📄 গুরাবারা কিয়ামত-দিবসে আলোকিত হবেন
[৪৫] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা একবার সূর্য উদিত হওয়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
سَيَأْتِي نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ نُوْرُهُمْ كَضَوْءِ الشَّمْسِ
“কিয়ামত-দিবসে আমার উম্মতের কিছু মানুষ সূর্যের আলোর ন্যায় আলোকিত হয়ে থাকবেন!”
আমরা তখন জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল, তারা কোন দল?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ تَنْقِى يَوْمَ السُّكَّارِهِ يَمُوْتُ أَحَدُهُمْ وَحَاجَتُهُ فِي صَدْرِهِ، يُحْشَرُوْنَ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ
“তারা হলো ঐ সমস্ত দরিদ্র মুহাজিরগণ, যাদের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রবাহিত করা হয়। তাদের কেউ এমনাবস্থায় মারা যায় যে, তার প্রয়োজন বুকের ভেতর সমাধিস্থ থাকে। তারা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সমবেত হয়ে থাকে।”
📄 বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ
[৪৬] আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ مَاتَ فِي هَذَا الطَّرِيقِ مِنْ حَاجٌ أَوْ مُعْتَمِرٍ لَّمْ يُعْرَضُ وَلَمْ يُحَاسَبُ، وَقِيلَ لَهُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি হজ্ব বা ওমরাকারী অবস্থায় এই রাস্তায় (সফরের হালতে) মৃত্যুবরণ করে, তার কাছ থেকে কোনো হিসাব নেওয়া হবে না এবং তাকে কোনো আমলের সামনেও পেশ করা হবে না; বরং তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো।” ২৪
টিকাঃ
২৪. সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব: ৫/৩১৯
📄 শরীরে লেখা ছিল — ‘গরিবের জন্য সুসংবাদ’
[৪৭] আবু যাহির রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বাহরাইনে মৃতদের গোসল করাতাম। একবার একজন লোককে গোসল করাতে গিয়ে দেখতে পেলাম, ঐ মৃত ব্যক্তির (শরীররের) গোশতের ওপর লেখা রয়েছে, ‘হে গরিব, তোমার জন্য সুসংবাদ!’ তখন আমি তা ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম যে, লেখাটা মূলত তার হাড় ও গোশতের মাঝে লিখিত রয়েছে।
📄 প্রশংসিত গরিব ও নিন্দনীয় গরিব
[৪৮] মুহাম্মাদ ইবনু হুসাইন রহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি কেউ প্রশ্ন করে, সব ধরনের গরিবই কি মৃত্যুর পরে শাহাদাতের মর্যাদা পাবে? এ-প্রশ্নের উত্তরে বলা হবে, গরিব মূলত দুই ধরনের:
১. এমন গরিব, যে আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য গরিব হয়ে যায়। এ-ধরনের গরিবাবস্থায় মৃত্যুবরণ করাটা প্রশংসনীয় ও শাহাদাতের মর্যাদা সমতুল্য।
২. এমন গরিব, যে আল্লাহর তাআলার নাফরমানী করতে গিয়ে গরিব হয়ে যায়। এ-ধরনের গরিবরা নিন্দনীয় ও দূর্জনীয়। এদের জন্য তাওবা করা ও গরিব অবস্থা থেকে ফিরে আসা আবশ্যক।
যারা আল্লাহর আনুগত্যের জন্যই গরিব হয়ে যায়, যেমন: কোনো ব্যক্তি হজ্ব বা ওমরাহ কিংবা জিহাদের ময়দানে গিয়ে গরিব হয়ে গেল এবং যাওয়া বা আসার পথে মৃত্যুবরণ করল, তা হলে এ গরিব ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পাবে। ঠিক তেমনি যদি কোনো তালিববে ইলম আল্লাহর রাস্তায় ইলম অর্জন করতে আসে, ইলমের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর ফরজ বিধান পালন করা এবং আল্লাহর তাআলার নিষেধাজ্ঞার বিধান জেনে সে-অনুযায়ী আমল করা, তা হলে এমনাবস্থায় যদি এই তালিববে ইলম মৃত্যুবরণ করে, তা হলে এমন গরিব তালিববে ইলমও শহীদের মর্যাদা পাবে, ইনশাআল্লাহ। এমনিভাবে যে-ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার ভয়ে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে সুদূর কোনো দেশে হিজরত করে এবং সে-দেশেই গরিব হয়ে মৃত্যুবরণ করে, এমন ব্যক্তিকেও আল্লাহ তাআলা শহীদের মর্যাদা দান করবেন। যদি কোনো দেশে হালাল রোজগার করার ব্যবস্থা না থাকে আর কেউ হালাল রুজি কামাই করার জন্য অন্য কোনো দেশে চলে আসে এবং ঘটনাক্রমে সেখানেই তার মৃত্যু হয়, তা হলে এমন ব্যক্তিও আল্লাহর কাছে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।
অন্যায় বা পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার দরুন যে ব্যক্তি গরিব ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তার উদাহরণ হলো, যেমন: কেউ ডাকাতি করার জন্য কিংবা বিদ্রোহিদের মদদ করার জন্য অথবা জমিনে ফিতনা-ফাসাদ করার উদ্দেশ্যে কোথাও রওয়ানা করল বা অন্য কারও লোভ-গোলাম - বামদিকে গড়িয়ে ভাগিয়ে নেওয়ার ফলে গরিব হয়ে গেল, তা হলে এমন ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে ফিরে আসা এবং আল্লাহর দরবারে তাওবা করা আবশ্যক। তা না করলে, যদি এ-অবস্থায় তার মৃত্যু হয়, তা হলে এ ধরনের গরিবরা শহীদ মর্যাদা পাওয়া তো দূরের থাক, সামান্য প্রশংসারও ভাগীদার হবে না।