📄 খলীফা হারুনের পুত্রের ঘটনা
[৪০] আবদুল্লাহ ইবনু আবুল ফারাজ বলেন, আমার বাড়ির দেয়ালটা ধসে পড়ায় দেয়ালের পুনর্নির্মাণের জন্য কাজের লোকের তালাশে বের হই। মজদুর তালাশ করতে করতে বাজারে আসি। দেখতে পেলাম, বাজারের শেষ প্রান্তে একজন যুবক বসে আছে। অতি সাধারণ একটি তোয়ালে তার কাঁধে ঝুলানো। গায়ে সুতার একটি জুব্বা। যুবকের কাছে যাই। অত্যন্ত সুন্দর, দেহের অবয়ব অনেক ভালো। একটি বৃক্ষের নিচে সে বসে আছে। সে তার সময়কে নষ্ট করে না। হাতে আছে একটি কুরআন শরীফ। সে বসে-বসে তিলওয়াত করছে। 'হে যুবক ভাই, তুমি কি আমার ভাঙা দেওয়াল ঠিক করে দেওয়ার কাজে সম্মত আছ?' বিনীতভাবে বললাম আমি। যুবক উত্তর দেয়, 'হ্যাঁ, সম্মত আছি। তবে দুটি শর্ত : ক. আপনি আমার কাজের বিনিময়ে আমাকে এক দিরহাম এবং আরেক দিরহামের ছয়ভাগের একভাগ দেবেন। খ. নামাজের সময় হলে আপনি আপনার কাজ আর করবেন না। নামাজ আদায় করতে চলে যাব। আপনার কাজ না করে আমি মালিকের সাথে নীরবে-নিভৃতে ইবাদত করব।' যুবকের দুই শর্ত মেনে নিলাম আমি। তাকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসার পর যুবকটি শর্ত অনুযায়ী কাজেই ব্যস্ত হয়ে যায়। যুবক আল্লাহর নাম জপত আর কাজে মগ্ন থাকাত কারও সাথে কোনো কথা বলত না। এভাবে যোহরের সালাতের সময় ঘনিয়ে এলো। তখন যুবক আমাকে বলল, 'হে আবদুল্লাহ, মসজিদের মিনার থেকে আল্লাহর ডাক চলে এসেছে, আমি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে মসজিদে চলে যাব।' আমি বললাম, 'যাও, কোনো সমস্যা নেই।'
যুবক যোহরের সালাত আদায় করে পুনরায় কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল। এভাবে আসরের সালাতের আযান পর্যন্তও কাজ করতে লাগল। আসরের সালাতের আযানের সাথে সাথেই যুবক আবার মসজিদে চলে গেল। (অন্য বর্ণনায় আছে, এই সময়ের ভেতর যুবকটি একাই দশজনের কাজ করে ফেলল।) বেলা শেষে পুনর্বার্ধিত পারিশ্রমিক নিয়ে যুবক নিজ বাড়ি চলে গেল।
পরদিন দেয়ালের বাকি কাজ করার জন্য কাজের লোক খুঁজতে বের হওয়ার প্রাক্কালে আমার স্ত্রী ডেকে বলল, 'গতকালকার যুবকটাকে খুঁজে নিয়ে আসুন। কাজের লোক হিসেবে সে অনেক ভালো।' আমি সে-যুবককে খুঁজতে বাজারে যাই, কিন্তু সেখানে তাকে পেলাম না। লোকমুখে জানতে পারলাম যে, যুবক শুধু সপ্তাহে একদিনই (শনিবার) কাজ করে। আর পুরো সপ্তাহে আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন থাকে। আমি আর অন্য কোনো কাজের লোক তালাশ না করে সোজা বাড়িতে চলে আসলাম।
পুরো সপ্তাহ ঐ যুবকের অপেক্ষা করলাম। আজ শনিবার। তাকে খুঁজাতে খুঁজে পেলাম। পূর্বের শর্ত অনুযায়ী আজও কাজেই লেগে যায় যুবক। বেলা শেষে কাজের ধরন দেখে আমি তাকে দুই দিনার দিলে যুবক তা গ্রহণ করতে অসম্মতি জানায়। সে পুনর্বার্ধিত পারিশ্রমিক নিয়েই চলে যায়। এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে পুনরায় আমি শনিবার তার বেলাম। কিন্তু আমি তাকে বাজারে পেলাম না।
তখন কেউ বলল, যুবক তো অসুস্থ। তালাশ করতে করতে জানতে পারলাম, ঐ যুবক একজন বৃদ্ধার ঘরে আছে। আমি সেখানে গিয়ে বৃদ্ধার কাছে জিজ্ঞেস করে যুবকের ঘরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, অসুস্থতার কারণে সে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। যুবককে দেখে আমার বেশ কষ্ট হলো। আমি যুবককে সালাম করলাম। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর পেলাম না। এবার পুনরায় তাকে সালাম করলাম। এবার সে চোখ খুলে আমাকে চিনতে সক্ষম হলো। তার মাথার নিচে ছিল ইঁট। আমি ত্বরিত ইঁটটি সরিয়ে তার মাথাটাকে আমার কোলে রাখলাম। জড়িয়ে ধরলাম পরম আবেগে।
তারপর তাকে বললাম, 'তোমার কোনো প্রয়োজন আছে কি?'
আমি বললাম, 'ইনশাআল্লাহ, রাখবো।' যুবক তার আবেগমাখা কণ্ঠে আমাকে বলতে লাগল—
• হে আমার বন্ধু, তুমি দুনিয়ার আকর্ষণে ধোঁকাগ্রস্ত হয়ো না। মানুষের জীবন যেমন নিঃশেষ হয়ে যায়, তেমন তোমার জীবনও নিঃশেষ হবে। তুমি যখন কাউকে কবরস্থ করার জন্য কবরে নিয়ে যাও, তখন এই চিন্তা করবে যে, একদিন তোমাকেও এভাবে কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।
• হে আমার প্রিয় বন্ধু, আমার মৃত্যু সন্নিকট, আমার দেহ থেকে আত্মা নামক প্রাণ- পাখি উড়ে যাওয়ার পর তুমি আমাকে গোসল দিয়ে আমার পুরনো কাপড় দিয়ে আমাকে কাফন পরাবে।
আমি বললাম, ‘হে আমার ভাই, আমি যদি তোমাকে নতুন কাপড় দিয়ে কাফন পরাই, তা হলে কি কোনো সমস্যা আছে?’ যুবক বলল, ‘নতুন কাপড় পরিধান উপযুক্ত হচ্ছে জীবিত মানুষ। তা ছাড়া নতুন কাপড়ও কিছু দিন পরেই ছিঁড়ে-ফেঁটে যাবে, বাকি থাকবে মানুষের আমলসমূহ। সুতরাং তুমি পুরাতন কাপড় দিয়েই আমাকে সমাধিস্থ করবে।'
• হে হৃদয়ের বন্ধু আমার, যে-ব্যক্তি আমার কবর খনন করবে, তাকে তুমি আমার এই পানির পাত্র এবং ছুরির হাদিয়া দিয়ে দিয়ো। তোমার কাছে আমার বড় ওসিয়ত হলো যে, আমার এই আরচি এবং কুরআন শরীফ তোমার কাছে আমানত রাখলাম। তুমি আমার এই আমানতগুলো খলীফা হারুনের কাছে পৌঁছে দিয়ো। অন্য কারও কাছে দিয়ো না। খলীফা হারুনের হাতে এগুলোর দিলেম, একজন প্রবাসী এই আমানতগুলো আপনার কাছে পৌঁছে দেয়ার ওসিয়ত করে সে এই মৃত দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে এবং আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, উদাসীন এবং ধোঁকাগ্রস্ত অবস্থায় যেন আপনার মৃত্যু এসে না যায়। এর কিছুক্ষণ পরই দেখ থেকে তার প্রাণপাখি উড়ে গেল। যুবক এখন লাশে পরিণত হলো। যুবকের মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মर्माহত ও দুঃখিত হলাম। আমি শুরুতে জানতাম না যে, এ যুবক খলীফা হারুনের পুত্র। তারপর তার ওসিয়ত মোতাবেক তার কাফন-দাফন সমাধা করি। আর ছুরি এবং লোটা কবর-খননকারীর হাদিয়া দিয়ে দিই। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং খলীফা হারুন স্বাক্ষরের সাথে সাক্ষাতের জন্য রওনা করি। রাস্তার এক প্রান্তরে বসেছিলাম বাদশার অপেক্ষায়। একটু পরে দেখতে পেলাম, খলীফা সেখান দিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাকে ডেকে ডেকে বলতে লাগলাম, 'খলীফা, আমার কাছে আপনার কিছু আমানত গচ্ছিত আছে!' এরপর খলীফা আমাকে রাজদরবারে নিয়ে যেতে আদেশ করলেন। লোকেরা আমাকে রাজদরবারে নিয়ে গেল। খলীফা রাজদরবারে আমাকে তলব করলেন, আমি খলীফার সামনে গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কে?' আমি বললাম, 'আমি আবদুল্লাহ ইবনুল ফারাজ।' তারপর তার হাতে আরচিটি দিয়ে বললাম, 'খলীফা, প্রবাসী এক যুবক এই পবিত্র কুরআন এবং আরচিটি আমার কাছে আমানত রেখে আপনার কাছে পৌঁছানোর ওসিয়ত করে মৃত্যুবরণ করেছে। তাই আমি এই আমানত আপনার কাছে পৌঁছানোর জন্য বসরা থেকে বাগদাদে এসেছি। যুবক এখন আর পৃথিবীতে নেই। তাকে বসরার জমিনেই সমাধিস্থ করা হয়েছে।' এভাবে আরও বিস্তারিত খুলে বললাম আমি। খলীফা হারুন পবিত্র কুরআন এবং আরচিটি দেখে ফ্যালফ্যাল নয়নে রইলেন আমার দিকে—যেন আমি তার পুরনো স্মৃতিবিজড়িত কোনো ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছি। তিনি অবশেষে কাঁদতে লাগলেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে শির নিচু করে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি নিজ হাতেই তার কবরের মাটি দিয়েছ?' আমি উত্তর দিলাম, 'জি হ্যাঁ, আমি নিজেই তার কাফন-দাফন সমাধা করেছি।' খলীফা জিজ্ঞাসা করলাম, 'ঐ যুবকের সাথে আপনার কী সম্পর্ক?' খলীফা বললেন, ‘ঐ যুবক আমার পুত্র।’ আমি বললাম, 'তাঁ-র অবস্থা হলো কী করে?' বাদশা বললেন, ‘এই দুনিয়ার প্রতি তার কোনো লোভ-লালসা ছিল না। এই খৃসার মর্তিকা নামক দুনিয়াতে অপরিচিত হয়ে চলতে সে পছন্দ করত। তার খরচাদির জন্য তার কাছে অনেক টাকা দিয়েছি, কিন্তু সে তার মায়ের থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা-পয়সা গ্রহণ করত না। তার মাও দুনিয়াতে বেঁচে নেই। তুমি আজ যা জানালে, এর বাহিরে আমিও পুত্র সম্পর্কে কিছুই জানতাম না!'
তারপর খলীফা আমাকে বললেন, ‘রাত্রি হলে আমি তার কবর যিয়ারত করতে যাব। তুমি আমাকে নিয়ে যাবে।’
রাতের আঁধার ঘনিয়ে এলে খলীফা আমার সাথে একাকী বের হয়ে এলেন এবং পুত্রের কবর যিয়ারত করলেন। তিনি সেখানে প্রচুর অশ্রু বিসর্জন দিয়ে সকালে আবার ফিরে গেলেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘কথা দাও যে, আমার সাথে প্রতিদিন এভাবে কবর যিয়ারত যাবে।’
আমি তাকে কথা দিলাম এবং বেশ অনেক দিন খলীফার সাথে রাত নেমে এলে তার পুত্রের কবর যিয়ারত করতে যেতাম তার সাথে। খলীফা যদি না জানাতেন, তা হলে আমি জানতেই পারতাম না যে, যুবকটি ছিল খলীফার পুত্র।
এক বর্ণনায় এসেছে, এই ঘটনার পর খলীফা ইবনুল ফারাজকে অনেক সম্পদ উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করেন; কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ১৫
আবু বকর রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন আবদুল্লাহ ইবনুল ফারাজকে ইন্তিকাল করেন, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর মৃত্যুর কথা আবদুল্লাহর ভাইদেরকেও জানাননি। তিনি একাই গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা করলেন। অথচ তখনো তার ভাইয়েরা ঘরের দরজার সামনে আবদুল্লাহর সাথে সাক্ষাত করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কাফন ইত্যাদি পরানোর পরে আবদুল্লাহর ভাইদেরকে তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আল ফারাজ মারা গেছে!’
এরপর আবদুল্লাহর ভাইয়েরা তাকে বকন করে নিয়ে দাফন করে দেন।
টিকাঃ
১৫. এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, যিয়ারতের পরবর্তী রাতে স্বপ্নে আবদুল্লাহ ইব্নুল ফারাজ রহিমাহুল্লাহ একটি নুরের বিরাট গম্বুজ দেখতে পান। সেই নুরে উপবিষ্ট বাদশাহ হারুনের যুবক পুত্র মূসা মুখ হাসছে আর বলছে, ‘হে আবু আমের, [প্রাণপুরুষের উপাধি] তুমি আমাকে অতি উত্তমভাবে কাফন-দাফন করেছ, আমার অরিয়তসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করেছ এবং আমার আমানত গুনাহের মুক্তি দিয়েছে। আমরা তাআলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।’ এই বলে হাসতে হাসতেই সে অদৃশ্য হয়ে যায়।
📄 পড়ন্ত বিকেলে
[৪১] মুহাম্মাদ ইবনু খালাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, বালহাজ্জাম নামক এলাকার একজন মুয়াজ্জিন বলেছেন, সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ আমাদের পল্লীতে বসবাস করা শুরু করলেন। তিনি আমাদের সাথে এমনভাবে বসে থাকতেন যে, আমরা তাকে চিনতেই পারতাম না। আমরা ভাবতাম, তিনি গ্রাম্য কেউ হবেন। তার চলাফেরাতে কোনো জৌলুস ছিল না। তিনি আমাদের থেকে হাদীস শুনতেন। তিনিও আমাদেরকে বিভিন্ন হাদীস শোনাতেন। আর যখন তিনি যিয়ারত বলতেন, তখন জামাতের আলোচনা করে আমাদেরকে আনন্দ দিতেন। আবার জাহাজামের আযাব সম্পর্কে হাদীস বলে আমাদেরকে ভীতি প্রদর্শণও করতেন। সূর্য যখন পড়ন্ত বেলায় এসে ডুবে দিত, তখন তিনি ফেরার পথ ধরতেন।
📄 গরিবাস্তায় মৃত্যুবরণ করলে জান্নাত পাওয়া যায়
[৪২] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযা ও মদীনাতেই হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করলেন। সালাত আদায় করার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
يَا لَيْتَهُ مَاتَ فِي غَيْرِ مَوْلِدِهِ
“আহ্, সে যদি নিজ জন্মভূমি ছাড়া অন্যত্র মৃত্যুবরণ করত!” ১৬
এক ব্যক্তি রাসূলকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল, কেন এমনটি বললেন?’ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَاتَ فِي غَيْرِ مَوْلِدِهِ فَلَهُ مِنْ مَوْلِدِهِ إِلَى مُنْقَطَعِ أَثَرِهِ مِنَ الْجَنَّةِ
“নিশ্চয়ই যখন কোনো ব্যক্তি নিজ জন্মভূমি ছাড়া অন্য কোনো স্থানে মৃত্যুবরণ করে, তখন তার জন্মভূমি থেকে মৃত্যুর স্থান পর্যন্ত যতটুকু জায়গা রয়েছে, ঐ পরিমাণ জায়গা পরিমাপ করে তার জন্য জামাতে বরাদ্দ করা হয়।” ১৭
[৪৩] ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এক ব্যক্তির কবরের পাশে দাঁড়ালেন। তারপর বলতে লাগলেন—
يَا لَوْ مَا تَتَ غَرِيبًا
“যদি সে ‘গরিব’ হয়ে মৃত্যুবরণ করত!”
তখন জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে রাসূল, আমাদের থেকে যারা ‘গরিব’ হয়ে নিজ দেশ ছাড়া অন্যত্র মৃত্যুবরণ করে, তাদের জন্য কি সওয়াব আছে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
مَا مِنْ غَرِيبٍ يَمُوتُ يَقِيسُ اللَّهُ مِنْ مُوْلِدِهِ إِلَى مُوْلِدِهِ فِي الْجَنَّةِ
“যে-গরিব নিজ জন্মভূমি ছাড়া অন্যত্র মৃত্যুবরণ করে, তার জন্মভূমি থেকে কবর পর্যন্ত যতটুকু জায়গা রয়েছে, ঐ পরিমাণ জায়গা তার জন্য পরিমাপ করে জামাতে বরাদ্দ করা হয়।” ১৯
টিকাঃ
১৬. মদীনায় মৃত্যু হওয়াটা অনেকে ফযীলতের ব্যাপার। কিন্তু এই কথা থেকে তার উল্টোটা বুঝে আসছে। এর সমাধানে আল্লামা সিন্ধী রাহ. বলছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে মদীনা ছাড়া অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করার কথা বোঝেননি। বরং তিনি বুঝেছেন, যদি তার জন্মস্থানকে মক্কা এবং সে সবের কবর মদীনায় আসত আর এখানেই তার মৃত্যু হত তাহলে একই সাথে জন্মভূমি ছাড়া অন্যত্র মৃত্যু বরণ করার পুরস্কার ও মদীনায় মৃত্যুবরণ করার ফযীলত উভয়ই একসাথে অর্জিত হত। (দেখুন দাইরেফিস)-সম্পাদক
১৭. আল-সুন্নাহ, ইবনু মাজাহ: ১৩১। সনদ হাসান。
১৯. এর সনদে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও আগের হাদিসটি একে সমর্থন করছে।
📄 গুরাবাদের মৃত্যু শাহাদাতের মৃত্যু সমতুল্য
[৪৪] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَوْتُ الْغَرِيبِ شَهَادَةٌ
“গরিবের মৃত্যু এক ধরনের শাহাদাত।” ২১
টিকাঃ
২১. আল-সুন্নাহ, ইবনু মাজাহ: ১৩৩১ সনদ সহীহ।