেন এবং মসজিদের মাঝখানে গিয়ে পৌছলেন। তখন এক বেদুঈন তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছলো এবং পেছন দিক থেকে তাঁর চাদর ধরে সজোরে টান দিলো। চাদর বেশ মোটা ছিলো। চাদর ধরে টান দেয়ায় তাঁর ঘাড়ে লাল দাগ পড়ে গেল।
ফায়দা: এখানে নবী -এর চাদরের উল্লেখ করাই কেবল গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী মোটা চাদর ব্যবহার করতেন।
٢٧٤ عَنْ اسْمَعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ثَوبَانِ مَصْبُوغَانِ بِالزُّعْفَرَانِ رِدَاءُ وَعِمَامَةً
২৭৪. ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর তার পিতার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি এমন অবস্থায় নবী -কে দেখেছি যখন তাঁর গায়ে জাফরানী রঙের দুইখানা কাপড় অর্থাৎ একখানা চাদর ও পাগড়ি ছিলো।
ফায়দা : এ হাদীসটিতেও নবী -এর পবিত্র চাদরের উল্লেখ আছে। এ কারণে গ্রন্থকার হাদীসটি এখানে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাদীসটি থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী জাফরানী রঙের কাপড়ও ব্যবহার করেছেন। অধিক ব্যবহার অথবা ধোয়ার কারণে যার সুবাস নিঃশেষ হয়ে এসেছিলো।
বিভিন্ন হাদীসে পুরুষের জন্য জাফরানী রঙের এমন কাপড় ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে যাতে এখনো জাফরানের প্রভাব অবশিষ্ট আছে। সুতরাং কুবলা বিনত্ মাখরামা (রা) একটি হাদীসে বলেন, আমি জাফরানী রঙের দু'খানা চাদর পরিহিত অবস্থায় নবী-কে দেখেছিলাম। কাপড়ে তখন আর জাফরানের কোন প্রভাব অবশিষ্ট ছিলো না। সুতরাং এ সব হাদীসের মধ্যে সমন্বয় হলো, জাফরানের সুগন্ধ বিদূরিত হওয়ার পরে তিনি ঐ সব কাপড় ব্যবহার করেছেন।
٢٧٥ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ ثَوْبَيْنِ أَصْفَرَيْنِ -
২৭৫. ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর পবিত্র দেহে হলুদ রঙের দু'খানা কাপড় দেখেছি।
ফায়দা : এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, নবী হলুদ রঙের কাপড় ব্যবহার করেছেন যাতে জাফরানের সুগন্ধি অবশিষ্ট ছিলো না।
٢٧٦ عَنْ دَلَهُمِ بْنِ صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ إِنَّ النَّجَاشِي كَتَبَ إِلَى النَّبِيِّ إِنِّي قَدْ زَوَّجْتُكَ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِكَ وَهِيَ عَلَى دِينِكَ أَمْ حَبِيْبَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ وَاهْدِى لَكَ هَدِيَّةٌ جَامِعَةً قَمِيصًا وَسَرَاوِيلَ وَعِظَافًا وَ خُفَّيْنِ سَانِجَيْنِ، فَتَوَضَّاءَ النَّبِيُّ ﷺ ومَسَحَ عَلَيْهَا قَالَ سُلَيْمَانُ قُلْتُ لِلْهَيْثَمِ مَا الْعِطَافُ؟ قَالَ الطَّيْلِسَانُ، قُلْتُ لِلْهَيْثَمِ أَلَيْسَ بَيْنَهُمَا رَجُلٌ؟ ابْنَ حُجَيْرَةَ قَالَ قَوْمَهُ لِي وَشَدَّهُ ابْنُ حُجَيْرَةٌ -
২৭৬. দালহাম ইন্ন সালিহ্ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি শুনেছি, আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরাইদা (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, (হাবশার বাদশাহ্) নাজাশী, নবী -কে পত্র লিখে জানালেন যে, আপনার কওমের ও আপনার দীনের অনুসারী উম্মে হাবিবা বিন্ত আবু সুফিয়ানকে আপনার সাথে বিয়ে দিয়েছি এবং আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উপহার অর্থাৎ কামিজ, পায়জামা, ইতাফ ও সাদা চামড়ার তৈরি মোজাও পাঠাচ্ছি। বর্ণনাকারী বলেন, নবী ﷺ ওযু করে সেই মোজার ওপর 'মাসেহ্' করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী সুলাইমান বলেন, আমি আমার উস্তাদ হায়সামকে জিজ্ঞেস করলাম 'ইতাফ' কি? তিনি বললেন, কাঁধের ওপর রাখার সবুজ রঙের তায়লিসান চাদর। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি আবার হায়সামকে বললাম, সালহাম এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরায়দার মাঝখানে কি আর কোন বর্ণনাকারী নেই? তিনি বললেন, তাদের মাঝখানে বর্ণনাকারী হলেন ইবন হুজায়রা। তিনি অত্যন্ত নির্ভরতার সাথে জোর দিয়ে বললেন যে, তাদের দু'জনের মধ্যকার বর্ণনাকারী ইন্ন হুজায়রা।
ফায়দা : উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা বিন্ত আবূ সুফিয়ান (রা)-এর আসল নাম রামলা বিন্ত আবূ সুফিয়ান। প্রথমে তাঁর বিয়ে হয়েছিলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহাশের সাথে।
আবদুল্লাহ্ মক্কা থেকে হিজরত করে হাবশায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে মুরতাদ হয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং ঐ অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। কিন্তু উম্মে হাবীবা (রা) ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন। হাবশার বাদশাহ্ নাজাশী রাসূলুল্লাহ্ -এর অভিপ্রায় অবহিত হয়ে তাঁর সাথে উম্মে হাবীবার বিয়ে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ মাহর আদায় করেন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রও উপহার হিসাবে প্রদান করেন। এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে কামিজ, পায়জামা, চাদর ও চামড়ার মোজার কথা এ হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নাজাশী চারশ দিনার মাহর নির্ধারণ করেছিলেন এবং নিজেই তা আদায় করেছিলেন। এ ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়, চোখে না দেখলেও রাসূলুল্লাহ্ -এর প্রতি নাজাশীর কত ভক্তি ও ভালবাসা ছিলো।
হাদীসে মোজার ওপর 'মাসেহ্' করার কথা বলা হয়েছে। এটা ফিকহ মাসয়ালা। চামড়ার মোজার ওপর 'মাসেহ্' করা সকল ইমামের মতে জায়েয। এমনকি সুতি বা পশমী মোজাও যদি এতটা মোটা হয় বা, তা পরে জুতা ছাড়াই রাস্তা চলা সম্ভব তাহলে অধিকাংশ ইমামের মতে তার ওপর 'মাসেহ্' করাও জায়েয। এর সময়সীমা মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিন রাত এবং নিজ বাড়িতে অবস্থানকারীর জন্য একদিন ও একরাত। মোজা পরিধানকারী যদি এই সময়সীমার মধ্যে ওযু করার জন্য মোজা না খুলে তার ওপর 'মাসেহ্' করেন তাহলে ওযু বিশুদ্ধ হবে। বিস্তারিত জানার জন্য ফিকহ্ গ্রন্থসমূহ দ্রষ্টব্য।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পবিত্র চাদরের বর্ণনা
۲۷۰ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ امْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ رِدَاءٌ نَجْرَانِي غَلِيْظُ الْحَاشِيَةِ -
২৭০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথে চলছিলাম। সে সময় তাঁর গায়ে নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট একখানা চাদর ছিলো।
ফায়দা: এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ্-এর পবিত্র চাদরের বর্ণনা স্থান পেয়েছে। তিনি নাজরানের তৈরি মোটা পাড় বিশিষ্ট চাঁদর ব্যবহার করেছেন।
۲۷۱ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ طُولُ رِدَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَرْبَعَةَ ادْرُع وَعَرْضُهُ ذِرَاعَيْنِ وَنِصْفًا وَكَانَ لَهُ ثَوْبٌ أَخْضَرُ يَلْبَسُهُ لِلْوَفُوْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْهِ -
২৭১. হযরত উরওয়া ইন্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চাদর চার হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস্থ ছিল। তাঁর কাছে সবুজ রঙের একখানা কাপড় ছিল। বাইরের প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে সাক্ষাতের জন্য আসলে তিনি তা পরিধান করে তাদের সাক্ষাৎ দিতেন।
ফায়দা: নবী চার হাত দীর্ঘ ও আড়াই হাত প্রস্থের চাদর ব্যবহার করেছেন। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, তাঁর কাছে সবুজ রঙের একটি জুব্বা ছিলো। বিশেষ করে বাইরের প্রতিনিধিদল আগমন করলে তিনি সেটি পরিধান করে তাদেরকে সাক্ষাৎ দিতেন।
۲۷۲ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ رِدَاءُ وَثَوْبُ أَخْضَرَ طُولُهُ أَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشَبِرٍ وَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ الْيَوْمَ قَدْ كَانَ خَلِقَ فَطَوَّقَهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -
২৭২. হযরত উরওয়া (রা) বলেন, যে পোশাক পরিধান করে রাসূলুল্লাহ্ বহিরাগত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ দান করতেন তা ছিলো একখানা সবুজ চাদর ও জুব্বা। চাদরখানার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো দুই হাত ও এক বিঘত। নবী-এর সেই জুব্বাটি বরকত লাভের জন্য বর্তমানে খলীফাদের কাছে সংরক্ষিত। জুব্বাটি খুবই পুরানো হয়ে গিয়েছে। সংরক্ষণ ও সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটিকে ভাঁজ করে আরেকটি কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। এবং তাঁরা কেবল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময় তা ব্যবহার করে থাকেন।
ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পোশাক ব্যবহার করতেন। এসব পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে উক্ত সবুজ রঙের চাদর ও জুব্বার উল্লেখ পাওয়া যায়- যা তাঁর পরবর্তী খলীফাগণও বরকত লাভের উদ্দেশ্যে দুই ঈদে ও অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতেন। এ দু'টি পোশাকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি সাধারণত আমাদের হিসাব অনুসারে দুই গজ লম্বা ও সোয়া গজ চওড়া চাদর ব্যবহার করতেন।
۲۷۳. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ يَوْمًا حَتَّى بَلَغَ وَسَطَ الْمَسْجِدِ فَادْرَكَهُ أَعْرَابِي فَجَبَدَ بِرِدَائِهِ مِنْ وَرَائِهِ وَكَانَ رِدَاءَ خَشِنًا فَحَمَرَ رَقْبَتُهُ .
২৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী একদিন উঠে দাঁড়ালেন এবং মসজিদের মাঝখানে গিয়ে পৌছলেন। তখন এক বেদুঈন তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছলো এবং পেছন দিক থেকে তাঁর চাদর ধরে সজোরে টান দিলো। চাদর বেশ মোটা ছিলো। চাদর ধরে টান দেয়ায় তাঁর ঘাড়ে লাল দাগ পড়ে গেল।
ফায়দা: এখানে নবী -এর চাদরের উল্লেখ করাই কেবল গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী মোটা চাদর ব্যবহার করতেন।
٢٧٤ عَنْ اسْمَعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ثَوبَانِ مَصْبُوغَانِ بِالزُّعْفَرَانِ رِدَاءُ وَعِمَامَةً
২৭৪. ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর তার পিতার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি এমন অবস্থায় নবী -কে দেখেছি যখন তাঁর গায়ে জাফরানী রঙের দুইখানা কাপড় অর্থাৎ একখানা চাদর ও পাগড়ি ছিলো।
ফায়দা : এ হাদীসটিতেও নবী -এর পবিত্র চাদরের উল্লেখ আছে। এ কারণে গ্রন্থকার হাদীসটি এখানে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া হাদীসটি থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী জাফরানী রঙের কাপড়ও ব্যবহার করেছেন। অধিক ব্যবহার অথবা ধোয়ার কারণে যার সুবাস নিঃশেষ হয়ে এসেছিলো।
বিভিন্ন হাদীসে পুরুষের জন্য জাফরানী রঙের এমন কাপড় ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে যাতে এখনো জাফরানের প্রভাব অবশিষ্ট আছে। সুতরাং কুবলা বিনত্ মাখরামা (রা) একটি হাদীসে বলেন, আমি জাফরানী রঙের দু'খানা চাদর পরিহিত অবস্থায় নবী-কে দেখেছিলাম। কাপড়ে তখন আর জাফরানের কোন প্রভাব অবশিষ্ট ছিলো না। সুতরাং এ সব হাদীসের মধ্যে সমন্বয় হলো, জাফরানের সুগন্ধ বিদূরিত হওয়ার পরে তিনি ঐ সব কাপড় ব্যবহার করেছেন।
٢٧٥ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ ثَوْبَيْنِ أَصْفَرَيْنِ -
২৭৫. ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর পবিত্র দেহে হলুদ রঙের দু'খানা কাপড় দেখেছি।
ফায়দা : এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, নবী হলুদ রঙের কাপড় ব্যবহার করেছেন যাতে জাফরানের সুগন্ধি অবশিষ্ট ছিলো না।
٢٧٦ عَنْ دَلَهُمِ بْنِ صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ إِنَّ النَّجَاشِي كَتَبَ إِلَى النَّبِيِّ إِنِّي قَدْ زَوَّجْتُكَ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِكَ وَهِيَ عَلَى دِينِكَ أَمْ حَبِيْبَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ وَاهْدِى لَكَ هَدِيَّةٌ جَامِعَةً قَمِيصًا وَسَرَاوِيلَ وَعِظَافًا وَ خُفَّيْنِ سَانِجَيْنِ، فَتَوَضَّاءَ النَّبِيُّ ﷺ ومَسَحَ عَلَيْهَا قَالَ سُلَيْمَانُ قُلْتُ لِلْهَيْثَمِ مَا الْعِطَافُ؟ قَالَ الطَّيْلِسَانُ، قُلْتُ لِلْهَيْثَمِ أَلَيْسَ بَيْنَهُمَا رَجُلٌ؟ ابْنَ حُجَيْرَةَ قَالَ قَوْمَهُ لِي وَشَدَّهُ ابْنُ حُجَيْرَةٌ -
২৭৬. দালহাম ইন্ন সালিহ্ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি শুনেছি, আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরাইদা (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, (হাবশার বাদশাহ্) নাজাশী, নবী -কে পত্র লিখে জানালেন যে, আপনার কওমের ও আপনার দীনের অনুসারী উম্মে হাবিবা বিন্ত আবু সুফিয়ানকে আপনার সাথে বিয়ে দিয়েছি এবং আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উপহার অর্থাৎ কামিজ, পায়জামা, ইতাফ ও সাদা চামড়ার তৈরি মোজাও পাঠাচ্ছি। বর্ণনাকারী বলেন, নবী ﷺ ওযু করে সেই মোজার ওপর 'মাসেহ্' করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী সুলাইমান বলেন, আমি আমার উস্তাদ হায়সামকে জিজ্ঞেস করলাম 'ইতাফ' কি? তিনি বললেন, কাঁধের ওপর রাখার সবুজ রঙের তায়লিসান চাদর। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি আবার হায়সামকে বললাম, সালহাম এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন বুরায়দার মাঝখানে কি আর কোন বর্ণনাকারী নেই? তিনি বললেন, তাদের মাঝখানে বর্ণনাকারী হলেন ইবন হুজায়রা। তিনি অত্যন্ত নির্ভরতার সাথে জোর দিয়ে বললেন যে, তাদের দু'জনের মধ্যকার বর্ণনাকারী ইন্ন হুজায়রা।
ফায়দা : উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা বিন্ত আবূ সুফিয়ান (রা)-এর আসল নাম রামলা বিন্ত আবূ সুফিয়ান। প্রথমে তাঁর বিয়ে হয়েছিলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাহাশের সাথে।
আবদুল্লাহ্ মক্কা থেকে হিজরত করে হাবশায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে মুরতাদ হয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং ঐ অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। কিন্তু উম্মে হাবীবা (রা) ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন। হাবশার বাদশাহ্ নাজাশী রাসূলুল্লাহ্ -এর অভিপ্রায় অবহিত হয়ে তাঁর সাথে উম্মে হাবীবার বিয়ে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ মাহর আদায় করেন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রও উপহার হিসাবে প্রদান করেন। এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে কামিজ, পায়জামা, চাদর ও চামড়ার মোজার কথা এ হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নাজাশী চারশ দিনার মাহর নির্ধারণ করেছিলেন এবং নিজেই তা আদায় করেছিলেন। এ ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়, চোখে না দেখলেও রাসূলুল্লাহ্ -এর প্রতি নাজাশীর কত ভক্তি ও ভালবাসা ছিলো।
হাদীসে মোজার ওপর 'মাসেহ্' করার কথা বলা হয়েছে। এটা ফিকহ মাসয়ালা। চামড়ার মোজার ওপর 'মাসেহ্' করা সকল ইমামের মতে জায়েয। এমনকি সুতি বা পশমী মোজাও যদি এতটা মোটা হয় বা, তা পরে জুতা ছাড়াই রাস্তা চলা সম্ভব তাহলে অধিকাংশ ইমামের মতে তার ওপর 'মাসেহ্' করাও জায়েয। এর সময়সীমা মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিন রাত এবং নিজ বাড়িতে অবস্থানকারীর জন্য একদিন ও একরাত। মোজা পরিধানকারী যদি এই সময়সীমার মধ্যে ওযু করার জন্য মোজা না খুলে তার ওপর 'মাসেহ্' করেন তাহলে ওযু বিশুদ্ধ হবে। বিস্তারিত জানার জন্য ফিকহ্ গ্রন্থসমূহ দ্রষ্টব্য।
📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা
۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -
২৭৭. ইসহাক ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:
إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)
আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।
۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ
২৭৮. বারাআন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।
ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।
📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা
۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -
২৭৭. ইসহাক ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:
إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)
আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।
۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ
২৭৮. বারাআ ইন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।
ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।
۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -
২৭৭. ইসহাক ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:
إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)
আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।
۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ
২৭৮. বারাআ ইন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।
ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।