📘 গুরাবা > 📄 যে কবিতায় হৃদয় কাঁদে

📄 যে কবিতায় হৃদয় কাঁদে


[৩৮] আবুল ফজল আস-সিকলী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার একজন সাথি এই উক্তি করে আমাকে শুনিয়েছেন—

أَلَا يَا رُبَّ ذِي طِمَرَيْنِ فِي مَجْلِسٍ غَدًا ... زِرَايَتُهُ مَبْثُوثَةٌ وَمَغَارِفُهُ
قَدِ اِطَّرَتْ أَنْهَارُهُ فِي رِيَاضِهِ ... مَعَ الْحُوْرِ وَالْتَفَّتْ عَلَيْهِ حَدَائِفُهُ
مَحَلُّ دِيَارٍ إِنْ حَلَّتْ دِيَارُهَا ... نَعِمَتْ بِدَارِ الْخُلْدِ مَعَ مَنْ مُرَافِقُهُ
رَفِيقٌ وَجَارٌ لِلنَّبِيِّ مُحَمَّدٍ ... لَقَدْ أَعْطِيَ الْوَرْقُ الَّذِي مُرَافِقُهُ
فَيَا حُسْنُ عَبْدٍ جَاوَزَ اللَّهُ رَبُّهُ ... بَدَارِ الْغَنِيِّ وَالْقَانِيَاتِ مُعَايِشُهُ
وَيَا حُسْنُهُ وَالْحُوْرِ يَمْشِينَ حَوْلَهُ ... عَلَى فُرُشِ الدِّيبَاجِ سُبْحَانَ خَالِقِهِ

গতকালকের মজলিসে ছেঁড়া বস্ত্রে, তুমি দেখেছিলে যাকে,
সেই গরীব আজ পরম সুখে, বাস করছে জান্নাতেরই বাঁকে।

জান্নাতেরই উদ্যানেও সারিবদ্ধ গালিচাতে
থাকবে কেবল সুখ, আরামের সেই বিছানাতে
রইবে না কোন দুঃখ।

জান্নাতের এ-বাগানেতে থাকবে নহর অনেক দূর,
ডাগর ডাগর চক্ষুওয়ালা থাকবে সেথায় অনেক হুর।

জান্নাতেরই হুর-রমণী চাইবে যখন চক্ষু তুলে,
দুনিয়ার সব সুখের কথা একেবারে যাবে ভুলে।

জান্নাতে তার প্রতিবেশী হবেন প্রিয় হাবীব,
এরচে’ বেশি সুখের কিছু হবে কি হে গরীব!

বন্ধুদের পরমাত্মীয়তায় থাকবে সুখে বেশ,
এমন মধুর বন্ধুত্বে থাকবে না দুঃখের লেশ।

ধন্য হবে সেই গরীব যার প্রতিবেশী প্রভু,
আখেরাতের ধনী ঘরে এমন সুখ, শেষ হবে না কভু।

📘 গুরাবা > 📄 হারিয়ে যাওয়া গরিব যুবক

📄 হারিয়ে যাওয়া গরিব যুবক


[৩৭] হুসাইন ইবনু আহমাদ আল আখদী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘মুহাইছাহ নামক স্থানে একজন নেককার যুবক এলো। সে কাবুসের মসজিদের অবস্থান করতে লাগল। যুবকটি সেখানে বিভিন্ন লোকজনের থেকে নানান কথাবার্তা শুনতো সে ছিল একেবারে হালকা গড়নের। পোশাকআশাকও ছিল ছেঁড়া। আসাদ যুবকের ইবাদত-বন্দেগিতে মুগ্ধ করা কঠোর শ্রমের বিষয়টি জেনে ফেলল। তাই সে তাকে খুব আপন করে নিল। তার সাথে কথাবার্তা বলা শুরু করল।

এ অবস্থা অবলোকন করে যুবক সেখান থেকে অন্য জায়গায় নীরবে সটকে পড়ল। আসাদ যুবকটিকে বহুত খোঁজাখুঁজি করেও কোনো পাত্তা পেল না। তখন সে ঐ যুবকের বিরহ-বেদনায় ভঙ্গ হৃদয়ে কিছু কবিতা আবৃত্তি করল—

يَا مَنْ رَأَى لِي غَرِيبًا ... ثِيَابُهُ أَطْمَارُ
الْجِسْمُ مِنْهُ نَحِيلٌ ... وَالْوَجْهُ فِيهِ اِصْفِرَارُ
عَلَيْهِ آثَارُ حُزْنٍ ... بِوَجْهِهِ وَاغْبِرَارُ
يَقُومُ فِي جَوْفِ لَيْلٍ ... يُنَاجِي الْجَبَّارُ
يَقُولُ يَا مُوْلَى قَلْبِي ... يَا مَاجِدُ غَفَّارُ
فَالدَّمْعُ يَجْرِي بِحُزْنٍ ... قَدْ دَمِعَهُ مِدْرَارُ
يَبْغِي جِنَانَ نَعِيمٍ ... يَا حَسُنَ دَارِ الْقَرَارِ
فِيهَا جِوَارُ حِسَانٍ ... يَا حَسُنَ تِلْكَ الْجِوَارُ
فَرَاشٌ فِي خِيَامٍ ... مِنَ اللُّؤْلُؤِ الْكِبَارِ
كَوَاعِبُ غَيْهَبَاتٌ ... تَوَاهِدُ أَبْكَارُ
لِبَاشُهُنَّ حَرِيرٌ ... بِمُخْبِرِ الْأَبْصَارِ
وَفِي الدَّرَاعِ سِوَارٌ ... يَا حُسْنَهُ مِنْ سِوَارِ
شَرَابُهُنَّ رَحِيقٌ ... بِعَنْبَرِ الْأَنْهَارِ
وَسَلْسَبِيلٌ وَخَمْرٌ ... تُبَارَكُ الْجَبَّارُ
يَا مَنْ رَأَى لِي غَرِيبًا ... ثِيَابُهُ أَطْمَارُ

কে দেখেছ বন্ধুকে মোর ছিন্ন কাপড় গায়ে,
ভয় শরীর, হলদেটে মুখ জুতা-বিহীন পায়ে!

মুখ-মাঝারে দুঃখের সারি টপকে যেন বয়,
রাত গভীরে প্রভুর পানে প্রার্থনাতে রয়।

দু'হাত তুলে বলে কেঁদে— 'ওগো মনের মালিক,
ক্ষমা করো তুমি মহান— তুমিই আমার খালিক!

অশ্রুজলে যায় যে ভেসে গণ্ডদেশের পাপ,
এই না বুঝি গেল হয়ে জীবনটা তার লাশ!

জান্নাতী সুখ চাইতে থাকে মহান রবের কাছে,
তার অধীনে সকল কিছুর উপস্থিতি আছে।

তাবুর ভেতর সুখ-থাকা জান্নাতী হুর চায়,
চমকপ্রদ সুন্দরী খুব— কুমারী যেন পায়।

পোশাক যাদের হবে রেশম দেখলে হবে সুখ,
কচি-জেহানে পরবে চুড়ি সোঁমা শান্ত মুখ।

পানীয় হবে খাঁটি মধু দুধের নহর র'বে,
নেশা-বিহীন মদ্য পানের সুযোগ পাবে সবে।

কে দেখেছ বন্ধুকে মোর ছিন্ন কাপড় গায়ে,
ভয় শরীর, হলদেটে মুখ, জুতা-বিহীন পায়ে!

📘 গুরাবা > 📄 আল্লাহ তাআলা গরিবের বন্ধু

📄 আল্লাহ তাআলা গরিবের বন্ধু


[৩৮] ইউনুন মিসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আমরা একবার সফরে বের হলাম। ভ্রমণের সময় একজন আবেদ্যা মহিলার সাথে আমার সাক্ষাত হলো। মহিলা অনেক নেককার ছিলেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি অনেক চিন্তিত—যেন স্বীয় সন্তানকে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। সে-মহিলা আমাকে বললেন, 'তুমি কোন জায়গা থেকে এসেছ?' উত্তরে আমি বললাম, 'আমি একজন নিম্ন মানুষ!'

তখন সে-মহিলা বলতে লাগলেন, 'ওহে মুসাফির, তোমার সাথে আল্লাহ তাআলা থাকা সত্ত্বেও তুমি নিজেকে অসহায় মনে করছ এবং নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছ? অথচ আল্লাহ তাআলা হলেন অসহায়দের বন্ধু, তিনি দুর্বল ও সম্বলহীনদের সাহায্য করেন!'

আমি এই মহিলার কথা শুনে কেঁদে দিলাম। তখন তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, 'আমি তো জানি, আমি হৃদয়ে প্রশান্তি জোগায়, আর কান্নার মাধ্যমেই মানব-আত্মায় শান্তি আসে। তবে একটা কথা মনে রেখো, বিলাপ করে আরও কাছে মনের দুঃখ প্রকাশ করা থেকে হৃদয়ের জমিনে হাজারও কষ্ট লুকিয়ে রাখাই শ্রেয়।'

আমি তাকে বললাম, 'তা হলে আপনি আমাকে কিছু শিক্ষা দিন।' তখন তিনি বলতে লাগলন, 'আল্লাহকে ভালোবাসো, আল্লাহর প্রতিই আগ্রহী হও। তোমার যা কিছু প্রয়োজন, তাঁর কাছে চাও, তিনি তোমাকে কখনো তার দরজা থেকে ঠেলে ফেলে দেবেন না। কেননা, আল্লাহ তাআলা কোনো একদিন তাঁর প্রিয় বান্দাদের দিকে তাকাবেন এবং তাদের মনের সকল আশা পূরণ করে করে দেবেন।'

এরপর আমি আবেদ্যা মহিলাকে সেখানে বিদায় জানিয়ে সামনে রওয়ানা হলাম।

📘 গুরাবা > 📄 পাহাড়ের চূড়ায়

📄 পাহাড়ের চূড়ায়


[৩৯] মুহাম্মাদ ইবনু আবী আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, শামের একজন ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন, একবার রাস্তায় একজন খ্রিস্টানের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তখন আমি তাকে বললাম, 'ভাই, আপনি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছেন?' সে আমাকে জানাল, 'ভাই, আমি তো একজন পাদরির কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। পাদরি থেকে জ্ঞান আহরণ করব তো, ভাই!'

আমি তাকে বললাম, 'আমি যদি তোমার সাথে তোমার কাঙ্ক্ষিত পাদরির কাছে যেতে চাই, তা হলে কোনো সমস্যা আছে?'

সে বলল, 'না, কোনো সমস্যা নেই। তুমি মোরে চাইলে আমার সাথে চলো।' আমরা অনেকটা পথ মাড়িয়ে রাস্তার শেষ প্রান্তে একটি পাহাড়ের গুহার কাছে এলাম। ঐ খ্রিস্টান ব্যক্তি সেখানে দাঁড়িয়ে সজোরে ডাক দিয়ে বলতে শুরু করল, 'হে কল্যাণকর বিষয়ের শিক্ষাদাতা, আমি আপনার থেকে ভালো কিছু জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি। আপনি আমাকে ভালো কিছু শিক্ষা দিন। আল্লাহ আপনাকে স্বীয় ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করবেন!'

কথাগুলো সে খুব জোরে জোরে চিৎকার করে বলল। তখন পাহাড়ের গুহা থেকে অদ্ভুতভাবে কে যেন জবাব দিতে লাগল, 'হে কল্যাণের পথযাত্রী, যখন মুর্খরা নিজেদের ব্যাপারে বেখবর হয়ে রইবে, তখন তুমি সচেতন থেকো।'

খ্রিস্টান ব্যক্তিটি তখন বসে পড়ল এবং রোদন করা শুরু করে দিল। তাকে দেখে আমার অসুস্থ মনে হলো। আমি পেরেশান হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি মৃত্যু এসে তাকে গ্রাস করে ফেলবে। কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি তাকে বললাম, 'আমার যদি পাহাড়ের মধ্যে প্রবেশ করি, তা হলে ভালো হবে।'

তখন খ্রিস্টান লোকটি বলল, 'তোমার ইচ্ছে।'

এরপর আমরা গুহার দিক অগ্রসর হলাম। অদূরেই নজরে পড়ল একজন মানুষের ওপর। লোকটি একেবারে বৃদ্ধ। টিলঢালা চামড়া, চুল সাদা। তার ভ্রুগুলো চোখ ছুঁয়ে পড়ছে। বৃদ্ধটি তার মাথা নিচু করে বসে আছে। এগুলো দেখে আমি খুবই বিস্মিত হলাম। বৃদ্ধ লোকটি মুখে একটি বাক্য উচ্চারণ করেছ, 'ওহে দয়াময়, যদি তুমি দুনিয়ার জন্য আমার কষ্ট-ক্লেশকে প্রলম্বিত কর, আখিরাতে আমার দুর্ভাগ্যকে দীর্ঘায়িত কর, তার মানে হলো তুমি আমাকে অবকাশ দিয়েছ এবং আমাকে তোমার দৃষ্টি থেকে ছেড়ে দিয়েছ।'

আমরা ধীরে-ধীরে বৃদ্ধ লোকটির সামনে গেলাম এবং তাকে সালাম করলাম। তিনি তার চেহারায়ও ওপরে উঠালেন। দেখতে পেলাম, তার দু চোখের কোণ বেয়ে বিন্দু বিন্দু জল গড়িয়ে পড়ছে। তার চোখের পানিতে জমিন ভিজে গেছে। বৃদ্ধ লোকটি আমাদের দিকে তাকালেন। তারপর বলতে লাগলেন, 'আমার এখানে তোমরা কেন এসেছ? কী চাও তোমরা? তোমাদের জন্য কি পুরো জমিন প্রশস্ত নয়, সেখানের মানুষগুলো কি তোমাদের সান্ত্বনা দিতে পারে না?' যখন আমি তার জ্ঞানের পরিচয় পেলাম, তখন তাকে বললাম, 'আল্লাহর শপথ, আমরা আপনার জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিলাম, আর জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকতে চাই।' আমার এ-কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটি আরও জোরে কেঁদে ফেললেন। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলতে লাগলেন, 'তোমার জন্য কি আল্লাহর রহমত প্রশস্ত নয়, অথচ সারা জগত জুড়ে আল্লাহর রহমত বিস্তৃত রয়েছে?'

তখন আমি বললাম, 'আল্লাহ তাআলার রহমত, দয়া, মায়া মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের লোকের জন্য হয় না।'

তখন বৃদ্ধ আরও কেঁদে দিয়ে বলতে লাগলেন, 'আমি তো ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম জানি না!' তখন আমার সাথে-আসা খৃস্টান বিরক্ত হয়ে বলতে লাগল, 'ওহে কল্যাণের শিক্ষাদাতা, আপনি কি খৃস্টানধর্ম এবং ঈসা ইবনু মারিয়াম-এর ধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে গেছেন?' বৃদ্ধ লোকটি খৃস্টানের দিকে ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকালেন। এরপরে বলতে লাগলেন, 'তোমার অকল্যাণ হোক, আমি তো ঈসা-এর ধর্মের উপরই আছি, আর ঈসা-এর ধর্ম কি ইসলামধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম ছিল? না, বরং ঈসা- এর ধর্মও ইসলামধর্ম ছিল। আল্লাহ তায়ালা যখন তাকে সৃষ্টি করেছিলেন, তখনই তাঁকে ইসলামধর্মের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যে ইসলামধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে যাবে, পরকালে সে কোনো সুখবর কিংবা সুখের কিছুই পাবে না!'

এ-কথা শোনার পরে খৃস্টান ক্ষেপে গেল ও উত্তেজিত হলো। সে পাহাড় থেকে ফিরে আসতে চাইল। তখন আমি ঐ খৃস্টানকে বললাম, 'ভাই, একটু অপেক্ষা করুন, দুজন একসাথেহেঁ বের হয়ে যাব।'

খৃস্টানের কাজকর্ম দেখে বৃদ্ধ লোকটি বলতে লাগলেন, 'ঐ খৃস্টানকে যেতে দাও, যার কপালে দুর্ভাগা লেখা রয়েছে, সে কোনো দিনও সফল হতে পারবে না!'

কিন্তু এই বৃদ্ধ পাহাড়ের চূড়াকে কেন পছন্দ করলেন, দুনিয়ার ঘরবাড়ি ছেড়ে কেন তিনি এখানে একা একা বসবাস করছেন – এ-সব প্রশ্ন আমার মনে তীব্র দোলা দিতে লাগল। একপর্যায়ে আমার মনের অজান্তে লুকিয়ে-থাকা প্রশ্নটা তাকে করেই ফেললাম, 'আরাহার রহম আপনার জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে নাযিল হোক। আচ্ছা, আপনি মানুষ থেকে পৃথক হয়ে এই একাকী স্থানকে বেছে নিলেন কেন?' তখন তিনি উত্তরে বলতে লাগলেন, 'তুমি তো আমার ভাই, এই স্থানটা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার এক উত্তম জায়গা। তুমি যদি এই জায়গাটা গ্রহণ কর, তা হলে এরচে আর কোনো উত্তম স্থান খুঁজে পাবে না।' তখন আমি তাকে বললাম, 'খাবারের ব্যবস্থা কীভাবে হয়?' তখন তিনি বললেন, 'যখন আমি খাবারের ইচ্ছা করি, জমিন খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়। গাছও ফলফলাদি দেয়।' আমি বললাম, 'বিদায়বেলা আপনি আমাকে কিছু নসিহত করুন, আপনার দেয়া নসিহতগুলো যেন আমি মেনে চলতে পারি।'

তখন তিনি বললেন, 'সত্যিই আমার নসিহত ও ওসিয়ত মানবে?' আমি বললাম, 'ইনশাআল্লাহ।' দরদমাখা কণ্ঠে তিনি বলতে লাগলেন, 'দুনিয়াতে বসবাস করতে গিয়ে আগামীকালের জন্য কিছুই জমা করে রেখো না। আমাদের কোনো অংশে নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিও না। আল্লাহর আবশ্যকীয় বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করবে। আল্লাহর প্রিয় কাজগুলোকে তোমার প্রিয় করে নেবে, যদিও সেগুলো তোমার কাছে কষ্টের মনে হয়। সর্বোপরি তোমাকে আরেকটা কথা বলি—শোনো, কখনো অন্যের মুখাপেক্ষী হবে না।'

টিকাঃ
[৪০] ইনরিহুন মুখজিয়া, আবু নু'আইম: ৯/৩৮৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00