📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চারিত্রিক সৌন্দর্য

📄 নবী (সা)-এর চারিত্রিক সৌন্দর্য


١. عَنِ الصَّادِقِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَحْسَنَ خُلُقًا -

১. হযরত (জা'ফর) সাদিক (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।

٢. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا كَانَ أَحَدٌ أَحْسَنَ خُلُقًا مِنْ رَسُولِ الله ﷺ مَا دَعَاهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ وَلَا مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ إِلَّا قَالَ لَبَّيْكَ، فَلِذَلِكَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ -

২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর চেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী (দুনিয়ায়) আর কোন লোক ছিল না। তাঁর সাহাবা ও পরিবারবর্গের কেউ যখন তাঁকে ডাকতেন, তখন তিনি তার জবাবে বলতেনঃ 'লাব্বায়িক' 'আমি হাযির আমি হাযির'। এ কারণেই মহান আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে নাযিল করেছেন : وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ নিঃসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।

عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ يَا لَبَّيْكَ -

৩. হযরত আবূ জা'ফর [মুহাম্মদ বাকের (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জবাবে তিনি বললেন : 'ইয়া লাব্বায়ক'।

٤. عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّ النَّبِيُّ ﷺ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَيْهِ إِنْ أَخَذْنَا بِحَدِيثٍ فِي ذِكْرِ الْآخِرَةِ أَخَذَ مَعَنَا - وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الدُّنْيَا أَخَذَ مَعَنَا ، وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ أَخَذَ مَعَنَا فَكُلُّ هُذَا أُحَدِّثُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ-

৪. হযরত যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী -এর কাছে বসতাম, তখন যদি আমরা আখিরাতের কথা আলোচনা শুরু করতাম, তিনিও আমাদের সাথে তাতে মশগুল হতেন। আমরা যদি দুনিয়ার আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করতেন। আর আমরা যদি পানাহারের আলোচনা করতাম তিনিও তাতে অংশ নিতেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ থেকে এ সমুদয় কথা তোমাদেরকে বলছি।

قال (خَارِجَةُ) قُلْنَا لِزَيْدِ بْنِ ثَابِت أَخْبِرْنَا عَنْ أَخْلَاقِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ عَنْ أَيِّ أَخْلَاقِهِ أَخْبِرُكُمْ كُنْتُ جَارَهُ فَإِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ بَعَثَ إِلَى فَاكْتُبُهُ وَكُنَّا إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرُهَا مَعَنَا فَذَكَرَ مِثْلَهُ)

৫. খারিজা (র) বলেন, আমরা যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র সম্পর্কে আমাদেরকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁর কোন্ কোন্ চরিত্র সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবো। আমি তো তাঁর প্রতিবেশী ছিলাম। তাঁর উপর যখনই ওহী নাযিল হতো, আমাকে ডেকে পাঠাতেন। আমি তা লিখে ফেলতাম। আর আমরা যখন দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতাম; তিনিও আমাদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতেন। এরপর পূর্বানুরূপ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন।

سَمَاكَ عَنْ جَابِرِبْنِ سَمُرَةَ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَكُنْتَ تُجَالِسَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ نَعَمْ وَكَانَ طَوِيلَ الصِمْتِ وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ عِنْدَهُ وَيَذْكُرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَيَضْحَكُونَ فَيَتَبَسَّمُ مَعَهُمْ إِذَا ضَحِكُوا -

৬. সিমাক (র) বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা)-কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাহচর্যে বসতেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। (আমি তাঁর সাহচর্যে বসে দেখলাম) তিনি অধিকতর নীরব থাকতেন। সাহাবা (রা) তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন; জাহিলী যুগের প্রসঙ্গ আলোচনা করতেন এবং পরিহাস করতেন। তাঁরা যখন হাসতেন, তখন তিনিও মুচকি হাসতেন।

عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَكَلْتُ ثُوْمًا فَانْتَهَيْتُ إِلَى الْمُصَلِّي وَقَدْ سُبِقَتْ بِرَكْعَةٍ، فَلَمَّا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَجَدَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَرِيحَ النُّوْمِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هُذِهِ الشَّجَرَةَ فَلَا يَقْرَبَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا (أَفْرِيْحُهُ) فَلَمَّا قَضَيْتُ صَلَاتِي جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ وَاللَّهِ لَتُعْطِينِي يَدَكَ فَأَعْطَاهُ يَدَهُ قَالَ حُمَيْدُ إِذَنْ لَيَجِدَنَّهُ سَهْلاً قَرِيبًا)

فَأَدْخَلْتُ يَدَهُ فِي كُمِّي فَوَضَعْتُهَا عَلَى صَدْرِي، فَإِذَا أَنَا مَعْصُوبَ الصَّدْرِ فَقَالَ أَمَا إِنَّ لَكَ عُدْرًا -

৭. হযরত মুগীরা ইন্ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রসুন খেয়েই মসজিদে গেলাম। (সালাত) এক রাকআত আমার ছুটে ছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করতেই রাসূলুল্লাহ্ রসুনের গন্ধ অনুভব করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, এই বৃক্ষ (রসুন) কেউ ভক্ষণ করলে তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন আমাদের কাছে না আসে। (রাবী বলেন) আমি সালাত শেষ করে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম! আপনি আপনার হাত মুবারক একটু আমাকে দিন। তিনি তাঁর হাতখানা আমাকে দিলেন। [হুমাইদ (র) বলেন, এ সময় তো মুগীরা নবী -কে অবশ্যই কোমল ও নিকটবর্তী পেয়ে থাকবেন]। তখন আমি তাঁর হাতখানা আমার জামার হাতার মধ্য দিয়ে আমার বক্ষের উপর রাখলাম। তখন নবী লক্ষ করলেন যে, আমার বুকের উপর একটি পট্টি বাঁধা রয়েছে। তখন তিনি বললেন : আরে তোমার তো ওযর রয়েছে।

عَنْ جَرِيرٍ أَنَّ النَّبِيَّ دَخَلَ بَعْضَ بُيُوتِهِ فَامْتَلَاَ الْبَيْتُ وَدَخَلَ جَرِيرٌ فَقَعَدَ خَارِجَ الْبَيْتِ فَابَصَرَهُ النَّبِيُّ ﷺ فَأَخَذَ ثَوْبَهُ فَلَقَّهُ وَرَمَى بِهِ إِلَيْهِ وَقَالَ اجْلِسَ عَلَى هُذَا فَأَخَذَهُ جَرِيرٌ وَوَضَعَهُ عَلَى وَجْهِهِ وَقَبَّلَهُ -

৮. হযরত জারীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর একটি গৃহে প্রবেশ করলেন। গৃহটি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। (তাই জারীর (রা) বসার স্থান না পেয়ে। গৃহের বাইরে বসে পড়লেন। নবী যখন তাঁকে (বাইরে বসতে) দেখলেন, তখন তিনি তাঁর কাপড় ভাঁজ করে জারীর (রা)-এর দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, এই কাপড়টির উপর বসো। জারীর (রা) ঐ কাপড়টি তুলে তাঁর চেহারায় লাগালেন এবং চুমু দিলেন।

ফায়দা: নবী -এর ন্যায় উন্নত চরিত্রের অধিকারীর পক্ষে এটা সম্ভব ছিল না যে, তিনি তাঁর গৃহের মধ্যে ফরাশে উপবিষ্ট থাকতেন এবং জারীর (রা) বাইরে মাটিতে বসবেন। তাই তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর দিকে নিজের কাপড় ছুঁড়ে দিলেন যাতে সেটি বিছিয়ে তিনি তার উপরে বসতে পারেন। কিন্তু জারীর (রা) এটা কিভাবে পছন্দ করতে পারেন যে, নবী -এর পবিত্র কাপড় মাটিতে বিছিয়ে তার উপর তিনি বসবেন। তাই তিনি ঐ পবিত্র কাপড়টি তুলে অত্যন্ত ভক্তি সহকারে নিজের চোখে লাগালেন এবং তার উপর চুমু খেলেন।

عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَسَالَتُهَا عَنْ خُلُقٍ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَتِ الْقُرْآنُ -

৯. জুবায়র ইব্‌ নুফায়র (র) বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ্-এর চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তাঁর চরিত্র ছিল 'আল-কুরাআন'। অর্থাৎ নবী-এর চরিত্র ছিল সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা। পবিত্র কুরআনে যতগুলো চারিত্রিক দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে নবী-এর জীবন ছিল তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তব নমুনা।

١٠. عَنِ الْحَسَنُ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَ جَلَّ فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ قَالَ هُذَا خُلُقُ مُحَمَّدٍ نَعَتَهُ اللَّهُ عَن وَجَلٌ -

১০. ইমাম হাসান বসরী (র) কুরআন কারীমের আয়াত فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ (হে মুহাম্মদ) আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন। (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, এই ছিল মুহাম্মদ-এর চরিত্র, যা আল্লাহ্ তা'আলা বর্ণনা করেছেন।

۱۱. عَنِ الأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَصْنَعُ فِي أَهْلِهِ؟ قَالَتْ كَانَ فِي مَهْنَةِ أَهْلِهِ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ قَامَ فَصَلَّى

১১. আসওয়াদ (র) বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর পরিজনের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর পরিজনের সাথে কাজে লেগে থাকতেন। যখন সালাতের সময় হতো, তখন উঠে দাঁড়াতেন এবং সালাত আদায় করতেন।

ফায়দা : এটাই ছিল আকায়ে নামদার সরদারে দু'জাহান-এর পবিত্রতম জীবনের দৃষ্টান্ত। একদিকে তিনি ছিলেন স্বীয় উম্মতের ভাবনায় সর্বদা নিমগ্ন এবং অন্যদিকে তিনি গার্হস্থ্য কাজেও তাঁর পরিজনকে সহযোগিতা করতেন।

۱۲. عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ رَجُلٍ حَدَّثَهُ أَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا سُئِلَتْ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ فِي بَيْتِهِ قَالَتْ كَانَ يَعْمَلُ كَعَمَلِ أَحَدِكُمْ فِي بَيْتِهِ، يَخِيطُ ثَوْبَهُ وَيَخْصِفُ نَعْلَهُ -

১২. হযরত হিশাম ইব্‌ন উরওয়া (র) জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ কিভাবে তাঁর গৃহে সময় কাটাতেন?

তিনি বললেন, তিনিও তোমাদের মতো গৃহস্থালীর কাজকর্মে মশগুল থাকতেন। নিজের ঝাপড় নিজে সেলাই করতেন এবং নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন।

ফায়দা : উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো যে, নবী -এর গৃহ-জীবন ছিল সাধারণ মানুষের মতো। কোন সাধারণ কাজ করতেও তিনি সংকোচ বোধ করতেন না।

عَنْ عُرْوَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا مَا كَانَ النَّبِيُّ يَصْنَعُ إِذَا خَلَا؟ قَالَتْ يَخِيطُ ثَوْبَهُ يَخْصِفُ نَعْلَهُ وَيَصْنَعُ مَا يَصْنَعُ الرَّجُلُ فِي أهله -

১৩. উরওয়া (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী একান্তে কি কি কাজ করতেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর কাপড় সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং একজন মানুষ তার ঘরে বসে যে সব কাজ করে থাকে, তিনি তা সবই করতেন।

١٤. عَنْ عُرْوَةَ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا مِثْلَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي بَيْتِهِ ؟ فَقَالَتْ كَأَحَدِكُمْ يَرْفَعُ شَيْئًا وَيَضَعُهُ وَكَانَ أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَيْهِ الحَيَاطَةُ -

১৪. হযরত উরওয়া (র) বলেন, হযরত আয়েশা (রা)-কে অনুরূপ প্রশ্ন করা হলো। যুহরী (র) বলেন, হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর গৃহের মধ্যে কি ধরনের আচরণ করতেন? তিনি বললেন, তোমরা যেরূপ কোন একটি বস্তু উপরে তুলে রাখো এবং নিচে নামিয়ে রাখো তিনিও সেরূপ করতেন। তবে সেলাই কাজই ছিল তার সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ।

ফায়দা: একজন সাধারণ মানুষ তার ঘরে বসে যেসব কাজ করে থাকে, নবী ও সে সব কাজই করতেন। "এবং সেলাই করার কাজই তাঁর সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ ছিল" এ বাক্যটি বর্ণনাকারীর নিজস্ব মন্তব্য। এতে পূর্ববর্তী রিওয়ায়াতের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ নবী তাঁর নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন এবং নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন।

١٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كُنْتُ الْعَبُ بِالْبَنَاتِ فِي بَيْتِ النَّبِيِّ وَكُنَّ لِي صَوَاحِبَ يَأْتِينِي فَيَلْعَبْنَ مَعِي، فَيَنْقَمِعَنَّ إِذَا رَأَيْنَ رَسُولَ اللَّهِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَسْرَبُهُنَّ إِلَى فَيَلْعَبْنَ مَعِي -

১৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গৃহে কাপড়ের পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। আমার কিছু সখীও ছিল। তারা আমার কাছে এসে

আমার সাথে খেলা করত। তারা রাসূলুল্লাহ -কে আসতে দেখলে গৃহের এদিক সেদিক লুকিয়ে থাকতো। রাসূলুল্লাহ্ তাদেরকে এদিক সেদিক থেকে একত্র করে পুনরায় আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তারা পুনরায় আমার সাথে খেলা শুরু করত।

ফায়দা : এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ্ -এর সুসামাজিকতার দর্পণ স্বরূপ। স্বীয় পরিবার পরিজনের মনরক্ষা ও সন্তোষ বিধান পদ্ধতিও এ হাদীস থেকে জ্ঞাত হওয়া যায়।

١٦. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ تِسْعَ سِنِينَ فَمَا أَعْلَمُهُ قَالَ قَطُّ هَلاً فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا وَلَا عَابَ عَلَى شَيْئًا قَطُّ -

১৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু আমার জানা নেই, তিনি কখনো আমাকে বলেছেন, তুমি এরূপ কেন করেছো? এবং তিনি কখনো আমার কোনো কাজে সামান্যতম দোষও ধরেননি।

ফায়দা : এই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ্ -এর অনুপম চরিত্রের নমুনা। এ যুগে কাজের লোকদের সাথে দুর্ব্যবহারকারীরা এই হাদীসটির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবেন এবং নবী -এর এই মহান কর্মপদ্ধতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

۱۷. عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ أَبِي عَنْ دُخُولِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كَانَ دُخُولُهُ لِنَفْسِهِ مَانُونَا لَهُ فِي ذَلِكَ، وَكَانَ إِذَا أَتَى إِلَى مَنْزِلِهِ جَزْء دُخُولَهُ ثَلَاثَةٌ أَجْزَاء جُزْء لِلَّهِ وَجُزْء لِأَهْلِهِ وَجُزْءُ لِنَفْسِهِ ثُمَّ يَجْعَلُ جُزَاهُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَرُدُّ ذَلِكَ عَلَى الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةُ وَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئًا فَكَانَ مِنْ سِيَرْتِهِ فِي جُزْء الامَّةِ إِبْثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِإِذْنِهِ وَقِسْمَتِهِ عَلَى قَدْرِ فَضْلِهِمْ فِي الدِّينِ مِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ فَيَسْتَغِلُ بِهِمْ وَيَشْغُلُهُمْ فِيْمَا يُصْلِحُهِمَ وَالأُمَّةَ مِنْ مَسْأَلَتْهِ عَنْهُمْ وَأَخْبَارِهِمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ يَقُولُ لَيُبَلِّغ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الغَائِبَ وَأَبْلِغُوْنِي حَاجَةً مَنْ لا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغِى حَاجَتَهُ فَأَنَّهُ مَنْ اَبْلَغَ سُلْطَانًا حَاجَةً مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا ثَبَّتَ اللهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَذْكُرُ عِنْدَهُ إِلَّا ذَلِكَ وَلَا يُقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرَهُ قَالَ فِي حَدِيْثِ سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ يَدْخُلُوْنَ رَوَادًا وَلَا يَتَفَرَّقُوْنَ إِلَّا عَنْ ذَوَاقِرٍ وَيَخْرُجُونَ أَدِلَّةً يَعْنِي فُقَهَاءَ - قُلْتُ فَأَخْبِرْنِي عَنْ مَخَرَجِهِ كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ ؟

قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخْزُنُ لِسَانَهُ إِلَّمَا يَعْنِيهِمْ وَيُؤَلْفُهُمْ وَلَا يُفَرِّقُهُمْ، يُكْرِمُ كَرِيْمَ كُلَّ قَوْمٍ وَيُوَلِّيْهِ عَلَيْهِمْ وَيَحْذَرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ عَنْهُمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَطْوِيَ عَنْ أَحَدٍ بِشْرَهُ وَخُلْقَهُ، وَيَتَفَقَّدُ أَصْحَابَهُ وَيَسْئَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي النَّاسِ وَيُحَسِّنُ الْحَسَنَ وَيُصَوِّبُهُ، وَيُقَبِّحُ القَبِيْحَ وَيَذُمُّهُ، مُعْتَدِلُ الْأَمْرِ غَيْرُ مُخْتَلِفٍ، لَا يَغْفُلُ مَخَافَةَ أَنْ يَغْفُلُوا أَوْيَمَلُّوا، لِكُلِّ حَالِ عِنْدَهُ عُتَادُ، لَا يَقْصُرُ عَنِ الْحَقِّ وَلَا يُجَاوِزُهُ إِلَى غَيْرِهِ الَّذِينَ يَلُوْنَهُ مِنَ النَّاسِ خِيَارُهُمْ وَأَفْضَلُهُمْ عِنْدَهُ أَعَمُّهُمْ نَصِيْحَةً وَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً أَحْسَنُهُمْ مُوَاسَاةً وَمُوَازَرَةٌ، وَسَأَلَتُهُ عَنْ مَجْلِسِهِ فَقَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَجْلِسُ وَلَا يَقُوْمُ إِلَّا ذَكَرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا يُوْطِنُ الْأَمَاكِنَ وَيَنْهَى عَنْ إِيْطَانِهَا وَإِذَا جَلَسَ إِلَى قَوْمٍ جَلَسَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمَجْلِسُ وَيَأْمُرُ بِذَلِكَ وَيُعْطِي كُلَّ جُلَسَائِهِ بِنَصِيْبِهِ لَا يَحْسِبُ أَحَدٌ مِنْ جُلَسَائِهِ أَنَّ أَحَدًا أَكْرَمُ عَلَيْهِ مِنْهُ مَنْ جَالَسَهُ أَوْ قَاوَمَهُ لِحَاجَةٍ صَابِرَهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ وَمَنْ سَأَلَهُ حَاجَةً لَمْ يَنْصَرِفْ إِلَّا بِهَا أَوْ بِمَيْسُوْرٍ مِنَ الْقَوْلِ-

قَدْوَسَّعَ النَّاسُ مِنْهُ خُلُقَهُ فَصَارَ لَهُمْ أَبًا وَصَارُوا عِنْدَهُ فِي الْحَقِّ سِوَاءٌ مَجْلِسُهُ مَجْلِسُ حِلْمٍ وَحَيَاء وَصِدْقٍ وَأَمَانَةٍ لَا تُرْفَعُ فِيهِ الأَصْوَاتُ وَلَا تُؤْبَنُ فِيْهِ الْحُرْمُ وَلَا تَنْثَنِيْ فَلْتَاتُهُ مُعْتَدِيْنَ يَتَوَاصَلُوْنَ بِالتَّقْوَى مُتْوَاضِعِيْنَ يُوَقِّرُونَ فِيْهِ الْكَبِيْرَ وَيَرْحَمُوْنَ فِيْهِ الصَّغِيرَ وَيُؤْثِرُونَ ذَالْحَاجَةِ وَيَحْفَظُوْنَ الْغَرِيبَ -

قُلْتُ كَيْفَ كَانَتْ سِيْرَتُهُ فِي جُلَسَائِهِ؟ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ دَائِمَ الْبِشْرِ سَهْلَ الْخُلُقِ لَيِّنَ الْجَانِبِ لَيْسَ بِفَظٍ وَلَا عَلِيْظٍ وَلَا صَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا فَاحِشًا وَلَا عَيَّابًا وَلَا مَدَّاحًا يَتَغَافَلُ عَمَّا لَا يَشْتَهِي وَيُؤْيَسُ مِنْهُ وَلَا يُجِيبُ فِيْهِ قَدْتَرَكَ نَفْسَهُ مِنَ ثَلَاثَ الْمِرَاءِ وَالإِكْثَارِ وَمَا لَا يَعْنِيْهِ، وَتَرَكَ النَّاسَ مِنْ ثَلَاثٍ، كَانَ لَا يَذُمُّ أَحَدًا وَلَا يُعِيْرُهُ وَلَا يَطْلُبُ عَوْرَاتِهِ وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا فِيمَا رَجَا ثَوَابَهُ إِذَا تَكَلَّمَ أَطْرَقَ جُلَسَاؤُهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُوسِهِمْ الطَّيْرُ، وَإِذَا سَكَتَ تَكَلَّمُوا وَلَا يَتَنَازَعُونَ عِنْدَهُ الْحَدِيثَ مَنْ تَكَلَّمَ أَنْصَتُوْالَهُ حَتَّى يَفْرُغَ حَدِيثُهُمْ عِنْدَهُ حَدِيثُ أَوْلَهُمْ يَضْحَكُ مِمَّا يَضْحَكُونَ وَيَتَعَجَّبُ مِمَّا يَتَعَجَبُونَ، وَيَصْبُرُ لِلْغَرِيبِ عَلَى الْجَفَوْةِ فِي مَنْطِقِهِ وَمَسْأَلِتْهِ حَتَّى إِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَيَسْتَجِلُونَهُمْ فَيَقَوْلُ إِذَا رَأَيْتُمْ طَالِبٌ الحَاجَةِ يَطْلُبُهَا فَارَقْدُوهُ وَلَا يَقْبَلُ الثَّنَاءَ إِلَّا مِنْ مُكَافٍ، وَلَا يَقْطَعُ عَلَى أَحَدٍ حَدِيثَهُ حَتَّى يَجُوزَ فَيَقْطَعُهُ بِنَهْيِ أَوْ قِيَامٍ، فَسَأَلْتُ كَيْفَ كَانَ سُكُوتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ كَانَ سُكُوتُ رَسُولِ اللهِ ﷺ عَلَى أَرْبَعُ عَلَى الْحِلْمِ وَالْحَدْرِةِ التَّقْدِيرِ والتَّفْكِيْرِ، فَأَمَّا تَقْدِيرُهُ فَفِي تَسْوِيَهُ النَّظَرِ وَالإِسْتِمَاعِ مِنَ النَّاسِ وَأَمَّا تَفْكِيْرُهُ فَفِيْمَا يَبْقَى وَلا يَفْنِي وَجُمِعَ لَهُ الْحِلْمُ فِي الصَّبْرِ فَكَانَ لَا يَغْضُبُهُ شَتَّى وَلَا يَسْتَفِزُّهُ، وَجُمِعَ لَهُ الْحَذَرُ فِي أَرْبَعِ أَخْذَهُ بِالْحُسْنِ لِيُقْتَدَى بِهِ، وَتَرْكُهُ القَبِيحَ لِيُنْتَهَى عَنْهُ وَاجْتِهَادُهُ الرَّأى فِيمَا أَصْلَحَ أَمُتَهُ، وَالقِيَامُ فِيْمَا هُوَ خَيْرُ لَهُمْ جَمَعَ لَهُمْ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ .

১৭. হযরত হাসান ইব্‌ন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে [হযরত আলী (রা)-কে) নবী -এর গৃহ-মধ্যকার কাজকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এ অনুমতি ছিল যে, যখনই ইচ্ছা করতেন, তখনই তিনি গৃহে প্রবেশ করতে পারতেন। (তবুও) তাঁর অভ্যাস ছিল, যখনই গৃহে গমন করতেন, তাঁর সময়কে তিন ভাগ করতেন। এক ভাগ আল্লাহর ইবাদতের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য এবং তৃতীয় ভাগ নিজের আরামের জন্য। আবার নিজ আরামের সময়টুকুও লোকজনকে দিয়ে দিতেন। আর তা এইভাবে যে, বিশেষদের মাধ্যমে তার উপকারিতাও সাধারণদের মধ্যে ফিরিয়ে দিতেন। অর্থাৎ ঐ সময় বিশেষ বিশেষ সাহাবা কিরাম প্রবেশ করতেন এবং তাঁর কাছে দীনী মাসায়েল ও মর্মকথা শ্রবণ করে সাধারণ লোকদের মধ্যে পৌঁছে দিতেন। তাঁদের কাছে কোনো কথা গোপন রাখতেন না অর্থাৎ দীন ও দুনিয়ার লাভজনক সব কথাই বলতেন। তাঁর অভ্যাস ছিল, উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়ে স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী জ্ঞানীদেরকে প্রাধান্য দিতেন এবং ঐ সময়ের বণ্টনে দীনী মর্যাদা হিসাবে তারতম্য ঘটতো। তাদের মধ্যে কারো থাকতো একটি কাজ, কারো দু'টি কাজ এবং কারো কয়েকটি কাজ। তিনি তাদের কাজে লেগে যেতেন এবং তাদেরকেও ঐসব কাজে মশগুল রাখতেন। তাতে তাদের এবং উম্মতের সংশোধন হতো। তিনি তাদের সমস্যাবলি জানতে চাইতেন এবং তাদের অবস্থা অনুযায়ী তাদেরকে পরামর্শ দিতেন। বলতেন, যারা এখানে উপস্থিত আছে, তারা যেন তা অনুপস্থিতদেরকে পৌঁছে দেয়। (তিনি বলতেন) আমাকে সেই ব্যক্তির প্রয়োজন অবগত করো, যে তার প্রয়োজন আমার কাছে পৌঁছাতে পারে না। কেননা যে ব্যক্তি আমীর (প্রশাসক) পর্যন্ত এমন কোনো ব্যক্তির প্রয়োজনকে পৌছে দিয়েছে, যে তার নিজের প্রয়োজন ঐ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে দৃঢ়পদ রাখবেন। এ কথাই তাঁর কাছে আলোচিত হতো এবং এ ছাড়া তিনি কারো কোনো কথা পছন্দ করতেন না।

সুফিয়ান ইব্‌ন ওয়াকী'র রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবা তাঁর (নবী) কাছে ইলম ও দীন অন্বেষী হয়ে যেতেন এবং স্বাদ না নিয়ে সেখান থেকে ফিরতেন না। আর যখন বের হতেন, তখন পথ-প্রদর্শক হয়ে বের হতেন। বর্ণনাকারী পথ-প্রদর্শকের ব্যাখ্যা করেছেন 'ফুকাহা' শব্দ দ্বারা (অর্থাৎ দীনের অগাধ পাণ্ডিত্য নিয়ে উঠে আসতেন)।

হযরত হুসাইন (রা) বলেন, তারপর আমি (আমার পিতাকে) জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর (নবী) গৃহের বাইরের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুটা বলুন। অর্থাৎ গৃহের বাইরে তিনি কি কাজকর্ম করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ অনর্থক কথাবার্তা থেকে স্বীয় রসনা মুবারককে রক্ষা করতেন। মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতেন। বিচ্ছিন্ন হতে দিতেন না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাকেই তাদের নেতা ও অভিভাবক বানাতেন। তিনি মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে সব সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতেন। কিন্তু কারো সাথে স্বীয় আন্তরিকতা ও প্রফুল্লচিত্ততার ক্ষেত্রে তারতম্য করতেন না। স্বীয় সঙ্গীদের খোঁজ-খবর নিতেন। মানুষকে তাদের হাল অবস্থা জিজ্ঞেস করতেন। ভাল কথাকে ভাল বলতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। আর মন্দ কথাকে মন্দ বলতেন এবং তার নিন্দা করতেন। প্রত্যেক কাজে তাঁর ভারসাম্য বজায় থাকতো, এদিকে-ওদিকে ঝুঁকে পড়তেন না। তিনি মানুষের প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখতেন যাতে তারা অমনোযোগী না হয়ে পড়ে কিংবা অতিষ্ঠ হয়ে না ওঠে। প্রত্যেক অবস্থার জন্যই তাঁর নিকট তার উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতো। সত্য গ্রহণেও ত্রুটি করতেন না এবং সত্য ত্যাগ করেও অন্য দিকে চলে যেতেন না। তাঁর সঙ্গী-সাথীরা ছিলেন উত্তম লোক। তাঁর কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সবার মঙ্গল কামনা করতেন। এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাশীল ছিলেন সেই ব্যক্তি, যেনি তাদের সমব্যথী ও সাহায্য-সহায়তার ব্যাপারে সবচেয়ে উত্তম।

(হযরত হুসাইন (রা) বলেন,) এরপর আমি (আমার পিতাকে) রাসূলুল্লাহ্-এর মজলিস ও উঠাবসার অবস্থা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ উঠতে বসতে আল্লাহ্র যিকর করতেন। তিনি কোনো স্থানকে নিজের জন্য নির্ধারিত করতেন না এবং অন্য লোককেও এরূপ করতে নিষেধ করতেন। তিনি যখন মানুষের সাথে বসতেন, তখন যেখানেই বসার স্থান পেতেন বসে পড়তেন এবং মানুষকেও এরূপ করতে নির্দেশ দিতেন। তিনি তাঁর মজলিসের প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করতেন। কেউ একথা অনুভব করতো না যে, সে ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি তাঁর বেশি প্রিয় ব্যক্তি। যে ব্যক্তি (কোনো প্রয়োজন) তাঁর কাছে এসে বসতো কিংবা উঠে যেত তিনি তার সাথে নিজেকে সেই সময় পর্যন্ত আটকে রাখতেন যে পর্যন্ত সে নিজেই চলে না যেত। কেউ যদি তাঁর কাছে কোনো কিছু চাইতে আসতো, সে তার বাসনা পূরণ করে ফিরে যেতো কিংবা কোমল ব্যবহার ও সান্ত্বনা নিয়ে ফিরে যেতো। তাঁর ব্যবহার সমস্ত লোকের জন্য সমান ছিল। (স্নেহ-মমতার ক্ষেত্রে) তিনি ছিলেন তাঁদের পিতা। আর লোকেরা সব (অধিকারের ক্ষেত্রে) তাঁর কাছে ছিল সমান। তাঁর মজলিস ছিল ধৈর্যশীলতা, লজ্জাশীলতা, সত্যতা ও আমানতের মজলিস। সেখানে উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা হতো না। কারো ইযযত-আব্রুর উপর কলংক আরোপ করা হতো না। কারো দোষত্রুটি সমালোচিত হতো না। সভার সদস্যদের মধ্যে সংযত ভাব ছিল। তাওয়া বজায় থাকতো। পরস্পরে ভদ্রতা ও নম্র আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, ছোটদের স্নেহ করতো। অভাবগ্রস্তদের প্রাধান্য দিতো। অপরিচিত আগন্তুকদের প্রতি খেয়াল রাখতো।

হযরত হুসাইন (রা) বলেন, তারপর আমি (আমার পিতাকে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি তাঁর সভার সদস্যদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁদের সাথে আনন্দচিত্তে মিলিত হতেন। তিনি নম্র ও বিনয়ী ছিলেন। কঠোর ও দুর্বিনীত ছিলেন না। তিনি হাট-বাজারে হৈহুল্লোড় করতেন না। অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করতেন না। কাউকে দোষারোপ করতেন না। কারো অহেতুক প্রশংসাও করতেন না। অপছন্দনীয় জিনিস থেকে তিনি দূরে থাকতেন এবং এ ব্যাপারে মানুষ তাঁর সম্পর্কে নিরাশ হতো। তিনি সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্যও করতেন না। তিনটি বিষয় থেকে তিনি নিজকে দূরে রেখেছিলেন। এক. ঝগড়া-বিবাদ থেকে, দুই. বেশি কথা বলা থেকে, তিন. অর্থহীন কাজ থেকে। তিনটি বিষয় থেকে তিনি অন্য মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এক. কারো কুৎসা রটনা করতেন না। দুই. কাউকে লজ্জা দিতেন না। তিন. কারো দোষ অন্বেষণ করতেন না। যে কথা বললে সাওয়াবের আশা করা যেতো, তিনি তাই বলতেন। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন সভাসদগণ তাঁদের গর্দান এমনভাবে ঝুঁকিয়ে রাখতেন যেনো তাঁদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তিনি যখন কথা বন্ধ করতেন তখন অন্যরা কথা বলতেন। তাঁর সামনে কেউ কারো কথার প্রতিবাদ করতেন না। যখন কেউ কোনো কথা শুরু করতেন, তখন অন্যরা তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকতেন। তাদের মধ্যে প্রত্যেকের কথাই তাঁর কাছে ততটুকু গুরুত্বের অধিকারী হতো, যতটুকু গুরুত্ব পেতো প্রথম ব্যক্তির কথা। সবাই যে কথা শুনে হাসতো, তিনিও তাতে হাসতেন। সবাই যাতে আশ্চর্য হতো, তিনিও তাতে আশ্চর্য হতেন। আগন্তুকের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও প্রশ্নাবলি তিনি ধৈর্যসহকারে শ্রবণ করতেন। তাঁর সাহাবীগণ এরূপ লোকদেরকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন (যাতে তাদের প্রশ্নাবলি থেকে নতুন বিষয় জানা যায়)। তিনি বলতেন, তোমরা যখন কোনো অভাবগ্রস্তকে তার অভাব দূর করার প্রার্থনা করতে দেখো, তখন তাকে সাহায্য করো। কেউ তাঁর প্রশংসা করুক, তিনি তা পছন্দ করতেন না। তবে কেউ কৃতজ্ঞতা বশত কিছু বললে তা ছিল স্বতন্ত্র। তিনি কারো কথার প্রতিবাদ করতেন না। অবশ্য সে যদি সীমা অতিক্রম করে যেতো, তবে তার কথার প্রতিবাদ করতেন। হয়তো তাকে নিষেধ করতেন কিংবা সেখান থেকে তিনি উঠে দাঁড়াতেন।

(হযরত হাসান (রা) বলেন। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্-এর চুপ থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্-এর চুপ থাকা ছিল চারটি কারণে। এক. সহনশীলতার কারণে, দুই. সাবধানতার দরুন, তিন. আন্দাজ করার উদ্দেশ্যে ও চার. চিন্তা-ভাবনা করার জন্য। তাঁর আন্দাজ করা ছিল অবস্থার উপর পূর্ণ চিন্তা-ভাবনা করা এবং মানুষের আলাপ-আলোচনা শ্রবণ করা। আর তিনি চিন্তা-ভাবনা করতেন সেসব বিষয়ে, যা অবশিষ্ট থাকে এবং বিলীন হয় না। আর সহনশীলতা তাঁর ধৈর্যের মধ্যেই একত্র করা হয়েছিল। অর্থাৎ কোনো বিষয় তাঁকে ক্রুদ্ধও করতে পারতো না এবং অস্থিরও করতে পারতো না। আর সাবধানতা তাঁর জন্য চারটি জিনিসের মধ্যে একত্র করা হয়েছে। (আর তা হচ্ছে) তিনি উত্তম বস্তুটি গ্রহণ করতেন, যাতে মানুষ তাঁকে গ্রহণ করে এবং তিনি মন্দ বস্তু পরিত্যাগ করতেন, যাতে মানুষ তা থেকে বিরত থাকে। এবং যে জিনিসে তাঁর উম্মতের সংশোধন হতো, তিনি তার পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করতেন আর যাতে তাদের কল্যাণ হতো, তিনি সে বিষয়ে সক্রিয় থাকতেন। এভাবে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণকে সমন্বিত করেছিলেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ، وَشَمَمْتُ العِطر كُلَّهُ فَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطَيْبَ مِنْ نِكْهَتِهِ، وَكَانَ إِذَا لَقِيْهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ قَامَ مَعَهُ فَلَمْ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلَ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُ مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هَوَالَّذِي يَنْزِعُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلَ أُذُنَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا عَنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا عَنْهُ -

১৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দশ বছর পর্যন্ত আমি রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম এবং সব রকমের আতরের আমি ঘ্রাণ নিয়েছি। কিন্তু তাঁর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো ঘ্রাণ আমি শুকিনি। সাহাবাদের মধ্যে কারো সাথে যখন তাঁর সাক্ষাৎ হতো, তখন তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং যে পর্যন্ত তিনি তাঁর থেকে পৃথক না হতেন, তিনি নিজে তাঁর থেকে পৃথক হতেন না। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সময় তাঁর হাত মুবারক তাঁর হাতে নিতেন তখন যে পর্যন্ত ঐ সাহাবী তাঁর হাত গুটিয়ে না নিতেন, তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না। আর কোনো সাহাবী যখন তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কানে কোনো কথা বলতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত তাঁর কান সরিয়ে আনতেন না, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজে না সরিয়ে নিতেন।

۱۹. عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَتْ بِى أُمِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ هُذَا خُوَيْدِمُكَ، فَخَدَمْتُ النَّبِيُّ تِسْعَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي لِشَيْ قَطُّ أَسَأَتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ -

১৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে হাযির হলেন এবং তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই আপনার ছোট সেবক। তারপর আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করলাম। (এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে) তিনি কখনো আমাকে বলেননি যে, তুমি এ কাজটি ভাল করোনি কিংবা তুমি এ কাজটি খারাপ করেছো।

٢٠. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي وَالْحَبَشُ يَلْعَبُوْنَ بِحَرَابِهِمْ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ فَقَامَ يَسْتُرُ نِي بِرِدَا نِهِ حَتَّى انْصَرَفْتُ أَنَا مِنْ قِبَلِ نَفْسِي فَاقْدُرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِ الْحَرِيْصَةِ عَلَى اللَّهْوِ -

২০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হাবশী লোকেরা তখন মসজিদে নবীতে যুদ্ধের কসরত দেখাচ্ছিল। আমিও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কসরত দেখছিলাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর চাদর দ্বারা আড়াল করে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং যে পর্যন্ত আমি সেখান থেকে সরে না এসেছি, তখন পর্যন্ত তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, তোমরা অনুমান করো, একজন অল্প বয়সী বালিকার খেলাধুলার প্রতি কতখানি আগ্রহ থাকতে পারে (এবং তিনি কত দীর্ঘসময় পর্যন্ত তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন)।

۲۱ . عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابْنُوسٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ مَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَتْ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ القُرْآنُ ثُمَّ قَالَتْ أَتَقْرَؤُنَ سَوْرَةَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قُلْنَا نَعَمْ، قَالَتْ اقْرًا، فَقَرَأَتُ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُوْنَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - فَقَالَتْ هُكَذَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ

২১. হযরত ইয়াযীদ ইব্‌ন বাবনূস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা) -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র ছিল কুরআন। তারপর বলেন, তোমরা কি সূরা মু'মিনূন পড়ো না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, পড়ি। তিনি বলেন, পড়ো, তখন আমি পড়লাম "অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু'মিনগণ; যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে; যারা অসার ক্রিয়াকলাপ হতে বিরত থাকে; যারা যাকাত দানে সক্রিয়; যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।" তারপর হযতর আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর চরিত্র এরূপই ছিল।

٢٢ . عَنْ خَارِجَةَ أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ دَخَلُوا عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِت فَقَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَإِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامُ ذَكَرَهُ مَعَنَا -

২২. হযরত খারিজা (রা) থেকে বর্ণিত, হযরত যায়িদ ইব্‌ন্ন সাবিত (রা)-এর কাছে কিছু লোক ইরাক থেকে আগমন করলো। তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। আমরা যখন দুনিয়ার প্রসঙ্গে আলোচনা করতাম তিনিও আমাদের সাথে ঐ প্রসঙ্গ আলোচনা করতেন। আমরা যখন আখিরাত প্রসঙ্গ আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে ঐ প্রসঙ্গে আলোচনা করতেন। আমরা যখন আহার সম্পর্কে আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করতেন।

٢٣ . عَنْ عُمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنَ قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَلا ؟ قَالَتْ كَانَ أَبَرَّ النَّاسِ وَأَكْرَمَ النَّاسِ ضَحَاكًا بَسَامًا -

২৩. উমরাহ বিন্ত আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ একান্তে কিভাবে কাটাতেন? তিনি বললেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে পুণ্যবান ও ভদ্র এবং খুব হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব।

٢٤ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جُزْءٍ يَقُوْلُ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ -

২৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস ইব্‌ন জুই (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক হাসিখুশি লোক দেখিনি।

٢٥ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ امْرَأَةً كَانَ فِي عَقْلِهَا شَى فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا أُمَّ فُلَانٍ خُذِي فِي أَيِّ الطَّرِيقِ شِئْتِ قَوْمِي فِيْهِ حَتَّى أَقُوْمَ مَعَكِ ؟ فَخَلَا مَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُنَاجِيْهَا حَتَّى قَضَتْ حَاجَتَهَا.

২৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক স্ত্রীলোকের বুদ্ধিতে কিছুটা ত্রুটি ছিল। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। রাসূলুল্লাহ্ বললেন, হে অমুকের মা! তুমি যে কোনো এক রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াও। যাতে আমিও তোমার সাথে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। তারপর তিনি তার সাথে গিয়ে একান্তে কথাবার্তা বললেন-যে পর্যন্ত না ঐ স্ত্রীলোকটি তার প্রয়োজন পূর্ণ করেন।

٢٦. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ إِنْ كَانَتْ الْوَلِيدَةُ مِنْ وَلَا ئِدِ الْمَدِينَةِ تَجِي فَتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَمَا يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْ يَدِهَا حَتَّى تَذْهَبَ بِهِ حَيْثُ شَاءَتْ -

২৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার ছোট্ট মেয়েদের মধ্যে কোনো এক মেয়ে রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে আসতো এবং তাঁর হাত ধরতো। তিনি মেয়েটির হাত থেকে নিজের হাত গুটিয়ে নিতেন না। সে যেখানে ইচ্ছা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যেতো।

۲۷. عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَتْ أَلَامَةُ مِنْ إِمَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لِتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيَدُورُ بِهَا فِي حَوَا نِجِهَا حَتَّى تَفْرُغَ ثُمَّ تَرْجِعُ -

২৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসী দাসীদের মধ্য থেকে কোন এক দাসী এসে রাসূলুল্লাহ্-এর হাত ধরতো। তিনি তাকে সাথে নিয়ে তার প্রয়োজনের জন্য ঘুরে বেড়াতেন যে পর্যন্ত সে তার কাজ শেষ করে ফিরে না যেতো।

۲۸. عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَجُلاً قَطُّ أَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيَتُرُكُ يَدَهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ يَنْزِعُ يَدَهُ -

২৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি, যে রাসূলুল্লাহ্-এর হাত নিজের হাতে নিয়েছে আর তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত সে নিজেই তার হাত গুটিয়ে না নিতো।

۲۹. وَزَادَ فِي رِوَايَةِ وَمَا رَأَيْتُ رَجُلاً قَطُّ التَقَمَ أُذُنُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيُنَحِي رأْسَهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْحَى رَأْسَهُ يَعْنِي الرَّجُلَ -

২৯. হযরত আনাস (রা)-এর অন্য এক রিওয়ায়াতে আরো বর্ণিত আছে যে, (তিনি বলেন) আমি কখনো এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি, যে রাসূলুল্লাহ্ -এর কানে কানে কোন কথা বলার জন্য তাঁর দিকে ঝুঁকেছে আর তিনি তাঁর শির তার দিক থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন যে পর্যন্ত সে তার নিজের মাথা সরিয়ে না নিতো।

٣٠ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ رَبَّمَا نَزَلَ عِنْدَ الْمِنْبَرِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَيَعْرِضُ الرَّجُلُ فَيُحَدِّثُهُ طَوِيلاً ثُمَّ يَتَقَدَّمُ إِلَى الصَّلاةِ -

৩০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কখনো এমনও হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সালাতের জন্য মিম্বার থেকে নেমেছেন। সালাতের ইকামতও বলা হয়েছে, এমন সময় কোন ব্যক্তি তাঁর সামনে এসে লম্বা আলাপ জুড়ে দিয়েছে। আলাপ শেষ হওয়ার পর তিনি সালাতের জন্য অগ্রসর হয়েছেন।

٣١. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الْمُؤَذِّنَ أَوْ بِلالًا كَانَ يُقِيمُ فَيَدْخُلُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَيَسْتَقْبِلُهُ الرَّجُلُ فَيُقِيمُ مَعَهُ حَتَّى يَخْفِقَ عَامَّتُهُمْ بِرُوسِهِمْ -

৩১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়াযযিন (কিংবা বলেন, বিলাল) ইকামত বলতো এবং রাসূলুল্লাহ্ মসজিদে প্রবেশ করতেন। এরপর কোনো ব্যক্তি তাঁর সামনে আসতো এবং তিনি তার সাথে এতো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তন্দ্রায় লোকদের মাথা ঢুলতে থাকত।

٣٢ عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَقَدْ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ، فَوَاللَّهِ مَا قَالَ لِي أَفْ قَطُّ، وَلَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُهُ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا أَوْكَذَا؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَ كَذَا؟

৩২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাজে কখনো বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আমার কোন কাজে তিনি একথাও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করেছো? আর কোনো কাজ না করলে তিনি একথাও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করলে না?

عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَلَمْ يُعَيِّرْ عَلَى شَيْئًا قَطُّ أَسَاتُ - فِيهِ

৩৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর খেদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো ত্রুটিতে কখনো আমাকে লজ্জা দেননি।

৩৪. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَجِيْنُ إِلَيْنَا وَأَخُ لِى صَغِيرُ فَيَقُولُ يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের বাড়িতে আগমন করতেন। আমার একটি ছোট ভাই ছিল। তিনি (কৌতুক করে তাকে) বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেল তোমার নুগায়র?

৩৫. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُخَالِطُنَا وَيَغْشَانَا، وَكَانَ مَعَنَا صَبِيٌّ يُقَالُ لَهُ أَبُو عُمَيْرٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا أَبَا عُمَيْرُ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের সাথে সদ্ভাব রাখতেন এবং আমাদের এখানে আসা-যাওয়া করতেন। আমাদের সাথে একটি ছেলে ছিল। তাকে আবূ উমায়র নামে ডাকা হতো। (একবার) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কৌতুক করে তাকে বললেন, হে আবূ উমায়র! কোথা গেল তোমার নুগায়র?

৩৬. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ كَانَ لِى أَخُ يُقَالُ لَهُ أَبُو عُمَيْرٍ أَحْسِبُهُ قَالَ فَطِيمًا وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا رَآهُ قَالَ أَبُو عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟ نُغَيْرُ كَانَ يَلْعَبُ بِهِ - عَنْ أَنَسٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ كَانَ ابْنَ لَهُ يُكَنَّى أَبَا عُمَيْرٍ، وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ أَبَا عُمَيْرٍ! مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ উমায়র নামে আমার এক ভাই ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, তার দুধ ছাড়ানো হয়েছিল) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন তাকে দেখতেন, তখন বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেলে তোমার নুগায়র? নুগায়রের সাথে ঐ ছেলেটি খেলা করতো। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আবু তালহা (রা)-এর একটি ছেলের কুনিয়াত ছিল আবূ উমায়র। নবী ﷺ তাকে বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেলে নুগায়র?

۳۷ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَا شَمَمْتُ رَائِحَةَ أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ وَلَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ فَيَتْرُكُهَا حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَتْرُكُهَا ، وَمَا أَخْرَجَ رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسَ لَهُ قَطُّ، وَمَا قَعَدَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ رَجُلٌ قَطُّ فَقَامَ حَتَّى يَقُوْمَ -

৩৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। [হযরত আনাস (রা) বলেন] এমন কখনো হয়নি যে, কোন ব্যক্তি তাঁর সাথে হাত মিলিয়েছে আর তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন। যে পর্যন্ত সে তার হাত ছেড়ে না দিত। তিনি কখনো তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর সামনে হাঁটু প্রসারিত করেননি। আর এমন কখনো হয়নি যে, কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে বসেছে এবং তিনি তার দাঁড়ানোর পূর্বে তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا أَخْرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ رُكْبَتَيْهِ قَطُّ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ وَلَا قَعَدَ أَحَدٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَيَقُوْمَ حَتَّى يَقُوْمَ الْآخَرُ وَلَا نَاوَلَ يَدَهُ النَّبِيُّ ﷺ فَيَتْرُكُ يَدَهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ يَتْرُكُهَا -

৩৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ কখনো তাঁর কাছে উপবেশনকারীর সামনে হাঁটু ছড়িয়ে বসেননি। আর এমন কখনো হয়নি যে, তাঁর কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে এসে বসেছে এবং সে উঠে যাওয়ার পূর্বে তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কোনো ব্যক্তি তার হাত নবী -এর মুবারক হাতের সাথে মিলিয়েছে এবং তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তাঁর হাত ছেড়ে না দিত।

٣٩. عَنْ أَبِي مَالِكِ الا شَجَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا نُجَالِسُ النَّبِيَّ ﷺ فَمَا رَأَيْتُ أَطْوَلَ صَمْتًا مِنْهُ وَكَانُوا إِذَا أَكْثَرُوا عَلَيْهِ تَبَسَّمَ -

৩৯. আবূ মালিক আশজাঈ (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা নবী -এর নিকট উপবেশন করতাম। আমি তাঁর চেয়ে অধিক নির্বাক কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি। সাহাবীগণ যখন তাঁর নীরবতাকে অধিক উপভোগ করতেন, তখন তিনি হেসে দিতেন।

٤٠ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيَّ رَجُلاً سَهْلًا إِذَا هَوِيَتْ يَعْنِي عَائِشَةٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا الشَّيْ تَابَعَهَا عَلَيْهِ -

৪০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী অত্যন্ত শিষ্ট নবী ছিলেন। হযরত আয়েশা (রা) যখন কোনো কিছু কামনা করতেন, তখন তিনি তা পূরণ করতেন।

٤١ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُكْثِرُ الذِكْرَ وَيُقِلُّ اللَّعْنَ وَيُطِيلُ الصَّلاةَ وَيَقْصُرُ الْخُطْبَةَ وَكَانَ لَا يَأْنَفُ وَلَا يَسْتَكْبِرُ أَنْ يَمْشِي مَعَ الْأَرْمِلَةِ وَالْمِسْكِيْنِ فَيَقْضِي لَهُ حَاجَتَهُ -

৪১. হযরত ইব্‌ন আবূ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আল্লাহকে অধিক স্মরণ করতেন এবং কাউকে অভিশাপ করতেন না। তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুৎবা সংক্ষেপ করতেন। বিধবা ও মিস্কীনদের সাথে চলে তাদের অভাব পূর্ণ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। নিজকে তাদের চেয়ে বড়ও মনে করতেন না।

٤٢. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ سِنِينَ فَمَا سَبَّنِي سَبَّةٌ قَطُّ، وَلَا ضَرَبَنِي ضَرَبَةً وَلَا انْتَهَرَنِي وَلَا عَبَسَ فِي وَجْهِي، وَلَا أَمَرَنِي بِأَمْرٍ فَتَوَانَيْتُ فِيْهِ فَعَاتَبَنِي عَلَيْهِ، فَإِنَّ عَاتَبَنِي عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ دَعُوهُ فَلَوْ قُدِرَ شَيْئً كَانَ -

৪২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর বহু বছর খিদমত করেছি। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো গালি দেননি, মারপিট করেননি, ধমক দেননি, চোখ রাঙাননি। আর এমন কোনো বিষয়ে তিনি আমাকে তিরস্কারও করেননি, যা তিনি আমাকে করতে আদেশ করেছেন অথচ আমি তা করতে আলস্য করেছি। তাঁর গৃহের কেউ যদি এ ব্যাপারে আমাকে ভর্ৎসনা করতো, তবে তিনি বলতেন, আরে রাখো তো! যদি তকদীরে থাকত তাহলে তো তা ঘটতই।


টিকাঃ
১. হুমাইদ (র) নীচুস্তরে এ হাদীসের একজন রাবী ছিলেন। তিনি যখন এই হাদীস বর্ণনা করতে করতে এই পর্যন্ত পৌঁছেন, তখন স্থানের উপযুক্ততা হেতু সহসা এই বাক্যটি তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে গেলো। অর্থাৎ স্বীয় এই কর্মপদ্ধতি দ্বারা হযরত মুগীরা (রা) নবীকে নিজের জন্য কোমল ও নিকটবর্তী করে নেন।
১. অর্থাৎ নবী -এর বাইরে থাকার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না বরং আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এ অনুমতি ছিল যে, তিনি যখন ইচ্ছা করতেন, গৃহে গমন করতে পারতেন।
২. নবী -এর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা মূল্যায়িত হতো। প্রত্যেক ব্যক্তি তার দীনী মর্যাদা হিসেবে তাঁর দরবারে স্থান লাভ করতো।
১. এখান থেকে হযরত হুসাইন (রা) রিওয়ায়াত শুরু হচ্ছে। প্রকাশ থাকে যে, এ হাদীসের প্রথম হযরত হাসান (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ অংশটি হযরত হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত।
২. প্রকাশ থাকে যে, এ অবস্থা ছিল প্রথম দিকের। পরবর্তী সময়ে যখন প্রতিনিধি দলের আগমন শুরু হয় এবং বহিরাগতদের পক্ষে তাঁকে চিনতে অসুবিধা হয়, তখন তিনি তাঁর জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করতে সাহাবা কিরামকে অনুমতি দেন।
১. এ হাদীস থেকে সেসব লোকের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত, যারা নিজেদের চাকর-নওকর ও কর্মচারীদের সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করে থাকেন। মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে অনুসরণ করা এবং নবী -এর সুন্দরতম চরিত্রকে নিজেদের জীবনের অঙ্গীভূত করা। কেননা, নবী -এর আনুগত্য ও অনুসরণ ছাড়া মুক্তির কোন উপায় নেই।
১. এর দ্বারা জানা গেলো যে, নবী-এর জীবনে কঠোরতা ছিল না। এবং নবী-এর মজলিস ছিল সহজ-সরল। দীন ও দুনিয়ার সব রকম কথাই সেখানে আলোচিত হতো।
১. নুগায়র বুলবুল কিংবা লাল পাখিকে বলা হয়।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চারিত্রিক সৌন্দর্য

📄 নবী (সা)-এর চারিত্রিক সৌন্দর্য


١. عَنِ الصَّادِقِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَحْسَنَ خُلُقًا -

১. হযরত (জা'ফর) সাদিক (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।

٢. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا كَانَ أَحَدٌ أَحْسَنَ خُلُقًا مِنْ رَسُولِ الله ﷺ مَا دَعَاهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ وَلَا مِنْ أَهْلِ bَيْتِهِ إِلَّا قَالَ لَبَّيْكَ، فَلِذَلِكَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ -

২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর চেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী (দুনিয়ায়) আর কোন লোক ছিল না। তাঁর সাহাবা ও পরিবারবর্গের কেউ যখন তাঁকে ডাকতেন, তখন তিনি তার জবাবে বলতেনঃ 'লাব্বায়িক' 'আমি হাযির আমি হাযির'। এ কারণেই মহান আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে নাযিল করেছেন : وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ নিঃসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।

عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ يَا لَبَّيْكَ -

৩. হযরত আবূ জা'ফর [মুহাম্মদ বাকের (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জবাবে তিনি বললেন : 'ইয়া লাব্বায়ক'।

٤. عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّ النَّبِيُّ ﷺ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا إِلَيْهِ إِنْ أَخَذْنَا بِحَدِيثٍ فِي ذِكْرِ الْآخِرَةِ أَخَذَ مَعَنَا - وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الدُّنْيَا أَخَذَ مَعَنَا ، وَإِنْ أَخَذْنَا فِي ذِكْرِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ أَخَذَ مَعَنَا فَكُلُّ هُذَا أُحَدِّثُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ-

৪. হযরত যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী -এর কাছে বসতাম, তখন যদি আমরা আখিরাতের কথা আলোচনা শুরু করতাম, তিনিও আমাদের সাথে তাতে মশগুল হতেন। আমরা যদি দুনিয়ার আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করতেন। আর আমরা যদি পানাহারের আলোচনা করতাম তিনিও তাতে অংশ নিতেন। আমি রাসূলুল্লাহ্ থেকে এ সমুদয় কথা তোমাদেরকে বলছি।

قال (خَارِجَةُ) قُلْنَا لِزَيْدِ بْنِ ثَابِت أَخْبِرْنَا عَنْ أَخْلَاقِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ عَنْ أَيِّ أَخْلَاقِهِ أَخْبِرُكُمْ كُنْتُ جَارَهُ فَإِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ بَعَثَ إِلَى فَاكْتُبُهُ وَكُنَّا إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرُهَا مَعَنَا فَذَكَرَ مِثْلَهُ)

৫. খারিজা (র) বলেন, আমরা যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র সম্পর্কে আমাদেরকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁর কোন্ কোন্ চরিত্র সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবো। আমি তো তাঁর প্রতিবেশী ছিলাম। তাঁর উপর যখনই ওহী নাযিল হতো, আমাকে ডেকে পাঠাতেন। আমি তা লিখে ফেলতাম। আর আমরা যখন দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতাম; তিনিও আমাদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতেন। এরপর পূর্বানুরূপ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন।

سَمَاكَ عَنْ جَابِرِبْنِ سَمُرَةَ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَكُنْتَ تُجَالِسَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ نَعَمْ وَكَانَ طَوِيلَ الصِمْتِ وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ عِنْدَهُ وَيَذْكُرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَيَضْحَكُونَ فَيَتَبَسَّمُ مَعَهُمْ إِذَا ضَحِكُوا -

৬. সিমাক (র) বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা)-কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাহচর্যে বসতেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। (আমি তাঁর সাহচর্যে বসে দেখলাম) তিনি অধিকতর নীরব থাকতেন। সাহাবা (রা) তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন; জাহিলী যুগের প্রসঙ্গ আলোচনা করতেন এবং পরিহাস করতেন। তাঁরা যখন হাসতেন, তখন তিনিও মুচকি হাসতেন।

عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَكَلْتُ ثُوْمًا فَانْتَهَيْتُ إِلَى الْمُصَلِّي وَقَدْ سُبِقَتْ بِرَكْعَةٍ، فَلَمَّا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَجَدَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَرِيحَ النُّوْمِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هُذِهِ الشَّجَرَةَ فَلَا يَقْرَبَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا (أَفْرِيْحُهُ) فَلَمَّا قَضَيْتُ صَلَاتِي جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ وَاللَّهِ لَتُعْطِينِي يَدَكَ فَأَعْطَاهُ يَدَهُ قَالَ حُمَيْدُ إِذَنْ لَيَجِدَنَّهُ سَهْلاً قَرِيبًا)

فَأَدْخَلْتُ يَدَهُ فِي كُمِّي فَوَضَعْتُهَا عَلَى صَدْرِي، فَإِذَا أَنَا مَعْصُوبَ الصَّدْرِ فَقَالَ أَمَا إِنَّ لَكَ عُدْرًا -

৭. হযরত মুগীরা ইন্ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রসুন খেয়েই মসজিদে গেলাম। (সালাত) এক রাকআত আমার ছুটে ছিল। আমি মসজিদে প্রবেশ করতেই রাসূলুল্লাহ্ রসুনের গন্ধ অনুভব করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, এই বৃক্ষ (রসুন) কেউ ভক্ষণ করলে তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন আমাদের কাছে না আসে। (রাবী বলেন) আমি সালাত শেষ করে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম! আপনি আপনার হাত মুবারক একটু আমাকে দিন। তিনি তাঁর হাতখানা আমাকে দিলেন। [হুমাইদ (র) বলেন, এ সময় তো মুগীরা নবী -কে অবশ্যই কোমল ও নিকটবর্তী পেয়ে থাকবেন]। তখন আমি তাঁর হাতখানা আমার জামার হাতার মধ্য দিয়ে আমার বক্ষের উপর রাখলাম। তখন নবী লক্ষ করলেন যে, আমার বুকের উপর একটি পট্টি বাঁধা রয়েছে। তখন তিনি বললেন : আরে তোমার তো ওযর রয়েছে।

عَنْ جَرِيرٍ أَنَّ النَّبِيَّ دَخَلَ بَعْضَ بُيُوتِهِ فَامْتَلَاَ الْبَيْتُ وَدَخَلَ جَرِيرٌ فَقَعَدَ خَارِجَ الْبَيْتِ فَابَصَرَهُ النَّبِيُّ ﷺ فَأَخَذَ ثَوْبَهُ فَلَقَّهُ وَرَمَى بِهِ إِلَيْهِ وَقَالَ اجْلِسَ عَلَى هُذَا فَأَخَذَهُ جَرِيرٌ وَوَضَعَهُ عَلَى وَجْهِهِ وَقَبَّلَهُ -

৮. হযরত জারীর (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী তাঁর একটি গৃহে প্রবেশ করলেন। গৃহটি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। (তাই জারীর (রা) বসার স্থান না পেয়ে। গৃহের বাইরে বসে পড়লেন। নবী যখন তাঁকে (বাইরে বসতে) দেখলেন, তখন তিনি তাঁর কাপড় ভাঁজ করে জারীর (রা)-এর দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, এই কাপড়টির উপর বসো। জারীর (রা) ঐ কাপড়টি তুলে তাঁর চেহারায় লাগালেন এবং চুমু দিলেন।

ফায়দা: নবী -এর ন্যায় উন্নত চরিত্রের অধিকারীর পক্ষে এটা সম্ভব ছিল না যে, তিনি তাঁর গৃহের মধ্যে ফরাশে উপবিষ্ট থাকতেন এবং জারীর (রা) বাইরে মাটিতে বসবেন। তাই তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর দিকে নিজের কাপড় ছুঁড়ে দিলেন যাতে সেটি বিছিয়ে তিনি তার উপরে বসতে পারেন। কিন্তু জারীর (রা) এটা কিভাবে পছন্দ করতে পারেন যে, নবী -এর পবিত্র কাপড় মাটিতে বিছিয়ে তার উপর তিনি বসবেন। তাই তিনি ঐ পবিত্র কাপড়টি তুলে অত্যন্ত ভক্তি সহকারে নিজের চোখে লাগালেন এবং তার উপর চুমু খেলেন।

عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَسَالَتُهَا عَنْ خُلُقٍ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَتِ الْقُرْآنُ -

৯. জুবায়র ইব্‌ নুফায়র (র) বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ্-এর চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তাঁর চরিত্র ছিল 'আল-কুরাআন'। অর্থাৎ নবী-এর চরিত্র ছিল সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা। পবিত্র কুরআনে যতগুলো চারিত্রিক দিক-নিদের্শনা দেয়া হয়েছে নবী-এর জীবন ছিল তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তব নমুনা।

١٠. عَنِ الْحَسَنُ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَ جَلَّ فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ قَالَ هُذَا خُلُقُ مُحَمَّدٍ نَعَتَهُ اللَّهُ عَن وَجَلٌ -

১০. ইমাম হাসান বসরী (র) কুরআন কারীমের আয়াত فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ (হে মুহাম্মদ) আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন। (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, এই ছিল মুহাম্মদ-এর চরিত্র, যা আল্লাহ্ তা'আলা বর্ণনা করেছেন।

۱۱. عَنِ الأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَصْنَعُ فِي أَهْلِهِ؟ قَالَتْ كَانَ فِي مَهْنَةِ أَهْلِهِ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ قَامَ فَصَلَّى

১১. আসওয়াদ (র) বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর পরিজনের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর পরিজনের সাথে কাজে লেগে থাকতেন। যখন সালাতের সময় হতো, তখন উঠে দাঁড়াতেন এবং সালাত আদায় করতেন।

ফায়দা : এটাই ছিল আকায়ে নামদার সরদারে দু'জাহান-এর পবিত্রতম জীবনের দৃষ্টান্ত। একদিকে তিনি ছিলেন স্বীয় উম্মতের ভাবনায় সর্বদা নিমগ্ন এবং অন্যদিকে তিনি গার্হস্থ্য কাজেও তাঁর পরিজনকে সহযোগিতা করতেন।

۱۲. عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ رَجُلٍ حَدَّثَهُ أَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا سُئِلَتْ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ الله ﷺ فِي بَيْتِهِ قَالَتْ كَانَ يَعْمَلُ كَعَمَلِ أَحَدِكُمْ فِي بَيْتِهِ، يَخِيطُ ثَوْبَهُ وَيَخْصِفُ نَعْلَهُ -

১২. হযরত হিশাম ইব্‌ন উরওয়া (র) জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ কিভাবে তাঁর গৃহে সময় কাটাতেন?

তিনি বললেন, তিনিও তোমাদের মতো গৃহস্থালীর কাজকর্মে মশগুল থাকতেন। নিজের ঝাপড় নিজে সেলাই করতেন এবং নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন।

ফায়দা : উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো যে, নবী -এর গৃহ-জীবন ছিল সাধারণ মানুষের মতো। কোন সাধারণ কাজ করতেও তিনি সংকোচ বোধ করতেন না।

عَنْ عُرْوَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا مَا كَانَ النَّبِيُّ يَصْنَعُ إِذَا خَلَا؟ قَالَتْ يَخِيطُ ثَوْبَهُ يَخْصِفُ نَعْلَهُ وَيَصْنَعُ مَا يَصْنَعُ الرَّجُلُ فِي أهله -

১৩. উরওয়া (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী একান্তে কি কি কাজ করতেন? তিনি বললেন, তিনি তাঁর কাপড় সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং একজন মানুষ তার ঘরে বসে যে সব কাজ করে থাকে, তিনি তা সবই করতেন।

١٤. عَنْ عُرْوَةَ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا مِثْلَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي بَيْتِهِ ؟ فَقَالَتْ كَأَحَدِكُمْ يَرْفَعُ شَيْئًا وَيَضَعُهُ وَكَانَ أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَيْهِ الحَيَاطَةُ -

১৪. হযরত উরওয়া (র) বলেন, হযরত আয়েশা (রা)-কে অনুরূপ প্রশ্ন করা হলো। যুহরী (র) বলেন, হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ্ তাঁর গৃহের মধ্যে কি ধরনের আচরণ করতেন? তিনি বললেন, তোমরা যেরূপ কোন একটি বস্তু উপরে তুলে রাখো এবং নিচে নামিয়ে রাখো তিনিও সেরূপ করতেন। তবে সেলাই কাজই ছিল তার সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ।

ফায়দা: একজন সাধারণ মানুষ তার ঘরে বসে যেসব কাজ করে থাকে, নবী ও সে সব কাজই করতেন। "এবং সেলাই করার কাজই তাঁর সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ ছিল" এ বাক্যটি বর্ণনাকারীর নিজস্ব মন্তব্য। এতে পূর্ববর্তী রিওয়ায়াতের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ নবী তাঁর নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন এবং নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন।

١٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كُنْتُ الْعَبُ بِالْبَنَاتِ فِي بَيْتِ النَّبِيِّ وَكُنَّ لِي صَوَاحِبَ يَأْتِينِي فَيَلْعَبْنَ مَعِي، فَيَنْقَمِعَنَّ إِذَا رَأَيْنَ رَسُولَ اللَّهِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَسْرَبُهُنَّ إِلَى فَيَلْعَبْنَ مَعِي -

১৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গৃহে কাপড়ের পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। আমার কিছু সখীও ছিল। তারা আমার কাছে এসে

আমার সাথে খেলা করত। তারা রাসূলুল্লাহ -কে আসতে দেখলে গৃহের এদিক সেদিক লুকিয়ে থাকতো। রাসূলুল্লাহ্ তাদেরকে এদিক সেদিক থেকে একত্র করে পুনরায় আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তারা পুনরায় আমার সাথে খেলা শুরু করত।

ফায়দা : এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ্ -এর সুসামাজিকতার দর্পণ স্বরূপ। স্বীয় পরিবার পরিজনের মনরক্ষা ও সন্তোষ বিধান পদ্ধতিও এ হাদীস থেকে জ্ঞাত হওয়া যায়।

١٦. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ تِسْعَ سِنِينَ فَمَا أَعْلَمُهُ قَالَ قَطُّ هَلاً فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا وَلَا عَابَ عَلَى شَيْئًا قَطُّ -

১৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু আমার জানা নেই, তিনি কখনো আমাকে বলেছেন, তুমি এরূপ কেন করেছো? এবং তিনি কখনো আমার কোনো কাজে সামান্যতম দোষও ধরেননি।

ফায়দা : এই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ্ -এর অনুপম চরিত্রের নমুনা। এ যুগে কাজের লোকদের সাথে দুর্ব্যবহারকারীরা এই হাদীসটির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবেন এবং নবী -এর এই মহান কর্মপদ্ধতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

۱۷. عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ أَبِي عَنْ دُخُولِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كَانَ دُخُولُهُ لِنَفْسِهِ مَانُونَا لَهُ فِي ذَلِكَ، وَكَانَ إِذَا أَتَى إِلَى مَنْزِلِهِ جَزْء دُخُولَهُ ثَلَاثَةٌ أَجْزَاء جُزْء لِلَّهِ وَجُزْء لِأَهْلِهِ وَجُزْءُ لِنَفْسِهِ ثُمَّ يَجْعَلُ جُزَاهُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَرُدُّ ذَلِكَ عَلَى الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةُ وَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئًا فَكَانَ مِنْ سِيَرْتِهِ فِي جُزْء الامَّةِ إِبْثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِإِذْنِهِ وَقِسْمَتِهِ عَلَى قَدْرِ فَضْلِهِمْ فِي الدِّينِ مِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ فَيَسْتَغِلُ بِهِمْ وَيَشْغُلُهُمْ فِيْمَا يُصْلِحُهِمَ وَالأُمَّةَ مِنْ مَسْأَلَتْهِ عَنْهُمْ وَأَخْبَارِهِمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ يَقُولُ لَيُبَلِّغ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الغَائِبَ وَأَبْلِغُوْنِي حَاجَةً مَنْ لا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغِى حَاجَتَهُ فَأَنَّهُ مَنْ اَبْلَغَ سُلْطَانًا حَاجَةً مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا ثَبَّتَ اللهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَذْكُرُ عِنْدَهُ إِلَّا ذَلِكَ وَلَا يُقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرَهُ قَالَ فِي حَدِيْثِ سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ يَدْخُلُوْنَ رَوَادًا وَلَا يَتَفَرَّقُوْنَ إِلَّا عَنْ ذَوَاقِرٍ وَيَخْرُجُونَ أَدِلَّةً يَعْنِي فُقَهَاءَ - قُلْتُ فَأَخْبِرْنِي عَنْ مَخَرَجِهِ كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ ؟

قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخْزُنُ لِسَانَهُ إِلَّمَا يَعْنِيهِمْ وَيُؤَلْفُهُمْ وَلَا يُفَرِّقُهُمْ، يُكْرِمُ كَرِيْمَ كُلَّ قَوْمٍ وَيُوَلِّيْهِ عَلَيْهِمْ وَيَحْذَرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ عَنْهُمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَطْوِيَ عَنْ أَحَدٍ بِشْرَهُ وَخُلْقَهُ، وَيَتَفَقَّدُ أَصْحَابَهُ وَيَسْئَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي النَّاسِ وَيُحَسِّنُ الْحَسَنَ وَيُصَوِّبُهُ، وَيُقَبِّحُ القَبِيْحَ وَيَذُمُّهُ، مُعْتَدِلُ الْأَمْرِ غَيْرُ مُخْتَلِفٍ، لَا يَغْفُلُ مَخَافَةَ أَنْ يَغْفُلُوا أَوْيَمَلُّوا، لِكُلِّ حَالِ عِنْدَهُ عُتَادُ، لَا يَقْصُرُ عَنِ الْحَقِّ وَلَا يُجَاوِزُهُ إِلَى غَيْرِهِ الَّذِينَ يَلُوْنَهُ مِنَ النَّاسِ خِيَارُهُمْ وَأَفْضَلُهُمْ عِنْدَهُ أَعَمُّهُمْ نَصِيْحَةً وَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً أَحْسَنُهُمْ مُوَاسَاةً وَمُوَازَرَةٌ، وَسَأَلَتُهُ عَنْ مَجْلِسِهِ فَقَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَجْلِسُ وَلَا يَقُوْمُ إِلَّا ذَكَرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا يُوْطِنُ الْأَمَاكِنَ وَيَنْهَى عَنْ إِيْطَانِهَا وَإِذَا جَلَسَ إِلَى قَوْمٍ جَلَسَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمَجْلِسُ وَيَأْمُرُ بِذَلِكَ وَيُعْطِي كُلَّ جُلَسَائِهِ بِنَصِيْبِهِ لَا يَحْسِبُ أَحَدٌ مِنْ جُلَسَائِهِ أَنَّ أَحَدًا أَكْرَمُ عَلَيْهِ مِنْهُ مَنْ جَالَسَهُ أَوْ قَاوَمَهُ لِحَاجَةٍ صَابِرَهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ وَمَنْ سَأَلَهُ حَاجَةً لَمْ يَنْصَرِفْ إِلَّا بِهَا أَوْ بِمَيْسُوْرٍ مِنَ الْقَوْلِ-

قَدْوَسَّعَ النَّاسُ مِنْهُ خُلُقَهُ فَصَارَ لَهُمْ أَبًا وَصَارُوا عِنْدَهُ فِي الْحَقِّ سِوَاءٌ مَجْلِسُهُ مَجْلِسُ حِلْمٍ وَحَيَاء وَصِدْقٍ وَأَمَانَةٍ لَا تُرْفَعُ فِيهِ الأَصْوَاتُ وَلَا تُؤْبَنُ فِيْهِ الْحُرْمُ وَلَا تَنْثَنِيْ فَلْتَاتُهُ مُعْتَدِيْنَ يَتَوَاصَلُوْنَ بِالتَّقْوَى مُتْوَاضِعِيْنَ يُوَقِّرُونَ فِيْهِ الْكَبِيْرَ وَيَرْحَمُوْنَ فِيْهِ الصَّغِيرَ وَيُؤْثِرُونَ ذَالْحَاجَةِ وَيَحْفَظُوْنَ الْغَرِيبَ -

قُلْتُ كَيْفَ كَانَتْ سِيْرَتُهُ فِي جُلَسَائِهِ؟ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ دَائِمَ الْبِشْرِ سَهْلَ الْخُلُقِ لَيِّنَ الْجَانِبِ لَيْسَ بِفَظٍ وَلَا عَلِيْظٍ وَلَا صَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا فَاحِشًا وَلَا عَيَّابًا وَلَا مَدَّاحًا يَتَغَافَلُ عَمَّا لَا يَشْتَهِي وَيُؤْيَسُ مِنْهُ وَلَا يُجِيبُ فِيْهِ قَدْتَرَكَ نَفْسَهُ مِنَ ثَلَاثَ الْمِرَاءِ وَالإِكْثَارِ وَمَا لَا يَعْنِيْهِ، وَتَرَكَ النَّاسَ مِنْ ثَلَاثٍ، كَانَ لَا يَذُمُّ أَحَدًا وَلَا يُعِيْرُهُ وَلَا يَطْلُبُ عَوْرَاتِهِ وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا فِيمَا رَجَا ثَوَابَهُ إِذَا تَكَلَّمَ أَطْرَقَ جُلَسَاؤُهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُوسِهِمْ الطَّيْرُ، وَإِذَا سَكَتَ تَكَلَّمُوا وَلَا يَتَنَازَعُونَ عِنْدَهُ الْحَدِيثَ مَنْ تَكَلَّمَ أَنْصَتُوْالَهُ حَتَّى يَفْرُغَ حَدِيثُهُمْ عِنْدَهُ حَدِيثُ أَوْلَهُمْ يَضْحَكُ مِمَّا يَضْحَكُونَ وَيَتَعَجَّبُ مِمَّا يَتَعَجَبُونَ، وَيَصْبُرُ لِلْغَرِيبِ عَلَى الْجَفَوْةِ فِي مَنْطِقِهِ وَمَسْأَلِتْهِ حَتَّى إِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَيَسْتَجِلُونَهُمْ فَيَقَوْلُ إِذَا رَأَيْتُمْ طَالِبٌ الحَاجَةِ يَطْلُبُهَا فَارَقْدُوهُ وَلَا يَقْبَلُ الثَّنَاءَ إِلَّا مِنْ مُكَافٍ، وَلَا يَقْطَعُ عَلَى أَحَدٍ حَدِيثَهُ حَتَّى يَجُوزَ فَيَقْطَعُهُ بِنَهْيِ أَوْ قِيَامٍ، فَسَأَلْتُ كَيْفَ كَانَ سُكُوتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ كَانَ سُكُوتُ رَسُولِ اللهِ ﷺ عَلَى أَرْبَعُ عَلَى الْحِلْمِ وَالْحَدْرِةِ التَّقْدِيرِ والتَّفْكِيْرِ، فَأَمَّا تَقْدِيرُهُ فَفِي تَسْوِيَهُ النَّظَرِ وَالإِسْتِمَاعِ مِنَ النَّاسِ وَأَمَّا تَفْكِيْرُهُ فَفِيْمَا يَبْقَى وَلا يَفْنِي وَجُمِعَ لَهُ الْحِلْمُ فِي الصَّبْرِ فَكَانَ لَا يَغْضُبُهُ شَتَّى وَلَا يَسْتَفِزُّهُ، وَجُمِعَ لَهُ الْحَذَرُ فِي أَرْبَعِ أَخْذَهُ بِالْحُسْنِ لِيُقْتَدَى بِهِ، وَتَرْكُهُ القَبِيحَ لِيُنْتَهَى عَنْهُ وَاجْتِهَادُهُ الرَّأى فِيمَا أَصْلَحَ أَمُتَهُ، وَالقِيَامُ فِيْمَا هُوَ خَيْرُ لَهُمْ جَمَعَ لَهُمْ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ .

১৭. হযরত হাসান ইব্‌ন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে [হযরত আলী (রা)-কে) নবী -এর গৃহ-মধ্যকার কাজকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এ অনুমতি ছিল যে, যখনই ইচ্ছা করতেন, তখনই তিনি গৃহে প্রবেশ করতে পারতেন। (তবুও) তাঁর অভ্যাস ছিল, যখনই গৃহে গমন করতেন, তাঁর সময়কে তিন ভাগ করতেন। এক ভাগ আল্লাহর ইবাদতের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য এবং তৃতীয় ভাগ নিজের আরামের জন্য। আবার নিজ আরামের সময়টুকুও লোকজনকে দিয়ে দিতেন। আর তা এইভাবে যে, বিশেষদের মাধ্যমে তার উপকারিতাও সাধারণদের মধ্যে ফিরিয়ে দিতেন। অর্থাৎ ঐ সময় বিশেষ বিশেষ সাহাবা কিরাম প্রবেশ করতেন এবং তাঁর কাছে দীনী মাসায়েল ও মর্মকথা শ্রবণ করে সাধারণ লোকদের মধ্যে পৌঁছে দিতেন। তাঁদের কাছে কোনো কথা গোপন রাখতেন না অর্থাৎ দীন ও দুনিয়ার লাভজনক সব কথাই বলতেন। তাঁর অভ্যাস ছিল, উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়ে স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী জ্ঞানীদেরকে প্রাধান্য দিতেন এবং ঐ সময়ের বণ্টনে দীনী মর্যাদা হিসাবে তারতম্য ঘটতো। তাদের মধ্যে কারো থাকতো একটি কাজ, কারো দু'টি কাজ এবং কারো কয়েকটি কাজ। তিনি তাদের কাজে লেগে যেতেন এবং তাদেরকেও ঐসব কাজে মশগুল রাখতেন। তাতে তাদের এবং উম্মতের সংশোধন হতো। তিনি তাদের সমস্যাবলি জানতে চাইতেন এবং তাদের অবস্থা অনুযায়ী তাদেরকে পরামর্শ দিতেন। বলতেন, যারা এখানে উপস্থিত আছে, তারা যেন তা অনুপস্থিতদেরকে পৌঁছে দেয়। (তিনি বলতেন) আমাকে সেই ব্যক্তির প্রয়োজন অবগত করো, যে তার প্রয়োজন আমার কাছে পৌঁছাতে পারে না। কেননা যে ব্যক্তি আমীর (প্রশাসক) পর্যন্ত এমন কোনো ব্যক্তির প্রয়োজনকে পৌছে দিয়েছে, যে তার নিজের প্রয়োজন ঐ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে দৃঢ়পদ রাখবেন। এ কথাই তাঁর কাছে আলোচিত হতো এবং এ ছাড়া তিনি কারো কোনো কথা পছন্দ করতেন না।

সুফিয়ান ইব্‌ন ওয়াকী'র রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবা তাঁর (নবী) কাছে ইলম ও দীন অন্বেষী হয়ে যেতেন এবং স্বাদ না নিয়ে সেখান থেকে ফিরতেন না। আর যখন বের হতেন, তখন পথ-প্রদর্শক হয়ে বের হতেন। বর্ণনাকারী পথ-প্রদর্শকের ব্যাখ্যা করেছেন 'ফুকাহা' শব্দ দ্বারা (অর্থাৎ দীনের অগাধ পাণ্ডিত্য নিয়ে উঠে আসতেন)।

হযরত হুসাইন (রা) বলেন, তারপর আমি (আমার পিতাকে) জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর (নবী) গৃহের বাইরের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুটা বলুন। অর্থাৎ গৃহের বাইরে তিনি কি কাজকর্ম করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ অনর্থক কথাবার্তা থেকে স্বীয় রসনা মুবারককে রক্ষা করতেন। মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতেন। বিচ্ছিন্ন হতে দিতেন না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাকেই তাদের নেতা ও অভিভাবক বানাতেন। তিনি মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে সব সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতেন। কিন্তু কারো সাথে স্বীয় আন্তরিকতা ও প্রফুল্লচিত্ততার ক্ষেত্রে তারতম্য করতেন না। স্বীয় সঙ্গীদের খোঁজ-খবর নিতেন। মানুষকে তাদের হাল অবস্থা জিজ্ঞেস করতেন। ভাল কথাকে ভাল বলতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। আর মন্দ কথাকে মন্দ বলতেন এবং তার নিন্দা করতেন। প্রত্যেক কাজে তাঁর ভারসাম্য বজায় থাকতো, এদিকে-ওদিকে ঝুঁকে পড়তেন না। তিনি মানুষের প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখতেন যাতে তারা অমনোযোগী না হয়ে পড়ে কিংবা অতিষ্ঠ হয়ে না ওঠে। প্রত্যেক অবস্থার জন্যই তাঁর নিকট তার উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতো। সত্য গ্রহণেও ত্রুটি করতেন না এবং সত্য ত্যাগ করেও অন্য দিকে চলে যেতেন না। তাঁর সঙ্গী-সাথীরা ছিলেন উত্তম লোক। তাঁর কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সবার মঙ্গল কামনা করতেন। এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদাশীল ছিলেন সেই ব্যক্তি, যেনি তাদের সমব্যথী ও সাহায্য-সহায়তার ব্যাপারে সবচেয়ে উত্তম।

(হযরত হুসাইন (রা) বলেন,) এরপর আমি (আমার পিতাকে) রাসূলুল্লাহ্-এর মজলিস ও উঠাবসার অবস্থা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ উঠতে বসতে আল্লাহ্র যিকর করতেন। তিনি কোনো স্থানকে নিজের জন্য নির্ধারিত করতেন না এবং অন্য লোককেও এরূপ করতে নিষেধ করতেন। তিনি যখন মানুষের সাথে বসতেন, তখন যেখানেই বসার স্থান পেতেন বসে পড়তেন এবং মানুষকেও এরূপ করতে নির্দেশ দিতেন। তিনি তাঁর মজলিসের প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করতেন। কেউ একথা অনুভব করতো না যে, সে ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি তাঁর বেশি প্রিয় ব্যক্তি। যে ব্যক্তি (কোনো প্রয়োজন) তাঁর কাছে এসে বসতো কিংবা উঠে যেত তিনি তার সাথে নিজেকে সেই সময় পর্যন্ত আটকে রাখতেন যে পর্যন্ত সে নিজেই চলে না যেত। কেউ যদি তাঁর কাছে কোনো কিছু চাইতে আসতো, সে তার বাসনা পূরণ করে ফিরে যেতো কিংবা কোমল ব্যবহার ও সান্ত্বনা নিয়ে ফিরে যেতো। তাঁর ব্যবহার সমস্ত লোকের জন্য সমান ছিল। (স্নেহ-মমতার ক্ষেত্রে) তিনি ছিলেন তাঁদের পিতা। আর লোকেরা সব (অধিকারের ক্ষেত্রে) তাঁর কাছে ছিল সমান। তাঁর মজলিস ছিল ধৈর্যশীলতা, লজ্জাশীলতা, সত্যতা ও আমানতের মজলিস। সেখানে উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা হতো না। কারো ইযযত-আব্রুর উপর কলংক আরোপ করা হতো না। কারো দোষত্রুটি সমালোচিত হতো না। সভার সদস্যদের মধ্যে সংযত ভাব ছিল। তাওয়া বজায় থাকতো। পরস্পরে ভদ্রতা ও নম্র আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, ছোটদের স্নেহ করতো। অভাবগ্রস্তদের প্রাধান্য দিতো। অপরিচিত আগন্তুকদের প্রতি খেয়াল রাখতো।

হযরত হুসাইন (রা) বলেন, তারপর আমি (আমার পিতাকে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি তাঁর সভার সদস্যদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁদের সাথে আনন্দচিত্তে মিলিত হতেন। তিনি নম্র ও বিনয়ী ছিলেন। কঠোর ও দুর্বিনীত ছিলেন না। তিনি হাট-বাজারে হৈহুল্লোড় করতেন না। অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করতেন না। কাউকে দোষারোপ করতেন না। কারো অহেতুক প্রশংসাও করতেন না। অপছন্দনীয় জিনিস থেকে তিনি দূরে থাকতেন এবং এ ব্যাপারে মানুষ তাঁর সম্পর্কে নিরাশ হতো। তিনি সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্যও করতেন না। তিনটি বিষয় থেকে তিনি নিজকে দূরে রেখেছিলেন। এক. ঝগড়া-বিবাদ থেকে, দুই. বেশি কথা বলা থেকে, তিন. অর্থহীন কাজ থেকে। তিনটি বিষয় থেকে তিনি অন্য মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এক. কারো কুৎসা রটনা করতেন না। দুই. কাউকে লজ্জা দিতেন না। তিন. কারো দোষ অন্বেষণ করতেন না। যে কথা বললে সাওয়াবের আশা করা যেতো, তিনি তাই বলতেন। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন সভাসদগণ তাঁদের গর্দান এমনভাবে ঝুঁকিয়ে রাখতেন যেনো তাঁদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তিনি যখন কথা বন্ধ করতেন তখন অন্যরা কথা বলতেন। তাঁর সামনে কেউ কারো কথার প্রতিবাদ করতেন না। যখন কেউ কোনো কথা শুরু করতেন, তখন অন্যরা তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকতেন। তাদের মধ্যে প্রত্যেকের কথাই তাঁর কাছে ততটুকু গুরুত্বের অধিকারী হতো, যতটুকু গুরুত্ব পেতো প্রথম ব্যক্তির কথা। সবাই যে কথা শুনে হাসতো, তিনিও তাতে হাসতেন। সবাই যাতে আশ্চর্য হতো, তিনিও তাতে আশ্চর্য হতেন। আগন্তুকের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও প্রশ্নাবলি তিনি ধৈর্যসহকারে শ্রবণ করতেন। তাঁর সাহাবীগণ এরূপ লোকদেরকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন (যাতে তাদের প্রশ্নাবলি থেকে নতুন বিষয় জানা যায়)। তিনি বলতেন, তোমরা যখন কোনো অভাবগ্রস্তকে তার অভাব দূর করার প্রার্থনা করতে দেখো, তখন তাকে সাহায্য করো। কেউ তাঁর প্রশংসা করুক, তিনি তা পছন্দ করতেন না। তবে কেউ কৃতজ্ঞতা বশত কিছু বললে তা ছিল স্বতন্ত্র। তিনি কারো কথার প্রতিবাদ করতেন না। অবশ্য সে যদি সীমা অতিক্রম করে যেতো, তবে তার কথার প্রতিবাদ করতেন। হয়তো তাকে নিষেধ করতেন কিংবা সেখান থেকে তিনি উঠে দাঁড়াতেন।

(হযরত হাসান (রা) বলেন। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্-এর চুপ থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্-এর চুপ থাকা ছিল চারটি কারণে। এক. সহনশীলতার কারণে, দুই. সাবধানতার দরুন, তিন. আন্দাজ করার উদ্দেশ্যে ও চার. চিন্তা-ভাবনা করার জন্য। তাঁর আন্দাজ করা ছিল অবস্থার উপর পূর্ণ চিন্তা-ভাবনা করা এবং মানুষের আলাপ-আলোচনা শ্রবণ করা। আর তিনি চিন্তা-ভাবনা করতেন সেসব বিষয়ে, যা অবশিষ্ট থাকে এবং বিলীন হয় না। আর সহনশীলতা তাঁর ধৈর্যের মধ্যেই একত্র করা হয়েছিল। অর্থাৎ কোনো বিষয় তাঁকে ক্রুদ্ধও করতে পারতো না এবং অস্থিরও করতে পারতো না। আর সাবধানতা তাঁর জন্য চারটি জিনিসের মধ্যে একত্র করা হয়েছে। (আর তা হচ্ছে) তিনি উত্তম বস্তুটি গ্রহণ করতেন, যাতে মানুষ তাঁকে গ্রহণ করে এবং তিনি মন্দ বস্তু পরিত্যাগ করতেন, যাতে মানুষ তা থেকে বিরত থাকে। এবং যে জিনিসে তাঁর উম্মতের সংশোধন হতো, তিনি তার পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করতেন আর যাতে তাদের কল্যাণ হতো, তিনি সে বিষয়ে সক্রিয় থাকতেন। এভাবে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণকে সমন্বিত করেছিলেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ، وَشَمَمْتُ العِطر كُلَّهُ فَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطَيْبَ مِنْ نِكْهَتِهِ، وَكَانَ إِذَا لَقِيْهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ قَامَ مَعَهُ فَلَمْ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلَ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُ مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هَوَالَّذِي يَنْزِعُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلَ أُذُنَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا عَنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا عَنْهُ -

১৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দশ বছর পর্যন্ত আমি রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম এবং সব রকমের আতরের আমি ঘ্রাণ নিয়েছি। কিন্তু তাঁর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো ঘ্রাণ আমি শুকিনি। সাহাবাদের মধ্যে কারো সাথে যখন তাঁর সাক্ষাৎ হতো, তখন তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং যে পর্যন্ত তিনি তাঁর থেকে পৃথক না হতেন, তিনি নিজে তাঁর থেকে পৃথক হতেন না। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সময় তাঁর হাত মুবারক তাঁর হাতে নিতেন তখন যে পর্যন্ত ঐ সাহাবী তাঁর হাত গুটিয়ে না নিতেন, তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না। আর কোনো সাহাবী যখন তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কানে কোনো কথা বলতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত তাঁর কান সরিয়ে আনতেন না, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজে না সরিয়ে নিতেন।

۱۹. عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَتْ بِى أُمِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ هُذَا خُوَيْدِمُكَ، فَخَدَمْتُ النَّبِيُّ تِسْعَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي لِشَيْ قَطُّ أَسَأَتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ -

১৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে হাযির হলেন এবং তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই আপনার ছোট সেবক। তারপর আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করলাম। (এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে) তিনি কখনো আমাকে বলেননি যে, তুমি এ কাজটি ভাল করোনি কিংবা তুমি এ কাজটি খারাপ করেছো।

٢٠. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي وَالْحَبَشُ يَلْعَبُوْنَ بِحَرَابِهِمْ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ فَقَامَ يَسْتُرُ نِي بِرِدَا نِهِ حَتَّى انْصَرَفْتُ أَنَا مِنْ قِبَلِ نَفْسِي فَاقْدُرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِ الْحَرِيْصَةِ عَلَى اللَّهْوِ -

২০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হাবশী লোকেরা তখন মসজিদে নবীতে যুদ্ধের কসরত দেখাচ্ছিল। আমিও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কসরত দেখছিলাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর চাদর দ্বারা আড়াল করে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং যে পর্যন্ত আমি সেখান থেকে সরে না এসেছি, তখন পর্যন্ত তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, তোমরা অনুমান করো, একজন অল্প বয়সী বালিকার খেলাধুলার প্রতি কতখানি আগ্রহ থাকতে পারে (এবং তিনি কত দীর্ঘসময় পর্যন্ত তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন)।

۲۱ . عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابْنُوسٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ مَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَتْ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ القُرْآنُ ثُمَّ قَالَتْ أَتَقْرَؤُنَ سَوْرَةَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قُلْنَا نَعَمْ، قَالَتْ اقْرًا، فَقَرَأَتُ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُوْنَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - فَقَالَتْ هُكَذَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ

২১. হযরত ইয়াযীদ ইব্‌ন বাবনূস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা) -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর চরিত্র ছিল কুরআন। তারপর বলেন, তোমরা কি সূরা মু'মিনূন পড়ো না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, পড়ি। তিনি বলেন, পড়ো, তখন আমি পড়লাম "অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু'মিনগণ; যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে; যারা অসার ক্রিয়াকলাপ হতে বিরত থাকে; যারা যাকাত দানে সক্রিয়; যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।" তারপর হযতর আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর চরিত্র এরূপই ছিল।

٢٢ . عَنْ خَارِجَةَ أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ دَخَلُوا عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِت فَقَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَإِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا، وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامُ ذَكَرَهُ مَعَنَا -

২২. হযরত খারিজা (রা) থেকে বর্ণিত, হযরত যায়িদ ইব্‌ন্ন সাবিত (রা)-এর কাছে কিছু লোক ইরাক থেকে আগমন করলো। তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। আমরা যখন দুনিয়ার প্রসঙ্গে আলোচনা করতাম তিনিও আমাদের সাথে ঐ প্রসঙ্গ আলোচনা করতেন। আমরা যখন আখিরাত প্রসঙ্গ আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে ঐ প্রসঙ্গে আলোচনা করতেন। আমরা যখন আহার সম্পর্কে আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করতেন।

٢٣ . عَنْ عُمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنَ قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَلا ؟ قَالَتْ كَانَ أَبَرَّ النَّاسِ وَأَكْرَمَ النَّاسِ ضَحَاكًا بَسَامًا -

২৩. উমরাহ বিন্ত আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ একান্তে কিভাবে কাটাতেন? তিনি বললেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে পুণ্যবান ও ভদ্র এবং খুব হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব।

٢٤ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جُزْءٍ يَقُوْلُ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ -

২৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস ইব্‌ন জুই (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক হাসিখুশি লোক দেখিনি।

٢٥ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ امْرَأَةً كَانَ فِي عَقْلِهَا شَى فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا أُمَّ فُلَانٍ خُذِي فِي أَيِّ الطَّرِيقِ شِئْتِ قَوْمِي فِيْهِ حَتَّى أَقُوْمَ مَعَكِ ؟ فَخَلَا مَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُنَاجِيْهَا حَتَّى قَضَتْ حَاجَتَهَا.

২৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক স্ত্রীলোকের বুদ্ধিতে কিছুটা ত্রুটি ছিল। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। রাসূলুল্লাহ্ বললেন, হে অমুকের মা! তুমি যে কোনো এক রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াও। যাতে আমিও তোমার সাথে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। তারপর তিনি তার সাথে গিয়ে একান্তে কথাবার্তা বললেন-যে পর্যন্ত না ঐ স্ত্রীলোকটি তার প্রয়োজন পূর্ণ করেন।

٢٦. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ إِنْ كَانَتْ الْوَلِيدَةُ مِنْ وَلَا ئِدِ الْمَدِينَةِ تَجِي فَتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَمَا يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْ يَدِهَا حَتَّى تَذْهَبَ بِهِ حَيْثُ شَاءَتْ -

২৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার ছোট্ট মেয়েদের মধ্যে কোনো এক মেয়ে রাসূলুল্লাহ্-এর কাছে আসতো এবং তাঁর হাত ধরতো। তিনি মেয়েটির হাত থেকে নিজের হাত গুটিয়ে নিতেন না। সে যেখানে ইচ্ছা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যেতো।

۲۷. عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَتْ أَلَامَةُ مِنْ إِمَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لِتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيَدُورُ بِهَا فِي حَوَا نِجِهَا حَتَّى تَفْرُغَ ثُمَّ تَرْجِعُ -

২৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসী দাসীদের মধ্য থেকে কোন এক দাসী এসে রাসূলুল্লাহ্-এর হাত ধরতো। তিনি তাকে সাথে নিয়ে তার প্রয়োজনের জন্য ঘুরে বেড়াতেন যে পর্যন্ত সে তার কাজ শেষ করে ফিরে না যেতো।

۲۸. عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَجُلاً قَطُّ أَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيَتُرُكُ يَدَهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ يَنْزِعُ يَدَهُ -

২৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি, যে রাসূলুল্লাহ্-এর হাত নিজের হাতে নিয়েছে আর তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত সে নিজেই তার হাত গুটিয়ে না নিতো।

۲۹. وَزَادَ فِي رِوَايَةِ وَمَا رَأَيْتُ رَجُلاً قَطُّ التَقَمَ أُذُنُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَيُنَحِي رأْسَهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْحَى رَأْسَهُ يَعْنِي الرَّجُلَ -

২৯. হযরত আনাস (রা)-এর অন্য এক রিওয়ায়াতে আরো বর্ণিত আছে যে, (তিনি বলেন) আমি কখনো এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি, যে রাসূলুল্লাহ্ -এর কানে কানে কোন কথা বলার জন্য তাঁর দিকে ঝুঁকেছে আর তিনি তাঁর শির তার দিক থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন যে পর্যন্ত সে তার নিজের মাথা সরিয়ে না নিতো।

٣٠ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ رَبَّمَا نَزَلَ عِنْدَ الْمِنْبَرِ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَيَعْرِضُ الرَّجُلُ فَيُحَدِّثُهُ طَوِيلاً ثُمَّ يَتَقَدَّمُ إِلَى الصَّلاةِ -

৩০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কখনো এমনও হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সালাতের জন্য মিম্বার থেকে নেমেছেন। সালাতের ইকামতও বলা হয়েছে, এমন সময় কোন ব্যক্তি তাঁর সামনে এসে লম্বা আলাপ জুড়ে দিয়েছে। আলাপ শেষ হওয়ার পর তিনি সালাতের জন্য অগ্রসর হয়েছেন।

٣١. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الْمُؤَذِّنَ أَوْ بِلالًا كَانَ يُقِيمُ فَيَدْخُلُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَيَسْتَقْبِلُهُ الرَّجُلُ فَيُقِيمُ مَعَهُ حَتَّى يَخْفِقَ عَامَّتُهُمْ بِرُوسِهِمْ -

৩১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়াযযিন (কিংবা বলেন, বিলাল) ইকামত বলতো এবং রাসূলুল্লাহ্ মসজিদে প্রবেশ করতেন। এরপর কোনো ব্যক্তি তাঁর সামনে আসতো এবং তিনি তার সাথে এতো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তন্দ্রায় লোকদের মাথা ঢুলতে থাকত।

٣٢ عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَقَدْ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ، فَوَاللَّهِ مَا قَالَ لِي أَفْ قَطُّ، وَلَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُهُ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا أَوْكَذَا؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَ كَذَا؟

৩২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাজে কখনো বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আমার কোন কাজে তিনি একথাও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করেছো? আর কোনো কাজ না করলে তিনি একথাও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করলে না?

عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَلَمْ يُعَيِّرْ عَلَى شَيْئًا قَطُّ أَسَاتُ - فِيهِ

৩৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর খেদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো ত্রুটিতে কখনো আমাকে লজ্জা দেননি।

৩৪. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَجِيْنُ إِلَيْنَا وَأَخُ لِى صَغِيرُ فَيَقُولُ يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের বাড়িতে আগমন করতেন। আমার একটি ছোট ভাই ছিল। তিনি (কৌতুক করে তাকে) বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেল তোমার নুগায়র?

৩৫. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُخَالِطُنَا وَيَغْشَانَا، وَكَانَ مَعَنَا صَبِيٌّ يُقَالُ لَهُ أَبُو عُمَيْرٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا أَبَا عُمَيْرُ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের সাথে সদ্ভাব রাখতেন এবং আমাদের এখানে আসা-যাওয়া করতেন। আমাদের সাথে একটি ছেলে ছিল। তাকে আবূ উমায়র নামে ডাকা হতো। (একবার) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কৌতুক করে তাকে বললেন, হে আবূ উমায়র! কোথা গেল তোমার নুগায়র?

৩৬. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ كَانَ لِى أَخُ يُقَالُ لَهُ أَبُو عُمَيْرٍ أَحْسِبُهُ قَالَ فَطِيمًا وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا رَآهُ قَالَ أَبُو عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟ نُغَيْرُ كَانَ يَلْعَبُ بِهِ - عَنْ أَنَسٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ كَانَ ابْنَ لَهُ يُكَنَّى أَبَا عُمَيْرٍ، وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ أَبَا عُمَيْرٍ! مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟

৩৬. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ উমায়র নামে আমার এক ভাই ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, তার দুধ ছাড়ানো হয়েছিল) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন তাকে দেখতেন, তখন বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেলে তোমার নুগায়র? নুগায়রের সাথে ঐ ছেলেটি খেলা করতো। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আবু তালহা (রা)-এর একটি ছেলের কুনিয়াত ছিল আবূ উমায়র। নবী ﷺ তাকে বলতেন, হে আবূ উমায়র! কোথায় গেলে নুগায়র?

۳۷ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَا شَمَمْتُ رَائِحَةَ أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ وَلَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ فَيَتْرُكُهَا حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَتْرُكُهَا ، وَمَا أَخْرَجَ رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسَ لَهُ قَطُّ، وَمَا قَعَدَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ رَجُلٌ قَطُّ فَقَامَ حَتَّى يَقُوْمَ -

৩৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। [হযরত আনাস (রা) বলেন] এমন কখনো হয়নি যে, কোন ব্যক্তি তাঁর সাথে হাত মিলিয়েছে আর তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন। যে পর্যন্ত সে তার হাত ছেড়ে না দিত। তিনি কখনো তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর সামনে হাঁটু প্রসারিত করেননি। আর এমন কখনো হয়নি যে, কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে বসেছে এবং তিনি তার দাঁড়ানোর পূর্বে তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا أَخْرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ رُكْبَتَيْهِ قَطُّ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ وَلَا قَعَدَ أَحَدٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَيَقُوْمَ حَتَّى يَقُوْمَ الْآخَرُ وَلَا نَاوَلَ يَدَهُ النَّبِيُّ ﷺ فَيَتْرُكُ يَدَهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ يَتْرُكُهَا -

৩৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ কখনো তাঁর কাছে উপবেশনকারীর সামনে হাঁটু ছড়িয়ে বসেননি। আর এমন কখনো হয়নি যে, তাঁর কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে এসে বসেছে এবং সে উঠে যাওয়ার পূর্বে তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কোনো ব্যক্তি তার হাত নবী -এর মুবারক হাতের সাথে মিলিয়েছে এবং তিনি তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছেন, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তাঁর হাত ছেড়ে না দিত।

٣٩. عَنْ أَبِي مَالِكِ الا شَجَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا نُجَالِسُ النَّبِيَّ ﷺ فَمَا رَأَيْتُ أَطْوَلَ صَمْتًا مِنْهُ وَكَانُوا إِذَا أَكْثَرُوا عَلَيْهِ تَبَسَّمَ -

৩৯. আবূ মালিক আশজাঈ (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা নবী -এর নিকট উপবেশন করতাম। আমি তাঁর চেয়ে অধিক নির্বাক কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি। সাহাবীগণ যখন তাঁর নীরবতাকে অধিক উপভোগ করতেন, তখন তিনি হেসে দিতেন।

٤٠ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيَّ رَجُلاً سَهْلًا إِذَا هَوِيَتْ يَعْنِي عَائِشَةٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا الشَّيْ تَابَعَهَا عَلَيْهِ -

৪০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী অত্যন্ত শিষ্ট নবী ছিলেন। হযরত আয়েশা (রা) যখন কোনো কিছু কামনা করতেন, তখন তিনি তা পূরণ করতেন।

٤١ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُكْثِرُ الذِكْرَ وَيُقِلُّ اللَّعْنَ وَيُطِيلُ الصَّلاةَ وَيَقْصُرُ الْخُطْبَةَ وَكَانَ لَا يَأْنَفُ وَلَا يَسْتَكْبِرُ أَنْ يَمْشِي مَعَ الْأَرْمِلَةِ وَالْمِسْكِيْنِ فَيَقْضِي لَهُ حَاجَتَهُ -

৪১. হযরত ইব্‌ন আবূ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ আল্লাহকে অধিক স্মরণ করতেন এবং কাউকে অভিশাপ করতেন না। তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুৎবা সংক্ষেপ করতেন। বিধবা ও মিস্কীনদের সাথে চলে তাদের অভাব পূর্ণ করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। নিজকে তাদের চেয়ে বড়ও মনে করতেন না।

٤٢. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ سِنِينَ فَمَا سَبَّنِي سَبَّةٌ قَطُّ، وَلَا ضَرَبَنِي ضَرَبَةً وَلَا انْتَهَرَنِي وَلَا عَبَسَ فِي وَجْهِي، وَلَا أَمَرَنِي بِأَمْرٍ فَتَوَانَيْتُ فِيْهِ فَعَاتَبَنِي عَلَيْهِ، فَإِنَّ عَاتَبَنِي عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ دَعُوهُ فَلَوْ قُدِرَ شَيْئً كَانَ -

৪২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর বহু বছর খিদমত করেছি। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো গালি দেননি, মারপিট করেননি, ধমক দেননি, চোখ রাঙাননি। আর এমন কোনো বিষয়ে তিনি আমাকে তিরস্কারও করেননি, যা তিনি আমাকে করতে আদেশ করেছেন অথচ আমি তা করতে আলস্য করেছি। তাঁর গৃহের কেউ যদি এ ব্যাপারে আমাকে ভর্ৎসনা করতো, তবে তিনি বলতেন, আরে রাখো তো! যদি তকদীরে থাকত তাহলে তো তা ঘটতই।


টিকাঃ
১. হুমাইদ (র) নীচুস্তরে এ হাদীসের একজন রাবী ছিলেন। তিনি যখন এই হাদীস বর্ণনা করতে করতে এই পর্যন্ত পৌঁছেন, তখন স্থানের উপযুক্ততা হেতু সহসা এই বাক্যটি তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে গেলো। অর্থাৎ স্বীয় এই কর্মপদ্ধতি দ্বারা হযরত মুগীরা (রা) নবীকে নিজের জন্য কোমল ও নিকটবর্তী করে নেন।
১. অর্থাৎ নবী -এর বাইরে থাকার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না বরং আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এ অনুমতি ছিল যে, তিনি যখন ইচ্ছা করতেন, গৃহে গমন করতে পারতেন।
২. নবী -এর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা মূল্যায়িত হতো। প্রত্যেক ব্যক্তি তার দীনী মর্যাদা হিসেবে তাঁর দরবারে স্থান লাভ করতো।
১. এখান থেকে হযরত হুসাইন (রা) রিওয়ায়াত শুরু হচ্ছে। প্রকাশ থাকে যে, এ হাদীসের প্রথম হযরত হাসান (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ অংশটি হযরত হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত।
২. প্রকাশ থাকে যে, এ অবস্থা ছিল প্রথম দিকের। পরবর্তী সময়ে যখন প্রতিনিধি দলের আগমন শুরু হয় এবং বহিরাগতদের পক্ষে তাঁকে চিনতে অসুবিধা হয়, তখন তিনি তাঁর জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করতে সাহাবা কিরামকে অনুমতি দেন।
১. এ হাদীস থেকে সেসব লোকের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত, যারা নিজেদের চাকর-নওকর ও কর্মচারীদের সাথে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করে থাকেন। মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে অনুসরণ করা এবং নবী -এর সুন্দরতম চরিত্রকে নিজেদের জীবনের অঙ্গীভূত করা। কেননা, নবী -এর আনুগত্য ও অনুসরণ ছাড়া মুক্তির কোন উপায় নেই।
১. এর দ্বারা জানা গেলো যে, নবী-এর জীবনে কঠোরতা ছিল না। এবং নবী-এর মজলিস ছিল সহজ-সরল। দীন ও দুনিয়ার সব রকম কথাই সেখানে আলোচিত হতো।
১. নুগায়র বুলবুল কিংবা লাল পাখিকে বলা হয়।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ

📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ


٤٣. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا ضَرَبَ النَّبِيُّ امْرَأَةً قَطُّ وَلَا ضَرَبَ خَادِمًا قَطُّ وَلاَ ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلا أَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَا نَيْلَ مِنْهُ فَانْتَقَمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ مَحَارِمُهُ فَيَنْتَقِمُ -

৪৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কখনো কোনো স্ত্রীকে মারেননি। কখনো কোনো খাদিমকেও মারেননি এবং কারো উপর তিনি তাঁর হাত কখনো তোলেননি। তবে তিনি যখন আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হতেন তখনকার কথা আলাদা। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কেউ তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। তবে কেউ যদি দীনের বিধি-নিষেধ অমান্য করতো, তিনি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।

৩৯. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا خَيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَ هُمَا مَالَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ -

৪৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -কে যখন কোন দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি সবচেয়ে সহজ পন্থাটি গ্রহণ করতেন, আর যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে সবার চেয়ে অধিক দূরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁর নিজস্ব ব্যাপারে কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধ যদি লঙ্ঘন করা হতো (তখন তিনি তার অবশ্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন)।

٤٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مُنْتَصِرًا مِنْ ظَلَامَةٍ ظُلِمَهَا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ شَيْءٌ وَإِذَا انْتُهِكَ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ شَيْءٌ كَانَ أَشَدَّهُمْ فِي ذَلِكَ وَمَا خَيْرَ بَيْنَ أَمَرَيْنِ قَطُّ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا -

৪৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে কখনো তাঁর উপর কৃত জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেখিনি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধের অবমাননা করা হলে সে সময়ের কথা স্বতন্ত্র। আর যখন আল্লাহর বিধি-নিষেধের সামান্যতমও অবমাননা করা হতো, তখন তিনি সে ব্যাপারে সবার চেয়ে অধিক কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর যখনই তাঁকে কোনো দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি তার মধ্যে সহজতর পথটি গ্রহণ করেছেন।

٤٦. عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ وَأَنَا غُلَامُ لَيْسَ كُلُّ أَمْرٍ أَمَرَنِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ يَكُونَ ، فَمَا قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هُذَا؟ أَوْ أَلا فَعَلْتَ هُذَا ؟

৪৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর খেদমত করেছি। আমি তখন ছোট্ট ছিলাম। তাই সব কাজ আমি তাঁর মন মতো করতে পারতাম না। তবুও তিনি কখনো আমাকে এ কথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? কিংবা এরূপ কেন করলে না?

৪৭. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِشَيْءٍ قَطُّ لِمَ صَنَعْتَ كَذَا أَوْ كَذَا؟

৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি কখনো কোনো ব্যাপারে আমাকে বলেননি যে, তুমি এরূপ এরূপ করলে কেন?

٤٨ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَهُ؟

৪৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কৃতকর্মের উপর একথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? আর কোনো কাজ না করলেও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করোনি?

٤٩ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله تِسْعَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِشَيْ أَسَأْتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ ، وَكَانَ إِذَا أَنْكَرَ الشَّيْئَ يَقُولُ كَذَا قُضِيَ -

৪৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যাপারেই একথা বলেননি যে, তুমি খারাপ করেছো এবং একথা বলেননি যে, তুমি মন্দ কাজ করেছো। আর যখন তিনি কোনো বিষয়কে অপছন্দ করতেন, তখন বলতেন, এরূপ কথাই বলা ছিল।

٥٠. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ اللهَ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ فِي شَيْءٍ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَئْي لَمْ أَفْعَلْهُ لِمَ لَمْ تَفْعَلْهُ؟ زَادَ مَعْمَرٌ وَمَا سَبَنَّي سَبَّةٌ قَطُّ -

৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কাজ সম্পর্কেই একথা বলেননি যে, তুমি এটি কেন করেছ এবং আমি কোনো কাজ না করলে একথা বলেননি যে, তুমি এটি করলে না কেন? এ রিওয়ায়াতে মামার থেকে এ বাক্যটিও বর্ণিত আছে যে, এবং তিনি আমাকে কখনো গালমন্দও করেননি।

اه عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَبَّابًا وَلَا فَحَاشًا كَانَ يَقُولُ لاحَدِنَا فِي الْمَعْتَبَةِ مَالَهُ تَرِبَتْ يَمِينُهُ

৫১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কাউকে গালাগালও করতেন না এবং কাউকে অশালীন কথাও বলতেন না। তিনি যখন আমাদের কাউকে ভর্ৎসনা করতে চাইতেন, তখন বলতেন: তার কি হয়েছে? তার হাত ধুলিমলিন হোক।

٥٢ . عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ الله لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ خِيَارُكُمْ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا

৫২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী ﷺ না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জর মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। বরং তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম।

٥٣ . عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كَانَ النَّبِي بِأَبِي وَأُمِّي لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ -

৫৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা-পিতা নবী ﷺ -এর জন্য কুরবান, তিনি না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জের মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। আর না তিনি হাট-বাজারে চিৎকার করে কথা বলতেন।

٥٤ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ إِذَا صَافَحُ رَجُلًا لَمْ يَنْزِعَ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ ، وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِيْنَ يَصْرِفُ، وَلَمْ يُرَ مُقَدِّمًا رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ قَطُّ -

৫৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন ঐ ব্যক্তি তার হাত গুটিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না এবং তিনি তাঁর চেহারা মুবারক ঐ ব্যক্তির থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, যে পর্যন্ত সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নিতো। আর কখনো তাঁকে এমন অবস্থায়ও দেখা যায়নি যে, তিনি তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর দিকে তাঁর হাঁটু বাড়িয়ে দিয়েছেন।

عَنْ يَزِيدَ الرُّقَاشِي عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ

৫৫. ইয়াযীদ রাক্কাশীও হযরত আনাস (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مَا سَأَلَ سَائِلَ قَطُّ إِلَّا أَصْغَى إِلَيْهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْصَرِفُ، وَمَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ قَطُّ إِلا نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا

৫৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট যখনই কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতো, তিনি তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকতেন যে পর্যন্ত সে নিজে সরে না যেতো। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার হাতে তাঁর হাত মুবারক নিতো তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক তাকে প্রদান করতেন। তারপর যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তার নিজের হাত ছাড়িয়ে না নিতো, তিনি তাঁর হাত মুবারক ছাড়িয়ে নিতেন না।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَشَمَمْتُ الْعِطْرَ وَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطْيَبَ مِنْ نِكْهَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَامَ مَعَهُ لَمْ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ أُذُنُهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا مِنْهُ

৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমত করেছি। আর আমি (সব রকমের) আতরের ঘ্রাণ শুঁকেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ -এর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। সাহাবাদের মধ্য থেকে যখনই কারো সাথে তাঁর সাক্ষাত হতো, তিনি তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তার থেকে দূরে থাকতেন না। আর যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাথে মিলিত হতো এবং তাঁর হাত মুবারক নিজের হাতে নিতো, তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক ঐ ব্যক্তির হাতে প্রদান করতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত ছাড়িয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তার হাত ছাড়িয়ে না নিতো। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কোনো কথা বলতে চাইতো, তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই অবধি তা সরিয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে না নিতো।

৫৮. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَصْرِبْنِي قَطُّ، وَلَمْ يَنْتَهِرْنِي يَوْمًا قَطُّ، وَلَمْ يَعْبَسُ وَجْهَهُ عَلَى يَوْمًا قَطُّ -

৫৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করেছি। (কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো মারেননি। কোনো দিন আমাকে ধমকাননি। কোনো দিন আমার প্রতি ভ্রুকুটি করেননি।

٥٩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ أَنَّهُ ذَكَرَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ كَانَ أَكْرَمَ النَّاسِ -

৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) একবার নবী -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে ভদ্র ও দয়ালু।

٦٠. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَدْرَكَهُ أَعْرَابِيُّ فَأَخَذَ بِرِدَائِهِ فَجَبَذَهُ جَبْذَهُ شَدِيدَةٌ فَنَظَرْتُ إِلَى عُنُقِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَقَدْ أَثَرَتْ فِيْهِ حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْنَتِهِ، ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدًا مُرْ لِیْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ فَالْتَفْتَ إِلَيْهِ رَسُولُ الله ﷺ فَضَحِكَ وَأَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ -

৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক বেদুঈন নবী -এর চাদর ধরে জোরে হেঁচকা টান মারলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে জোরে চাদর টানার কারণে দাগ পড়ে গিয়েছে। তারপর বেদুঈন বললো, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ্র যে সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দান করার নির্দেশ দাও। তিনি তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু সম্পদ দানের নির্দেশ দিলেন।


টিকাঃ
১ হযরত আনাস (রা)-এর বর্ণনাগুলোর বিষয়বস্তু যদিও অভিন্ন, কিন্তু যেহেতু হাদীসসমূহ বিবিধ সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাই হাফিয আবূ শায়খ ইস্ফাহানী (র) প্রতিটি বর্ণনাকে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ

📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ


٤٣. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا ضَرَبَ النَّبِيُّ امْرَأَةً قَطُّ وَلَا ضَرَبَ خَادِمًا قَطُّ وَلاَ ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلا أَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَا نَيْلَ مِنْهُ فَانْتَقَمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ مَحَارِمُهُ فَيَنْتَقِمُ -

৪৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কখনো কোনো স্ত্রীকে মারেননি। কখনো কোনো খাদিমকেও মারেননি এবং কারো উপর তিনি তাঁর হাত কখনো তোলেননি। তবে তিনি যখন আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হতেন তখনকার কথা আলাদা। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কেউ তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। তবে কেউ যদি দীনের বিধি-নিষেধ অমান্য করতো, তিনি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।

৩৯. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا خَيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَ هُمَا مَالَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ -

৪৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -কে যখন কোন দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি সবচেয়ে সহজ পন্থাটি গ্রহণ করতেন, আর যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে সবার চেয়ে অধিক দূরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁর নিজস্ব ব্যাপারে কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধ যদি লঙ্ঘন করা হতো (তখন তিনি তার অবশ্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন)।

٤٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مُنْتَصِرًا مِنْ ظَلَامَةٍ ظُلِمَهَا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ شَيْءٌ وَإِذَا انْتُهِكَ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ شَيْءٌ كَانَ أَشَدَّهُمْ فِي ذَلِكَ وَمَا خَيْرَ بَيْنَ أَمَرَيْنِ قَطُّ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا -

৪৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে কখনো তাঁর উপর কৃত জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেখিনি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধের অবমাননা করা হলে সে সময়ের কথা স্বতন্ত্র। আর যখন আল্লাহর বিধি-নিষেধের সামান্যতমও অবমাননা করা হতো, তখন তিনি সে ব্যাপারে সবার চেয়ে অধিক কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর যখনই তাঁকে কোনো দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি তার মধ্যে সহজতর পথটি গ্রহণ করেছেন।

٤٦. عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ وَأَنَا غُلَامُ لَيْسَ كُلُّ أَمْرٍ أَمَرَنِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ يَكُونَ ، فَمَا قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هُذَا؟ أَوْ أَلا فَعَلْتَ هُذَا ؟

৪৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর খেদমত করেছি। আমি তখন ছোট্ট ছিলাম। তাই সব কাজ আমি তাঁর মন মতো করতে পারতাম না। তবুও তিনি কখনো আমাকে এ কথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? কিংবা এরূপ কেন করলে না?

৪৭. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِشَيْءٍ قَطُّ لِمَ صَنَعْتَ كَذَا أَوْ كَذَا؟

৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি কখনো কোনো ব্যাপারে আমাকে বলেননি যে, তুমি এরূপ এরূপ করলে কেন?

٤٨ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَهُ؟

৪৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কৃতকর্মের উপর একথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? আর কোনো কাজ না করলেও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করোনি?

٤٩ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله تِسْعَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِشَيْ أَسَأْتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ ، وَكَانَ إِذَا أَنْكَرَ الشَّيْئَ يَقُولُ كَذَا قُضِيَ -

৪৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যাপারেই একথা বলেননি যে, তুমি খারাপ করেছো এবং একথা বলেননি যে, তুমি মন্দ কাজ করেছো। আর যখন তিনি কোনো বিষয়কে অপছন্দ করতেন, তখন বলতেন, এরূপ কথাই বলা ছিল।

٥٠. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ اللهَ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ فِي شَيْءٍ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَئْي لَمْ أَفْعَلْهُ لِمَ لَمْ تَفْعَلْهُ؟ زَادَ مَعْمَرٌ وَمَا سَبَنَّي سَبَّةٌ قَطُّ -

৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কাজ সম্পর্কেই একথা বলেননি যে, তুমি এটি কেন করেছ এবং আমি কোনো কাজ না করলে একথা বলেননি যে, তুমি এটি করলে না কেন? এ রিওয়ায়াতে মামার থেকে এ বাক্যটিও বর্ণিত আছে যে, এবং তিনি আমাকে কখনো গালমন্দও করেননি।

اه عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَبَّابًا وَلَا فَحَاشًا كَانَ يَقُولُ لاحَدِنَا فِي الْمَعْتَبَةِ مَالَهُ تَرِبَتْ يَمِينُهُ

৫১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কাউকে গালাগালও করতেন না এবং কাউকে অশালীন কথাও বলতেন না। তিনি যখন আমাদের কাউকে ভর্ৎসনা করতে চাইতেন, তখন বলতেন: তার কি হয়েছে? তার হাত ধুলিমলিন হোক।

٥٢ . عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ الله لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ خِيَارُكُمْ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا

৫২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী ﷺ না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জর মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। বরং তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম।

٥٣ . عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كَانَ النَّبِي بِأَبِي وَأُمِّي لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ -

৫৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা-পিতা নবী ﷺ -এর জন্য কুরবান, তিনি না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জের মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। আর না তিনি হাট-বাজারে চিৎকার করে কথা বলতেন।

٥٤ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ إِذَا صَافَحُ رَجُلًا لَمْ يَنْزِعَ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ ، وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِيْنَ يَصْرِفُ، وَلَمْ يُرَ مُقَدِّمًا رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ قَطُّ -

৫৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন ঐ ব্যক্তি তার হাত গুটিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না এবং তিনি তাঁর চেহারা মুবারক ঐ ব্যক্তির থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, যে পর্যন্ত সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নিতো। আর কখনো তাঁকে এমন অবস্থায়ও দেখা যায়নি যে, তিনি তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর দিকে তাঁর হাঁটু বাড়িয়ে দিয়েছেন।

عَنْ يَزِيدَ الرُّقَاشِي عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ

৫৫. ইয়াযীদ রাক্কাশীও হযরত আনাস (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مَا سَأَلَ سَائِلَ قَطُّ إِلَّا أَصْغَى إِلَيْهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْصَرِفُ، وَمَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ قَطُّ إِلا نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا

৫৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট যখনই কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতো, তিনি তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকতেন যে পর্যন্ত সে নিজে সরে না যেতো। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার হাতে তাঁর হাত মুবারক নিতো তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক তাকে প্রদান করতেন। তারপর যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তার নিজের হাত ছাড়িয়ে না নিতো, তিনি তাঁর হাত মুবারক ছাড়িয়ে নিতেন না।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَشَمَمْتُ الْعِطْرَ وَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطْيَبَ مِنْ نِكْهَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَامَ مَعَهُ لَمْ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ أُذُنُهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا مِنْهُ

৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমত করেছি। আর আমি (সব রকমের) আতরের ঘ্রাণ শুঁকেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ -এর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। সাহাবাদের মধ্য থেকে যখনই কারো সাথে তাঁর সাক্ষাত হতো, তিনি তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তার থেকে দূরে থাকতেন না। আর যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাথে মিলিত হতো এবং তাঁর হাত মুবারক নিজের হাতে নিতো, তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক ঐ ব্যক্তির হাতে প্রদান করতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত ছাড়িয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তার হাত ছাড়িয়ে না নিতো। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কোনো কথা বলতে চাইতো, তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই অবধি তা সরিয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে না নিতো।

৫৮. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَصْرِبْنِي قَطُّ، وَلَمْ يَنْتَهِرْنِي يَوْمًا قَطُّ، وَلَمْ يَعْبَسُ وَجْهَهُ عَلَى يَوْمًا قَطُّ -

৫৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করেছি। (কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো মারেননি। কোনো দিন আমাকে ধমকাননি। কোনো দিন আমার প্রতি ভ্রুকুটি করেননি।

٥٩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ أَنَّهُ ذَكَرَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ كَانَ أَكْرَمَ النَّاسِ -

৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) একবার নবী -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে ভদ্র ও দয়ালু।

٦٠. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَدْرَكَهُ أَعْرَابِيُّ فَأَخَذَ بِرِدَائِهِ فَجَبَذَهُ جَبْذَهُ شَدِيدَةٌ فَنَظَرْتُ إِلَى عُنُقِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَقَدْ أَثَرَتْ فِيْهِ حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْنَتِهِ، ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدًا مُرْ لِیْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ فَالْتَفْتَ إِلَيْهِ رَسُولُ الله ﷺ فَضَحِكَ وَأَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ -

৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক বেদুঈন নবী -এর চাদর ধরে জোরে হেঁচকা টান মারলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে জোরে চাদর টানার কারণে দাগ পড়ে গিয়েছে। তারপর বেদুঈন বললো, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ্র যে সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দান করার নির্দেশ দাও। তিনি তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু সম্পদ দানের নির্দেশ দিলেন।


টিকাঃ
১ হযরত আনাস (রা)-এর বর্ণনাগুলোর বিষয়বস্তু যদিও অভিন্ন, কিন্তু যেহেতু হাদীসসমূহ বিবিধ সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাই হাফিয আবূ শায়খ ইস্ফাহানী (র) প্রতিটি বর্ণনাকে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00