📘 গুরাবা > 📄 শরীরে লেখা ছিল — ‘গরিবের জন্য সুসংবাদ’

📄 শরীরে লেখা ছিল — ‘গরিবের জন্য সুসংবাদ’


[৪৭] আবু যাহির রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বাহরাইনে মৃতদের গোসল করাতাম। একবার একজন লোককে গোসল করাতে গিয়ে দেখতে পেলাম, ঐ মৃত ব্যক্তির (শরীররের) গোশতের ওপর লেখা রয়েছে, ‘হে গরিব, তোমার জন্য সুসংবাদ!’ তখন আমি তা ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম যে, লেখাটা মূলত তার হাড় ও গোশতের মাঝে লিখিত রয়েছে।

📘 গুরাবা > 📄 প্রশংসিত গরিব ও নিন্দনীয় গরিব

📄 প্রশংসিত গরিব ও নিন্দনীয় গরিব


[৪৮] মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি কেউ প্রশ্ন করে, সব ধরনের গরিবই কি মৃত্যুর পরে শাহাদাতের মর্যাদা পাবে? এ-প্রশ্নের উত্তরে বলা হবে, গরিব মূলত দুই ধরনের:

১. এমন গরিব, যে আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য গরিব হয়ে যায়। এ-ধরনের গরিবাবস্থায় মৃত্যুবরণ করাটা প্রশংসনীয় ও শাহাদাতের মর্যাদা সমতুল্য।
২. এমন গরিব, যে আল্লাহর তাআলার নাফরমানী করতে গিয়ে গরিব হয়ে যায়। এ-ধরনের গরিবরা নিন্দনীয় ও দূর্জনীয়। এদের জন্য তাওবা করা ও গরিব অবস্থা থেকে ফিরে আসা আবশ্যক।

যারা আল্লাহর আনুগত্যের জন্যই গরিব হয়ে যায়, যেমন: কোনো ব্যক্তি হজ্ব বা ওমরাহ কিংবা জিহাদের ময়দানে গিয়ে গরিব হয়ে গেল এবং যাওয়া বা আসার পথে মৃত্যুবরণ করল, তা হলে এ গরিব ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পাবে। ঠিক তেমনি যদি কোনো তালিববে ইলম আল্লাহর রাস্তায় ইলম অর্জন করতে আসে, ইলমের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর ফরজ বিধান পালন করা এবং আল্লাহর তাআলার নিষেধাজ্ঞার বিধান জেনে সে-অনুযায়ী আমল করা, তা হলে এমনাবস্থায় যদি এই তালিববে ইলম মৃত্যুবরণ করে, তা হলে এমন গরিব তালিববে ইলমও শহীদের মর্যাদা পাবে, ইনশাআল্লাহ। এমনিভাবে যে-ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার ভয়ে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে সুদূর কোনো দেশে হিজরত করে এবং সে-দেশেই গরিব হয়ে মৃত্যুবরণ করে, এমন ব্যক্তিকেও আল্লাহ তাআলা শহীদের মর্যাদা দান করবেন। যদি কোনো দেশে হালাল রোজগার করার ব্যবস্থা না থাকে আর কেউ হালাল রুজি কামাই করার জন্য অন্য কোনো দেশে চলে আসে এবং ঘটনাক্রমে সেখানেই তার মৃত্যু হয়, তা হলে এমন ব্যক্তিও আল্লাহর কাছে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।

অন্যায় বা পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার দরুন যে ব্যক্তি গরিব ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তার উদাহরণ হলো, যেমন: কেউ ডাকাতি করার জন্য কিংবা বিদ্রোহিদের মদদ করার জন্য অথবা জমিনে ফিতনা-ফাসাদ করার উদ্দেশ্যে কোথাও রওয়ানা করল বা অন্য কারও লোভ-গোলাম - বামদিকে গড়িয়ে ভাগিয়ে নেওয়ার ফলে গরিব হয়ে গেল, তা হলে এমন ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে ফিরে আসা এবং আল্লাহর দরবারে তাওবা করা আবশ্যক। তা না করলে, যদি এ-অবস্থায় তার মৃত্যু হয়, তা হলে এ ধরনের গরিবরা শহীদ মর্যাদা পাওয়া তো দূরের থাক, সামান্য প্রশংসারও ভাগীদার হবে না।

📘 গুরাবা > 📄 দুনিয়া তালাশকারী এক যুবক

📄 দুনিয়া তালাশকারী এক যুবক


[৪৬] যাকারিয়া ইবনু আবি খালিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, একজন যুবক দুনিয়া অর্জন করার জন্য নিজ ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেল। কিন্তু সে-যুবক এই দুনিয়া অর্জনে ব্যর্থ হয়ে পড়ল। দুনিয়াতে সে যা চেয়েছিল, তা সে অর্জন করতে পারেনি। তাই সে দুঃখ ও মারাত্মক মনে তার মায়ের কাছে চিঠি লিখল—

‘আমি সম্পদ অর্জন করব অথবা কবরের বাসিন্দা হয়ে যাব। (দূর-দেশে হওয়ার দরুন) কেউই আমার জন্য চোখের অশ্রু ফেলবে না। যারা আমার প্রিয়জন, তারাও কেউ পাশে থাকবে না। শুধু যারা দূর-দেশে আমার সাথে আছে, তারাই আমার কবরের দেখা পাবে। একজন মুসাফিরের কবর অনার্জ্জন মুসাফিরই কেবল দেখতে পারে।'

সে যখন চিঠিটি পাঠাল, তখন তার মা দুনিয়ার বুক থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তাই তার খালা এর উত্তরে লিখলেন—

تَذَكَّرْتَ أَخْوَالًا وَأَدْرَيْتَ عُمْرَةٌ ... وَهَيَّجْتَ أَحْزَانًا فَذَاكَ عَجِيبٌ
فَإِنْ تَكُ مَمْشَاهَا إِلَيْنَا فَإِنَّنَا ... إِلَيْكَ ظِمَاءً وَالْحَبِيبُ حَبِيبٌ
فَأَمْنُنْ عَلَى أَمْ عَلَيْكَ شَفِيقَةٌ ... بِوَجْهَكَ لَا تَقْوَى، وَأَنْتَ غَرِيبٌ
فَإِنَّ الَّذِي يَأْتِيكَ بِالرِّزْقِ نَائِيًا بَعِيدًا ... بِهِ وَالْحَيُّ مِنْكَ قَرِيبٌ

অনেক কথাই স্মৃতির পাতায় এল জমা হয়ে,
অভিজ্ঞতার অনেক বিষয় উড়া দিলো উভায়।

অনেক ব্যথাও তোমার মনে খেলল ঢেউয়ের খেলা,
এ তো বড়ই আজিব বিষয় কথা আছে জানা।

যদি তোমার হৃদয়-মাঝে ভালোবাসা থাকে,
তোমার জন্য আমিও ভাবি কাজ-অকাজের ফাঁকে।

একটু দয়া করো তুমি আপন মায়ের প্রতি,
দূর সফরে থাকলে বসে হবে না তার গতি।

তোমার ভাগ্য-খাতায় যদি রিযিক ঠিক থাকে,
আপনার তো তা আসবে কাছে জীবন চলার বাঁকে।

📘 গুরাবা > 📄 যেমন হবে বর্তমানের গুরাবাগণ

📄 যেমন হবে বর্তমানের গুরাবাগণ


[৫০] মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, বর্তমানের শুরাবা হলেন তারা, যারা সুন্নতে রাসূল, আছারে সাহাবা ও সালাফদের অনুসরণ করেন। বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত জিনিস থেকে বিরত থাকেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। অনর্থক কথায় লিপ্ত হন না। নিজেকে এবং পরিবারকে ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। পাপাচারে ডুবন্ত সমাজকে সংস্কার করেন।

পার্থিব এ-জগতের প্রতি তেমন একটা লোভ রাখেন না। তবে পরিবার ও নিজের প্রয়োজনে মেটাতে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু রোজগার করেন। আবার এমন সম্পদ অর্জনে নিজেকে ঠেলে দেন না, যে-সম্পদ তাকে আল্লাহবিমুখ করে দেয়।

বর্তমান শুরাবা হলেন তারা, যারা মানুষের সাথে কোমল ও নরম আচরণ করেন, কিন্তু দুনিয়া অর্জনের জন্য মানুষের সাথে তোয়াজমোদও লিঙ্গ হন না। দুনিয়ার সব কঠোর ওপর ধৈর্যধারণ করেন। তাদেরে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো বন্ধু-বান্ধব যেমন খুব কমই হয়ে থাকে, তেমনি ক্ষতি করার মতো মানুষও খুব কমই হয়ে থাকে। এরাই হলো বর্তমান সময়ের শুরাবা।

কোমল শুরাবা ও তোয়াজমোদকারী শুরাবার মধ্যে পার্থক্য হলো, কোমল শুরাবা তারা, যারা সমস্ত মানুষের সাথে নরম ও উত্তম আচরণ করেন। এতে তাদের দ্বীন ঠিক থাকলেই হলো, দুনিয়াতে যদি তাদের কোনো ক্ষতি হয়, সেদিকে এ-প্রকার শুরাবাবা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেন না। এমন কোমল স্বভাবের শুরাবাবা আল্লাহর কাছে অনেক দামি এবং সম্মানিত।

তোয়াজমোদকারী শুরাবা হল তারা, যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য উঠেপড়ে লাগো। নিজের দ্বীনের প্রতি তেমন একটা মূল্যায়ন করে না। তাদের দুনিয়া ঠিক থাকলেই সব ঠিক। নিজের দ্বীনের কোনো ধার ধারে না। এ-ধরনের শুরাবাবা আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয় নয়।

মানুষের সাথে কোমল আচরণ করাও সাদাকাহর সমতুল্য—এমনটাই প্রিয়তম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

مُدَارَاةُ النَّاسِ صَدَقَةٌ
[৪৯] “মানুষের সাথে কোমল ও নরম আচরণ করাও সাদাকা।”
আল-হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, মুমিন মানুষের সাথে কোমল ও মৃদু আচরণ করো। তর্ক কিংবা ঝগড়াতে লিপ্ত হয়ো না। পথভোলা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকো। যদি মানুষ সেই দাওয়াতও কবুল করে নেয়, তখন আল্লাহর দরবারে প্রশংসা করো। আর যদি সেই দাওয়াতকে কবুল না করে, তবুও মহান প্রভুর দরবারে প্রশংসা করো। এমন গুণে গুণান্বিত মুমিনই হলেন শুরাবা। সুসংবাদ শুরাবার জন্য, সুসংবাদ শুরাবার জন্য।

মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘একসাথে চলাফেরা করতেই হয় এমন লোকের সাথে, যে সালাত আদায় করল না, সে প্রজ্ঞাবান নয়। (এমন লোকের সাথে সালাতের করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ালো)। আল্লাহ তাআলা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেনা।

টিকাঃ
৪৮. আম্মাজুন ইবনু ওয়ার্ত সাইল্লাহ, ইবনুস সূরী : ১২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00