📄 কোন মজলিস ত্যাগ করার সময় নবী (সা)-এর পঠিত দু‘আ
٢١٦ . عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ إِذَا اجْتَمَعَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ فَأَرَادَ أَنْ يُنْهَضَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ -
২১৬. হযরত রাফি ইব্ন খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিয়ম ছিল যে, তাঁর সাহাবীগণ কখনো তাঁর কাছে জমায়েত হওয়ার পর যখন তাঁরা মজলিস ত্যাগ করার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি এ দু'আ পাঠ করতেন : سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ হে আল্লাহ্! তুমি মহান ও পবিত্র। আমরা তোমারই হাম্দ ও প্রশংসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতিরেকে অপর কোনো ইলাহ্ নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করবো।
۲۱۷. عَنْ رَافِعٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْهَضُ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ الله إِنَّ هَؤُلَاءِ كَلَمَاتُ أَحْدَثَنَهُنَّ قَالَ أَجَلْ جَاءَتْ بِهِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام -
২১৭. হযরত রাফি' ইব্ন খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী যখন কোন মজলিস ত্যাগ করতে ইচ্ছা করতেন তখন এ দু'আ পড়তেন : سُبْحَانَكَ اَللَّهُمْ وَبِحَمْدِكَ আল্লাহ্! তুমি মহান ও পবিত্র। আমরা তোমারই হাম্দ ও প্রশংসা করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ শব্দগুলো পাঠ করার জন্য আপনি নিজ থেকে মনোনীত করে নিয়েছেন ? নবী উত্তর দিলেন, না। এ শব্দগুলো হযরত জিব্রীল (আ) আমার কাছে নিয়ে আসেন।
ফায়দা : রাসূলুল্লাহ্-এর যাবতীয় শিক্ষার সারনির্যাস হলো তিনি নিজের কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি ও কর্মপদ্ধতির দ্বারা সর্বদা মানুষকে মহান আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য সচেষ্ট থাকতেন। উম্মতকে তিনি এমন শিক্ষা ও পথনির্দেশ দিয়ে যান যাতে প্রকৃত ইলাহ্ মহান আল্লাহ্র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। এবং জীবনের কোন অবস্থাতেই যেন তারা প্রকৃত মাওলা থেকে উদাসীন না থাকে। যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগীর এই হলো সারনির্যাস। এরই মধ্যে নিহিত আছে মানব জীবনের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও কল্যাণ। উপরোক্ত হাদীসদ্বয়েও নবী এমন কিছু দু'আ ও কালেমা শিক্ষা দেন যেখানে আল্লাহ্ পাকের হামদ ও প্রশংসা, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা, তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি এবং তাঁর কাছে সর্বদা তাওবা ও ইস্তিগফার করা ইত্যাদির প্রতি উৎসাহ দান করা হয়েছে কোন সন্দেহ নেই, মানুষ যখন কোনো মজলিসে কিংবা কোন মাহফিলে বসে তখন সেখানে দুনিয়া-আখিরাত সব ধরনের কথাবার্তা চলে। কখনো কখনো অর্থহীন আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়। কাজেই এ স্থানেও নবী উম্মতকে আল্লাহ্ পাকের দিকে মনোযোগী করার লক্ষ্যে বর্ণিত দু'আটি পাঠ করেন। তা ছাড়া সেই মজলিসে জানা কিংবা অজানাভাবে যে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যায় বর্ণিত দু'আর বরকতে তা থেকেও ক্ষমা পাওয়া যায়। এ দু'আর বিষয়ে অপর একখানা হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেন : দু'আটি হলো মজলিসের কাফফারা স্বরূপ। (আবূ দাউদ, পৃষ্ঠা ৬৬৭)
📄 কোন মজলিস ত্যাগ করার সময় নবী (সা)-এর পঠিত দু‘আ
٢١٦ . عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ إِذَا اجْتَمَعَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ فَأَرَادَ أَنْ يُنْهَضَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ -
২১৬. হযরত রাফি ইব্ন খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নিয়ম ছিল যে, তাঁর সাহাবীগণ কখনো তাঁর কাছে জমায়েত হওয়ার পর যখন তাঁরা মজলিস ত্যাগ করার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি এ দু'আ পাঠ করতেন : سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ - হে আল্লাহ্! তুমি মহান ও পবিত্র। আমরা তোমারই হাম্দ ও প্রশংসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতিরেকে অপর কোনো ইলাহ্ নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করবো।
۲۱۷. عَنْ رَافِعٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْهَضُ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ الله إِنَّ هَؤُلَاءِ كَلَمَاتُ أَحْدَثَنَهُنَّ قَالَ أَجَلْ جَاءَتْ بِهِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام -
২১৭. হযরত রাফি' ইব্ন খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী যখন কোন মজলিস ত্যাগ করতে ইচ্ছা করতেন তখন এ দু'আ পড়তেন : سُبْحَانَكَ اَللَّهُمْ وَبِحَمْدِكَ আল্লাহ্! তুমি মহান ও পবিত্র। আমরা তোমারই হাম্দ ও প্রশংসা করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ শব্দগুলো পাঠ করার জন্য আপনি নিজ থেকে মনোনীত করে নিয়েছেন ? নবী উত্তর দিলেন, না। এ শব্দগুলো হযরত জিব্রীল (আ) আমার কাছে নিয়ে আসেন।
ফায়দা : রাসূলুল্লাহ্-এর যাবতীয় শিক্ষার সারনির্যাস হলো তিনি নিজের কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি ও কর্মপদ্ধতির দ্বারা সর্বদা মানুষকে মহান আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য সচেষ্ট থাকতেন। উম্মতকে তিনি এমন শিক্ষা ও পথনির্দেশ দিয়ে যান যাতে প্রকৃত ইলাহ্ মহান আল্লাহ্র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। এবং জীবনের কোন অবস্থাতেই যেন তারা প্রকৃত মাওলা থেকে উদাসীন না থাকে। যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগীর এই হলো সারনির্যাস। এরই মধ্যে নিহিত আছে মানব জীবনের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও কল্যাণ। উপরোক্ত হাদীসদ্বয়েও নবী এমন কিছু দু'আ ও কালেমা শিক্ষা দেন যেখানে আল্লাহ্ পাকের হামদ ও প্রশংসা, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা, তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি এবং তাঁর কাছে সর্বদা তাওবা ও ইস্তিগফার করা ইত্যাদির প্রতি উৎসাহ দান করা হয়েছে কোন সন্দেহ নেই, মানুষ যখন কোনো মজলিসে কিংবা কোন মাহফিলে বসে তখন সেখানে দুনিয়া-আখিরাত সব ধরনের কথাবার্তা চলে। কখনো কখনো অর্থহীন আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়। কাজেই এ স্থানেও নবী উম্মতকে আল্লাহ্ পাকের দিকে মনোযোগী করার লক্ষ্যে বর্ণিত দু'আটি পাঠ করেন। তা ছাড়া সেই মজলিসে জানা কিংবা অজানাভাবে যে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যায় বর্ণিত দু'আর বরকতে তা থেকেও ক্ষমা পাওয়া যায়। এ দু'আর বিষয়ে অপর একখানা হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেন : দু'আটি হলো মজলিসের কাফফারা স্বরূপ। (আবূ দাউদ, পৃষ্ঠা ৬৬৭)
📄 নবী (সা)-এর সুগন্ধি পছন্দ করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করার বর্ণনা
۲۱۸. عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نَعْرِفُ رَسُولَ اللهِ إِذَا أَقْبَلَ بِطَيْبِ رِيحِهِ -
২১৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন আমাদের দিকে আসতেন তখন পূর্বেই তাঁর সুগন্ধির কারণে আমরা টের পেতাম যে তিনি আসছেন।
ফায়দা: আলোচ্য অনুচ্ছেদ দ্বারা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো নবী-এর সুগন্ধির প্রতি অনুরাগ ও সুগন্ধি ব্যবহার করার বিষয়টি বর্ণনা করা। সে মতে এ অনুচ্ছেদে তিনি এতদসংক্রান্ত হাদীসগুলিকেই সন্নিবেশিত করেছেন। কতিপয় হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, তিনি কোন সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতিরেকেও একান্ত অলৌকিকভাবে তাঁর মুবারক দেহের ঘামের মধ্যে এতটুকু সুগন্ধি বিদ্যমান ছিলো যা সাধারণ ব্যবহারের আতর জাতীয় জিনিস অপেক্ষাও উন্নতমানের ছিলো। নবী-এর শরীর থেকে সেই সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়তো। তিনি যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন সেই পথও সুগন্ধিতে ভরে যেতো। সাহাবীগণ সহজেই উপলব্ধি করতেন যে, নবী এ পথ দিয়ে হেঁটে গিয়েছেন। কতিপয় সাহাবী তো তাঁর মুবারক ঘর্মবিন্দুগুলিকে আতর হিসাবেও ব্যবহার করতেন। একটি হাদীসে বলা হয়েছে হযরত উম্মে সুলাইম (রা) বলেন, নবী তার গৃহে এসে (দুপুরের আহারোত্তর) বিশ্রাম নিতেন। তখন তিনি নবী-এর বিশ্রাম গ্রহণের জন্য একটি চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন। তাঁর শরীরে প্রচুর ঘাম হতো। উম্মে সুলাইম (রা) সে ঘামগুলি একত্র করে নিজেদের খুশবু ও সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে নিতেন। একদা নবী তাকে বললেন, উম্মে সুলাইম! এটি কি জিনিস? উম্মে সুলাইম (রা) বললেন, এটি আপনার শরীরের মুবারক ঘাম। আমরা এগুলিকে নিজেদের আতর জাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে থাকি। কেননা, এ ঘামগুলি সকল সুগন্ধি অপেক্ষাও উন্নতমানের।
অপর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমি কখনো কোন মৃগনাভি কিংবা কোন আতর এমন পাইনি যার সুগন্ধি নবী-এর ঘাম মুবারক অপেক্ষা উত্তম। (শামাইলে তিরমিযী)
একটি হাদীসে হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, যখনই কোন পথ দিয়ে নবী হেঁটে যেতেন এবং তারপর অন্য কেউ সে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন সে নবী -এর সুগন্ধির দ্বারা কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, নবী-এর ঘাম মুবারকের সুগন্ধি দ্বারা বুঝতে পারতো যে, এ পথে তাঁর পদচারণা হয়েছিল।
সারকথা হলো, সুগন্ধি ব্যবহার করা নবী -এর আদর্শ ও মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ সুগন্ধি খুবই পছন্দ করতেন। পরবর্তী হাদীসগুলিতে এ বিষয়ে আরো আলোচনা আসবে। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) একটি হাদীসে বলেন, আমি নবী -এর গায়ে সবচেয়ে উন্নত যে সুগন্ধি থাকত সেটি মাখিয়ে থাকতাম। (মিল্কাত)
۲۱۹. عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عُرِضَ عَلَيْهِ طَيْبٌ فَرَدُّهُ -
২১৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এমনটা কখনো দেখিনি যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে সুগন্ধি পেশ করা হয়েছে আর তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ফায়দা : নবী -এর নীতি ছিলো যে, তাকে যদি সুগন্ধি জাতীয় কোন জিনিস হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হতো তখন তা ফিরিয়ে দিতেন না। জামি 'তিরমিযী গ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেন : তিনটি জিনিস এমন যা ফিরিয়ে দেয়া যায় না। এক. বালিশ, দুই. সুগন্ধি ও তিন, দুধ। অপর একটি হাদীসে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, নবী কখনোই সুগন্ধি জাতীয় জিনিস ফিরিয়ে দিতেন না। একটি হাদীসে হযরত আবূ উসমান নাহদী (রা) বলেন, নবী ইরশাদ করেন যে, কেউ যদি তোমাদেরকে রেহানা ফুল উপহার দেয় তাহলে সেটি ফিরিয়ে দিও না। কেননা এটি বেহেস্ত থেকে আগত একটি ফুল।
۲۲۰ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ بِهَا -
২২০. হযরত মূসা ইব্ন আনাস তাঁর পিতা হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট একটি উত্তম আতর ছিলো। তিনি তা ব্যবহার করতেন।
۲۲۱. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ كَانَ لَهُ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ مِنْهَا -
২২১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী -এর কাছে একটি উত্তম আতর ছিলো। তিনি তা মাখতেন।
۲۲۲ . عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ مِثْلَهُ -
২২২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগ্ধার (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
ফায়দা: 'সুক্কাহ' শব্দটির দু'টি ব্যাখ্যা আছে। এক. সুক্কাহ্ অর্থ আতরদানী, আতর রাখার পাত্র। সাধারণত শব্দটি এ অর্থে অধিক প্রচলিত। তবে 'কামূস' অভিধানে মিশ্রণ দ্বারা তৈরি এক ধরনের বিশেষ আতরকে সুক্কাহ বলা হয়। কামূস অভিধানে দ্বিতীয় অর্থটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে আরো বোঝা যায় যে, সুগন্ধি নবী -এর কাছে খুবই পছন্দের জিনিস ছিলো। বিশেষ সুক্কাহ্ নামক সুগন্ধি বেশি ব্যবহার করতেন। এ সুক্কাহ্ নানা জাতীয় সুগন্ধির মিশ্রণ দ্বারা তৈরি করা হতো।
۲۲۳. عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطَّيِّبُ -
২২৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেন যে, জগতে আমার নিকট নারী ও সুগন্ধি অধিক প্রিয় করা হয়েছে।
ফায়দা : নবী এমন এক যুগে এমন এক সমাজে প্রেরিত হয়েছিলেন যে সমাজে নারীর অস্তিত্বকে একটি অভিশাপ, চরম লাঞ্ছনা ও অপমানজনক বলে জ্ঞান করা হতো। প্রাচীন আরবীয়রা আত্মসম্মানের হানি বোধ করে নারীদেরকে জীবন্ত কবর দিতো। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্মান দান তো সে সমাজের কল্পনাতেও ছিলো না। জাহেলী সমাজে এভাবে তাদেরকে মানুষ সমাজ-বহির্ভূত মূল্যহীন পণ্য হিসাবে গণ্য করা হতো। কিন্তু জগতে ইসলাম আগমনের পর ইসলাম সর্বপ্রথম এ অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে রুখে দাঁড়ায়। ইসলাম নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, মানুষের মন-মানসিকতা ও চিন্তাধারায় নারীদের প্রতি যে ঘৃণাবোধ বিদ্যমান ছিলো তা দূরীভূত করে তাদের প্রতি স্নেহ ভালবাসা ও দয়ার বীজ বপন করে। সমাজে তাদের ন্যায্য (ভারসাম্যপূর্ণ) অধিকারকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। তাদেরকে পিতৃ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে রায় দেয়। অধিকন্তু একজন মুসলিম যে মানে নিজের জীবন যাপন করে সে মানে তার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে জীবন যাপন করতে দেওয়াকে ফরয তথা অবশ্য কর্তব্য বলে ঘোষণা দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةً وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের অতিরিক্ত মর্যাদা আছে (সেটি হলো পুরুষ নারীদের তত্ত্বাবধায়ক) আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী ও পরম প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা : ২২৮)
এ কারণে মহান আল্লাহ্ সৃষ্টিগতভাবে মানব প্রকৃতিতে নারীদের প্রতি বিশেষ ধরনের একটি আকর্ষণ ও ভালবাসা দিয়ে দিয়েছেন। মানুষ হিসাবে সকলের প্রকৃতির মধ্যেই কমবেশি এ আকর্ষণ বিদ্যমান। নবী যেহেতু মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব এবং মানবতার সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন, সেহেতু তাঁর মধ্যে মানবীয় প্রকৃতিও ছিলো পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। তাই তাঁর পবিত্র সত্তায় প্রকৃতিগত এ সব বিষয়ের চাহিদাও ছিলো পূর্ণমানের। উপরোক্ত উক্তিটি নবী -এর সেই প্রকৃতিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কুরআন পাকের মধ্যে কথাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে : وَمِنْ أَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ من أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً
নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন নারীদেরকে, যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়ার সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ২১)
٢٢٤. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَكْرَهُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى أَصْحَابِهِ تَفْلُ الرِّيحِ وَكَانَ إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ مَسَّ طَيْبًا -
২২৪. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নীতি ছিল তিনি সাধারণ গন্ধ নিয়ে সাহাবীদের সাক্ষাতে যাওয়া অপছন্দ করতেন। এজন্য তিনি রাতের শেষ ভাগে সুগন্ধি লাগাতেন।
٢٢٥. عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرُدُّ الطَّيْبَ وَيُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرُدُّهُ -
২২৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কখনো সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না। আর তিনি (এ ব্যাপারে) নবী -এর হাদীস বর্ণনা করে বলতেন, নবী নিজেও কখনো সুগন্ধির হাদিয়া ফিরিয়ে দিতেন না।
٢٢٦. عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ فِي رَسُولِ اللهِ خِصَالُ لَمْ يَكُنْ فِي طَرِيق فَيَسْلَكُهُ أَحَدٌ إِلَّا عُرِفَ أَنَّهُ سَلَكَهُ مِنْ طِيبٍ عَرَفَهُ أَوْ رِيْحٍ عَرَقِهِ -
২২৬. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর পবিত্র সত্তায় বহু উত্তম গুণ বিদ্যমান ছিলো। একটি হলো তিনি যে পথ দিয়েই যেতেন তারপর সে পথ দিয়ে অন্য কেউ গমন করলে সে ব্যক্তি নবী-এর দেহ থেকে ছড়ানো সুগন্ধির দ্বারা টের করতে পারতো যে, এ পথে তাঁর পদচারণা হয়েছিল।
۲۲۷. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَطْلُبُ الطَّيْبَ فِي جَمِيعِ رِبَاعِ نِسَائِهِ -
২২৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর নিয়ম ছিলো তিনি সকল বিবির ঘরে গিয়ে সুগন্ধি খোঁজ করতেন।
ফায়দা: এ হাদীস থেকেও বোঝা যাচ্ছে যে, নবী-এর কাছে সুগন্ধি জাতীয় জিনিস খুবই পছন্দনীয় ছিলো। তিনি আপন বিবিদের প্রত্যেকের গৃহে সুগন্ধির ব্যবস্থা রাখতেন। তারপর সে গৃহে তাঁর যাওয়া হলে সেই সুগন্ধি ব্যবহারপূর্বক নিজের ও বিবির জন্য মনস্তুষ্টির আয়োজন করে নিতেন।
📄 নবী (সা)-এর সুগন্ধি পছন্দ করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করার বর্ণনা
۲۱۸. عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نَعْرِفُ رَسُولَ اللهِ إِذَا أَقْبَلَ بِطَيْبِ رِيحِهِ -
২১৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন আমাদের দিকে আসতেন তখন পূর্বেই তাঁর সুগন্ধির কারণে আমরা টের পেতাম যে তিনি আসছেন।
ফায়দা: আলোচ্য অনুচ্ছেদ দ্বারা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো নবী-এর সুগন্ধির প্রতি অনুরাগ ও সুগন্ধি ব্যবহার করার বিষয়টি বর্ণনা করা। সে মতে এ অনুচ্ছেদে তিনি এতদসংক্রান্ত হাদীসগুলিকেই সন্নিবেশিত করেছেন। কতিপয় হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, তিনি কোন সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতিরেকেও একান্ত অলৌকিকভাবে তাঁর মুবারক দেহের ঘামের মধ্যে এতটুকু সুগন্ধি বিদ্যমান ছিলো যা সাধারণ ব্যবহারের আতর জাতীয় জিনিস অপেক্ষাও উন্নতমানের ছিলো। নবী-এর শরীর থেকে সেই সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়তো। তিনি যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন সেই পথও সুগন্ধিতে ভরে যেতো। সাহাবীগণ সহজেই উপলব্ধি করতেন যে, নবী এ পথ দিয়ে হেঁটে গিয়েছেন। কতিপয় সাহাবী তো তাঁর মুবারক ঘর্মবিন্দুগুলিকে আতর হিসাবেও ব্যবহার করতেন। একটি হাদীসে বলা হয়েছে হযরত উম্মে সুলাইম (রা) বলেন, নবী তার গৃহে এসে (দুপুরের আহারোত্তর) বিশ্রাম নিতেন। তখন তিনি নবী-এর বিশ্রাম গ্রহণের জন্য একটি চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন। তাঁর শরীরে প্রচুর ঘাম হতো। উম্মে সুলাইম (রা) সে ঘামগুলি একত্র করে নিজেদের খুশবু ও সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে নিতেন। একদা নবী তাকে বললেন, উম্মে সুলাইম! এটি কি জিনিস? উম্মে সুলাইম (রা) বললেন, এটি আপনার শরীরের মুবারক ঘাম। আমরা এগুলিকে নিজেদের আতর জাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে থাকি। কেননা, এ ঘামগুলি সকল সুগন্ধি অপেক্ষাও উন্নতমানের।
অপর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমি কখনো কোন মৃগনাভি কিংবা কোন আতর এমন পাইনি যার সুগন্ধি নবী-এর ঘাম মুবারক অপেক্ষা উত্তম। (শামাইলে তিরমিযী)
একটি হাদীসে হযরত জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, যখনই কোন পথ দিয়ে নবী হেঁটে যেতেন এবং তারপর অন্য কেউ সে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন সে নবী -এর সুগন্ধির দ্বারা কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, নবী-এর ঘাম মুবারকের সুগন্ধি দ্বারা বুঝতে পারতো যে, এ পথে তাঁর পদচারণা হয়েছিল।
সারকথা হলো, সুগন্ধি ব্যবহার করা নবী -এর আদর্শ ও মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ সুগন্ধি খুবই পছন্দ করতেন। পরবর্তী হাদীসগুলিতে এ বিষয়ে আরো আলোচনা আসবে। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) একটি হাদীসে বলেন, আমি নবী -এর গায়ে সবচেয়ে উন্নত যে সুগন্ধি থাকত সেটি মাখিয়ে থাকতাম। (মিল্কাত)
۲۱۹. عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عُرِضَ عَلَيْهِ طَيْبٌ فَرَدُّهُ -
২১৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এমনটা কখনো দেখিনি যে, রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে সুগন্ধি পেশ করা হয়েছে আর তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ফায়দা : নবী -এর নীতি ছিলো যে, তাকে যদি সুগন্ধি জাতীয় কোন জিনিস হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হতো তখন তা ফিরিয়ে দিতেন না। জামি 'তিরমিযী গ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেন : তিনটি জিনিস এমন যা ফিরিয়ে দেয়া যায় না। এক. বালিশ, দুই. সুগন্ধি ও তিন, দুধ। অপর একটি হাদীসে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, নবী কখনোই সুগন্ধি জাতীয় জিনিস ফিরিয়ে দিতেন না। একটি হাদীসে হযরত আবূ উসমান নাহদী (রা) বলেন, নবী ইরশাদ করেন যে, কেউ যদি তোমাদেরকে রেহানা ফুল উপহার দেয় তাহলে সেটি ফিরিয়ে দিও না। কেননা এটি বেহেস্ত থেকে আগত একটি ফুল।
۲۲۰ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ بِهَا -
২২০. হযরত মূসা ইব্ন আনাস তাঁর পিতা হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট একটি উত্তম আতর ছিলো। তিনি তা ব্যবহার করতেন।
۲۲۱. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ كَانَ لَهُ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ مِنْهَا -
২২১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী -এর কাছে একটি উত্তম আতর ছিলো। তিনি তা মাখতেন।
۲۲۲ . عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ مِثْلَهُ -
২২২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগ্ধার (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
ফায়দা: 'সুক্কাহ' শব্দটির দু'টি ব্যাখ্যা আছে। এক. সুক্কাহ্ অর্থ আতরদানী, আতর রাখার পাত্র। সাধারণত শব্দটি এ অর্থে অধিক প্রচলিত। তবে 'কামূস' অভিধানে মিশ্রণ দ্বারা তৈরি এক ধরনের বিশেষ আতরকে সুক্কাহ বলা হয়। কামূস অভিধানে দ্বিতীয় অর্থটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে আরো বোঝা যায় যে, সুগন্ধি নবী -এর কাছে খুবই পছন্দের জিনিস ছিলো। বিশেষ সুক্কাহ্ নামক সুগন্ধি বেশি ব্যবহার করতেন। এ সুক্কাহ্ নানা জাতীয় সুগন্ধির মিশ্রণ দ্বারা তৈরি করা হতো।
۲۲۳. عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطَّيِّبُ -
২২৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেন যে, জগতে আমার নিকট নারী ও সুগন্ধি অধিক প্রিয় করা হয়েছে।
ফায়দা : নবী এমন এক যুগে এমন এক সমাজে প্রেরিত হয়েছিলেন যে সমাজে নারীর অস্তিত্বকে একটি অভিশাপ, চরম লাঞ্ছনা ও অপমানজনক বলে জ্ঞান করা হতো। প্রাচীন আরবীয়রা আত্মসম্মানের হানি বোধ করে নারীদেরকে জীবন্ত কবর দিতো। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্মান দান তো সে সমাজের কল্পনাতেও ছিলো না। জাহেলী সমাজে এভাবে তাদেরকে মানুষ সমাজ-বহির্ভূত মূল্যহীন পণ্য হিসাবে গণ্য করা হতো। কিন্তু জগতে ইসলাম আগমনের পর ইসলাম সর্বপ্রথম এ অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে রুখে দাঁড়ায়। ইসলাম নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, মানুষের মন-মানসিকতা ও চিন্তাধারায় নারীদের প্রতি যে ঘৃণাবোধ বিদ্যমান ছিলো তা দূরীভূত করে তাদের প্রতি স্নেহ ভালবাসা ও দয়ার বীজ বপন করে। সমাজে তাদের ন্যায্য (ভারসাম্যপূর্ণ) অধিকারকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। তাদেরকে পিতৃ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে রায় দেয়। অধিকন্তু একজন মুসলিম যে মানে নিজের জীবন যাপন করে সে মানে তার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে জীবন যাপন করতে দেওয়াকে ফরয তথা অবশ্য কর্তব্য বলে ঘোষণা দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةً وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের অতিরিক্ত মর্যাদা আছে (সেটি হলো পুরুষ নারীদের তত্ত্বাবধায়ক) আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী ও পরম প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা : ২২৮)
এ কারণে মহান আল্লাহ্ সৃষ্টিগতভাবে মানব প্রকৃতিতে নারীদের প্রতি বিশেষ ধরনের একটি আকর্ষণ ও ভালবাসা দিয়ে দিয়েছেন। মানুষ হিসাবে সকলের প্রকৃতির মধ্যেই কমবেশি এ আকর্ষণ বিদ্যমান। নবী যেহেতু মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব এবং মানবতার সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন, সেহেতু তাঁর মধ্যে মানবীয় প্রকৃতিও ছিলো পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। তাই তাঁর পবিত্র সত্তায় প্রকৃতিগত এ সব বিষয়ের চাহিদাও ছিলো পূর্ণমানের। উপরোক্ত উক্তিটি নবী -এর সেই প্রকৃতিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কুরআন পাকের মধ্যে কথাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে : وَمِنْ أَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ من أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً
নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন নারীদেরকে, যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়ার সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ২১)
٢٢٤. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَكْرَهُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى أَصْحَابِهِ تَفْلُ الرِّيحِ وَكَانَ إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ مَسَّ طَيْبًا -
২২৪. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর নীতি ছিল তিনি সাধারণ গন্ধ নিয়ে সাহাবীদের সাক্ষাতে যাওয়া অপছন্দ করতেন। এজন্য তিনি রাতের শেষ ভাগে সুগন্ধি লাগাতেন।
٢٢٥. عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرُدُّ الطَّيْبَ وَيُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرُدُّهُ -
২২৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কখনো সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না। আর তিনি (এ ব্যাপারে) নবী -এর হাদীস বর্ণনা করে বলতেন, নবী নিজেও কখনো সুগন্ধির হাদিয়া ফিরিয়ে দিতেন না।
٢٢٦. عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ فِي رَسُولِ اللهِ خِصَالُ لَمْ يَكُنْ فِي طَرِيق فَيَسْلَكُهُ أَحَدٌ إِلَّا عُرِفَ أَنَّهُ سَلَكَهُ مِنْ طِيبٍ عَرَفَهُ أَوْ رِيْحٍ عَرَقِهِ -
২২৬. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর পবিত্র সত্তায় বহু উত্তম গুণ বিদ্যমান ছিলো। একটি হলো তিনি যে পথ দিয়েই যেতেন তারপর সে পথ দিয়ে অন্য কেউ গমন করলে সে ব্যক্তি নবী-এর দেহ থেকে ছড়ানো সুগন্ধির দ্বারা টের করতে পারতো যে, এ পথে তাঁর পদচারণা হয়েছিল।
۲۲۷. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَطْلُبُ الطَّيْبَ فِي جَمِيعِ رِبَاعِ نِسَائِهِ -
২২৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী-এর নিয়ম ছিলো তিনি সকল বিবির ঘরে গিয়ে সুগন্ধি খোঁজ করতেন।
ফায়দা: এ হাদীস থেকেও বোঝা যাচ্ছে যে, নবী-এর কাছে সুগন্ধি জাতীয় জিনিস খুবই পছন্দনীয় ছিলো। তিনি আপন বিবিদের প্রত্যেকের গৃহে সুগন্ধির ব্যবস্থা রাখতেন। তারপর সে গৃহে তাঁর যাওয়া হলে সেই সুগন্ধি ব্যবহারপূর্বক নিজের ও বিবির জন্য মনস্তুষ্টির আয়োজন করে নিতেন।