📄 যেমন হবে বর্তমানের গুরাবাগণ
[৫০] মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, বর্তমানের শুরাবা হলেন তারা, যারা সুন্নতে রাসূল, আছারে সাহাবা ও সালাফদের অনুসরণ করেন। বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত জিনিস থেকে বিরত থাকেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। অনর্থক কথায় লিপ্ত হন না। নিজেকে এবং পরিবারকে ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। পাপাচারে ডুবন্ত সমাজকে সংস্কার করেন।
পার্থিব এ-জগতের প্রতি তেমন একটা লোভ রাখেন না। তবে পরিবার ও নিজের প্রয়োজনে মেটাতে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু রোজগার করেন। আবার এমন সম্পদ অর্জনে নিজেকে ঠেলে দেন না, যে-সম্পদ তাকে আল্লাহবিমুখ করে দেয়।
বর্তমান শুরাবা হলেন তারা, যারা মানুষের সাথে কোমল ও নরম আচরণ করেন, কিন্তু দুনিয়া অর্জনের জন্য মানুষের সাথে তোয়াজমোদও লিঙ্গ হন না। দুনিয়ার সব কঠোর ওপর ধৈর্যধারণ করেন। তাদেরে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো বন্ধু-বান্ধব যেমন খুব কমই হয়ে থাকে, তেমনি ক্ষতি করার মতো মানুষও খুব কমই হয়ে থাকে। এরাই হলো বর্তমান সময়ের শুরাবা।
কোমল শুরাবা ও তোয়াজমোদকারী শুরাবার মধ্যে পার্থক্য হলো, কোমল শুরাবা তারা, যারা সমস্ত মানুষের সাথে নরম ও উত্তম আচরণ করেন। এতে তাদের দ্বীন ঠিক থাকলেই হলো, দুনিয়াতে যদি তাদের কোনো ক্ষতি হয়, সেদিকে এ-প্রকার শুরাবাবা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেন না। এমন কোমল স্বভাবের শুরাবাবা আল্লাহর কাছে অনেক দামি এবং সম্মানিত।
তোয়াজমোদকারী শুরাবা হল তারা, যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য উঠেপড়ে লাগো। নিজের দ্বীনের প্রতি তেমন একটা মূল্যায়ন করে না। তাদের দুনিয়া ঠিক থাকলেই সব ঠিক। নিজের দ্বীনের কোনো ধার ধারে না। এ-ধরনের শুরাবাবা আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয় নয়।
মানুষের সাথে কোমল আচরণ করাও সাদাকাহর সমতুল্য—এমনটাই প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مُدَارَاةُ النَّاسِ صَدَقَةٌ
[৪৯] “মানুষের সাথে কোমল ও নরম আচরণ করাও সাদাকা।”
আল-হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, মুমিন মানুষের সাথে কোমল ও মৃদু আচরণ করো। তর্ক কিংবা ঝগড়াতে লিপ্ত হয়ো না। পথভোলা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকো। যদি মানুষ সেই দাওয়াতও কবুল করে নেয়, তখন আল্লাহর দরবারে প্রশংসা করো। আর যদি সেই দাওয়াতকে কবুল না করে, তবুও মহান প্রভুর দরবারে প্রশংসা করো। এমন গুণে গুণান্বিত মুমিনই হলেন শুরাবা। সুসংবাদ শুরাবার জন্য, সুসংবাদ শুরাবার জন্য।
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘একসাথে চলাফেরা করতেই হয় এমন লোকের সাথে, যে সালাত আদায় করল না, সে প্রজ্ঞাবান নয়। (এমন লোকের সাথে সালাতের করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ালো)। আল্লাহ তাআলা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেনা।
টিকাঃ
৪৮. আম্মাজুন ইবনু ওয়ার্ত সাইল্লাহ, ইবনুস সূরী : ১২৮
📄 চেষ্টাবিহীন কখনো আখিরাত অর্জিত হয় না
[৫১] ইয়াহইয়া ইবনু মুআয আর রাষি রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘হে আদম-সন্তান, তুমি দুনিয়াকে এমনভাবে তালাশ করছ, যেন দুনিয়া ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য তোমার নেই। আর আখিরাতকে তুমি এমনভাবে তালাশ করছ, যেন আখিরাত তোমার অত বেশি প্রয়োজন নয়; অথচ দুনিয়াতে তোমার যতটুকু রিযিক প্রয়োজন, ততটুকু পরিমাণ রিযিক তুমি প্রাপ্ত হবেই—যদিও সেই রিযিক তুমি তালাশ না কর। আর আখিরাতকে তুমি তালাশবিহীন কখনোই অর্জন করতে পারবে না। এবার তুমি একটু ভালো করে বুঝে নাও কোনটার পেছনে নিজের জীবন বিলিয়ে দেবে!’
📄 দুনিয়া কষ্টের স্থান
[৫২] ইয়াহইয়া ইবনু আদম রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘কেয়ামতকে দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে—যদিও তুমি কষ্টকে অপছন্দ কর। আর জাহান্নামকে প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার মাধ্যমে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে, অথচ তুমি প্রবৃত্তিকে পছন্দ কর। তুমি সেই অসুস্থ ব্যক্তির ন্যায়, যে তিক্ত ঔষধ-সেবনে যদি ধৈর্য ধারণ করতে পারে, তা হলে রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবে। আর যদি ঔষধ তিক্ত বলে তা সেবন না করে, তবে সে আর সুস্থ হয়ে উঠবে না, বরং তীব্র অসুস্থতাও আরও বেশি যাবে।’
📄 পরিশিষ্ট
এই পরিশিষ্ট ইবনুল কায়্যিম রাহ.-এর বিখ্যাত গ্রন্থ মাদারিজুস সালিকীন থেকে শুরাবা-বিষয়ক আলোচনাটি উপস্থাপিত হলো। আশা করি এতে মূল বইটির আলোচনা আরও পূর্ণতা পাবে ইনশাআল্লাহ।